Sutanu Sinha

Classics Thriller Others


2  

Sutanu Sinha

Classics Thriller Others


প্রশ্নপত্র

প্রশ্নপত্র

3 mins 390 3 mins 390

মোবাইলের রিংটোনের শব্দে ঘুমটা ভাঙল তনুজার। রাত্রি তিনটে পনেরোয় চৈতির ফোন! ঘুমচোখে রিসিভ করল, “কী রে! এত রাতে ফোন কেন?” বিপরীতে ভেসে আসা কথাগুলো শুনে মুহূর্তের জন্য ওর পায়ের তলার মাটিটা যেন সরে গেল!

 

পা দুটো ঠক ঠক করে কাঁপতে থাকলো তনুজার। হেড স্যার পুরোটাই নাকি জানতে পেরে গেছে।

 

ভালো মেয়ে হিসাবে ভীষণ ভাবে পরিচিত সে পুরো স্কুল এ। কখনো এরকম অপরাধ করার ইচ্ছা তার মনেতেই আসেনি। চৈতি আর তনুজা দু জন এই পড়াশোনায় যথেষ্ট ভালো। কোনো কারণ বশতঃ এবারই কেমিস্ট্রি র প্রস্তুতি যেন কিছুতেই দু জন এ করে উঠতে পারিনি । মনে মনে সব পরিক্ষাত্রীর মনে যা থাকে তাদের মনে ও সে রকম চলছিল,কেমিস্ট্রি প্ৰশ্নপত্রের যদি কিছু জানতে পাওয়া যেত। আসলে কি পড়বে সেটাই তারা বুঝতে পারছিলো না। দু জন এসবই আলোচনা করতে করতে হেডস্যার এর ঘর এর দিকে যাচ্ছিলো। হেডস্যার তাদের কে ডেকে পাঠিয়েছে,স্কুল এর বছরকার অনুষ্ঠান সম্পর্কে কথা বলবে বলে। তাদেরকে হেডস্যার এমনিতেই খুব পছন্দ করে। স্কুল এর যে কোনো অনুষ্ঠান এ তারাই সব কিছু সামাল দেয়। আসলে চৈতি আর তনুজা যেন একটা জুড়ি , পড়াশোনা ,নাচ গান সব কিছুতেই যেন তারাই কর্তৃত্ব করে। হেডস্যার এর ঘরে গিয়ে তারা দেখলো হেড স্যার চেয়ারএ নেই। এরকম অনেক বার ই হয়েছে ।তাই তারা চুপ করে চেয়ার এ বসে রইলো । একটু অন্যমনস্ক ছিল তনুজা,এমন সময় চৈতির গলাতে সম্বিৎ ফিরলো। আর দু জনেই সামনে একটা জিনিস দেখে লাফিয়ে উঠলো। কালকের কেমিস্ট্রি পেপার এর প্রশ্নপত্র এর বান্ডিল সামনে খোলা আছে। কি করা উচিৎ আর করা উচিৎ নয় ,বোঝার আগেই চৈতি একটা প্রশ্নপত্র হাতে তুলে নিলো। তারপর দুজনএ ওখান থেকে বেরিয়ে একটা লম্বা দৌড় দিলো। এরকম কাজ আগে কখনো করেনি তারা। তনুজা বলতে লাগলো চৈতি প্রশ্নপত্র টা একবার দেখে নিয়ে ,ফিরিয়ে দিয়ে আসি চল। চৈতি বললো, চুপ কর ,তাতে আরও ধরা পরে যাবি ।যা হয়েছে ভালোর জন্য হয়েছে,চল এখন।

 

কিন্তু হেডস্যার এর কাছে এরকম অসম্মান,যেন মানতেই পারছে না তনুজাসারারাত ঘুমোতে পারলো না সে।

 

সকাল এ স্কুল এ গিয়ে পরীক্ষাহলে বসার কিছুক্ষন এর মধ্যেই,হেড স্যার প্রশ্নপত্র নিয়ে প্রবেশ করলো আর বললো,

কোনো ভাবে একটি প্রশ্নপত্র হারিয়ে গেছে, তাই আমরা প্রশ্নপত্রের একটি দ্বিতীয় সেট তোমাদেরকে দিচ্ছি , প্রত্যেকএ মন দিয়ে পরীক্ষা দাও। এই বলে স্যার তনুজা আর চৈতি কে ডেকে নিলো প্রশ্নপত্র বিলি করার জন্য।

 

মাথা নিচু করে সমস্ত প্রশ্নপত্র বিলি করে নিজেদের সিটএ বসে প্রশ্নপত্র খুলে দু জন এই অবাক। হেড স্যার কোনো প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করেনি। এটা সেই এক প্রশ্নপত্র যা তারা নিয়ে গেছিলো। ভীষণ অপরাধ বোধে ভুগতে লাগলো দু জনএ। জলভরা চোখে যাহোক করে বসে থাকা ১টি ঘন্টাতে তারা শুধু মাত্র নিজের নামটাই লিখতে পারলো। ফাঁকা খাতা জমা করে দিয়ে ছুটে চলে গেলো হেড স্যার এর ঘরে ।

 

নিজের চেয়ার এই বসে ছিলেন স্যার। চৈতি আর তনুজা নিজেদের কে সামলাতে না পেরে স্যার এর পা দুটো জড়িয়ে কাঁদতে শুরু করলো।

 

দুজন এর মাথায় হাত দিয়ে স্যার বললেন, ওরে তোরা নয় আমিই আসল অপরাধী,প্রশ্নপত্ত আগে খোলা আমার কোনো মতেই উচিত হয়নি।আসলে একটি দুস্থ ছাত্রী,যার কাছে পড়াশোনা করার বই টুকুও নেই তাকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।ভেবেছিলাম প্রশ্নপত্র আগে থেকে জেনে রাখলে মেয়েটিকে পরীক্ষাহলে একটু ধরিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু সাহায্য করার জন্য অন্যায়কে প্রশয় দেয়া আমার উচিত হয়নি ।

চৈতি আর তনুজা বুঝতে পারলো স্যার রিয়ার কথা বলছে। আর কথা না বাড়িয়ে,স্যার কে প্রণাম করে চোখ মুছে বেরিয়ে এলো তারা ,আর মনে মনে এটাই প্রতিজ্ঞা করলো ,স্যার এর মতো সাহায্য করার মানসিকতা নিয়ে যেন সারাজীবন তারা চলতে পারে ।


Rate this content
Log in