ফিরে এসো তুমি!
ফিরে এসো তুমি!
অভিরুপ অনিচ্ছা সত্ত্বেও নিজের বুকে শ্রীরুপাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে । কিন্তু নিস্পন্দ, নিশ্চল অনুভূতি কেন? অভিরুপ শ্রীরুপা কে নাড়া দিতেই পড়ে যায় শ্রীরুপা আর যা দেখে তা কল্পনার বাইরে। অভিরুপ দেখে শ্রীরুপার চোখ বন্ধ, দম বন্ধ, হৃৎস্পন্দন বন্ধ । কিন্তু এসব কি, কখন হলো, কি করে হলো, কি জন্যই বা হলো! কিচ্ছু বুঝতে পারছে না এত কম সময়ের এতকিছু ঘটে গেছে তার অজান্তে, তার ভাবার বা বোঝার অবকাশ নেই। অভিরুপ পাগলের মতো করতে করতে ডাকে, শ্রীরুপা, শ্রীরুপা ওঠো, কি হয়েছে তোমার? শ্রীরুপা!
কোনো সাড়া আর দেয়নি শ্রীরুপা। সেদিন সে চিরঘুমে চলে গেছিল অভিরুপের বুকেই।
বিগদ্ধ স্মৃতিগুলোর পাতায় এই স্মৃতি টা সবচেয়ে আহত করে অভিরুপ কে। আজ দশ দশটা বছর হয়ে গেল শ্রীরুপা আর পৃথিবীতে নেই কিন্তু এই অনুশোচনা, এই কষ্ট তাকে কুড়ে কুড়ে খায় সারাক্ষণ। শ্রীরুপা অন্য মেয়েদের থেকে অনেক আলাদা ছিল। স্বভাবে, আচার আচরণ, ব্যবহার, মানসিকতা সব দিক থেকে। মেয়েটা সত্যি সত্যি যে অভিরুপ কে অন্তর থেকে অকাতরে ভালোবাসত তা আজ টের পায় অভিরুপ যন্ত্রণা পেতে পেতে। শ্রীরুপা অভিরুপ কে খারাপ পথে কখনো যেতে দেয়নি কারোর প্ররোচনায়। সবসময় শাসন করত সে, রাগ দেখাত অভিরূপের উপর কিন্তু অভিরুপ অত্যন্ত বিরক্ত হলেও কিছু বলত না শ্রীরূপাকে, শুধু এড়িয়ে যেত ওকে মাঝে মাঝে , শ্রীরুপা রাগ করলে অভিরুপ রাগ না ভাঙিয়ে উল্টে আরো রেগে যা না তাই বলত শ্রীরুপা কে। শ্রীরুপা পরপর অনেক বার ফোন করলেও ফোন ধরত না অভিরুপ। সবসময় সব ক্ষেত্রেই অভিরুপ যে ভাবেই হোক প্রমাণ করত যে সে ঠিক আর সব দোষ শ্রীরুপার। এতকিছুর পরেও শ্রীরূপা ঐ ছেলেটাকেই ভালোবেসে এসেছিল আর খালি বলত, যখন আমি থাকবো না তখন বুঝতে পারবে যে কেউ একজন তোমাকে কতটা ভালোবাসত!
সত্যিই, কথাটা আজকেও খুব মনে পড়ছে অভিরূপের। অভিরুপ শ্রীরুপা কে পরের দিকে খুব একটা ভালো করে বা সম্মান করে কথা বলত না, প্রায়সময় তার দাবি ছিল, তুমি এত ভালো মেয়ের মতো হলে আমি তো তোমাকে কখনোই কাছে পাবো না।আমার বন্ধুরা কত আনন্দ করে ওদের প্রেমিকাদের নিয়ে আর তুমি! না করতে দেবে বন্ধুদের সাথে নেশা, না করতে দেবে পার্টি সবসময় বন্ধুদের থেকে দূরে থাকতে বলবে, খারাপ ছেলেদের মতো আমি যেন না হয়ে যাই সেই ভয় তোমার সবসময়। আচ্ছা সব কথা তোমার শুনলাম কিন্তু আমার একটা কথা হলো যে সবসময় তোমার দূরে দূরে থাকলে কি করে হবে, একদিন তো আমার কাছে আসতে পারো, একটু জড়িয়ে ধরব তোমাকে।
শ্রীরুপা বলত, স্পর্শ করলেই বুঝি ভালোবাসা হয়, অনুভবে হয় না। আচ্ছা বন্ধুদের কথা বলছিলে, শোনো তুমি ভালো ছেলে, ওসব বাজে ছেলেদের সাথে একদম মিশবে না ব্যস্।
সব বুঝলাম কিন্তু তুমি কবে আসবে বলো? বলে অভিরুপ।
সারা জীবনের জন্য এই শব্দটা তো কখনো বলো না তুমি। শ্রীরূপা উত্তর দেয়।
অভিরুপ বলে, ওটা আবার আলাদা করে বলতে হয় নাকি, ঐ হলো তোমাকে আমি সারাজীবন জুড়ে চাই তা বলো কবে আসবে দেখা করতে?
আমার পরীক্ষা টা শেষ হয়ে যাক তারপর একদিন যাবো কেমন। সুভাষ্যে উত্তর দেয় শ্রীরূপা।
অভিরূপের পরে আর শ্রীরূপা কে খুব একটা ভালো লাগত না কারণ মেয়েটা যেন সবসময় কাতর অনুরোধ করত যেন অভিরুপ তাকে কখনো ছেড়ে চলে না যায়। মেয়েটার তার প্রতি এত খেয়াল, এত ভালোবাসা রীতিমত রাগ ও পরে বিরক্তির পর্যায়ে চলে গেছিল। দেরি করে মেসেজ সিন করত আর বলত ব্যস্ত ছিলাম। অনেক বার ফোন করলে ফোন ধরত না বলত ফোনের কাছে ছিলাম না এককথায় শ্রীরূপা নামক প্যারাসাইট টা কে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যত অজুহাত হতে পারে সমস্তটাই রেডি থাকত অভিরুপের কাছে। শ্রীরুপা সব বুঝেও না বোঝার ভান করত কারণ সে জানে তার রাগ কখনো অভিরূপ ভাঙাবে না উল্টে নিজেই রেগে যাবে আর কষ্টও হয়ত পায়। কষ্ট পাওয়ার ব্যাপার টা শ্রীরুপা ভাবে কিন্তু আসলে অভিরুপ কোনো কষ্ট ই পায় না শ্রীরুপার জন্য। এরপর এত এড়িয়ে যাওয়ার পর সারাদিন অপেক্ষারতা মেয়েটার অনেক মেসেজে যখন একান্তই রিপ্লাই দরকার তখন একটু কথা বলেই রেখে দিত অভিরূপ।
ওদের সম্পর্কের কথা শ্রীরুপার বাড়ি অনেক ঝামেলার পরে জানলেও অভিরূপের বাড়ি জানত না কখনোই। প্রথমে ছিল না সম্পর্ক টা এতটা তিক্ত। খুব ভালোই ছেলে অভিরুপ। পড়াশোনা, আচার আচরণ সবদিক থেকেই সত্যি সত্যি অনেক ভালো ছিল কিন্তু জীবনে প্রথম নারীর আগমন ঘটায় চিরপ্রথাগত ও প্রচলিতভাবে নিজের মনকে সে হয়ত এইটাই শিখিয়ে এসেছে যে নারী মানেই লালসার ছোঁয়া পাওয়া আর এই ইন্ধন তাকে তার বন্ধুরা জোগাতে অনেক সাহায্য করেছিল। শ্রীরুপার প্রতি লালসার স্বাদের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিল অভিরূপের বিবেক, তার শিক্ষা, তার মানবিকতা।
কিন্তু শ্রীরুপা কি আদৌ এইরকম মেয়ে ছিল? ছিল না সে এরকম। আজকের যুগের মেয়েদের মতো সে ছিল না, তার মনটা ছিল নীল আকাশের মতো। কখনো তার দ্বারা প্রমাণিত হয়নি যে সে যৌনাকাঙ্খী নারী বরং বারবার একথাটাই প্রমাণিত হয়েছে যে তার মতো প্রেমিকা পাওয়া অভিরূপের সৌভাগ্যের লক্ষণ। কিন্তু নিয়তি বোধ হয় অভিরূপের এই হেন সৌভাগ্য লেখেনি তাই তারপর থেকেই তাদের মধ্যে একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়। শ্রীরুপা কাতর ভাবে অনুরোধ করে, অনেক বোঝায়। অভিরুপ সব শোনে ঠিক ই কিন্তু তার চারপাশের কন্ঠপ্রসূত কথার মাঝে হারিয়ে যায় শ্রীরুপার কাতর ধ্বনি!
কিন্তু মাঝে মাঝে হৃদয় নাড়া দিয়ে উঠত অভিরূপের, মেয়েটা ওর এত অবহেলা সহ্য করেও ওকে এত ভালোবাসে, দোষ না করেও দোষী সাব্যস্ত হয় তারই কারণে তবুও ভালোবাসে তাকে। মেয়েটা সবসময় ভাবে, চিন্তা করে তাকে নিয়ে , ওর সাথে এত খারাপ ব্যবহার করছি, ছিঃ আপন মনে ধিক্কার জানাত অভি। সঙ্গে সঙ্গে ফোন আর শ্রীরূপা কি অদ্ভুত মেয়ে, ও অভিরূপের গলায় "আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি" এই কথাটি শুনলেই সব কিছু ভুলে যায়।
মাথা ধরে বসে পড়ে অভিরুপ । না না শ্রীরূপার স্মৃতি তাকে শেষ করে দিচ্ছে। আর ভাববে না সে দশ বছর আগের কথা, শ্রীরুপার কথা । কিন্তু মানুষ চাইলেই কি সব হয় তাও আবার ভালোবাসার মানুষ কে !
ভালোবাসার মানুষ শব্দটা বলতে নিজের জিভটাকেই কে যেন খান খান করে দিচ্ছে!
শ্রীরুপা দিনের প্রতিটা মুহূর্তে মনে রাখত অভিকে। সবসময় একটা অধিকারবোধ রাখা অভিমানী মেয়ে ছিল সে। কিন্তু বারবার অভি তাকে রাগ বলে কষ্টের তীব্রতা আরো অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিল শ্রীরুপার মনে। ফোনের পরে ফোন। একসময় ফোন টাও আর লাইন পেত না। কক্ কক্ করে কেটে যেত, দিনের পর দিন অবহেলা বাড়তে বাড়তে তুঙ্গে ওঠে, উপেক্ষা বাড়ে, মনের মধ্যে শত শত অভিযোগ জমা হয় কিন্তু শ্রীরুপা বলতে গেলেই উল্টো দিকে অভিরূপ বলে ওঠে তুমিও তো সেদিন ফোন ধরতে পারোনি, দেরি করে মেসেজ সিন করেছ আমি করলেই দোষ তাই না!
অথচ শ্রীরুপা দু'টোর কারণ ই বলেছিল অভিরুপকে, অভিরূপ এখন শ্রীরূপার বলা কথাও মনে রাখে না। সবটা নিয়ে আগে অনেক অনেক ঝগড়া করত শ্রী কিন্তু তারপর নীরবে সব দেখত, বুঝতে পারত, কষ্ট পেত আর কাঁদত। অভির বাড়ির লোক জানত না শ্রীরূপার কথা তাই শ্রীরূপা সবসময় ফোন করার যোগ্যতাও নেই। এতকিছুর পরে মাত্র একটা কথা, ভালোবাসি তোমাকে। মাত্র একটা আবদার, তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেও না। একটা শাসন, তুমি কখনো কারোর জন্য খারাপ হয়ে যেও না। একটাই অধিকারবোধ, তুমি শুধু আমার....... মেয়েটা কাছে সত্যিই ভালোবাসার খাঁটি সংজ্ঞা ছিল। মনের মিলন ছিল তার কাছে পূজনীয়, শরীরের মিলন নয়। কিন্তু তবুও শুধুমাত্র তার মতো ছেলের জন্য শ্রীরুপা একদিন..!
অভিরুপের সাথে একদিন দেখা করতে আসে শ্রীরুপা। সে ভেবেছিল তার বুক ভরা কষ্ট, কান্না সবকিছু সে অভিরূপের বুকের উপর ঢেলে দিয়ে অঝোর ধারায় কাঁদবে ওকে জড়িয়ে। কিন্তু তা আর হয়নি। কিছুটা সময় পার হবার পর অভিরুপ বলে শোনো শ্রীরূপা, তোমাকে আমি এতদিন পর কাছে পেয়েছি, তোমাকে আমি অন্তত একবার একান্তভাবে পেতে চাই। প্লিজ তুমি না কোরো না। আমি জানি মেয়েদের প্রথম মিশনে অনেক যন্ত্রণা হয় কিন্তু আমি তেমন কিছু করব না যাতে তুমি যন্ত্রণা পাও।
শ্রীরুপা স্তব্ধ হয়ে যায়। তাহলে সে কি অভিরূপের কেউই ছিল না কোনোদিন?? তার মন অভিরূপের মন ছুঁতে পেরেছে কিনা তার প্রমাণ শরীরের স্পর্শ দেবে? কেমন যেন হয়ে যায় শ্রীরূপা আর নিজের অজান্তেই বলে, বেশ তোমার যা ইচ্ছা।
সেই রাত ছিল অভিরূপের জীবনের এতদিনের কাঙ্খিত রাত। শ্রীরূপার সাথে সম্পর্ক শুরুর কিছুদিন পর থেকেই সে এই দিনটার কথা ভাবত, অপেক্ষা করত আর তার বন্ধুরা তাকে এ বিষয়ে অনেক উৎসাহ দিত। শ্রীরুপাকে হোয়াটস অ্যাপ এ, ফোনে বা মেসেজে একথা বলতে গেলেই কেমন যেন ঝুরি ঝুরি জ্ঞান আর শাসন, বারণ শুরু করে দিত। রাগারাগিও করত আর বলত অভিরূপের নাকি এতে মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি হবে। আজব মেয়ে! আরে শরীর সেক্স চাইছে আর তার মাধ্যমের নাম ই তো ভালোবাসা তাই না! আর শ্রীরূপা সবসময় সাধু ঋষিদের মতো মন নিয়ে পড়ে আছে, শরীরের ঊর্ধ্বে মন, উফ !!!!!!
ভয়ঙ্কর মিলনের রাত। এতদিনের চাপা ইচ্ছে আজ পূরণ করছে অভিরূপ। কিন্তু শ্রীরূপা! তার পোষাক অভিরুপ খুলে দিতেই মনে হলো যেন গোটা শরীরের চামড়াটাও খুলে গেল, যেই চামড়া তে সে এতদিন ধরে দূরে থাকা অভিরুপ কে অনুভূতির স্পর্শে স্পর্শ করত । এতদিনের এক পবিত্র অপেক্ষা, পবিত্র ভালবাসা অভিরূপের জন্য সে যে তিলতিল করে গড়ে তুলেছিল তা একনিমেষে চুরমার হয়ে গেল অভিরুপের শারীরিক মিলনের স্পর্শে। রাতের পর রাত জেগে চোখের জল, অকাতরে দুশ্চিন্তা করা, হারিয়ে ফেলার ভয় সবকিছুই কি তাহলে মিথ্যে? শরীরটাই এই সবকিছু কে এক তুড়ি তে হারিয়ে দিল। অভিরুপের এতদিন ধরে অবহেলা, উপেক্ষা ছিল কারণ তার কাছে শ্রীরুপার যৌবন টা ছিল না কিন্তু আজ অভিরুপ শ্রীরুপার প্রতি প্রসন্ন কারণ আজ সে কাঙ্খিত নারীর যৌবন উপভোগ করতে ব্যস্ত। গোটা রাত অভিরুপ শ্রীরুপার যৌবনের সাথে লড়াই করে আর শ্রীরূপা নিজের মনের সাথে সাথে এতদিনের একটা সুন্দর ভালোবাসা কে বিশ্বাসঘাতক মনে করে হত্যা করে। হত্যা করে পবিত্র অপেক্ষা কে, হত্যা করে বিরহকে, হত্যা করে তার সমস্ত সত্ত্বা। সে অভিরূপের কোনো কাছের মানুষ নয়, সে শুধু মাত্র অভিরুপের যৌনক্ষুধা নিবারণকারী নারী যাকে আজকের শিক্ষিত সমাজ নাম দিয়েছে প্রেমিকা। সে এতবার করে বুঝিয়ে এসেছিল, বলে এসেছিল অভিরূপকে কিন্তু অভিরুপের কাছে তার থেকেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আছে অভিরুপের বন্ধুরা। এমনকি অভিরূপের পরিবারও জানে না যে আজ তাদের ছেলে যার সাথে রতিমিলনে ব্যস্ত সেই মেয়েটির কথা, জানে না তারা সেই মেয়েটি এক পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে তাদের ছেলেকে ধরে রাখতে চেয়েছিল কিন্তু আজকের দিনে এসব তো হাস্যকর, আজকের দিনে তো কে কতবার ঘনিষ্ঠ হয়েছে তার উপরেই ভালোবাসা নির্ভরশীল।
এখন মন কিচ্ছু নয়, শুধু শরীর, শরীর আর শরীর!!
তবুও এতকিছুর পরেও শ্রীরূপা ভালোবেসেছিল অভিরুপকেই, কারণ তার ভালবাসা টা নীল আকাশের মতো ছিল, তার মনটা সাদা মেঘের মতো ছিল আর তার ভালবাসাটা কচি ফুলের মতো পবিত্র ছিল কিন্তু যাকে ভালোবাসল তার কাছে এইসব কিছুর কোনটারই মূল্য নেই। চোখের জল শেষ হয়ে গেছে তার। শরীর টা খুব অসুস্থ লাগছে, দমবন্ধ অনুভূতি হচ্ছে। সে ঘুমন্ত অভিরুপের দিকে চায়, তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর বলে, তুমি আমাকে ভালো নাই বাসতে পারো, আমি তোমার কাছের কেউ নাই হতে পারি কিন্তু আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবাসি তাই তোমার জন্য আমার এই শরীরটা সবার অজান্তে দিতেও দ্বিধা বোধ করলাম না। সে অভিরূপের বুকটা জড়িয়ে ধরতেই অভিরুপের ঘুম ভেঙে যায়। আর বলে, তুমি ঘুমোওনি কেন এখনো?
তুমি আজ সারারাত আমাকে তোমার বুকের মাঝে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখো না, বড় কষ্ট হচ্ছে আমার ! কাতর অনুরোধ করে শ্রীরুপা ।
অভিরূপ বলে আচ্ছা ঠিক আছে তুমি আজ সারারাত আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমাবো কেমন, এসো আমার কাছে বলে বুকে টেনে নেয় তাকে শক্ত করে।
এটাই তো সেই অভিরুপ যাকে শ্রীরুপা ভালোবেসেছিল প্রথম। যে কখনো শ্রীরুপা কে অবহেলা তো দুরের কথা সামান্য খারাপ কথাও বলত না। তাহলে হঠাৎ করে কার প্ররোচনায় হারিয়ে গেল প্রকৃত প্রেমিক হিসেবে অভিরুপের সত্ত্বা টা এইকিছুক্ষণ আগেও যেই অভিরুপ ঘুমোচ্ছিলো, সেও তো সেই কামুক অভিরূপই ছিল। আবেগে ভেসে যায় শ্রীরুপা তার পুরোনো অভিরুপ কে ফিরে পেয়ে। কিন্তু সে আর ওঠে না অভিরুপের বুক ছেড়ে। চিরনিদ্রায় চলে যায় শ্রীরূপা।
বাস্তবে ফিরে আসে অভিরুপ আর শ্রীরূপার শেষ আলিঙ্গন টা মনে পড়তেই মাথায় তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয় অনুশোচনা, আক্ষেপ ও হারিয়ে ফেলার! সে চিৎকার করে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ফিরে এসো শ্রীরুপা, আমাকে ক্ষমা করো তুমি , ফিরে এসো শ্রীরুপা ফিরে এসো তুমি, আজ বুঝতে পারছি এই শরীরটা কিছু নয়, মন, অনুভূতি, আকুলতাই সব । আজ তোমার জন্য আমার গোটা ভালোবাসাটাই আছে। অনেক অবহেলা করেছি তোমাকে, সব দোষ চাপিয়ে দিতাম তোমার উপর, অনেক কষ্ট দিয়েছি, অনেক কাঁদিয়েছি তোমাকে কিন্তু আমি তখন বুঝিনি তোমার মূল্য। তোমার কথায় বিরক্ত হতাম। না না না, তুমি ফিরে এসো প্রিয়া, প্রিয়তমা, আমি তোমাকে আজ সত্যিই ভালোবাসি ফিরে এসো.........!!

