Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUBHAM MONDAL

Horror


4.9  

SUBHAM MONDAL

Horror


রাতের ট্রেনের সহযাত্রী

রাতের ট্রেনের সহযাত্রী

5 mins 1.1K 5 mins 1.1K

নাহ্ ! আজ একটু বেশী রাত হয়ে গেল। সুজয়দের বাড়ি থেকে যখন রওনা হলাম ঘড়ির কাঁটা দশটা ছুঁই ছুঁই।তাড়াতাড়ি স্টেশনে পৌঁছতে পারলে শেষ লোকালটা পেয়ে যাব। ট্যাক্সি বা ক্যাব নিতে পারতাম অবশ্য। কিন্তু মিছিমিছি অত পয়সা খরচ করার কী দরকার! আর তাছাড়া ট্রেন এখন একদম ফাঁকা থাকবে। আক্ষরিক অর্থে হাত-পা ছড়িয়ে যেতে পারব। তাই স্টেশনের উদ্দেশ্যে হাঁটা লাগালাম।


বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে একটু রাত করে বাড়ি ফেরাটা নতুন কিছু নয়। বাড়িতে অবশ্য এর জন্য যে মাঝে মধ্যে উত্তম মধ্যম জোটে না তা নয়। আসলে বাবা-মা ভুলে যান যে আমি সেই বাচ্চা ছেলেটি আর নেই। দেখতে দেখতে বাইশ বছর বয়স হয়ে গেল। সদ্য ইঞ্জিরিয়ারিং পাশ করেছি এবং আগামী মাসের শুরুতে বেঙ্গালুরুর একটা খ্যাতনামা আই.টি ফার্মে জয়েন করার কথা। আমি অবশ্য তাঁদের কথায় রাগ করি না। বাবা-মা তো শাসন করবেন-ই। আমার এই জীবনে আজ অবধি যা সাফল্য তা তো তাঁদের হাত ধরেই এসেছে।তাঁদের আদর্শে মানুষ হয়েছি বলেই আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব মহলে আমি ‘ভাল ছেলে’ বলে পরিচিত। আমি তাঁদের কথা দিয়েছি যে তাঁদের অসম্মান হয় এমন কাজ আমি কোনদিন করব না এবং বাস্তবিক-ই আমি কুসঙ্গ এড়িয়ে চলি। এই যে এতক্ষণ সুজয়দের বাড়িতে ছিলাম, তা নিছক-ই একটা সিনেমা দেখা আর নির্ভেজাল আড্ডা দিতে ।


এসব কথা ভাবতে ভাবতেই স্টেশনে এসে পোঁছলাম। একেই শীতকাল ,তার ওপর রাতও নেহাত কম হল না। বলাই বাহুল্য যাত্রীর সংখ্যা হাতে গোণা। একটু খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারলাম যে কোন কারণের জন্যই হোক আজ সব ট্রেন-ই দেরিতে চলছে। আর কি করা! একটা বেঞ্চে বসে অপেক্ষা করতে লাগলাম। কখন এক সময়ে যেন ঘুমিয়েও পড়েছিলাম।


কতক্ষণ ঘুমিয়েছিলাম জানি না।যখন চোখ খুললাম,চারপাশে তাকিয়ে দেখি স্টেশনটা একেবারে ফাঁকা। যে কজন যাত্রী কাছে-দূরে চোখে পড়েছিল তাদেরকেও আর দেখতে পেলাম না। একটু আশঙ্কিত হলাম। তাহলে কি ট্রেনটা মিস্ করে গেলাম? কিন্তু তা কি করে সম্ভব? আমার ঘুম এতই পাতলা যে সামান্য কাগজের খসখস শব্দেও ঘুম ভেঙ্গে যায়। একটা ট্রেনের সজোর ধাতব আওয়াজেও ঘুম ভাঙল না? ঘড়ি দেখে বুঝলাম প্রায় আধাঘন্টার-ও বেশি সময় ঘুমিয়েছি। নাঃ, ট্রেনটা তাহলে সত্যিই মিস্ করে গেলাম। কী হবে এবার? তন্দ্রাচ্ছন্ন ভাবটা কাটানোর উদ্দেশ্যে চোখটা একটু ডলে নিলাম। হঠাৎ ট্রেনের তীব্র হুইসেলের আওয়াজ কানে এল। দূরে তাকিয়ে দেখি ট্রেনটা প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্যে ছুটে আসছে। যাক ,বাঁচা গেল। একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম এবং নিজের অজান্তেই মুখে একটা হাসি দেখা দিল।


ট্রেনে উঠে পছন্দসই একটা জায়গা দেখে বসে পড়লাম। পুরো কামরাটাই তো ফাঁকা। শুয়ে শুয়ে যাওয়া যাবে। একবার গোটা কামরাটায় চোখ বুলিয়ে দেখে নিলাম। ট্রেনের সমস্ত বাতিগুলো জ্বলছে না। সুতরাং একটা আলো-আঁধারি পরিবেশ তৈরী হয়েছে। গল্পের বই-এর মত যেন একটা আধিভৌতিক পরিস্থিতি। আমি রোমাঞ্চিত বোধ করলাম এবং এসব ভেবে নিজের মনে একটু হেসে নিলাম। আমি যে দিকটা তে উঠেছি তার অপর দিকে দু – তিন জন যাত্রী ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে আছে। আমি যে দিকে আছি সেখানে একজন-ই মাত্র ঘুমিয়ে আছেন। আমার সহযাত্রীর দিকে ভাল করে তাকিয়ে দেখলাম। আবছা আলোয় তার মুখটা পরিস্কার দেখতে পেলাম না। সুতরাং বয়সের অনুমান-ও করতে পারলাম না। চেহারা সাধারণ। পরনে একটা সবুজ ফতুয়া এবং লুঙ্গি। মাথায় একটা ফেজ টুপি।


ঘুমের প্রয়োজনীয়তা হয়ত পুরোপুরি মেটেনি । তাই আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম এক সময়ে। হঠাৎ ঘুম ভাঙতে দেখি আমার সহযাত্রীটি আমার দিকে এগিয়ে আসছেন। একটু দূর থেকে দেখে মনে হল তাঁকে প্রৌঢ় বলা চলে। । মাঝারি গড়ন এবং উচ্চতা। আরো একটু কাছে আসার পর তাকে স্পষ্ট দেখতে পেলাম এবং আঁতকে উঠলাম। সারা মুখটা রক্তাক্ত এবং ক্ষতবিক্ষত। একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে সে আমাকে দেখছে- ঠিক যেন আমাকে জরিপ করছে। মুখে একটা অনির্বচনীয় হাসি। সেটা বোঝাবার ক্ষমতা আমার নেই। কেবল এটুকু বলতে পারি সেই হাসি দেখে একটা শিহরণ অনুভব করলাম। শরীরের রোমগুলিও হয়ত খাড়া হয়ে উঠেছে। সেই হাসিটা যেন আমার হৃদয়ের অন্তস্থলকে কি এক নিদারুণ আঘাতে বিদ্ধ করছে।


যাই হোক, লোকটি আমার দিকে একটা ছবি অর্থাৎ ফোটো বাড়িয়ে ধরল। আমি অত্যন্ত অবাক হয়ে তার কাছ থেকে ছবিটা নিলাম এবং সেটার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে যা দেখতে পেলাম তাতে প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেলাম। একটা তীব্র বিবমিষা অনুভূত হল এবং একই সঙ্গে একটা অজ্ঞাত ভয় এসে আমাকে চেপে ধরল।ফোটোতে দেখা যাচ্ছে আমার দেহটা সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় রেল লাইনে পড়ে রয়েছে। যে কেউই দেখলে বুঝবে সেটা একটা ট্রেনে কাটা পড়া দেহ। দেহটা থেকে আপন ধারায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। ঘিলুটা সম্পূর্ণরূপে বিচূর্ণ। অক্ষিগোলকের জায়গার একটা গর্ত। সবচেয়ে ভয়ানক দৃশ্যটা হল এই যে আমার সমস্ত নাড়িভুঁড়ি আমার মুখ থেকে বেরিয়ে আসছে যেন আমি সেগুলিকে বমন করেছি। 


আমি ঘামতে শুরু করলাম। তীব্র একটা অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভেঙে গেল। আমি যে স্বপ্ন দেখছিলাম সেটা উপলব্ধি করতে কয়েকটা মুহূর্ত লাগল। ঘামে জামাটা পুরো ভিজে গিয়েছে। একটু হাওয়া খাওয়ার উদ্দেশ্যে জানালাটা খোলার জন্য বাম দিকে ফিরতেই আবার চমকে উঠলাম। মনে হল যেন হৃদপিণ্ড টা গলার কাছে এসে আটকে আছে। পাশেই দেখতে পেলাম আমার সেই প্রৌঢ় সহযাত্রীটিকে। পুরো শরীরটা নয়, কেবথেকে কোমর অবধি জানালার কাচে সেঁটে রয়েছে। তার দিকে চোখ পড়তেই সে প্রবল অট্টহাস্য করে উঠল এবং আমি তার থেকেও জোরে চিৎকার করে সত্যি সত্যিই এবার ঘুম থেকে জেগে উঠলাম - অর্থাৎ সেই যে স্টেশনে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, এই ভয়াবহ স্বপ্নটা দেখে ঘুম ভেঙে গেল এবং সজোরে চিৎকার করে উঠলাম।


একটু ধাতস্থ হতে দেখি আমি তখনও স্টেশনের সেই বেঞ্চ-টা তে বসে রয়েছি। মুষ্টিমেয় যে ক’জন যাত্রী ছিলেন স্টেশনে, তাঁরা সবাই আমাকে ঘিরে রয়েছে। একজন মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, “কি,সব ঠিক আছে তো? তুমি ঘুমের মধ্যে চিৎকার করছিলে।”


আমি খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। মুখে একটা হাসি আনার চেষ্টা করে বললাম, “ ঐ আর কি। কোন স্বপ্ন দেখছিলুম বোধ হয়।”


ট্রেনের শব্দ শুনে বুঝতে পারলাম এবার সত্যিই ট্রেন আসছে।আমি অবশেষে নিজের ক্লান্ত-অবসন্ন দেহটাকে দাঁড় করালাম। ট্রেনটা আরো অনেকটা এগিয়ে এসেছে। আমি হেঁটে এগিয়ে গেলাম প্ল্যাটফর্মের ধারে এবং ট্রেনটা থামার অপেক্ষা করতে লাগলাম। কোন প্রয়োজন ছাড়াই আমি প্ল্যাটফর্মের ধারের দিকে আরো একটু এগিয়ে গিয়ে ঝুঁকে পড়ে লাইনে কী একটা দেখার চেষ্টা করলাম। আসলে আমার তখন স্বপ্নে দেখা নিজের ক্ষতবিক্ষত দেহটার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। আমার মনে হল এই প্ল্যাটফর্মটাতে লাইনের ধারের দিকে বেশ কিছুটা বাড়তি অংশ রয়েছে।সুতরাং আমি আরো একটু এগিয়ে গেলাম ঝুঁকে পড়ে দেখার উদ্দেশ্যে।এই সময়ে স্টেশনে উপস্থিত বাকি যাত্রীরা চেঁচিয়ে উঠলেন- “আরে আরে কী করছ? দাঁড়াও।” , “সাবধান! ট্রেন আসছে।” প্রভৃতি।


প্ল্যাটফর্মের বাড়তি অংশটা হঠাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। আমি লাইনের ওপর পড়ে গেলাম। ট্রেনটা ক্রমশ এগিয়ে আসছে। আমি প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকিয়ে শেষবারের মত যা দেখেছিলাম তা হল সবুজ ফতুয়া, লুঙ্গি এবং মাথায় ফেজ টুপি পরিহিত একজন প্রৌঢ় ব্যক্তি হাতে একটা ক্যামেরা নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁর মুখে এক অদ্ভুত হাসি।


Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Horror