প্রজাপতি সুশান্ত কুমার
প্রজাপতি সুশান্ত কুমার
প্রজাপতি
সুশান্ত কুমার ঘোষ
প্রজাপতিটাকে দেখেই দৌড়ে গেল তুতন। এবং কী আশ্চর্য! প্রজাপতিটা উড়ে গেল না! এই প্রথম তুতুন কোনো প্রজাপতির গায়ে হাত দেওয়ার সুযোগ পেল! বিকেলে সে তিতাসের সঙ্গে খেলতে এসেছিল। তিতাসদের বাড়ির উঠোনে অনেক ফুল গাছ। মাটি ছাড়াও টবেও লাগলো হয়েছে রকমারি সব ফুলের গাছ। শীত চলে গেলেও গাছে গাছে এখনো অনেক ফুল ফুটে আছে! উঠোনের এক কোণে একটা আম গাছ। হলুদ হলুদ মুকুলে আম গাছের পাতা ঢেকে গিয়েছে। ঝরে পরা শুকনো মুকুলে ছেয়ে গিয়েছে আমতলা। আমের ছোট ছোট বোলও দেখা দিয়েছে। প্রজাপতিটা ওই আম গাছের পাশে একটা ফুলের উপর বসে ছিল। তাই দেখে তুতুন ছুটে গেল সেখানে। এবং ধরেও ফেললো! কী সুন্দর তার পাখনার রঙ! কী মসৃণ তার পাখনা! পাখনার রঙ গুলো তুতুনের হাতে লেগে যাচ্ছে যেন!
এর আগে কত প্রজাপতি দেখেছে তুতুন। বাড়িতে , পার্কে,মাঠে, স্কুলে! আর পালগাঁ দাদুদের বাড়ি যখন যায়, তখন তো কথাই নাই! সেখানে শয়ে শয়ে, হাজারে হাজারে প্রজাপতি! যেন প্রজাপতির মেলা। চড়কের সময় প্রতি বছর মায়ের সঙ্গে পালগাঁ দাদুদের বাড়ি যায় তুতুন। ওখানে গাজনের মেলা বসে। গাজনের মেলায় তুতুনের যাওয়া চাই। না গেলে পালগা দাদু তো রাগ করেনই, তুতুনেরও বেজায় মন খারাপ হয়ে যায়! গত বছর মায়ের শরীরটা খারাপ থাকায় যাওয়া হয়নি। তখন তুতুনের কী মন খারাপটাই করেছিলো! কেন মন খারাপ হবে না! ওখানে গেলেই যে তুতুন আস্ত একটা পৃথিবী পেয়ে যায়! অনন্ত অবারিত মাঠ! যত জোরে ইচ্ছে ছক্কা মারো " কোথাও আটকাবে না। জানালায় বল লাগার জন্য বিশ্বাস কাকুর চোখ রাঙানি দেখতে হবে না! বারান্দায় বল ফেলার অপরাধে বর্মন জ্যেঠিমার মুখ ঝামটা সইতে হবে না! ওখানে আকাশটা অসীম! ভাগ করলেও ছোট হয় না। বিশ্বাস কাকুদের চিলে কোঠার আড়াল নাই। সানাই লজ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে না! সোনার বাংলা লজটা ঢেকে রাখে না পূব দিকের আকাশটা! মনটা ওখানে পাখনা মেলে যেখানে ইচ্ছে উড়ে যেতে পারে! হাজার হাজার রঙ বে রঙের প্রজাপতির মেলা! তাদের সঙ্গে দৌড়ে বেড়ায় তুতুন! দৌড়াতে দৌড়াতে অনেক দূর চলে যায়! পথের আড়াল নাই, বাধা নাই, নিষেধ নাই! ওখানে গিয়ে বেশ কিছু দিন থাকে। যে কদিন থাকে, প্রত্যেক দিন বিকেলে পালগাঁ দাদু তাকে মাঠে বেড়াতে নিয়ে যায়! ও সব্বাইকে বলে - পালগাঁ দাদুর বাড়িটাই সব থেকে ভালো জায়গা!
মাঠটা দেখলেই তুতুনের চোখ জুড়িয়ে যায়! পুরো মাঠ হলুদ ফুলে ভর্তি। যেদিন তাকায়, ফুল আর ফুল। ফুলে ফুলে প্রজাপতি। পালগাঁ দাদু বলেন -" ওগুলো ঝিঙে ফুল, কাকুর-শশার ফুল। চারদিকে কেবল ঝিঙে শশা কাকুর আর তরমুজের ক্ষেত! লতায় লতায় বাতাসে মাথা দোলায় হলুদ ফুল! কত প্রজাপতি যে উড়ে বেড়ায় চারদিকে তার হিসাব নাই। কেউ তার নাকে বসতে চায়, কেউ বসতে চায় মাথায়। কেউ আবার জামার উপরেই এসে বসে। তুতুন কিন্তু কোনো দিনও তাদের ধরতে পারে নাই। ধরতে গেলেই উড়ে যায়!
সে বার তুতুনের কি মজাটাই না হয়েছিল। সেদিন তুতুন একটা হলুদ রঙের গেঞ্জি প্যান্ট পরে দাদুর সাথে বেড়িয়েছিল। আরিব্বাস!ঝিঙে ক্ষেতের পাশে আসতেই অবাক কাণ্ড! প্রজাপতিরা তো তুতুনকেই ফুল ভেবে উড়ে এসে গায়ে বসছে। কিন্তু ধরতে গেলেই উড়ে যাচ্ছে। ধরার কত চেষ্টা করল, একটা প্রজাপতি ধরার জন্য কত দৌড়ল! কিন্তু ধরা গেল না! তুতুনের সঙ্গে ধরাধরি খেলেছে শুধু, ধরা দেয়নি।
সেবার তো একটাকে ধরেই ফেলেছিল প্রায়! আগে যদি একটু আন্দাজ করতে পারত, তাহলে কি আর ফাঁকি দিতে পারত তুতনকে! কিন্তু তুতুন ওদের চালাকিটা বুঝতে পারেনি। তুতুন দাদুর সঙ্গে ক্ষেতের আলে বসে একটা টাটকা শশা গাছ থেকে তুলে খাচ্ছিল। কী তার স্বাদ! বাজারে কেনা শশা এত ভালো লাগে না। পালগাঁ দাদুর ক্ষেতের তরমুজ গুলোও বেশ মজাদার। যেমন টকটকে লাল, তেমনি মিষ্টি। প্রত্যেক দিন একটা করে তরমুজ নিজের হাতে তুলে খায়! পাকা তরমুজ কি ভাবে চিনবে দাদু সেটা শিখিয়ে দিয়েছে। তুতুন তো একবার একটা বড় তরমুজ পাকা ভেবে তুলে এনে ভেঙে দেখে হরহরে কাঁচা! ভিতরটা একেবারে সাদা! সেদিন তুতুন বুঝতে পারল, বড় মানেই পাকা নয়! দাদু সেদিন তরমুজ ধরে ধরে পাকা তরমুজ চিনতে শিখিয়েছে।
" বুঝলে ভাই তুতন, কানের কাছে তরমুজটা এনে দু'হাতে দু'দিকে ধরে জোরে জোরে চাপ দেবে। যদি শোনো মড়মড় আওয়াজ বেরচ্ছে, তাহলে বুঝবে ওটা পাকা। যে তরমুজ যত বেশি আওয়াজ ছাড়বে, সেটা তত ভালো পাকা হবে। "
সেদিনের পর থেকে পাকা তরমুজ চিনতে তুতুনের ভুল হয় না।
দাদুর কাছে পাকা তরমুজ চিনে আসার পর বাড়িতে একবার পরীক্ষা করেছিল!তুতুনের বাবা বাজার থেকে একটা তরমুজ এনেছিলেন।তুতুন সেটাকে নিয়ে অনেক বার পরীক্ষা করেছিল। কিন্তু কোনো মড়মড় আওয়াজ শুনতে পায় নি।এই নিয়ে বাবাকে শুনিয়েও দিয়েছিল দুটো কথা -
"এখনো পাকা তরমুজ চেনো না নাকি? বাজার থেকে একটা হরহরে কাঁচা তরমুজ এনেছো ব্যাগে ভরে। "
বাবা বলেছিলেন -" না রে, ওটা কাঁচা নয়, পাকা! চেনা দোকান থেকে কেনা! বলেই দিয়েছে, লাল না হলে পয়সা ফেরত!"
পরে তরমুজটা যখন কাটা হয় দেখা যায় ভিতরটা টকটকে লাল! বাবার কথাই সত্যি ! দাদুর কথা শুনতে গিয়ে বাবার কাছে হেরে গেল তুতন! সে সময় পালগাঁ দাদুর উপর তুতুনের খুব রাগ হয়েছিল! ভেবেছিল, পরের বার গিয়ে দাদুকে বেশ দুটো কথা শুনিয়ে দেবে! তবে তরমুজটা খেতে মোটেই ভালো লাগে নাই! কোনো স্বাদই ছিলনা বলতে গেলে। পালগাঁ দাদুর ক্ষেতের তরমুজের ধারে কাছেও আসতে পারেনি।
দাদুর জন্য বাবার কাছে হেরে যাওয়ার রাগটা ছিলই। তাই পরের বার গিয়ে প্রথমেই ধরেছে দাদুকে! দাদু বললেন -" না ভাই তুতুন, ওটা তোমারই জিত! স্বাদ যখন পাও নাই, তরমুজটা কাঁচাই ছিল! "
তুতুন বলে -" সেকি কথা! ভিতরটা টকটকে লাল যে!"
" ওটা যে রঙ করা ভাই! "
তুতুন তো অবাক! দাদুটা যে এত বোকা তার জানা ছিল না! তরমুজের ভিতরে আবার রঙ করা যায় নাকি! তুতুন রেগে বলে -
" ধ্যাৎ! তুমি কিচ্ছু জানোনা! তরমুজের ভিতরে আবার কেউ রঙ করতে পারে নাকি! "
" পারে ভাই, পারে! আমাদের অসুখ বিসুখ হলে ডাক্তার বাবুরা ইঞ্জেকশন দেন জানো তো? সিরিঞ্জিতে ওষুধ পুরে সূচ ফুটিয়ে শরীরের ভিতরে চালান করে দেওয়া হয়। তেমনি সিরিঞ্জিতে রঙ পুরে তরমুজের ভিতরেও চালান করে দেওয়া হয়! "
দাদুর কথা শুনে তুতন তো আকাশ থেকে পড়ে! মানুষের এত বুদ্ধি! অথচ তার বাবা এটাও জানেননা! কিন্তু মা যে হোলিখেলার সময় বারবার বলেন " তুতুন, মুখের ভিতর যেন রঙ লাগিও না! পেটে গেলে শরীর খারাপ হবে। "
তারমানে রঙ তো বিষাক্ত জিনিস! শরীর খারাপ করে। তুতুন দাদুকে বলে -" তাহলে ওই রঙ মাখা তরমুজ খেলে আমাদের তো শরীর খারাপ হবে! "
" সে তো হচ্ছেই ভাই! মানুষের এত অসুখ বিসুখ তো এই সবের জন্যেই। এখন তো সবেতেই রঙ! রঙ ছাড়া যে মানুষের পছন্দ হয় না। তাই আলুতে রঙ, বেগুনে রঙ,পটলে রঙ,ফলে রঙ, শাকে রঙ! রঙ কোথায় নাই! বাজারে মানুষ এখন রংদার জিনিস বেশি পছন্দ করে! তারা রঙ বিচারী! গুণের বিচার করে না! ব্যবসায়ীরাও তাই রঙে রঙে সব সবজিকে রঙিন করে তোলে - সবুজ পটল,হলুদ আলু!"
" দাদু! আমরা তো তাহলে রঙ গুলো খেয়ে ফেলি!"
" সে খাচ্ছিই! এই জন্যেই বাজার থেকে সবজি এনে রান্নার আগে অন্তত ঘন্টা দুই জলে ডুবিয়ে রাখতে হয়।"
দাদুর সব কথা তুতুন পরে মাকে শুনিয়েছিল! মা অবশ্য বাজার থেকে সবজি এনে রান্নার আগে জলে ডুবিয়েই রাখেন। তুতন বাবাকেও বলে দিয়েছে -
" এবার থেকে সবজি কিনতে গেলে সবজি কাকুদের বালতিতে জল রাখতে বলবে। জলে ডুবিয়ে যদি দেখ রঙ উঠছে, তাহলে কিনবে না।ওই কাকুদের কাছে কেউ যদি সবজি না কেনে, তাহলে তো বিক্রি হবে না। আর একদিন বিক্রি না হলে আর কখনো রং মাখাবে না!"
তুতুনের এমন সরল সমাধানে ওর বাবাও সেদিন অবাক হয়ে গিয়েছিল!
তুতুন তো বসেছিল শশা ক্ষেতের আলে। ওর সামনেই হলুদ হলুদ শশার ফুল। শশা খাওয়া শেষ হতেই মনে হল, এই ফুলগুলো থেকেই তো কয়েক দিন পরে বড় বড় শশা হবে! তাই ফুলগুলোকে একটু হাতে ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হল।এই ভেবে একটা ফুলের উপর যেই না হাত ছুঁইয়েছে, অমনি ফুলটা উড়ে গেল! ও মা! ফুল কোথা! ফুলটা তো গাছেই হাসছে। ওটা প্রজাপতি! হলুদ প্রজাপতি! ফুলের সঙ্গেই মিশে ছিল! যেই না হাত দেওয়া, অমনি উড়ে গেছে! আগে যদি একটু বুঝতে পারত তুতুন, তাহলে ঠিক ধরে ফেলত!
সেবার অল্পের জন্য হাত ছাড়া হয়েছিল। আজ কিন্তু প্রজাপতিটাকে ধরতে পেরেছে তুতুন। ধরার পরে সে কি উল্লাস! চিতকার করতে করতে দৌড়ে গেল তিতাসের কাছে - " তিতাস তিতাস! প্রজাপতি ধরেছি --- প্রজাপতি --"
প্রজাপতি ধরার কথা শুনে তিতাসও আনন্দে আত্মহারা। পড়িমরি দৌড়ে এলো তুতুনের কাছে। দুজনে মুখোমুখি বসল প্রজাপতিটাকে নিয়ে। প্রজাপতিটা কেমন যেন এলেবেলে! মিইয়ে আছে যেন। কোনো ছটফটানি নাই! পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নাই!
" তুতুন! তুই ওকে হাতে চেপে দেয়েছিস নাকি বলতো?"
" না, আমি ওর শরীরে হাত দিই নাই! ওর ডানাতেই তো ধরেছি! দেখ না, আমার হাতে অভ্রের মতো কেমন রঙ লেগে আছে। "
তিতাস দেখল তুতুনের আঙুল গুলো অভ্রের মতো ঝলমল করছে!
তুতুন প্রজাপতিটাকে মেঝের উপর নামালো। কিন্তু সেটা উড়ে গেল না। তিতাস বলল -
" ওর শরীর খারাপ নাকি বলতো? ছাড়া পেলেই তো ফুরুত করে উড়ে যায়। দেখিস না, ফড়িং গুলো কেমন হাত আলগা করতেই উড়ে একেবারে অদৃশ্য হয়ে যায়! "
তখনই ওরা একটা মিনমিনে গলার করুন শব্দ শুনতে পেল! চমকে ওঠে তিতাস! হ্যাঁ তাই তো! প্রজাপতিটাই তো বলছে কিছু!
" আমার খুব কষ্ট হচ্ছে! আমি হয়তো আর বাঁচব না! "
মরার কথা শুনে তুতুনের কান্না পেল! সে কাঁদো কাঁদো স্বরে বলল-" কেন প্রজাপতি! তুমি বাঁচবে না কেন! কি হয়েছে তোমার? "
" আমি জানি না আমার কি হয়েছে! আমরা তো সব সময় ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াই।রোজ এসে বসি ওই ফুলে, আম মুকুলে। মনের আনন্দে মধু পান করি! আজ আমের মুকুলে এসে বসতেই নাকে কেমন একটা গন্ধ এলো! মাথাটা ঘুরে গেল বনবন করে! আমার বন্ধুরা অনেকেই লুটিয়ে পড়ল নর্দমার জলে ! আমিও মাথা ঘুরে পড়লাম ওই ফুলটার উপরে! তারপর তো তুমি আমাকে নিয়ে এলে এখানে! আচ্ছা, আমাকে বল তো, তোমরা কি আম মুকুলে কিছু মিশিয়েছো? "
তিতাসের মনে পড়ে গেল আজ সকালেই একটা কাকু এসেছিল তাদের বাড়িতে। একটা মেসিন থেকে আম গাছে জলের মতো কি সব ছড়াচ্ছিল! মা কদিন থেকেই বাবাকে বলছিলেন, আমের গুটি পোকায় কাটে,ওষুধ দাও ওষুধ দাও! তিতাস এতক্ষণে বুঝল ব্যাপারটা! ওটাই তাহলে বিষ ছিল!
তুতুনকে সঙ্গে নিয়ে দৌড়ে গেল আমতলায়। সেখানকার দৃশ্যটা দেখে ওদের চিতকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করল! কত প্রজাপতির দেহ পড়ে আছে ওখানে! আরও কত সব কীটপতঙ্গ!
ওরা সব প্রজাপতি গুলো জড়ো করে মায়ের কাছে এল জবাব চাইতে! দুচোখ জলে ভেসে যাচ্ছে! আহা! এতগুলো প্রজাপতি! আর কখনো উড়বে না ওরা! তবে কাদের পিছনে দৌড়বে তারা! মেঝের উপর যখন প্রজাপতি গুলো জড়ো করে রাখল, তখন দেখে আগের প্রজাপতিটাও মারা গেছে! তিতাস মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল-
" ওদের তুমি বাঁচিয়ে দাও!ওরা তোমার জন্যই মারা গেছে! "
তুতুন তো কান্নার চোটে কথাই বলতে পারছে না! এক সঙ্গে এতগুলো মৃত প্রজাপতি দেখে মায়ের বুকটাও কেমন দুমড়ে উঠলো! মা জড়ানো গলায় বললেন -
"আর এমন ভুল কখনো হবে না সোনা! আর কখনো আমের বোলে ওষুধ ছড়াতে বলব না! গাছের ফল পশুপাখি কীটপতঙ্গ খাক আমরাও খাই! কথা দিলাম, আর কখনো কারোর আহারে বিষ মিশিয়ে প্রাণে মেরে ফেলব না! "
তুতুন তিতাসের কান্না তখনো থামেনি!
ক্রমশ....
