Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!
Exclusive FREE session on RIG VEDA for you, Register now!

SUBHAM MONDAL

Classics Thriller Others


4  

SUBHAM MONDAL

Classics Thriller Others


মঙ্গলে প্রফেসর শঙ্কু

মঙ্গলে প্রফেসর শঙ্কু

12 mins 221 12 mins 221

১৩ই আগস্ট ২০৪৫,ভোর ৪টে


রিনরিনে একটা শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল একটু আগে।ঘড়িতে দেখলাম তিনটে সতেরো বেজেছে।আওয়াজটা পাশের ল্যাব থেকে আসছে বুঝতে পেরেই বুকটা ধড়াস করে উঠল।এ তো আমার ‘সঙ্কেতক’ এর আওয়াজ।তার মানে কি...আমি এক ঝটকায় বিছানা থেকে নেমে,ল্যাবরেটরির দিকে দৌড়ালাম।‘সঙ্কেতক’ আমার আবিষ্কৃত একটি নতুন আল্ট্রাহাই-ফ্রিকোয়েন্সি র‍্যাডার,যেটা এই সৌরমণ্ডলে যে কোন জায়গা থেকে কেউ যদি কোনো সিগন্যাল পাঠায় সেটাকে ডিকোড করে ফেলতে পারে।ঘরে পৌঁছে সঙ্কেতকের স্ক্রিনটা অন করতেই দেখলাম বেশ দুর্বল একটা সিগন্যাল আসছে,আমি ডিকোড সুইচটা টিপতেই দু-তিন সেকেন্ড পর স্ক্রিনে ফুটে উঠল-V..L..O..01..I..T… V..L..O..01..I..T...U..T….A…PL..A,এই দেখিয়ে সিগন্যালটা বন্ধ হয়ে গেল।‘সঙ্কেতক’-এ নিশ্চয়ই কোন সমস্যা হয়েছে,নইলে এরকম দুর্বোধ্য ভাবে ডিকোড করত না।কিন্তু সেটার থেকেও বড় প্রশ্ন এই সময়ে এই সিগন্যাল আসছে কোথা থেকে?ডিস্টেন্স ভিউয়ারে দেখাচ্ছে ৭০ মিলিয়ন কিমি।এবং সৌরমন্ডলের সমস্ত গ্রহের অরবিটের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী সিগন্যালটার দূরত্ব আর এই পৃথিবী থেকে মঙ্গল গ্রহের দূরত্ব হুবহু এক।এ কিভাবে সম্ভব?আমরা তো সদ্য মঙ্গল অভিজানের প্রস্তুতি শুরু করেছি,এই কয়েক মাস যাবৎ।আমি আর বেলজিয়ামের প্রোফেসর মিঃ ক্যালকুলাস দুজনে মিলে ব্যঙ্গালোরের ইসরোর রিসার্চ সেন্টার থেকে মঙ্গলায়ন-২ এর প্রস্তুতি নিচ্ছি।যাকগে এখন আর বেশী ভেবে কাজ নেই,আজ সকালেই সাড়ে আটটা নাগাদ ব্যাঙ্গালোরের ফ্লাইট ধরতে হবে।ইসরোর হেড কোয়ার্টারে আজ একটা মঙ্গল অভিজানের খসড়া দেখাতে হবে,এবং সমস্তটা ঠিক করে নিতে হবে,কবে বেরোবো,কি লাগবে,এবং আমাদের মঙ্গল অভিজানের উদ্দেশ্য সমস্তটা পরিস্কার করে দিতে হবে ওখানকার বৈজ্ঞানিকদের কাছে।এবার ডায়েরি বন্ধ করে একটু ঘুমিয়ে নি,আগামি সারাদিনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে।

কে জানে হয়তো পুরোটা কাকতালীয়ই হবে।

  

১৪ অগস্ট,সন্ধ্যে সাতটা

এই কিছুক্ষণ আগে হোটেলের রুমে ফিরে এখন বসে ডায়েরি লিখছি।আজ সকালে ইসরোর মিটিঙে সমস্ত উচ্চ পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।মোটামুটি আমার ক্যালকুলেশন অনুযায়ী আগামি ২৪ শে অগস্ট পৃথিবী আর মঙ্গলের দূরত্ব সবচেয়ে কম হবে।আন্দাজ প্রায় ৫৫ মিলিয়ন কিমি।সাধারণত,মঙ্গলায়ন স্পেসক্রাফটে করে মঙ্গল পাড়ি দিতে সময় লাগে প্রায় মাস আটেক।যেভাবে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রথম অভিযানেই স্যাটেলাইট স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল ইসরো,এবারও সেই এক এই যান ব্যাবহার করা হবে তবে একটু অন্য ভাবে।আট মাস কোনো মানুষের পক্ষে স্পেস্ক্রাফটে বন্দী হয়ে,অন্য গ্রহে পোঁছানো স্রেফ অসম্ভব ব্যাপার।হয়তো এমন হলো মানুষটা পাগল হয়ে গেল,শারীরিক বা মানসিক কিছু সমস্যা দেখা দিল।তো আমাদের প্রথম কাজটাই ছিল সময়টাকে কমিয়ে আনা।আর এবারের মঙ্গলযানটার ভেতরটা তৈরি হচ্ছে আমার তৈরি অ্যান্টি-গ্রাভিটি অ্যালয় দিয়ে।অর্থাৎ স্পেসের মধ্যে ভেসে বেড়ানোর ভয়টা আর থাকল না।কিন্তু মূল সমস্যাটা ছিল সময় কমানো নিয়ে।যার জন্য প্রোফেসর ক্যালকুলাসের আগমন।হাইড্রোজেন আর নাইট্রাস অক্সাইডের একটা নির্দিষ্ট অনুপাতের মিশেল রকেটের জ্বালানীতে মিশিয়ে রকেটের গতিবেগ পঞ্চাশ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।এর আগের রকেটটার স্পীড ছিল ৩০ কিমি/সেকেন্ড।এখন সেটা গিয়ে দাঁড়াল ১৫০০কিমি/সেঃ ।অর্থাৎ হিসেব করে দেখলে দিল্লী থেকে নিউইয়র্ক ন’ মিনিটে বার ছয়েক যাওয়া আসা হয়ে যাবে।এছাড়াও আরও অনেকগুলো বিষয়ে কথা হল,সেগুলো মূলত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে।সেগুলো আপাতত লিখছি না,সময়ে সময়ে লিখে রাখব।হিসেব করে দেখেছি আমরা ২৪ শে রওনা হলে পৌঁছব দোসরা ।কেমন ওই দার্জিলিং গ্যাংটক ঘুরতে যাওয়ার মত মনে হচ্ছে বেশ।এই টুক করে চলে যাব আর চলে আসব।ওখানে গিয়ে আমাদের কাজটা হবে ওখানকার মাটি আর পরিবেশ খুঁটিয়ে দেখা।প্রাণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় কিনা সেটা খোঁজা,আর কোন উপায়ে যদি বসবাসের উপযোগী করে তোলা যায় মঙ্গলকে তাহলে তো পৃথিবীরই মঙ্গল তাই না?কিন্তু যেটা সমস্যায় পরেছি এখন সেটা হল,মোট চারজনের একটা দল মঙ্গলে যাচ্ছে,তার মধ্যে আমি আর ক্যালকুলাস দুজন,আরেকজনকে ক্যালকুলাস নিয়ে আসবেন বলেছেন,বাকি থেকে গেল একজন।সন্ডার্স,ক্রোল,সামারভিল অনেকের নাম মনে হচ্ছে কিন্তু কেন জানি না মনটা বোধহয় এদের চাইছে না।হঠাৎ-ই আমার তৈরি করা সুপারস্মার্ট ফোন শ্যাঙ্কোবেলের কথা মনে হল।ফোনটা,একটা মানুষ ব্রেনের একদম গভীর স্তরে যার কথা ভাবছে,তাকে স্ক্রীনে দেখিয়ে দেয়।যেটা আমরা খুব সহজে মনে করতে পারছি না সেটার ওয়েভলেংথ রিড করতে পারে শ্যাঙ্কোবেল।ফোনটা মুখের সামনে ধরতেই ভদ্দরলোকের মুখটা ভেসে উঠল পর্দায়।–“ইয়েস!একেই তো দরকার।এর থেকে ভালো আর কেউ আছে বলে মনে হয় না!”

কল করার পর ওপার থেকে হ্যালো শুনতে পেয়ে বললাম-

-“হ্যালো...মিঃ মিত্তির বলছেন?আমি প্রোফেসর শঙ্কু কথা বলছি,একটু দরকার ছিল আপনার সাথে,কাল পরশুর মধ্যে দেখা করা যায়?” তারপর খানিক কুশল বিনিময় করে,পরশু বিকেলে ওর বাড়ি যাব সেটা ঠিক করে ফোনটা রেখে দিলাম।কাল ভোরবেলা ফ্লাইটে গিরিডি ফিরে যাচ্ছি।আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে সঙ্কেতক এর বার্তা একটা সিউডো কোড,যেটার সাথে আমাদের এই অভিযানের সম্পর্ক রয়েছে। আর এই রহস্যের জন্যই তো ফেলু মিত্তিরের মগজাস্ত্রের প্রয়োজন।ভীষণ ঘুম পেয়ে যাচ্ছে,ডিনারটা রুমেই বলে দিলাম,এলে খেয়ে শুয়ে পরব।


১৬ই অগস্ট রাত ন’টা,গিরিডি


গতকাল গিরিডিতে ফিরে একটা অদ্ভুত জিনিস খেয়াল করলাম।আমার বেড়াল নিউটন কেমন একটা মনমরা হয়ে বসে আছে।প্রহ্লাদ চুপচাপ বসে কি একটা ভাবছে।অনেক ডাকাডাকিতে কাজ হচ্ছে না দেখে একটা নার্ভপিল খাওয়াতে সে যেন হুঁশ ফিরে পেল।বলল সারাদিন কিছু খায়নি,শুধু আমার ল্যাবোরেটরিতে বসে সঙ্কেতকের দিকে তাকিয়ে বসে আছে।আমি লিঙ্গুয়াগ্রাফ যন্ত্রটা কানে লাগিয়ে বোঝবার চেষ্টা করলাম,যদি নিউটন কিছু বলে।কিন্তু নাহ কিছুই বলল না।আমি একটু আদর করে মাথায় হাত বুলিয়ে একটা ফিস পিল খাইয়ে দিলাম।এবার বেচারা একটু লেজ নেড়ে বারান্দায় চলে গেল।তারপর প্রহ্লাদ যেটা বলল সেটা শুনে আমার মাথা বাঁই বাঁই করে পাক দিতে থাকল।ব্যাটা বলে কিনা সঙ্কেতকে কি একটা ছবি দেখেছে,কি কুক্ষনে আমি যে অটোরেকর্ড করে রেখে যাইনি! অনেক চেষ্টা করেও কোন ডেটা রিট্রিভ করতে পারলাম না।প্রহ্লাদকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করেও কোন লাভ হচ্ছে না দেখে শ্যাঙ্কোবেলের শরণাপন্ন হলাম।শ্যাঙ্কোবেল যে ছবিটা দেখালো সেটা হল একটা জায়গার ছবি।চারিদিকে শুধু সাদা শুষ্ক বরফ, আরেকটু ভালো করে দেখতে একটা গর্তও দেখতে পেলাম,আর দেখলাম পাশে পাথরের মত কিছু একটা পরে আছে!আমার অনুমান ভুল না হলে এই ছবি মঙ্গলের !

বিকেলের দিকে মিত্তির বাবুদের রজনী সেন রোডের বাড়িতে পৌঁছে সমস্তটা খুলে বললাম,এবং ওনাকে প্রস্তাব করে ফেললাম মঙ্গল অভিযানে আমার সঙ্গী হওয়ার।প্রথমটায় উনি বললেন যে-“আমি তো বিজ্ঞানী নই,ভূ-প্রকৃতি বিশারদ ও নই।আমি গিয়ে কি কোন লাভ হবে প্রোফেসর?”তারপর ওকে সঙ্কেতকের পাঠানো ছবি আর সিউডো কোড সম্পর্কে বলতেই উনি বললেন-“অন্য গ্রহে যাওয়ার আগেই রহস্য যদি এইভাবে ঘনিয়ে ওঠে,তার আসল উদ্দেশ্যটা কি সেটা জানার চেষ্টা করার সুযোগ হারানোটা বোকামি হবে।

এটা জানতে হবে এই যে ঘটনা গুলো ঘটছে সেটা কি কোন বিচ্ছু লোকের কাজ,নাকি এর পেছনে অন্য রহস্য আছে।তবে আমার কি মনে হয় জানেন আপনি চাইলে নিজেই এই রহস্যের কিনারা করতে পারতেন ।”মিত্তির মশাই কথাটা ভুল বলেন নি,কিন্তু মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে এত ব্যাস্ত যে এইদিকটায় মাথা খাটাতে পারছি না একদমই।সেটা ওকে বললাম,আর এটাও বললাম যে ওর মত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা পৃথিবীতে কম লোকেরই আছে,কাজেই উনি গেলে সুবিধেই হবে বেশ।যাই হোক ভদ্রলোক রাজি হয়ে গেলেন।শুধু ওর স্যাটেলাইট,মানে ওর খুড়তুতো ভাই তপেশ একটু মনমরা হয়ে ছিল।বেশ বুঝলাম দাদা গ্রহান্তরে অভিযানে যাচ্ছে ওকে ফেলে,ওর মনখারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক।

২৩শে অগস্ট,সন্ধ্যে ৬টা

১৮-ই বিকেলে আবার ব্যাঙ্গালোরে এসেছি।মাঝে কটা দিন ডায়েরি লেখার সময় পাইনি।আমি আর ক্যালকুলাস মিলে পুরো মঙ্গলায়ন যানের খুঁটিনাটি দেখতে ব্যাস্ত ছিলাম।আজ দুপুরে কম্পিউটারে একটা টেস্ট রান করাতে সেটা সাকসেসফুল হল।একটু স্বস্তি পেলাম সব্বাই।আজ মঙ্গল অভিযানের বাকি দুই সদস্যও এখানে পৌঁছে গ্যাছেন।তার মধ্যে একজন তো প্রদোষবাবু।আরেকজন আমি যাকে ভেবেছিলাম ঠিক সেই ব্যক্তিটিই এসেছেন সুদূর ব্রাসেলস থেকে।তিনি আর কেউ নন ‎Le Petit Vingtième এর উনিশ বছরের সাংবাদিক টিনটিন।ছেলেটাকে দেখলে মনটা ভেতর থেকে খুশিতে ভরে ওঠে কেন জানি না।সেই নীল শার্ট ,প্লাস ফোর নিকারবকারস প্যান্ট,ক্যুইফ করা চুল। চোখের মধ্যে একটা অদ্ভুত ছটফটানি আছে ছেলেটার,যেটা ক্রমাগত বুঝিয়ে দেয় সাহসের কোনো খামতি নেই ওর মধ্যে।ওদের সাথে খানিকক্ষন একটা কফিশপে গল্প করে,কালকের জন্য সমস্ত রকম প্রয়োজনীয় জিনিসের লিস্ট ঝালিয়ে নিলাম।হোটেলে ফেরার আগে টিনটিন ওর ফোনে একটা গ্রুপফি তুলল,তারপর আমরা যে যার হোটেলের দিকে রওনা হলাম।

২৪শে অগস্ট,দুপুর ২টো

সাঁই সাঁই করে বিশাল গতিতে রকেট ভেসে চলেছে মহাশূন্যে।অবশেষে সেই দিনটা চলেই এল তাহলে,এতদিনের পরিশ্রম,জল্পনা কল্পনা শেষে আমরা দিব্যি চেপে বসেছি মঙ্গল যানে।রকেটটি প্রথমে বুস্টার লঞ্চার দিয়ে বেস স্টেশন থেকে ছাড়া হয়,লঞ্চারটি রকেটটিকে পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণ এর বাইরে নিয়ে গিয়ে আবার বেস স্টেশনে ফিরে আসে।এবং সেখান থেকে রি-ফুয়েল হয়ে একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কের সাথে জুড়ে আবার একই ভাবে রকেটটিকে অনুসরণ করে। যেহেতু রকেটের ভেতরটা অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি অ্যালয় দিয়ে তৈরি,তাই শূন্যে রকেটের প্রবল গতি অনুভব করা যাচ্ছে না।সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শ্রীহরিকোটা থেকে রকেটটি মঙ্গলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল।সবারই চোখে মুখে একটা উত্তেজনার ছাপ স্পষ্ট।আমরা সবাই একদম সাধারণ জামাকাপড় পরে আছি।আমার অক্সিমোর পাউডার নেওয়া আছে যথেষ্ট পরিমানে।এই পাউডার কোনো বদ্ধ জায়গায় ছড়িয়ে দিলে সরাসরি অক্সিজেনে রুপান্তরিত হয়।তবে খোলা জায়গায় এটা কাজ করে না।টিনটিন হঠাৎ বলল-“প্রোফেসর এই আধুনিক যুগেও আপনি ডায়েরি লেখেন কেনো?ল্যাপটপ,বা আপনার শ্যাঙ্কোবেলেই সেভ করে রাখতে পারেন তো।”আমি বললাম-“কয়েকটা জিনিসে আমি বড় সেকেলে।হয়তো একদিন এত আধুনিক হয়ে পরলাম যে না লিখতে লিখতে নিজের হাতের লেখাটাই ভুলে বসলাম।” তারপর ও জিজ্ঞেস করল- “আমরা এখন ঠিক কোথায় আছি?” উত্তরটা দিলেন মিঃমিত্তির-“পৃথিবীর অভিকর্ষজ ত্বরণের বাইরে,আর আমরা এতক্ষনে পোর্টব্লেয়ার-ব্রুনেই পেরিয়ে ইন্দোনেশিয়ার অনেক উপর দিয়ে ভাসছি।”আসলে আমার সঙ্কেতকের রিসিভারটা এখন প্রদোষবাবুর কাছে।ওটাকে সাথে করে নিয়ে এসছি,ওটাতেই পৃথিবীর লোকেশন দেখাচ্ছে।এরপর একটু শুকনো খাবার দাবার খেয়ে ঘুমিয়ে নেব ঠিক করলাম।মিঃ মিত্তির আমায় ডেকে ওনার সাহিত্যিক বন্ধু লালমোহন গাঙ্গুলির ফেসবুক স্টেটাস আপডেট দেখালেন।ভদ্দরলোক লিখেছেন-“চন্ডীমঙ্গল,মনসামঙ্গলের কাহিনীর পর ‘শঙ্কুমঙ্গল’ এর ইতিহাস যেন স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয় এই কামনা করি।” মনটা ভীষণ ফুরফুরে লাগছে এখন।

২৭শে অগস্ট সন্ধ্যে ৬টা

এই দুদিনে বেশ একঘেয়ে হয়ে গ্যাছে ব্যাপারটা।মহাশূন্যে ভেসে ভেসে চলেছি তো চলেছি,মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছে এ যাত্রার কোন শেষ নেই।পুরোটাই অটোপাইলট মোডে চলছে।তবু মাঝে মধ্যে দু-একবার গিয়ে সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে আসতে হচ্ছে কন্ট্রোল রুমে।মাঝে মধ্যে ক্যালকুলাসের ইচ্ছে হচ্ছে ভেসে বেড়ানোর,তখন আমাদের বসার যায়গার বাইরে চলে যাচ্ছেন স্পেস স্যুইট পরে।মিঃ মিত্তির একবার কন্ট্রোল রুম থেকে ফিরে এসে বললেন-“পুরোটাই বাইনারি সিস্টেমে কোড করা তাই না প্রোফেসর?”।ঠিকই ধরেছেন ভদ্রলোক।আমি জিজ্ঞেস করলাম “কেন বলুন তো?”উনি ভুরু কুঁচকে হাত দুটো মুখের সামনে জরো করে বললেন-“খটকা প্রোফেসর খটকা!”

২৯শে অগস্ট রাত ১০.৩০

রাতের মহাকাশের দৃশ্য চক্ষুসার্থক করে।চারিদিকে তারার ঝিকিমিকি।ভীষণ রঙিন একটা দৃশ্য।একদিন আবার উল্কাপাত হতেও দেখলাম।আমার কাছে প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে আমার তৃষ্ণাশোক,বটিকা ইন্ডিয়ার বড়ি,অক্সিমোর পাউডার,এয়ার কন্ডিশনিং ক্যাপসুল,মাইক্রোসোনোগ্রাফ,লুমনিম্যাক্স এর বল রয়েছে।কাজেই খাবার অক্সিজেন এবং আলোর অভাব আমাদের হবে না।যেটা সমস্যা সেটা হল,দুটো বড় বড় রিফ্লেকটর রয়েছে আমাদের সাথে সেই রিফ্লেকটর গুলো ভেঙ্গে গেলে খুব সমস্যা হবে।তাই ওটা নিয়ে চিন্তায় আছি।আর যেটা সাথে নিয়েছি সেটা আমার ব্রম্ভাস্ত্র অ্যানাইহিলিন পিস্তল।কেন নিয়েছি জানি না,আশা করব ওটা যেন ব্যাবহার করতে না হয়।


২রা সেপ্টেম্বর,বিকেল সাড়ে চারটে


অবশেষে মঙ্গল!আটদিনের মহাকাশ সফর শেষে পৃথিবীর প্রথম মানুষ হিসেবে আমরা চারজন পা রাখলাম ‘দ্য রেড প্ল্যানেট’-এ।আমরা এখন বসে আছি একটি বিশেষ ভাবে নির্মিত অ্যান্টি-রেডিয়েশন তাঁবুর ভেতর।লুমনিম্যাক্সের দুটো বলে পুরো তাঁবু আলোকিত।মঙ্গলে নামার ঠিক আগে আমরা স্পেসস্যুট,হেলমেট পরে নিয়েছিলাম।সবার স্পেসসুটের মধ্যে আর হেলমেটে অক্সিমোর ছড়ানো ছিল তাই আর আলাদা করে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দরকার পরে নি।মঙ্গলে বাতাসে ৯৬% কার্বন-ডাই-অক্সাইড রয়েছে।তাই হেলমেট খোলা যাবে না কখনই।আমরা যেখানে নেমেছি সেটা ২৭ ডিগ্রী দক্ষিনে বিষুবরেখা থেকে।নামার সময় ম্যানুয়াল কন্ট্রোল প্যারাশুটে করে নামলাম আমরা আলাদা আলাদা ভাবে।জিনিস পত্র গুলোকেও একই ভাবে নামানো হল।চারিদিকে এখন ধু ধু করছে লাল গুঁড়ো মাটি আর যায়গায় যায়গায় বরফ জমে রয়েছে।তবে এগুলো শুষ্ক বরফ।আসলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রচন্ড ঠাণ্ডায় জমে গিয়ে ড্রাই-আইস এর আকার নেয়।মঙ্গলের এখন তাপমাত্রা -৭৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট।আসলে সূর্য থেকে মঙ্গলের দুরত্ব প্রায় ২২৮ মিলিয়ন কি.মি ।এত দূরত্বের দরুণ সূর্যকে মঙ্গল থেকে খুবই ছোট লাগে।আর সূর্যদেবও নিজের অস্তিত্বের প্রভাব মঙ্গলে বিশেষ ফেলতে পারেন না।কিন্তু আমার এয়ার কন্ডিশনিং পিলটা আমাদের সেই ভয়াবহ ঠান্ডা অনুভব করতে দিচ্ছে না।

৩রা সেপ্টেম্বর রাত ন’টা

এইমাত্র বেসক্যাম্পে ফিরে ডায়েরি লিখতে বসেছি।আজ সারাদিনটা গোছগাছ করতেই কেটে গেল।তারপর কাছাকাছি কিছু যায়গা থেকে মাটি সংগ্রহ করলাম।মাইক্রোসোনোগ্রাফ দিয়ে দেখে যেটুকু বুঝলাম তা হল গোটা মাটিটাই খুব সূক্ষ্ম রেগোলিথ এর কণা।এবং এর ধুলোর ব্যাস মাত্র ৩০ মাইক্রোমিটার।ক্যালকুলাস একবার দেখে বললেন-“এই মাটি কোন অ্যাস্টেরয়েডের ধ্বংসাবশেষ থেকেও তৈরি হতে পারে।পৃথিবীতে ফিরে ভালো করে পরীক্ষা করতে হবে।”তাঁবু থেকে বেশ কাছেই ছিলাম,বিকেলে ফিরে এসে টিনটিন মঙ্গলের একটা ম্যাপ এঁকে ফেলল কাগজে।গোটা মঙ্গলের জমির পরিমাণ ১৪৫ মিলিয়ন বর্গ কিমি।পৃথিবীর স্থলভাগের থেকে মাত্র ২৫ মিলিয়ন বর্গ কিমি কম।মোটামুটি বিষুবরেখা ০ ডিগ্রী তে ধরে ৫০ ডিগ্রী উত্তর আর ৫০ ডিগ্রী দক্ষিন অবধি মঙ্গলের বিস্তার।উত্তর এবং দক্ষিণ গোলার্ধে পুরু বরফের আস্তরণ দুটো আইস ক্যাপ এর সৃষ্টি করেছে।এই জায়গা দুটির নাম যথাক্রমে Vasitas Borealis ও Vasitas Atlanta ।উত্তর গোলার্ধ থেকে নিচের দিকের যায়গা গুলি হল Olympus monks ,Tempe Terra, Utopia planetia, এবং দক্ষিণ গোলার্ধ থেকে উপরের দিকে,Aonia Terra, Nachis Terra,Tyrrehene Terra অবস্থিত।সন্ধ্যেবেলা বাইরেটা এসে বসেছিলাম সবাই।এখানে বাতাসের ঘনত্ব খুবই কম।হঠাৎ আকাশের দিকে তাকাতেই বুঝলাম হালকা মেঘের মধ্যে দিয়ে দুটো গোল বস্তু উঁকি মারছে।মঙ্গলের জোড়া চাঁদ।মিত্তির মশাই ওদিকে তাকিয়ে বললেন-“phobos 

আর deimos মঙ্গলের দুই চাঁদ।১৮৭৭ সালে অ্যাসাফ হল এই জোড়া চাঁদের নামকরণ করেন।রোমানদের যুদ্ধের দেবতা মার্সের নাম অনুসারে এই গ্রহের নামকরণ করা হয়েছিল। phobos আর deimos হল তার রথের দুই ঘোড়া।”ক্যালকুলাস এর মাঝে একবার লাফিয়ে উঠেছিলেন আচমকাই।এবং তিনি যতটা উপরে উঠলেন তা দেখলে পৃথিবীর যেকোনো অ্যাথলিট লজ্জা পেয়ে যাবে।আসলে পৃথিবীর গ্র্যাভিটেশনের .৩৮ ভাগ হল মঙ্গলের গ্র্যাভিটেশন।যে কারণে এত হালকা বোধ হচ্ছে নিজেদের।এরপর একটা প্ল্যানিং করা হল কোথায় কোথায় যাওয়া হবে।আপাতত ঠিক হল কালকে সকালে আমরা বিষুবরেখার কাছে যাব।কালকের মিশনটার নাম ‘মিশন রিফ্লেক্টর’ যেটার জন্যই মঙ্গলে আসা।

8ঠা সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা।

একটু আগে বেস ক্যাম্পে ফিরলাম।খুশির ব্যাপারটা হল এই যে ‘মিশন রিফ্লেক্টর’ সাকসেসফুল।আমাদের রকেটের সাথে একটি অটোবট আনা হয়েছে,একটি রোবোটিক কার যেটায় করে আমরা একদম বিষুবরেখায় গিয়ে পৌঁছালাম।গোটা মঙ্গলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা এটি।এখানকার পাথুরে মাটিতে খাঁজ আর জলের দাগ বোঝায় বহুকাল আগে এখানে নিশ্চয়ই কোনো জলাশয় ছিল।এরপর যত পূর্বের দিকে এগনো যায় তত মাটিতে লবণের ভাগ বাড়তে থাকে।আন্দাজ করা যায় এই চত্বরে সমুদ্র ছিল কোন এক সময়।ক্যালকুলাস বেশ ভালো একটা যুক্তি দিলেন।এই মাটির ক্রিস্টাল ষড়ভুজের মত।যা হেমাটাইটকে নির্দেশ করে।হেমাটাইট সাধারণত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে তৈরি হয়।হয়তো কোন এক ভল্ক্যানিক অ্যাক্টিভিটিতে পুরো মঙ্গলের অমঙ্গল হয়ে গ্যাছে।টিনটিন তারপর জিজ্ঞেস করল-“আচ্ছা আপনাদের কেন মনে হয় মার্সে,পৃথিবীর মত প্রাণের সঞ্চার সম্ভব?”আমি বললাম-“প্রথম কারণ এত বরফ যখন আছে জল পাওয়ার অসুবিধে নেই।তাছাড়া মঙ্গলের আহ্নিক গতি ২৪ঘন্টা ৩৯ মিনিট।পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের সময় মাত্র ৪০ মিনিট বেশি।এই মিল গুলো অন্য কোন গ্রহে পাওয়া যাবে না”।আসলে পৃথিবী যে ভয়ে কম্পমান আম্রাভ সেই গ্লোবাল ওয়ার্মিং কে এখানে কাজে লাগাব আমরা।এই বড় দুটো রিফ্লেক্টর দুই গোলার্ধের দিকে মুখ করে ৪৫ ডিগ্রী কোণ করে আটকে দেওয়া হল যাতে সূর্যের রশ্মি বহুদূর পর্যন্ত প্রতিফলিত হয়ে দুই গোলার্ধের মাথায় যে আইস ক্যাপ আছে সেগুলো কে গলিয়ে দেবে।বিষুবরেখায় তাপমাত্রা সাত ডিগ্রি ফারনহাইট।মঙ্গলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির একটা উপায় এটাকে ব্যবহার করা। আর বরফ গলে যখন জল হবে,মঙ্গলের ভূপ্রকৃতি বদলাবে এবং পৃথিবীর মত প্রাকৃতিক জলাশয় তৈরি হবে,যেটা একটা সভ্যতা গড়ে তোলার জন্য সবচেয়ে জরুরি।এটা একটা প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র এর ফল পেতে এখনো তিরিশ বছর অপেক্ষা করতে হবে।ফিরে আসার পর একটু মনমরা হয়ে বসেছিলাম মঙ্গলের কাজ শেষ আমাদের।নমুনা সংগ্রহ হয়ে গ্যাছে রিফ্লেক্টর বসানো হয়ে গ্যাছে,আর সেরকম কিছু বাকি নেই।আমরা গোছগাছ শুরু করেছি সবাই,টিনটিন জিজ্ঞেস করল-“এই ম্যাপটা রাখতে পারি আমার কাছে”?আমি কিছু বলার আগেই মিঃ মিত্তির একলাফে টিনটিনের কাছে পোঁছে ম্যাপটা ওর হাতথেকে কেড়ে নিল।চোখে আর ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত একটা হাসির ঝিলিক।“যাক প্রোফেসর হেঁয়ালির সমাধান হয়ে গ্যাছে।ভিন গ্রহে আসার উত্তেজনায় ফেলু মিত্তিরের মস্তিষ্ক সঞ্চালনে খানিক ব্যাঘাত ঘটেছিল বৈকি”।গোটা ঘরে এখন থমথমে নিঃস্তব্ধতা।মিত্তির মশাই বলে চললেন-“ধাঁধার প্রথম অংশটা রকেটে আসার পথেই বুঝে গেছিলাম,মনে আছে আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম সমস্তটা বাইনারি সিস্টেমে কোড করা কিনা।যেটা বুঝতে পারিনি সেটা হল দ্বিতীয় অংশটা। V..L..O..01..I..T… V..L..O..01..I..T...U..T….A…PL..A এই হেঁয়ালি তে প্রথম দুটো শব্দ এক।আর দ্বিতীয় শব্দটা হল U..T….A…PL..A।একটু ম্যাপটা ভালো করে লক্ষ্য করতেই বুঝলাম কয়েকটা অক্ষর জুড়ে দিলে শব্দটা দাঁড়ায় Utopia Planetia অর্থাৎ বিষুবরেখা থেকে ২৯ ডিগ্রী উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত একটি জায়গা।এবার আসি প্রথম ভাগে।যেটা প্রথমেই আমায় ভাবনায় ফ্যালে সেটা হল ওই 01 ব্যাপারটি।০১ অর্থাৎ বাইনারি ০১,মানে আসল সংখ্যা হল ১।ইংলিশ বর্ণমালার প্রথম অক্ষর হল a,এরপর ০১ কে a দিয়ে রিপ্লেস করে শুধু ওখানে যে অক্ষর গুলো আছে সেগুলোর প্রত্যেকটার আগের অক্ষর বসিয়ে দেখলাম শব্দটা আসছে U K N A H S,কিন্তু এতেও কোনো অর্থ হচ্ছে না তাই না?এবার গোটা শব্দটা উল্টে পড়লে দাঁড়াচ্ছে SHANKU,গোটা হেঁয়ালিটা দাঁড়াচ্ছে SHANKU SHANKU UTOPIA PLANETIA,অর্থাৎ আমার বিশ্বাস এখনো কাজ বাকি আছে প্রোফেসর।আপনাকে কেউ বা কারা ওখানে যাওয়ার সিগন্যাল পাঠিয়েছে”।আমার মাথা ঝিমঝিম করছিল।সত্যিই মগজাস্ত্র বটে ভদ্দরলোকের।একসাথে ভয়ও করতে লাগল,কি আছে কপালে জানি না।


৫ই সেপ্টেম্বর,বিকেল ৫টা


রকেটে বসে আছি সবাই চুপচাপ।ঝড় বয়ে গেল সারাদিনটা।ক্যালকুলাস থম মেরে বসে।টিনটিন হেডফোনে গান শুনছে থাকতে না পেরে।মিঃ মিত্তির চোখ বুজে শুয়ে আছেন।আর আমি ডায়েরি লিখছি। UTOPIA PLANETIA তে পৌঁছাতে চোখ কপালে উঠে গেল।এ দৃশ্য আমি আগেও একবার দেখেছি গিরিডির বাড়িতে।প্রহ্লাদের মস্তিষ্ক ঘেঁটে শ্যাঙ্কোবেল যে ছবিটা দেখিয়েছিল সেটা এটাই।সেই সাদা শুষ্ক বরফের প্রান্তর,আর একটা পাথর।ক্যালকুলাস মাইক্রোসোনোগ্রাফটা নিয়ে পরীক্ষা করতে চোখ লাগালেন পাথরে।মিনিট খানেক পর লক্ষ্য করলাম তিনি আর নড়ছেন না।এরপর আমি গিয়ে দেখতে লাগলাম।সোনোগ্রাফে চোখ লাগাতে দেখলাম অতি তেজস্ক্রিয় কোটি কোটি মাইটোকনড্রিয়া সিগ্ন্যাল জেনারেট করে চলেছে।আমার হাত পা অবশ হয়ে আসছে আমার স্নায়ুতন্ত্রে খুব বিচ্ছিরি প্রভাব পরেছে বুঝতে পারলাম।হঠাৎ আমার হাতটা ওই পাথরের উপর পরতেই পাথরটা আমায় গ্রাস করতে থাকল।টিনটিন দৌড়ে এসে টেনে ধরল হাতটা।হঠাৎ লক্ষ্য করলাম পাথরটা এগোতে শুরু করেছে,বিপদ বুঝতে পেরে মিঃ মিত্তির আমার কোটের পকেট হাতড়ে ব্রম্ভাস্ত্রটা বের করে চালিয়ে দিলেন ওই পাথরটায়।মুহূর্তের মধ্যে আমার গর্জে ওঠা অ্যানাইহিলিন একটা গোটা প্রজাতি কে নিশ্চিহ্ন করে দিল।আসলে বিবর্তনের উলটো পথে হেঁটেছে এই মঙ্গল।জিবনের একদম আদি পর্যায়ে পৌঁছে গ্যাছে কোন ভাবে,কিন্তু অদ্ভুত ভাবে এরা সিগ্ন্যাল পাঠাতে এবং পড়তে পারে নিজে থেকে।যেটা বুঝলাম ওদের মূলত এনার্জির প্রয়োজন।যেকোনো প্রানশক্তি থেকে এনার্জি শুষে নিতে পারে এরা।প্রহ্লাদ আর নিউটনের ওই দশা কেন হয়েছিল বুঝতে পারছি এবার।প্রোফেসরের দিকে তাকালাম আমায় বললেন-“আমার পেন্ডুলামটা দেখেছেন?”যাক স্বাভাবিক হচ্ছে সমস্তটা।মিঃ মিত্তির আর টিনটিন বোধহয় তোপসে আর কুট্টুসের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরেছে।আমারও নিউটনের জন্য মনকেমন করছে।বেচারাকে ফিরে ভালো করে মুড়িঘন্টের পিলটা খাওয়াবো,ওটা পেলে মাছের মাথাও খেতে চায়না আমার পোষ্যটি।


Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Classics