শেষ দৃশ্যের পরেও
শেষ দৃশ্যের পরেও
শেষ দৃশ্যের পরেও
আজ শহরটা আলো জ্বালতে ভুলে গেছে,
পোস্টারের চোখে নেমেছে মেঘের কালো।
হঠাৎ করেই স্ক্রিপ্ট বদলে গেল—
শেষ দৃশ্যের আগেই পড়ে গেল পর্দাগুলো।
রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি
তুমি তো ডায়লগ শেষ করতে জানতেই,
কাঁধের ওপর সূর্যের মতো ছিল ক্যামেরা।
কে জানত, এইবার নিঃশব্দ কাট ডাকে—
আর উঠবে না “রেডি? অ্যাকশন!” এর সেমাফোর সিগন্যালটা।
মেকআপ রুমে এখনো আয়না জেগে,
আঙুলে লেগে আছে চরিত্রের গন্ধ।
চেয়ারটা ফাঁকা— তবু আলো পড়ে যায়,
যেন বসে আছ, একটু পরেই দেবে ছন্দ।
যে শহর তোমায় হাততালি শিখিয়েছিল,
সে শহর আজ বুক চাপড়ে নীরব।
হলঘরের অন্ধকার ভিজে উঠছে ধীরে—
শেষ দৃশ্যটা কেউ মানতে নারাজ এখনো।
তুমি তো জানতেই, নায়কেরা মরে না,
গল্পের ভেতরেই বেঁচে থাকে বরাবর।
তবু আজ হঠাৎ এই অসমাপ্তি কেন—
কেন এমন তাড়াহুড়ো করল শেষের খবর ?
প্রতিটি সংলাপ আজ বাতাসে আছে ভেসে,
প্রতিটি হাসি থেমে আছে মাঝপথে।
যে হাত নায়িকার হাত ধরত দৃঢ়তায়—
সে হাত আজ অসময়ের হাত ধরে স্বর্গরথে।
আমরা এখনো হলঘর ছাড়িনি, দ্যাখো—
পর্দা নেমেছে, তবু বসে আছি নিঃশ্চুপ।
হয়তো হঠাৎই আবার আলো জ্বলবে,
তুমি ফিরে এসে বলবে— “আরেকটা শট,এই সবাই চুপ!”
কিন্তু জানি, এই অপেক্ষা দীর্ঘ হবে,
এই শূন্যতা রোজ একটু একটু বাড়বে।
তবু বিশ্বাস রাখি— গল্প শেষ হয় না,
যে নায়ক আকাশে যায়, সে তারা হয়ে ফিরবে।
আজ থেকে রাত নামলেই মনে হবে—
একটা দৃশ্য কোথাও চলছে নীরবে।
আমরা যতদিন দর্শক হয়ে থাকি,
ততদিন তুমি বেঁচে থাকবে ছবির ভেতরে।
শেষ বাঁশি বাজেনি, শুনছো তো ?
শহর এখনো দাঁড়িয়ে করতালি দিচ্ছে—
যতদিন আলো জ্বলে পর্দার ওপারে,
ততদিন আমরা বলেই যাব—
তুমি শেষ নও....
তোমার মৃত্যু নেই....
সূর্যাস্তকে হারিয়ে আবারও ফিরবে,
" রাহুল অরুণোদয় " ।
