প্রতারক:-
প্রতারক:-
"তুমি আমায় এত বড় আনন্দের খবরটা দিলে তৃষ্ণা, সত্যি, আমি ভীষন খুশি তৃষ্ণা বিশ্বাস করো, ভীষণ খুশি...", বলতে বলতে আনন্দে তৃষ্ণা কে জড়িয়ে ধরে মৃগাঙ্ক। তৃষ্ণা আর মৃগাঙ্কের ভালোবাসার অংশ তৃষ্ণার গর্ভ থেকে পাঠিয়েছে তার আগমন বার্তা, স্বভাবতই দুজনেই খুব আপ্লুত ছোট্ট অতিথিটির আগমনের সংবাদে। তৃষ্ণার চোখে শুধু খুদে শিশুটির অবয়ব চিত্রিত হয় যখন-তখন, মৃগাঙ্ক সহ তার পরিবারের প্রত্যেকেই খুব যত্নআত্তি করছে তৃষ্ণার, করবে নাই বা কেনো বিয়ের প্রায় ৬ বছর পর আজ তৃষ্ণা গর্ভবতী, স্বভাবতই সকলে খুব উৎফুল্লিত।
*********************
অধোবদনে অন্ধকার ঘরে একা বসে আছে তৃষ্ণা। এতবড়ো প্রতারণার শিকার হতে হবে সে ভাবেনি নিজেও। তৃষ্ণার অগাধ বিশ্বাস ছিল মৃগাঙ্কর উপর আর তার ভালোবাসার উপর। কিন্তু....
কিন্তু অদৃষ্টের কাছে যে হেরে গেলো তৃষ্ণা আজ, বেআইনি ভাবে তৃষ্ণার গর্ভস্থ ভ্রূণের লিংগ নির্ধারণ করার পর যখন জানা গেলো কন্যাভ্রূণ তখন থেকেই সে লক্ষ্য করলো মৃগাঙ্ক যেনো আরো বেশি যত্ন করছে তৃষ্ণার, কথায় কথায় সে বলতো,"আমি তো আমার সোনা-মা কে অনেক পড়াশোনা করবো তৃষ্ণা দেখে নিও, পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি হবে কন্যারত্নটির দ্বারা আর আমাদের কন্যাকে দিয়েই হবে আমাদের পরিচিতি তুমি দেখো তৃষ্ণা"। মৃগাঙ্কের মিষ্টি কথায় ভুলে তৃষ্ণা আজ আর শেষ রক্ষা করতে পারেনি গর্ভস্থ শিশুটির। বিশ্বাসঘাতক মৃগাঙ্ক কুটিল চক্রান্ত করে তৃষ্ণা কে মিঠে কথার পাঠ পরিয়ে মাতৃগর্ভেই শিশুকন্যাটি কে চিরনিদ্রার দেশে পাঠিয়ে দেয়। কি তার দোষ? দোষ একটাই, সে শিশুকন্যা, মৃগাঙ্ক যে পুত্রসন্তান চায়। তৃষ্ণা এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না যে শিশুটি নেই, তার থেকেও বেশি অবিশ্বাস্য লাগছে যে মৃগাঙ্ক এতবড়ো বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারলো তৃষ্ণার সাথে, সর্বোপরি নিজের সন্তানটির সাথে....!
