STORYMIRROR

Manab Mondal

Abstract Fantasy

4  

Manab Mondal

Abstract Fantasy

পূজা আসছে

পূজা আসছে

3 mins
453

মর্নিং ওয়াক করে ফিরে , কৈলাস এর গেটের সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শিব ঠাকুর ভাবছেন। এইখানে একদিন শিব ঠাকুর লিখে রেখেছিলেন my sweet home। এখন লিখে রেখেছেন ওম শান্তি ওম। আসলে বিয়ে পর থেকেই শিব বুঝতে পেরেছেন কিভাবে পিরীতি হতে হয় স্বামীদের। কারন অকারন ঝগড়া করে দূর্গা তার সাথে। জোর করে খাইয়ে খাইয়ে ভুড়ি করে রেখেছে তার যাতে তার দিকে কোন মহিলা না তাকায়। এখন যেই দেখলো বৌশাখী অর্পিতারা ভুড়ি ওয়ালা পার্থ শোভনের সাথে প্রেম করেছে, অথচো , সালমান খানের পাত্রী জুটেছে না ওমনি দৃর্গা ওকে জিমে পাঠালো মেদ কমাতে।

শিব ঠাকুর হাঁড়ে হাঁড়ে টের পেয়েছেন বিয়ে করে তিন কি ভুল করেছেন। সোস্যাল মিডিয়া কোন কমেন্ট লাইক পর্যন্ত দিতে পারেন না তিনি। ফিম পূজার নামে তো আপনারা দূর্গাকে কত ধরনের পোশাক আশাক পরতে দেখেন। সব দেবতারই ভালো ভালো পোশাক পরে ছবি তুলে পোস্ট করে। কিন্তু মা দূর্গার করা বাঘ ছাল ছাড়া কিছু পড়া যাবে না। স্টাইল ফ্যাশন কিছু করা যাবে না। গলায় সবার সোনার রূপার চেন থাকে, শিবের গলায় সাপ আছে। কারণ একটাই ওটা দূর্গার পোষা। সব খবর দিয়ে দেয় দূর্গার কানে। শিব ভালোই বুঝতে পেরেছেন রাধা কৃষ্ণ শ্রেষ্ঠ প্রেমিক প্রেমিকা থাকতেন না যদি ওরা বিবাহ করতেন।

শিব একদিন বড়াই করে বলতো, "চালচুলোহীন সে, তাকে পার্বতী বিয়ে করছে ১০০%ভালোবেসে।" পরে তার ভুল ভেংগে গেল। আসলে পার্বতীর ফন্দি আঁটে ছিলো শিবকে ঘর জামাই রাখতে। রাতে পাড়ার বৌদিদের সাথে কথা বার্তা না বলতে পারে শিব। শিব সে ফন্দি জেনে গিয়েছিলো বলে দৃর্গার সাথে কখনো মর্ত লোকে আসে না তবে দূর্গা শর্ত মেনে নির্জন কৈলাশ ঘর বেঁধেছে‌। আমার কথা বিশ্বাস হচ্ছে না।তাই তো দেখবেন মা সপরিবারে মর্তে এলেও শিব ঠাকুর তাদের সাথে আসেন না। আবশ্য অনেক বলেন মা নেশা খোর শিব কোথাও নিয়ে যাবেন না বলেই ফোর সিটার গাড়ি কিনেছে।

তবে বেকার শিব ঠাকুরকে দূর্গা ঠাকুরের বিয়ে করার আরো একটা কারণ ছিলো ঘরের কাজ গুলো সব শিব ঠাকুরকে দিয়ে করিয়ে নিতো। সংসার চালাতে টাকা পয়সা লাগতো না তেমন, কারণ, লক্ষী ভান্ডার, খাদ্যশ্রী , কন্যাশ্রী না প্রকল্প টাকা পাওয়া যেতো। এমন কি নিন্দুকেরা বলে রূপশ্রী নামে একটা প্রকল্প থেকে রূপ চর্চার জন্যেও সরকার টাকা দিতো।

আগে সরকার ওকে চিরকুট চাকুরী পাইয়ে দেবে বলেছিলো কিন্তু ও বোধহয় নেয় নি। আসলে শিব ঠাকুর বেকার হলে কি হবে তার অনেক সাঙ্গ পাঙ্গ আছে। তাই সরকার থাকতে হলে শিব ঠাকুরকে একটু তেলিয়ে চলতে হয় সবাইকে। জননেত্রী সভায় ভিড় বাড়ানো থেকে ছাপ্পা ভোট সব কিছুতেই তো লোকজন দরকার। শিবরাতো হলেন দলের সম্পদ । তবে শিব সৎ মানুষ নয়তো মাগুর মাছ বেঁচে সেও কোটি পতি হতে পারতো। তারও দশবারোটা চাল কল, গাড়ি , বাড়ি থাকতো। কার্তিকটা s.s.c না দিয়ে কোন স্কুলের শিক্ষকতার চাকরি করতো। কষ্ট করে সেনাবাহিনীতে চাকরির করতে হতো না। তবে মাঝে মাঝে শিবেরও কষ্ট হয়। কেষ্ট বেটা চুরি করেও সবার কাছে কতো জনপ্রিয়।

তবে শিব এসব নিয়ে ভাবেছে না এখন। পূজা আসছে ও খুব খুশি। তিন চারদিন বৌএর মুখ ঝামটা ওকে খেতে হবে না। তবে একটা কষ্ট ওর বুকের ভিতরে চিনচিন করেছে। মর্ত লোকে কথায় গাজা কেস দেবার ফলে এখন গাঁজা বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। পূজা আসছে বলে আবার শিব ঠাকুরের ভয় করছে খুব। দূর্গাকে  শিব ঠাকুর     হাজার হোক ভালোবাসে। মোটামুটি ভাবে পশ্চিম বঙ্গের সব পুজার মাথাতেই বড় বড় নেতাদের হাত থাকে। দূর্নীতি সাথে কে কোথায় থেকে জরিয়ে আছে কেউ জানে না। মা দূর্গাকেও না আবার কোন তদন্তের মুখোমুখি হতে হয় , এটা শিব ঠাকুরের ভয়।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract