Sutanu Sinha

Drama Crime


3  

Sutanu Sinha

Drama Crime


রাজনীতি ও প্রেম শেষ কিস্তি

রাজনীতি ও প্রেম শেষ কিস্তি

13 mins 944 13 mins 944

পুরো ব্যাপার টা বুঝিয়ে বলে সুনেত্রা কে রাতুল বললো , "তোমার উপর সব কিছু রয়ে গেলো সুনেত্রা , তুমি যদি পারো আমরা জিতবো , না হলে হবে চূড়ান্ত হার । কিন্তু আমি জানি তুমি পারবে । তুমি কি ভাবে বলবে সেটা আমি তোমাকে বলে দেব না , নিজের মধ্যে জ্বলতে থাকা সমস্ত রাগ আর প্রতিবাদ এর ভাষা কে বাইরে নিয়ে আসা আর তাকে ভাষায় প্রকাশ করা তোমার কাজ । তবে তুমি পারো আর না পারো , সবসময় জানবে আমি তোমার পিছনে আছি । তুমি একটু কথা গুলো সাজিয়ে নাও ,আমি আসছি । " সুনেত্রা কে একটু সময় দিলো রাতুল নিজেকে গুছিয়ে নেবার জন্য , কারণ সে খুব ভালো করেই জানে সমস্ত দর্শক আর মুখ্যমন্ত্রীর সামনে এতো গুরুত্ব পূর্ণ কথা গুছিয়ে বলা কখনোই সোজা ব্যাপার নয় ।এবার রাতুল এর কাজ হলো সুবীর কে বাঁচানো । একটু নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে ফোন করলো সে সুজয়দা কে । সুজয়দা ফোন টা ধরতেই রাতুল একটু নিজেকে গুছিয়ে নিলো, "আমি রাতুল বলছি সুজয়দা । ", সুজয়দা বলে উঠলো , "রাতুল বল ।" , রাতুল বলে চললো , "সুজয়দা সুবীর কে হাসপাতাল এ কেউ মারার চেষ্টা করেছে । ", সুজয়দা যেন ভীষণ চমকে উঠে বলে উঠলো , "সে কি রে ?" রাতুল বললো , "যা বা যারা ওকে মারার চেষ্টা করেছে আমি কিন্তু তাদের কে ছাড়বোনা , কোনো মতেই না । আমার কাছে সমস্ত প্রমান আছে । আর তুমি যদি এর সাথে জড়িত থাকো আমি তোমাকে ও ক্ষমা করতে পারবো না সুজয়দা । ", সুজয়দা বললো , "শোন রাতুল মাথা ঠান্ডা কর , আমি জানি তুই সুবীর কে খুব ভালোবাসিস । দেখ রাজনীতিতে অনেক সময়কিছু বাধ্য বাধ্যকতা থাকে , যাকে চাইলে ও এড়ানো যায় না ।আমি তোকে কথা দিলাম যারা এই কাজ করেছে তাদের রাজনৈতিক ভাবে সাজা আমি দেব , কিন্তু বাকি তোর যা ইচ্ছা তুই করতে পারিস , আমার কোনো সাহায্য লাগলে বলিস । আমাকে বল , কারখানায় আগুন লাগালো কে ? " রাতুল বললো , "তোমার আদরের তনয় আর তার সঙ্গ পাঙ্গ ।" সুজয়দা বলে চললো , "বুঝতে পেরেছি ছেলে টার টাকার লোভ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছিলো । " এই মুহূর্তে রাতুল একটা ছোট্ট চাল দিলো , "তোমাকে ও তো যথেষ্ট টাকা দিতো রাতুল দা ? তাই তো ওকে তুমি কিছু বলতে না ।" সুজয়দা বলে উঠলো , "মুখ সামলে কথা বল রাতুল , আমার টাকা তাই তুই টিকে আছিস । আমি তো বলেছি সুবীর এর সাথে যাতে আর কিছু না হয় আমি দেখছি । সুবীর কে মারতে কেন চাইছে তনয় ,সেটা বোঝা বেশি দরকার । " রাতুল বললো , "আমি জানি কেন , তার সমস্ত প্রমান আমার কাছে আছে । " সুজয়দা একটু রেগে গিয়ে বললো , "কি জানিস তুই ?" রাতুল বললো , "ওরা মেয়ে পাচার চক্রের সাথে যুক্ত সুজয়দা । " সুজয়দা বললো , "তোর কাছে প্রমান আছে ? " রাতুল বললো , "সব কিছু আছে সুজয়দা , আর ওদের কে শাস্তি দেবার জন্য সুবীর এর কথা বলার দরকার নেই , আমার হাতে থাকা প্রমান টাই যথেষ্ট । "


সুজয়দা বলে উঠলো , "তুই প্রমান টা নিয়েএখুনি আমার কাছে আই , ওই তনয়কে আমি দেখে নেবো । " রাতুল বললো , "সুবীর কে হয়তোআরো ২-৩ দিন এই হাসপাতাল এ থাকতে হতে পারে । তুমি যদি আধাঘন্টার মধ্যে ওর নিরাপত্তা নিশ্চিত করো , কলকাতা পুলিশ কে দিয়ে ,আমি তোমাকে ঠিক তার ১০ মিনিটের এর মধ্যে প্রমান দিয়ে দেব । ", সুজয়দা বললো , "ঠিক আছে নিশ্চিত করছি । " রাতুল বললো , "ধন্যবাদ সুজয়দা , আমি অপেক্ষা করছি । " ফোন টা রেখে মনে মনে হাসলো রাতুল । রাতুল খুব ভালো করে জানে সুজয়দা কোনো মতে সামান্য একটা কারখানার জন্য নিজের ভালো রূপ টাতে কালী লাগাতে চাইবে না । আর রাতুল এর ও কাজ সুজয়দা কে শাস্তি দেয়া নয় , সে চাইছে সুজযদা র থেকে কিছু সুবিধা আদায় করে নিতে, আর অরিজিৎ আর তনয়কে রাজনৈতিক আর মানুসিক শাস্তি দিতে । আর শারীরিক শাস্তি যার দরকার ছিল সেই লোকটিকে শাস্তি তো একা সুনেত্রা এ দিয়ে এসেছে । ফোন টা রেখে সুবীর এর কেবিন এ ফিরে এলো রাতুল , দেখলো সুনেত্রা তখন ও গুছিয়ে যাচ্ছে কি বলবে আর কিভাবে । একটু হাঁসলো রাতুল , বললো সুনেত্রা তুমি আর দেরি করো না , কিছু টাকা আর সমস্ত অডিও ও ভিডিও রেকর্ডস একটা পেন ড্রাইভ ঢুকিয়েসে তুলে দিলো সুনেত্রা র হাতে , এখন থেকে ট্যাক্সি ধরে সোজা চলে যাও নিউজ চ্যানেল এর অফিস এ । ওখানে মুখ্যমন্ত্রী আসবে তাই খুব প্রটেকশন আছে, সহজে তোমার কেউ কোনো ক্ষতি করতে পারবে না । যাও চলে যাও । সুনেত্রা শুধু এক বার বললো , "তুমি যাবে না ?" রাতুল বললো আমার যে অনেক কাজ আছে সুনেত্রা । কেউ তোমাকে ফোন করলে ধরবে না , এমন কি আমি করলে ও না । তোমার এখন শুধু একটাই কাজ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই সব কিছু ভালো করে বলা । আমি মিডিয়া ম্যানেজার কে ফোন করে দিয়েছি , ওরা তোমাকে সাহায্য করবে । আর.. বলতে গিয়ে একটু থেমে গেলো রাতুল, সুনেত্রা বললো "আর কি রাতুল দা ।" রাতুল বললো , এটা নাও , আমার বাড়ির ঠিকানা , তুমি ওখান থেকে সোজা আমার বাড়ি চলে যাবে । আমাকে এক বার ও ফোন করবে না । সুনেত্রা যেন আরো কিছু শোনার জন্য বললো , "আর কিছু ?" রাতুল বললো , "আমি থাকি আর না থাকি , আমার কথা সারা জীবন মনে রেখো সুনেত্রা ।" সুনেত্রা চোখে জল চলে এলো , জড়িয়ে ধরলো সে রাতুল দা কে , "আর বললো সেই তিনটি ম্যাজিক ওয়ার্ড , আমি তোমাকে ভালোবাসি রাতুল দা । আর দেখো তুমি যে যুদ্ধ করছো তাতে তুমি নিশ্চই জিতবে । " মুখ থেকে বেরিয়ে এলে ও ভালোবাসার কথা বলতে পারলো না রাতুল , শুধু বললো ভালো থেকো । একটু হেঁসে চোখ মুছে বেরিয়ে গেলো সুনেত্রা, সুবীর এর এই কেবিন থেকে রাস্তা অব্দি দেখতে পাওয়া যাই, সুনেত্রা র ট্যাক্সি তে ওঠা অব্দি মন দিয়ে দেখলো রাতুল । এর পর মিডিয়া ম্যানেজার কে ফোন করে জানিয়ে দিলো সে । তারপর ডাক্তার কে ফোন করে জানালো , কেউ যদি সুবীর এর কোনো ক্ষতি করে , তাহলে আপনারা রেডি থাকবেন যাতে তার অল্প সময়এর মধ্যেই আপনারা ব্যবস্থা নিতে পারেন ।


প্রায় ২০মিনিটে এর উপর কেটে গেলে ও সেরকম কোনো পুলিশ এর তৎপরতা না দেখে , রাতুল বুঝতে পারলো তার পরিকল্পনা ভালোই কাজে এসেছে । রাতুল এতক্ষণ এ বুঝে গেছে তার ৩ জন শত্র্রু । ইউনিয়ন লিডার তনয় ,ইন্সপেক্টর অরিজিৎ , আর সুজয়দা । এর মধ্যে তনয় আর অরিজিৎ এর বদকর্মের প্রমান তারা নিজেই দিয়ে দিয়েছে,বাকি শুধু সুজয়দা । রাতুল এর আসল উদ্দেশ্য তনয় আর অরিজিৎ কে শাস্তি দেয়া,আর সুজয়দা কে প্রয়োজন মতো ব্যবহার করা । আসতে করে গিয়ে সুবীর এর মাথায় হাত বোলালো রাতুল , তারপর তার জামার মধ্যে লুকিয়ে থাকা ক্যামেরা টা কে বের করে নিজের জামার আড়ালে লাগিয়ে নিলো । কেবিন এ অনেক্ষন বসে বসে থাকতে থাকতে চোখ টা বুজিয়ে এসেছিলো রাতুল এর , হঠাৎ একটা শব্দে চোখ খুলে গেলো । সুবীর এর কিছু করতে ক্ষতি করতে গেলে এই মুহূর্তে এক জন ডাক্তার এর সাহায্য নিশ্চই নেবে তনয়রা । এই মুহূর্তে বাথরুম থেকে এক জন ডাক্তার কে বেরিয়ে আসতে দেখে চমকে গেলো রাতুল । আপনার বন্ধু কে একটি ইনজেকশন দিতে হবে , অসম্ভব এরকম কোনো ইনজেকশন এর কথা ডাক্তার এর প্রেসক্রিপশন এ নেই । এই মুহূর্তে দরজা খুলে ঘরে ঢুকলো তনয় আর অরিজিৎ , বলে উঠলো "বড্ডো বার বেড়েছে তোর, সালা কে আমরা ধরছি , তুমি লাগাও ইনজেকশন ডাক্তার । " রাতুল উপায় না দেখে যে ইনজেকশন ডাক্তার দিতে যাচ্ছিলো তাতে সজোরে একটা লাঠি মারলো , বুড়ো ডাক্তার হাত থেকে ছিটকে পড়লো ইনজেকশন টা । রাতুল বলে উঠলো , "তোমরা ওকে মারার চেষ্টা করছো কেন ? প্রমান তো সব আমার কাছেই আছে, অকাট্ট প্রমান । তাই ওকে মারলে ও তোমরা বাঁচতে পারবে না । খুন করার শাস্তি হিসাবে জেল খাটতে হবে । তোমাদের কে আর সঙ্গে আড়ালে থাকা সুজয়দা কে ও । " এই বার প্রবেশ ঘটলো সুজয়দা , বললো "দুধ কলা দিয়ে কাল সাপ পুশেছিরে তনয় । মেরে ফেল মাল টা কে । " এই সময় বাইরে একটা আওয়াজ হলো , ডাক্তার দের এক টা বড় দল আসছে মনে হলো ,প্রসঙ্গত এটা ও রাতুল এর আগে থেকে পরিকল্পনা করা ছিল । এই শব্দে তনয়, অরিজিৎ বা সুজয়দা রা ভয় না পেলে ও , ডাক্তার টি যে ভয় পাবে সে ব্যপারে নিশ্চিত ছিল রাতুল । আর হলো ও ঠিক তাই , ওই ডাক্তার টি বলে উঠলো , আপনারা এই ছেলে টি কে নিচের ঘরে নিয়ে গিয়ে সামলান, পেশেন্ট টিকে মারা পরিকল্পনা পরে ও করা যেতে পারে , কারণ ওর জ্ঞান এখুনি ফিরবে না । তনয়রা রাতুল কে টানতে টানতে নিচের দিকে নিয়ে গেলো, পরিকল্পনা ঠিক ভাবে কাজে আসায় মনে মনে হাসলো রাতুল, অন্তত তার মৃত্যুর আগে সুবীর কে মরতে হবে না । নিজের ঘড়িরদিকে দেখলো রাতুল আর ২-৩ মিনিট এর মধ্যেই সুনেত্রা র প্রোগ্রাম শুরু হয়ে যাবে । রাতুল কে যেখানে নিয়ে এলো সেখানে সব মৃত দেহ রাখা , দেখে ভালো করেই বোঝা যাচ্ছিলো মৃত দেহ রাখার ঘর । ঘর এ নিয়েআসার পর বিশাল বড় একটা থাপ্পড় মারলো সুজয়দা , সামলাতে না পেরে নিচে পরে গেলো রাতুল । সুজয়দা ভীষণ ভাবে মুখ খারাপ করে বলে লাগলো , "নিজেকে ভীষণ বড়ো রাজনীতিবিদ মনে করো না , ভালোই ভালোই পার্টি এর একটা সুন্দর পোস্ট দিছিলাম , বাবুর পছন্দ হলো না ।


আমি জানতাম ওর চুলকাবে , তাই অরিজিৎ কে ফোন করে সেটিং করেছিলাম । " সুজয়দা র এহেন রূপ আগে কখনোই দেখেনি রাতুল , এতো খারাপ কথা যে সুজয়দা বলতে পারে রাতুল কখনো ভাবতেই পারেনি । সুজয়দা বলে চললো , "কি রে বলবি কোথায় রেখেছিস সেই সব প্রমান ? আর কি এমন প্রমান আছে তোর কাছে ? " এক বার ঘড়ির দিকে দেখলো রাতুল , অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাবার কথা এতক্ষন এ । সবাই এমন কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ও জেনে যাবার কথা এদের কুকীর্তির কথা । রাতুল বলে উঠলো , "আমি তো তোমাকে বলেছিলাম প্রমান আমি সবাই কে দিয়ে দেব আধা ঘন্টার মধ্যে । সেই সময় এসে গেছে । " এবার হঠাৎ অরিজিৎ বলে উঠলো , "সালা যে কোনো সময় তোকে আমরা মেরে এখানে ফেলে রেখে চলে যেতে পারি , কেউ কখনো জানতেই পারবে না । তাও নিজের মাথা লাগাছিস । " এর পর তনয় এর দিকে তাকিয়ে বলে চললো, "জানিস তনয় ছোট বেলায় যতই চেষ্টা করতাম অংকে এই সালা রাতুল ঠিক বেশি পেয়ে যেত, কিছুতেই হারাতে পারতাম না । বাড়িতেএসে ও বাবা মা এর কাছ থেকে ওর নাম এ শুনতে হতো । খুব রাগ হতো , আজ তার প্রতিশোধ নেবো বেটা কে মেরে । " এর পর সুজয়দা কে বললো , "সুজয়দা একে এখানেই মেরে ফেলি , কেউ জানতে পারবে না , বেওয়ারিশ লাশ হয়ে পরে থাকবে । আর প্রমান এর ব্যাপার টা আমি সামলে নেবো । " সুজয়দা একটু সামলে নিলো নিজেকে তারপর বললো , "তুই আমার খুব প্রিয় ছিলিস রাতুল, রাজনীতিতে তোকে অনেক দূর নিয়ে যাবার ইচ্ছা ছিল আমার । সব কিছুতে জল ঢেলে দিলি । রাজনীতি করতে গেলে টাকা দরকার , রাজনীতিতে এসে যদি টাকা না কামাবো তাহলে তোর মতন ছেলেদের পুষবো কি করে ? সেই টাকার জন্য অনেক ব্যবসায়ীদের সাথে আমাদের যোগাযোগ রাখতে হয় ।তারা কি ব্যবসা করে সেটা জানার প্রয়োজন আমাদের পরে না , টাকা তাই আসল কথা । পরে যদি কোনো ভাবে ফেঁসে যাই সে রাজনৈতিক দের বেরিয়ে আসার অনেক উপায় আছে । " , রাতুল বলে উঠলো , "কিন্তু মেয়ে পাচার চক্রের সাথে তোমার নাম তো জড়িয়ে গেলো সুজয়দা ? সেটা কি অসস্মান এর নয় ? " সুজয়দা বলে উঠলো , "চুপ কর রাজনীতিতে সম্মান অসম্মান বলে কিছু হয়না , আসল কথা হলো টাকা আর পাওয়ার ,যার কাছে এই দুটি জিনিস আছে সে সব পারে । রাজনীতিতে এগোতে গেলে খুন খুনি করতেই হয় ,আমি সাধারণত খুন টা কে একটু এড়িয়ে চলি, তোকে নিয়ে আমার ৮ বা ৯ নম্বর হবে , কি বোলো তনয় ? ",তনয় বলে উঠলো , "না দাদা ১০ নম্বর , দিল্লী গিয়ে এক জন কে ছাদ থেকে ফেলা হয়েছিল তোমার টাকা নেবার ফটো তুলে ফেলেছিলো বলে । পরে দুর্ঘটনা বলে চালানো হয়েছিল । " সুজয়দা বলে উঠলো , "দূর ওটা তো তোরা করেছিলি আমি সামনে ছিলাম ই না । যাই হোক রাতুল আমি জানি তুই খুব ভালো ছেলে , বল কি প্রমান তোর কাছে আছে, এখুনি দিয়ে দে, না হলে ভাই এই অরিজিৎ তনয়দের কে আমি আটকাতে পারবো না । " অরিজিৎ আবার বলে উঠলো , "সুজয়দা তুমি ওসব প্রমান এর ভয় পেয়ো না , একে আর ওর ওই বন্ধু টা কে মেরে ফেললেই সব শেষ হয়ে যাবে । তুমি শুধু অনুমতি দাউ । " সুজয়দা রাতুল এর কাছে এগিয়ে এসে রাতুল এর মুখে একটু হাত দিলো , "তোকে খুব ভালোবাসতাম রে রাতুল । কিন্তু পারলাম না , ক্ষমা করিস , অরিজিৎ অনুমতি দিলাম ।" রাতুল মনে মনে ভাবতে লাগলো , সুনেত্রা কি পারলো বলতে , এরকম ঘটনা বাইরে এলে এলাকার নেতার কাছেই ফোন চলে আসা উচিত তখন এ , এখনো কেন আসছে না , রাতুল একটা চাল খেললো , বলে উঠলো , "ঠিক আছে তোমাদের কে প্রমান গুলো দিয়ে দিচ্ছি । সুজয়দা তোমার মোবাইল চেক করো । " সুজয়দা মোবাইল এর দিকে তাকালো , "কি কিছু তো আসেনি ।"


রাতুল দেখলো কাজে দিয়েছে তার ভাবনা, বললো "তোমার নেটওয়ার্ক দেখো পাচ্ছ কিনা, যদি না থাকে একটু বাইরে গিয়ে চেষ্টা করো পেয়ে যাবে । " সুজয়দা বললো , "দাঁড়া অরিজিৎ, এক বার বাইরে গিয়ে দেখে আসি কি বলছে । " সুজয়দা বেরিয়ে যেতে অরিজিৎ বলে উঠলো , "একটু হাতের সুখ মিটিয়ে নিই কি বোলো তনয় । "তুই বলে উঠলো "একদম ।" এর পর অরিজিৎ এর দুম দাম ঘুষি রাতুল এর উপর পড়তেই থাকলো, জ্ঞান হারাবার মতো অবস্থা হলো রাতুল এর । পেতে জোরে লাথি গুলো যখন পড়ছে যাহোক করে পেট টা ধরে শুয়ে থাকলো সে । এমন সময় শুনতে পেলো সুজয়দা র গলা , "কি করছিস তোরা , ও মারা পড়বে তো? " , অরিজিৎ বললো , "তাই তো চাইছি ।" সুজয়দা বললো , "ওকে আর মারা যাবে না । ও সমস্ত প্রমান মুখমন্তীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে,পার্টি থেকে অর্ডার আছে ওকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি যাবার এখুনি । " তনয় বলে উঠলো , "কি বলছো সুজয়দা ? " অরিজিৎ বললো , "বেটা কে মেরে না দিলে আমরা বিশাল ফেঁসে যাবো সুজয়দা । " সুজয়দা বললো , "ওকে মারিস না এখুনি , আমি দেখছি কি ব্যবস্থা করা যাই । " তারপর মোবাইল এর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো , "দূর এখানে এক দম টাওয়ার নেই । দাঁড়াআমি বাইরে থেকে ২ তো ফোন করে এখুনি আসছি । তার আগে কিছু করিস না ওকে । " বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো সুজয়দা ।অরিজিৎ বললো , "সালা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কি ভাবে যেতে পারলো ?" বলে আর এক বার জোরে লাঠি মারলো রাতুল কে । মুখ টা যন্তনায়কাতরে উঠে ও সামলে নিলো রাতুল , হালকা একটা বুদ্ধিদীপ্ত হাঁসি এনে বললো , "হ্যাপি ওমেন্স ডে অরিজিৎ । মনে কর এই তথ্য টা তুই এ আমাকে দিয়েছিলি । ওম্যান ডে তে মুখ্যমন্ত্রী আসছে মিডিয়ার সামনে একটি চ্যানেল এ , আমি শুধু সেটা কে কাজে লাগিয়েছি মাত্র । " অরিজিৎ বললো , "কিন্তু ওখানে তো মহিলা রাই শুধু যেতে পারবে । তুই কি ভাবে পাঠালি ?" একটু হেঁসে রাতুল জবাব দিলো , "সুনেত্রা । " অরিজিৎ বললো , "ও তো মরে গেছে ওই আগুনে , তুই ওকে বাঁচিয়েছিস ?" রাতুল আবার বলে উঠলো , "মরেছে তোর কারখানার মালিক আর ভোম্বল ।" অরিজিৎ আর তনয় বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে রইলো রাতুল এর দিকে । রাতুল ওদের মুখ দেখে ভালোই বুঝতে পারছিলো অবাক হয়েছে তারা । তনয় বলে উঠলো , "অরিজিৎ দা একে মেরে দাউ , আমি ওই মেয়ে টা র সাথে বুঝে নেবো । " অরিজিৎ নিজের বন্দুক টা বার করতে যাবে হঠাৎ এ সুজয়দা র প্রবেশ , সুজয়দা বলে উঠলো , "স্যার ওই যে বদমাস গুলো ,এরা সব দলের জঞ্জাল , এখুনি ধরুন ওদের । " অরিজিৎ কিছু বুঝে ওঠার আগে তার হাতে একটি গুলি এসে লাগলো , হাত থেকে খসে গেলো হাতে ধরা বন্দুক টা , বাধ্য হলো ছেড়ে দিতে রাতুল এর হাত । রাতুল পরে যেতে যেতে হঠাৎ দেখলো সুজয়দা এসে জড়িয়ে ধরলো তাকে , আর কানে কানে ফিসফিস করে বলতে থাকলো , "কাউকে কিছু বলিস না ভাই , তোর সারাজীবন এর দায়িত্ব আমি নিচ্ছি, টাকার কখনো অভাব হবে না তোর । " রাতুল হেঁসে বললো , "তোমার পাপ এর টাকা আমার চাই না রাতুল দা , আমি শুধু চাই তুমি সুনেত্রা বলে মেয়েটিকে এখানে থেকে ভোট এর ক্যান্ডিডেট করো । জেতানোর দায়িত্ব আমার । আর এরকম যা যা ভুল ভাল কাজের সাথে যুক্ত আছো , সে গুলো ছেড়ে দাউ । মানুষের খাঁটি করে রাজনীতি করে তুমি ক্ষমতা পাবে ঠিক কথা কিন্তু কিছুদিন এর জন্য । তার স্থায়িত্ব কখনোই বেশিদিন হতে পারে না সুজয়দা । " সুজয়দা বললো , "ঠিক আছে তুই যা বলি তাই হবে , কিন্তু কারোর কাছে এসব কথা বলিস না ভাই টি । " রাতুল মনে মনে হেঁসে উঠলো , সুজয়দা কে আর ভয় পাওয়ানোর জন্য আজ কের তার বলা সমস্ত কথা যে রেকর্ড হয়ে গেছে সেটা আর বললো না , যদি কোনো দিন বেগরবাই দেখে তখন ব্যবহার করা যাবে ।


এর পর আর কি , অরিজিৎ আর তনয় জেলে গেলো , খুনের চেষ্টা আর মেয়ে পাচার চক্রে যুক্ত বলে তাদের ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড হলো । মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাতুল আর সুনেত্রা কে ডেকে ধন্যবাদ জানালো । উনি অবশ্য সুজয়দা কে ও ধন্যবাদ জানালো রাতুল কে বাঁচানোর জন্য । সুজয়দা র কথাতে সুনেত্রা পরবর্তী নির্বাচনে দাঁড়ালো ।আর রাতুল এর অসীম প্রচেষ্টায়ও রাজনৈতিক বুদ্ধি তে ভর করে জয়লাভ করলো । এতো গেলো সব রাজনীতির গল্প , আর প্রেম ? প্রেম ও এলো রাতুল আর সুনেত্রা র জীবন এ , সত্যিকারের প্রেম । যেখানে একে ওপর কে ছেড়ে সত্যি আর থাকতে পারলো না । তাই দু জন এ বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো , খুব ধুম ধাম করে তাদের বিয়ে হলো সুনেত্রা মন্ত্রী হবার পর ।

কিন্তু ওই যে রাজনীতি ভারী অদ্ভুত , এতো সুখের মধ্যে ও তাদের এর পরের চলার রাস্তা মোটেই মসৃন ছিল না , অনেক লড়াই করে রাস্তা কে মসৃন করেই তারা এগিয়ে চললো নিজেদের জীবন নিয়ে ।



Rate this content
Log in