পরিত্যক্ত
পরিত্যক্ত
পরিমল চ্যাটার্জীকে যে অবস্থায় উদ্ধার করলেন পুলিশ তার চাইতেই মর্মাহত ঘটনা তার মুখে শোনা অভিব্যক্তি। পুলিশ কর্তা অভিজিৎ বন্ধপাধ্যায় পরিমল বাবুকে জিঙ্গাসা করলেন এই বয়সে পৌঁছে পরিমল বাবু হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে এলেন কেন? এই সূত্রে পরিমল বাবুর বয়সটা আপনাদের জানা প্রয়োজন। সত্তরের কোঠা পার করেছে আর তিনি এই বয়সে যে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েছিল তাহলো আত্মহত্যা যা হিন্দু ধর্মে চরম পাপ বলে গণ্য হয়ে থাকে কিন্তু পরিমল বাবু সেটাকেই বেছে নিয়েছিলেন কিন্তু কথায় আছে সময়ের পূর্বে কোন কিছুই হয় না, তাই এই যাত্রা অভিজিৎ বাবুর সহযোগিতায় তার মৃত্যু বরন হলোনা। অভিজিৎ বাবুর প্রশ্নটা হলো পরিমল বাবুর এমন সিদ্ধান্তের কারণ কি?
অভিজিৎ বাবুর প্রশ্নের যে উত্তরটা প্রথমে দিলেন সেটা অনেকটা হেয়ালির মতো শোনালো। তিনি উল্টে প্রশ্ন করলেন স্যার আপনার ব্যবহার্য কোন বস্তু যদি ব্যবহার যোগ্য না থাকে তখন আপনি কি করবেন? অভিজিৎ বাবু অধিক চিন্তা ভাবনা না করে বললেন পরিত্যাগ করে আর একটু নতুন আনিয়ে নেব। এবার পরিমল বাবু বলেন সেটাই ঘটেছে আমার সাথে। সুধু আমার সাথে বললে ভূল হবে আমার মতো অসংখ্য বাবা - মায়ের সাথে এটাই ঘটছে। এবার অভিজিৎ বাবু কিছুটা আচ করতে পারলেও এরিয়ে গিয়ে বললেন আসবাব আর মানুষ কি এক হলো। পরিমল বাবু বলেন হলোকি মষাই তাইতো হচ্ছে। যতদিন মানুষ সংসারে দিতে পারবে ততদিন তার প্রয়োজনিওতা থাকে আর যখন তাদের সংসারে দেবার কিছুই থাকবেনা তখন তার মূল্য শূন্য এটা সুধু আমারজন্য নয় এটা আপনার জন্যও প্রযোজ্য তাই আপনি আমার মতো পরিত্যক্ত একটা আসবাবকে নষ্ট হবার হাতথেকে বাঁচিয়ে সুধু ভূলই নয় অপরাধও করেছেন।
অভিজিৎ বাবু তার বক্তব্য বুঝতে পারলেন তিনি পরিমল বাবুকে বললেন আপনি প্রশাসনের উপর একটু ভরসা রাখুন। বাবা - মা কোন আসবাব নয় যে চাইলেই তাকে পরিত্যক্ত কে ফেলা যাবে আপনি হয়তো জানেন না আমাদের দেশের আইনে বৃদ্ধ বাবা - মায়ের প্রতি অবিচার হলে তার শাস্তি প্রচন্ড কঠিন। পরিমল বাবু বলেন তাতে লাভ কি কোন বাবা - মা তার শন্তানের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে কারণ থুতু উপরে ফেললে নিজের মুখে এসেই পড়বে বদনাম তাদের শন্তানের হবে তাই আইন ধুলো চাপা পড়েই রয়ে যাবে। আমরা পরিতক্ত ছিলাম আর পরিত্যক্তই থেকে যাবো।
