আমার শহর
আমার শহর
আজ সকাল থেকেই চৌধুরী বাড়িতে ব্যস্ততার অন্ত নেই, কারণ বাড়ির ছোট ছেলে নিলয় বিদেশে থেকে আজ বাড়ি ফিরছে।
দুপুর বেলায় গাড়ির হর্ন বাজতেই বাড়ির সকলে নেমে এলো।বাড়ির সবাই নিলয়কে খুব ভালোবাসে , সেই ছেলেবেলা থেকে সে যা আবদার করেছে তাই-ই পেয়েছে।তার খুব ইচ্ছা ছিল সে বিদেশে গিয়ে চাকরি করবে,অনেক অর্থ রোজগার করবে,আর বরাবরের মতোন বিদেশেই থাকবে।
নিলয়ের কলকাতার সবকিছুই অসহ্য লাগত।তার মতে, কলকাতার মানুষ কিছু জানে না,কুসংস্কারে ভর্তি, এমনকি তার কলকাতার জলবায়ুও অসহ্য লাগত।কিন্তু সে বিদেশে গিয়ে দু'বছরও থাকতে পারল না ,তাকে ফিরে আসতে হলো আবারও তার নিজের শহরে।
সেদিন রাতে নিলয়ের বান্ধবী শালিনী ফোনে বলল , 'কি রে, শেষমেশ ফিরলি আবার কলকাতায়?'
নিলয় বলল, 'হুম্......'
শালিনী বলল,'অসুবিধা হবে না?তুই তো বলিস তোর অসুবিধা হয়, এখানের কোনোকিছুই তো ভালোলাগে না, এখানে সবকিছুর সাথে খাপ খাওয়াতেও তো অসুবিধা হয়।'
নিলয় হেসে বলল,'আসলে আমি বুঝিনি এই শহরকে, আমি জানতে চাইনি এই শহরকে;
আমি শুধু বুঝতাম এই শহর ব্যতীত আর সবকিছুই ভালো ।
জানিস শালিনী বিদেশে যাওয়ার পর বুঝলাম ওইসব কিছুই ভ্রম,আসলে যা দূর থেকে দেখি তার ষোল আনাই মিথ্যে।আমার প্রতিটা দিন বিদেশে দমবন্ধ হয়ে আসত।আমি তখনই বুঝতে পেরেছি আমার শহর কি।'
নিলয় আরো বলল,'শালিনী, এখন আর আমার দমবন্ধ হয়না,আমি এখন থেকে আমার পরিবার,আমার শহরের মানুষ,আমার শহরের মধ্যে থেকে আমি বাঁচবো।'
