STORYMIRROR

Manab Mondal

Abstract Children Stories Inspirational

3  

Manab Mondal

Abstract Children Stories Inspirational

পটলা এন্ড কোম্পানী আর রাঙাদাদু

পটলা এন্ড কোম্পানী আর রাঙাদাদু

4 mins
164

আমি পটলা। পটলা আমার নাম দাওয়া হয়েছে কারণ আমি খেতে ভালোবাসি। তাই মাথা আর পায়ের দিকে সরু আর পেটটা একটু মোটা। আমার টিম দুই জন সদস্য আছে নাম আপু আর বাপি। আপুর চেহারা মোটা আর বাপির মাথা মোটা। তবু আমাদের জুটি অনেক সমস্যার সমাধান করেছে। তাই শেষমেশ রাঙা দাদুও আমাদের সাহায্য চাইতে বাধ্য হলো।

ও আগের ঘটনা যারা যানো না, তাদের জন্য সংক্ষেপে বলি কি ঘটেছিল আগে। বাংলায় একটা বিখ্যাত কথা আছে, " নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপাড়ে সর্বসুখ বিশ্বাস"। ( কিছু ভুল বললে দিদি মুনি মাষ্টারমশাই দের মতো ঝকা দিও না কিন্তু। ) মানে বড়রা ভাবে ছোট হলে ভালো হতো। কোন চিন্তা ভাবনা নেই , খালি পড়াশোনা করো মা বাবার আদর খাও , আর খেলাধুলা করো।ছোট রা ভাবে তারাতারি বড় হতে পারলে ভালো হয়। সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, কেউ আর বকাঝকা করতে পারবে না। তা রাঙাদাদু একটা টাইম মেশিন বানিয়ে ফেলেছিলেন ছোট হবার আশায়। আর তার সাহায্যে আমাদের সম বয়সি হলো। আমদের সাথে বন্ধুত্ব করলো।  

কিন্তু রাঙা দাদু আমাদের থেকে ও রোগী। ওর সব দুষ্টুমিতে সঙ্গ দিলেও।মোটা জ্যাঠিমার আচার চুরি করতে রাঙা দাদুর সাথে আমরা গেলাম না । আর সেখানেই বিপদ ও নাকভোচা কেলে কুকুরের তারা খেয়ে গা ছাড়া হলো। আর আমরা ঐ টাইমে মিশনটা খোঁজার সুযোগ পেয়ে গেলাম।

আর টাইম মেশিনটাও পেয়েও গেলাম। রাঙাদাদুর ঘরে তো আমরা যখন তখন যেতাম। বড় আলমারীরটা কখনো দেখি নি। আর আলমারি ভিতরে একটা সাইকেল। বুঝতে বাকি থাকলো না এটাই ঐ টাইম মেশিন। আলমারির দেওয়ালে একটা ঘড়ি। কিন্তু ব্যবহার প্রনালী তো আমরা জানি না। বাপির তর সয়না। বলে মোবাইল যেমন ঘাটাঘাটি করে আমরা শিখে যাই তেমন করে শিখে নেবো।

কিন্তু আপু আমি ঝুঁকি নিতে রাজি না। যদি ধরো আমার বয়েস ১০ কমাতে গিয়ে ১০০ কমিয়ে ফেললাম তাহলে কি হবে। আমরা চলে যাবো পরাধীন ভারতে। আমরাতো নেতাজী ভালোবাসি আজাদ হিন্দ ফৌজ যোগ দেবোই। কিন্তু যুদ্ধে যদি মরা যাই তাহলে কি হবে?? আমার লোকনো চকলেট গুলো সব ছুটকি খেয়ে নেবে।আর ওটা যদি হাজার হয়ে যায়। টিকি মাথায় ধুতি পড়ে পাঠশালা যেতে হবে। আর যদি ১০০০০ কমে যায় তাহলে বনে শিকার ধরে খেতে হবে, ঐ পিজা , আইসক্রিম কিছুই পাবো না।

কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে তবু বাপি ওই মেশিন চলতে গিয়ে বিপত্তি ঘটলো। এতো ঘরয়া পদ্ধতিতে অ্যাসেমবেলা করা মেশিন। সাইকেল চেন পরে গেছে সেটা ঠিক করতে গিয়ে। দেখি আর কতো কি ভেঙে পড়লো। কিছু তে ঠিক করতে পারলাম না। পুরো কে সি দাসের অঙ্কের মতো গুলিয়ে যাচ্ছে সব কিছু।

এই সময় বাইরে আওয়াজ। দেখি রাঙাদাদু এসে হাজির। বলে না ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। চেহারায় ছোট হলেও, মানসিক ভাবে তো ছোট হয়নি।সে সবাইকে হুকুম দিয়ে এসেছে এতোদিন সে স্বভাব যাবে কোথায়। কিন্তু তার কথা এখন কেউ শুনছে না উল্লটে বকাঝকা করছে, সবাই পান থেকে চুন খসলেই। ছোট হয়ে থাকতে তার আর ভালো লাগছে না। সে বড়ো হতে চায়। কিন্তু ছোটদের নমতা ভুলে যাওয়ার মতো সে ভুলে গেছেন কিভাবে মেশিন টা চলতে হয়। মানে কিভাবে বয়সে কমাবে কিংবা বাড়াবে। তাই সে আমাদের সাহায্য চায়।

বাপি বেশ স্বস্তি বোধ করলো রাঙা দাদু বুঝতে পারবে না ঐ মেশিনটা আমরা ভেঙে ফেলেছি। কিন্তু আমাদের চিন্তা বেড়ে গেলো। দাদুকে আসল বয়সে ফিরিয়ে আনতে হবে। অনেক অজানা খবর দাদু আমাদের জানায় মাঝে মাঝে। দাদু আমাদের কাছে, গুগল মতো মোটামুটি ভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। মেশিন টা আমরা ঠিক করা চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না।

এদিকে দাদু কাঁদছে। বলছে ছোট হয়েছিল এটা ভেবে। ছোটবেলা কতো ভালো ঝগড়া ঝাটি করলেও সাথে সাথেই সব মিটিয়ে নিয়ে বন্ধু হয়ে যাই আমরা, মনে কোন রাগ পুষে রাখিনা। কি খাবো , কি পরবো তার কোন চিন্তা নেই। মহানন্দা দিন কাটাবো। কিন্তু এতো বকাঝকা , পরাধীনতা সে মেনে নিতে পারলো না। তাই সেই আগের বয়সে ফিরে আসতে চায়।

মেশিন তো খারাপ হয়ে গেছে কি করা যাবে। রাঙা দাদু তো বেলুন না হাওয়া দিয়ে বড়ো করে দিবো। চাল নয় যে জল দিয়ে ফুটিয়ে নিলেই বেড়ে যাবে। খুব চিন্তিত হয়ে গেলাম। ভৌত বিজ্ঞানে আমি আবার কাচা । রসয়ান কাজে লাগবে না। রূপ পরিবর্তন করতে গিয়ে পদার্থের চরিত্রের পরিবর্তন হয়ে না যায়। এটুকু বুঝতে পারলাম রাঙা দাদুর থেকে মেশিনটা আবার তৈরি করতে হবে এমন ভাবে যেটা শুঁয়োপোকার গুঁটির মতো হবে। রূপ পরিবর্তন করে ফেলতে পারে ঐ গুটির ভিতরে। একটা হদিস পেয়ে গিয়ে আমার গবেষণা শুরু করে দিলাম। অনেক রাত অবধি কাজ করলাম আমরা।

তবে মেশিন আবিষ্কারের আগেই। মা ঘুম থেকে তুলে দিয়ে বললো। "রাঙা দাদু পুরী থেকে ফিরে এসেছে। এই নে জিভে গজা খাঁ। দাদু দিয়ে গেলো।"

আমি স্বস্তি পেলাম তারমানে মেশিনটা ঠিক হয়ে গেছে।

,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract