কুয়াশার ওপারে
কুয়াশার ওপারে
কোনো এক কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের প্রভাত,
পাশাপাশি হাঁটছিলাম, তুমি আর আমি।
নির্জন পথের দুধারে নিঃসঙ্গ বৃক্ষরাজি,
দাঁড়িয়ে জবুথবু, গায়ে জড়িয়ে কুয়াশার চাদর।
পায়ের তলায় বিলাপ রত তৃণ গুচ্ছ, অশ্রু সিক্ত।
দূরের আকাশে রচিত তারাদের ষড়যন্ত্র,
কালিমার ভয়ে, সাময়িক মুখ লুকিয়েছে
সূর্য।
মাঠের প্রান্ত বরাবর দুর্ভেদ্য কুয়াশার আস্তরণ,
দুধের সরের মতো ঢেকে রেখেছে,
বাকি জগতের ঘনত্ব।
মনে হয় এই বুঝি পৃথিবীর অন্তিম সীমানা।
সহসা থমকে দাঁড়ালে তুমি,
অপার কৌতূহল মাখা দৃষ্টি,
প্রশ্ন করলে,
ঐ কুয়াশার প্রাচীরের
পর কি আছে?
কয়েক মূহুর্ত চিন্তা মগ্ন আমি।
মন ভাবলো, হয়তো জীবন।
কিন্তু কন্ঠ জবাব দিল, মৃত্যু।
তুমি বললে, কেন?
জীবনের শেষ সীমানাই তো মৃত্যু।
জানতে চাইলে, আর মৃত্যুর পর?
নিশ্ছিদ্র অন্ধকার, অপার নিরবতা,
চাওয়া পাওয়ার হিসেবের পরিসমাপ্তি।
ধরে থাকা হাতে চাপ পড়ল, সাগ্রহে বললে,
তবে চলো দেখি, মৃত্যু কেমন।
মলিন হাসির রেখা আমার ঠোঁটে।
মৃত্যু, সে তো প্রতিনিয়ত
জানান দেয় অস্তিত্বের।
যখন জীবন যুদ্ধে লড়াই করতে করতে হই রক্তাক্ত,
দেখি ঐ দূরে, মৃত্যুর কটাক্ষ।
যখন এক চিলতে সত্যের খোঁজ,
ক্রমশ ডুবিয়ে নেয় মিথ্যার চোরাবালি,
শুনি ঐ দূরে, মৃত্যুর কুটিল
অট্টহাসি।
যখন অবহেলিত ভালোবাসা হাতড়ে বেড়ায়,
প্রত্যাক্ষানের অবসান,
রূদ্ধ হয় প্রেমের প্রশ্বাস,
দেখি ঐ দূরে, মৃত্যুর হাতছানি।
যখন সংসারের হিসেব গুলি নিয়মের তালে মেলে না,
এতদিনের সহজ সরল যোগ বিয়োগ,
রূপ নেয় কঠিন ক্যালকুলাসে,
শুনি ঐ দূরে, মৃত্যুর পদধ্বনি।
চুপ করলাম, তাকালাম তোমার
দিকে।
তোমার চোখে বিস্ময় নাকি করুণা,
ঠিক বুঝতে পারলাম না।
সহসা পূব আকাশে,
সূর্য নিক্ষেপ করল ক্ষীণ দৃষ্টি।
রেটিনা জুড়ে জমাট রক্ত।
হয়তো, কুয়াশা কেটে
যাবে।
এদিক ওদিক, পাখির কুজন শোনা
যাবে।
আবার হাঁটবো মোরা এ পথে,
বসন্তের প্রথম প্রভাতে, একসাথে।
আন্দোলিত নব পল্লবের সমীরণ,
নব কুসুমের সৌরভ,
মাখবো গায়ে, দুজনে।
সকল ষড়যন্ত্রের করে অবসান,
সমহিমায় ছড়িয়ে দেবে সূর্য,
তাঁর উজ্জ্বল হাসি।
আবারও হাঁটবো পাশাপাশি।
সেদিন মরণ নয়, বাঁচার কথা বলব।
মৃত্যু নয়, জীবনের মানে খুঁজবো।
