চড়ুই পাখির বাসা
চড়ুই পাখির বাসা
কার্নিশের একধারে ছোট্ট চড়ুই দুটি ,
খড়কুটো দিয়ে বাঁধছে তাদের বাসা,
বুকে বেঁধে নবাগত পক্ষীশাবকের আশা।
স্বপ্নের বাসা বানালো সন্তানের তরে,
রোজ ডিমে বসে ‘তা’ দেয় চড়ুই তার ঘরে।
ধীরে ধীরে একদিন হাল্কা চিঁ চিঁ-
বুঝলাম ডিম ফুটে বেরিয়েছে কচি ।
চড়ুই যত্নে তাকে পোঁকা খুঁটে খুঁটে খাওয়ায়,
ধীরে ধীরে তাদের কচি কচি ডানা গজায়।
ছোট্ট বাসায় নড়াচড়া- ছটফট বেড়ে চলে,
মা পরম স্নেহে শিশুকে ঢেকে রাখে তার ডানা মেলে।
রাতদিন চিঁ চিঁ ডাকে কান ঝালাপালা,
এবার হবে শুরু শাবকের ওড়া শেখার পালা।
শাবক তার বাসায় এপাশ-ওপাশ করে,
একদিন চড়ুই ব্যালকনিতে নামাল তাকে মুখে করে।
প্রথমে ছোট ছোট ওড়ে এদিক থেকে ওদিকে
ভালো করে বুঝে নেয় মা’র দিকে তাকিয়ে।
ডানা মেলে উড়ে গেল সে কিছুটা দূরে,
মা’র দিকে তাকালো পেছন ফিরে।
দিন দুই চলল প্রশিক্ষণ পর্ব-পরিণত সে
আনন্দাশ্রু নামল মায়ের কপোল বেঁয়ে।
হঠাৎ উড়ল সে-বাঁচলো পড়তে পড়তে,
বসলো গিয়ে ছোট জবার ডালটিতে।
আঁতকে ওঠে মায়ের বুক-আর্ত চিৎকার,
সব ঠিক-উড়ল সে,এ ডাল থেকে ও ডাল
একটু বড় ওড়া-এবার ফুরুৎ করে ,
উড়ে গেল সে আম গাছের উঁচু ডালে।
পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যা নামলো,
ক্লান্ত পক্ষীশাবক বাসায় ফিরলো।
সকাল হতেই চিঁ চিঁ-উঁকি মেরে বাইরে দেখে
আরও বেশী দূরে উড়ে যাওয়া শেখে।
ওড়া মানে মুক্তি-স্বাধীনতার আভাস,
ওড়া মানে পাল তোলা স্নিগ্ধ বাতাস।
মুক্তির স্বাদ পেয়েছে সে খোলা আকাশে,
অনেক দূরে উড়ে গেল সে অবশেষে।
চড়ুই বেঁধেছিলো তার স্বপ্নের ঘর সন্তানের তরে,
ফিরলো না সে আর-ঘর খাঁ খাঁ করে।
দিন যায়, দিন আসে ফেরে না সে-
চড়ুই দুটি উদাস মনে আছে বসে।
