স্মৃতিবৃষ্টির সুর
স্মৃতিবৃষ্টির সুর
গোধূলি-ঘোরে বায়ু যখন চুপিচুপি হায় বলে,
আকাশ মেঘে মুখ লুকায় গোধূলির আঁধার তলে।
মাটির বুকের ঘ্রাণে ওঠে বৃষ্টির গীত গোপন,
ধরণীর নিঃশ্বাসে ভাসে ভেজা মাটির স্বপন।
ভোলা যায় না—সেই স্মৃতি তবু, বিন্দুর পবিত্র প্রণয়,
শিশু-স্বপ্নে আঁকা সে যে দিন—বৃষ্টির মায়াময় সময়।
ধারা-ঝরার মাঝে সে কী খেলা! সূর্য ডুবেছে লাজে,
পদে কাদা, হৃদে আনন্দ, হাতে ছুঁয়েছি আকাশসাজে।
নৃত্যগীতে রাঙা হইত প্রাণের মুক্ত প্রকাশ,
জলের আলপনা আঁকে পথে এক ভেজা বিশ্বাস।
টিনের চালে ছন্দ বাজে স্নিগ্ধ সুরের ধারায়,
বজ্রধ্বনি যেন মৃদঙ্গ বেজে, স্মৃতিতে তোলায় গাঁথায়।
বিদ্যুৎখানি শৈশবরূপে ঝলমলিত প্রাণে,
আজ জানালার ভেজা কাঁচে তাকাই নীল এক জানে।
বৃষ্টির সেই নীরব ভাষা ঝরে যায় সুর-পরণে,
তার ঘ্রাণে শুনি সেদিনকার ডাক—অতীত-গানের বরণে।
পড়ুক বৃষ্টি, ঝরুক অশ্রু—আকাশ কাঁদুক হেসে,
নিভৃত বুকে হারানো বাণী উঠুক সুরের বেশে।
প্রতিটি ঝরে নামা দিনে মনে ফিরে যায় যে ছায়া,
আমার মন ফিরে পায় তাতে নিজের এক মায়া-দায়া।
তবু জানি—বৃষ্টি শেষে রোদ ওঠে নতুন আশায়,
রংধনু হাসে দূর আকাশে, স্বপ্নের রঙ ছড়ায়।
ভেজা মাটির বুকে গজায় নতুন ঘাসের কুঁড়ি,
জীবনের পথে ঝরে পড়া স্মৃতি গড়ে সুরভরি।
আজও বৃষ্টি জানায় আমায়—আলো আসবে ধীরে,
আকাশ-ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে, মন উড়ে যাবে ফিরে।
হৃদয়ের গোপন বীণায় বাজে আশার সুরেলা গান,
নতুন দিনের প্রত্যাশায় জেগে ওঠে প্রাণ।

