Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Jeet Guha Thakurta

Crime Fantasy Thriller


4.0  

Jeet Guha Thakurta

Crime Fantasy Thriller


ফেলুদা বনাম জটাদা: ষষ্ঠ পর্ব

ফেলুদা বনাম জটাদা: ষষ্ঠ পর্ব

9 mins 180 9 mins 180

ফেলুদা বনাম জটাদা: পর্ব ৬


পরদিন সকালে জটাদা একাই বেরোলো। বললো ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে একবার যাবে, পুরোনো কলকাতার উপর একটু নাকি পড়াশুনো করতে হবে। আমি বুঝলাম না এই কেসের সাথে তার কোনো সম্পর্ক আছে নাকি আলাদা ব্যাপার।


সন্ধ্যের পর জটাদা ছাদেই পায়চারি করে বেড়ালো। ঘন ঘন সিগারেট টানছে, খুব অন্যমনস্ক আর ভীষণ কোনো চিন্তায় মগ্ন আছে মনে হলো। জটাদার এই রূপটা আমি চিনি, তাই ওকে বেশি ঘাঁটালাম না। আমি বরং পিঙ্কিকে দাবা খেলার নিয়মগুলো বোঝাচ্ছিলাম। যতবার বোঝাই, ততবারই দেখি ভুলে যায়। শেষমেশ ওইসব তুলে রেখে দিয়ে দু'জনে কয়েক দান লুডো খেলে সময় কাটালাম। রাত্রে খাওয়ার সময়ও জটাদা সেদিন বেশি কথা বললো না।


তার পরের দিন অর্থাৎ শুক্রবার সকালে আমরা আবার হানা দিলাম মিডলটন রো-এর বাড়িতে। যেতে যেতে জটাদা গল্প বলছিলো।


"কলকাতার নাম কিন্তু চিরদিন কলকাতা বা ক্যালকাটা ছিলো না। পলাশীর যুদ্ধের আগে একবার সিরাজউদ্দৌলা ইংরেজদের পরাজিত করে কলকাতা দখল করেন। এবং যে ওয়ারেন হেস্টিংসের নাম আমরা ইতিহাস বইতে পড়ি, সেই ওয়ারেন হেস্টিংসকে সেই সময় জেলে বন্দিও করেন সিরাজউদ্দৌলা। সিরাজের বয়স তখন সবে তেইশ। কিন্তু বুদ্ধি ও পরাক্রমে ইংরেজদের দমন করে রেখেছিলেন তিনি। ফলতা তখন ছিলো গঙ্গার বুকে ছোট্ট একটা গ্রাম। ইংরেজরা পালিয়ে গিয়ে সেইখানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলো। কলকাতা দখল করলেও কলকাতায় থাকার অভিপ্রায় সিরাজের ছিলো না। তিনি তার অনুগত মানিকচাঁদের হাতে কলকাতার ভার দিয়ে মুর্শিদাবাদে ফিরে যান। কিন্তু যাবার আগে তার দাদু আলিবর্দী খাঁর নামের অনুকরণে কলকাতার নাম পাল্টে তিনি রাখেন আলিনগর।"


"কলকাতার নাম আলিনগর ?" পিঙ্কি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলো।


"হ্যাঁ। কিছুদিনের জন্য কলকাতা আলিনগর বলেই পরিচিত ছিলো। তবে বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সেই নাম। মানিকচাঁদ অতি সহজেই ইংরেজদের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে কলকাতার দখল আবার ইংরেজদের ফিরিয়ে দেন। আর তার সাথে সাথে ভারতবর্ষে ইংরেজদের প্রতিপত্তি আটকাবার শেষ সুযোগটাও আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এরপর পলাশীর একটা সাজানো যুদ্ধ ও সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের কাহিনী আমরা সবাই জানি।"


"আর ওয়ারেন হেস্টিংসের কী হলো ? তিনি ছাড়া পেলেন জেল থেকে ?" আমি জিজ্ঞাসা করলাম।


"হ্যাঁ। লর্ড ক্লাইভ তখন ছিলেন দক্ষিণ ভারতে। বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে ইংরেজদের শোচনীয় অবস্থার কথা শুনে তিনি কোম্পানির ফৌজ নিয়ে এসে ওয়ারেন হেস্টিংসকে উদ্ধার করেন। শুনলে অবাক হবি, এই ওয়ারেন হেস্টিংসই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি ভগবৎ গীতার প্রথম ইংরেজি অনুবাদও লিখেছিলেন।"


"তাই নাকি ?" আমি সত্যিই আশ্চর্য হলাম শুনে।


"ইয়েস। ওয়ারেন হেস্টিংস তার সমসাময়িক অন্যান্য ইংরেজ শাসকদের তুলনায় বোধহয় একটু ভালো লোকই ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগও অবশ্য অনেক ছিলো, কিন্তু আপাততঃ আমরা মনে হচ্ছে আমাদের গন্তব্যস্থলে এসে পড়েছি।"


মিস্টার ডিসুজাকে আগে থেকেই বলা ছিলো। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। আমরা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠবার সময় দেখলাম একতলায় সেন পরিবারের ফ্ল্যাটের দরজা যথারীতি বন্ধ। দোতলায় সিঁড়ির মুখে কিছু জুতো খোলা, যার পাশে আমরাও আমাদের জুতো খুলে রেখে ঢুকলাম। ঢোকার সময় লক্ষ্য করলাম জটাদা নিচু হয়ে ওই জুতোগুলোর ওখান থেকে কিছু একটা কুড়িয়ে নিলো। নিয়ে পকেটে রাখলো।


"তদন্ত কতদূর এগোলো মিস্টার মিত্র ?" আমাদের আপ্যায়ন করে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন ডিসুজা সাহেব। এক নতুন ভদ্রলোককে ঘরে দেখতে পেলাম। আমাদের মুখোমুখি উল্টোদিকের সোফায় বসে ছিলেন তিনি। তিরিশ-বত্রিশ বছর বয়স হবে। বেশ স্লিম চেহারা। সাদা শার্টের উপর মেরুন রঙের সোয়েটার। দেখে বেশ মার্জিত ও রুচিশীল বলেই মনে হলো।


"কাজ অনেকটাই এগিয়েছে।" জটাদা বললো, "খুনের রহস্য উদ্ধার হোক না-হোক, আশা করছি আপনার চুরি যাওয়া সিগারেট কেসটা অন্তত খুব শীঘ্রই আপনাকে ফেরত দিতে পারবো।"


"ভেরি গুড, ভেরি গুড। শুনে খুশি হলাম। ওটা আমার বাবার বাবার আমল থেকে কি তারও আগে থেকে আছে আমাদের বাড়িতে। হয়তো এমন বিশেষ কিছু নয়, কিন্তু তবুও একটা দামি স্মৃতি তো -।"


জটাদা নতুন লোকটির উদ্দেশ্যে বললো, "আপনাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।"


ভদ্রলোক একটু উঠে হাতটা জটাদার দিকে বাড়িয়ে বললো, "আমার নাম সুদর্শন দত্ত। এই এর উপরে মানে তিনতলাতেই আমার ফ্ল্যাট। আপনার কথা এইমাত্র বলছিলেন মিস্টার ডিসুজা।"


জটাদা প্রত্যুত্তরে করমর্দন করে বললো, "আচ্ছা, বসুন বসুন। আপনার সামনের মাসে আসার কথা ছিলো শুনেছিলাম। দিল্লি গিয়েছিলেন তো আপনি ?"


"হ্যাঁ, কাজ হয়ে গেলো তাড়াতাড়ি। তাই চলে এলাম।"


"যাক আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগলো।"


ডিসুজা সাহেব যোগ করলেন, "আজই ফিরেছেন। এই একটু আগে। উনি উঠছিলেন তখন, আর আমিও নামছি। সিঁড়িতে ওনার সঙ্গে দেখা। ওনাকে ডেকে এনে বলছিলাম সব কথা।" আমি লক্ষ্য করলাম ভদ্রলোকের পাশে একটা চওড়া ব্রিফকেস মেঝেতে দাঁড় করানো রয়েছে। ফিরে এসে এখনো ঘরে ঢোকেননি সম্ভবত।


"কী সাংঘাতিক অবস্থা মশাই!" সুদর্শনবাবু বিস্ময়ের সাথে জটাদার দিকে তাকিয়ে বললেন, "একের পর এক কীসব ঘটে গেছে শুনলাম। এখানে কি আর থাকা যাবে না শান্তিতে ? প্রথমে খুন। তারপর চুরি। তাও কী, না একটা সিগারেট রাখার বাক্স। ডিসগাস্টিং!"


"সিগারেটের বাক্স বলে অবহেলা করবেন না সুদর্শনবাবু।" জটাদা বললো, "ওটা হয়তো কোনো বিশেষ একটা বাক্সও হতে পারে।"


"মানে ?" সুদর্শনবাবুর সাথে সাথে ডিসুজাও করলেন প্রশ্নটা।


"না মানে এতো দিনের পুরোনো জিনিষ। ওটার গায়ে তো সতেরোশো খিষ্টাব্দের একটা সাল লেখা আছে।"


"হ্যাঁ, সতেরোশো ছিয়ানব্বই।" ডিসুজা বললেন, "কিন্তু আপনি কীকরে জানলেন ?"


"বাক্সের যে ছবিটা আপনার মেয়ে পাঠিয়েছিলেন, সেটা জুম করে দেখলেই পড়া যাচ্ছে। আচ্ছা ওটার কোনো ইতিহাস জানেন ? মানে ওটা আপনাদের কাছে কবে কীভাবে এলো, সেই ব্যাপারে কিছু ?"


"না, আমি তো কিছু শুনিনি। বিডন স্ট্রিটে আমাদের পৈতৃক বাড়িতে এরকম অনেক জিনিষ ছিলো। সময়ের সাথে সাথে অনেক জিনিষই ভেঙেচুরে নষ্ট হয়ে যায়। এই কাঠের বাক্সটা কোনোভাবে এতোদিন টিঁকে গেছে। বাই দ্য ওয়ে, শুনলাম আপনারা কালকে বিডন স্ট্রিটে পোদ্দারবাবুর অফিসে গিয়েছিলেন ?"


"হ্যাঁ, ওনার সাথে একটু আলাপ করে এলাম। ভদ্রলোকের আতিথেয়তার বহর দেখে বুঝলাম আপনি কিছু ভুল বলেননি।"


"কেন ? আপনাকে কিছু উল্টোপাল্টা থ্রেট দিয়েছে নাকি ? বলুন আপনি, আমি ওই পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এখনই ক্যানসেল করে দেব। লোকটা একদম সুবিধের নয়।"


"আরে না না। সাপের ল্যাজে পা দিলে সাপ একটু ফোঁ করে উঠবে সেটাই তো স্বাভাবিক। ওই নিয়ে আপনি চিন্তিত হবেন না। কিন্তু খবরটা আপনাকে কে দিলো ?"


"পোদ্দারবাবু নিজেই ফোন করেছিলেন। আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন এখানে কী হয়েছে ইত্যাদি। নাউ আই অ্যাম গেটিং ডাউটফুল যে এটা ওনারই কাজ কিনা।"


মিসেস ডিসুজা এইসময় ডাইনিংয়ে ঢুকলেন। তার হাতে মিষ্টির প্লেট সাজানো। সেন্টার টেবিলে সেসব রেখে তিনি একটা করে প্লেট এগিয়ে দিলেন আমাদের দিকে। জটাদা বললো, "এসবের কোনো প্রয়োজন কিন্তু ছিলো না। কেন আবার কষ্ট করে -।"


"হোক। অল্পই তো মিষ্টি। না করবেন না একদম।"


আমি হাত বাড়িয়ে একটা সন্দেশ তুলে নিলাম প্লেট থেকে। ইয়া বড়ো তালশাঁস সন্দেশ। দারুন খেতে। পিঙ্কিকে চোখের ইশারায় বোঝালাম, খেয়ে দ্যাখ, ভালো খেতে। সে এক টুকরো শুধু ভেঙে খেলো। মিষ্টি জিনিষটা খুব একটা পছন্দ নয় এই মেয়ের।


সুদর্শনবাবু জটাদাকে জিজ্ঞাসা করলো, "আপনার কী মনে হচ্ছে, খুনের ব্যাপারে... বিষক্রিয়াতেই মৃত্যু, নাকি - অন্য কোনো ব্যাপার ?"


"পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে ভুল আছে বলছেন ?"


"না না, তা নয়। মানে, মিস্টার ডিসুজা বলছিলেন যে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে বিষক্রিয়া লেখা থাকলেও কোনো খাবারেই বিষ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাহলে বিষ এলো কীভাবে ? সেটা জানতে পারলে আমরাও একটু সতর্ক থাকতে পারি আরকি। একাই থাকি। হুটহাট রেস্টুরেন্ট থেকে এরকম খাবার দাবার তো প্রায়ই আনাতে হয়। সেটাই চিন্তা।"


জটাদা প্লেট থেকে একটা তালশাঁস তুলে নিয়ে মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বললো, "আপনি একা মানুষ। কোনো ঝুট-ঝামেলায় নেই। আপনার ভয়ের তো কোনো কারণ দেখছি না। আর তাছাড়া রেস্টুরেন্ট থেকে আনা খাবারে তো সত্যিই কোনো টক্সিক কিছু ছিলো না। অতএব আপনি নিশ্চিন্তে খাবার অর্ডার করুন, অতো দুশ্চিন্তা করবেন না। তবে এখানে থাকাকালীন কখনো অস্বাভাবিক কিছু দেখলে আমাকে বা মিস্টার ডিসুজাকে জানাবেন। হয়তো আমাদের কাজে লেগে যাবে সেটা।"


"হ্যাঁ, হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। নিশ্চয়ই। আচ্ছা যাক, কিছুটা রিলিভড হলাম তাহলে।" ভদ্রলোক যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। বললেন, "আমি তাহলে এখন যাই মিস্টার ডিসুজা, ঘরটার কী হাল দেখি গিয়ে।"


ডিসুজা তৎক্ষণাৎ বললেন, "হ্যাঁ হ্যাঁ, যান। কিন্তু মিষ্টি পড়ে রইলো তো সব।"


"আরেকদিন হবে প্লিজ। এতোটা রাস্তা এসে বেশ টায়ার্ড এখন -।"


"আচ্ছা, আচ্ছা, ঠিক আছে। আপনাকে অনেকক্ষণ আটকে দিলাম, ভেরি সরি। যান আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন।"


"না না, সে কী আছে। প্রতিবেশীদের খোঁজখবর তো রাখতেই হবে। আচ্ছা মিস্টার মিত্র, চলি তাহলে। আবার দেখা হবে।"


জটাদা প্রত্যুত্তরে হাত জড়ো করে নমস্কার জানালো।


সুদর্শনবাবু ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যেতে ডিসুজা সাহেব জটাদাকে বললেন, "ওহ, ভালো কথা, আপনার পারিশ্রমিকের ব্যাপারটা -।"


"সেসব পরে হবে। কাজটা সম্পূর্ণ হোক আগে। তারপর। আমি অ্যাডভান্স কিছু নিই না।"


"বেশ।" ডিসুজা বললেন, "এদিকে তো আজ একটা কান্ড ঘটে গেছে এখানে।"


"কী হয়েছে ?"


"ভোরের দিকে নাকি চোর এসেছিলো আজকে। আমি ইচ্ছা করেই সুদর্শনবাবুর সামনে বললাম না। উনি খুন-টুনের কথা শুনে অলরেডি একটু ঘাবড়ে আছেন। আরো ভয় পেয়ে যাবেন আজকের কথা শুনলে।"


আমি নড়েচড়ে বসলাম। জটাদা আগ্রহ নিয়ে তাকালো ডিসুজার দিকে। "চোর এসেছিলো ?"


"হ্যাঁ। আপনার ভবিষ্যৎবাণী যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেলো। আপনি বলেছিলেন যে আবার চুরির চেষ্টা হতে পারে। আর হলোও ঠিক তাই।"


"কী চুরি হলো এবার ?"


"সেটাই তো বোঝা যাচ্ছে না। মানে সেরকম কিছু চুরি হয়নি। তখন ভোর পাঁচটা কি সাড়ে পাঁচটা হবে। আলো ফোটেনি তখনো। সনৎবাবু ঘরে শুয়ে ছিলেন। উনি নাকি শুনতে পান পাশের ভাঙাচোরা ফ্ল্যাটে কেউ যেন ঢুকেছে। জিনিষপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করছে। ভয়ে উনি আর দরজা খোলেননি। কিন্তু উৎকর্ণ হয়ে শুনেছেন। বেশ আধ ঘন্টা মতন চোর সব আঁতিপাতি করে খুঁজে চলে যায়। কী খুঁজছিলো ওই পোড়ো ঘরে, কে জানে! ওখানে চুরি করার উপযুক্ত কিছু আছে বলেও তো মনে হয় না। আবার নাকি দেওয়াল ঠুকে ঠুকে দেখছিলো। মানে সনৎবাবু তাই বললেন আমাকে সকালবেলা। আমার অবশ্য চোরের আওয়াজে ঘুম ভাঙেনি।"


"আচ্ছা, তাই বলুন। আপনি সনৎবাবুর কাছ থেকে শুনেছেন। আমি ভাবলাম এই ঘরে চোর ঢুকেছিলো।"


"না, না। নিচের ওই ভাঙা ঘরটায়।"


"কেমন আছেন সনৎবাবু ? ওনার মেয়ের পারলৌকিক কাজকর্ম -।"


"বডি তো দিয়ে দিয়েছিলো পরশুদিনই। আপনাকে ফোনে তো বললাম। দাহ-টাহ সেইদিনই হয়ে গেছে সব। সামনের সপ্তাহে কাজ। বিমর্ষ হয়ে আছেন ওনারা। একমাত্র মেয়ে ছিলো তো। কষ্ট তো হবেই। আমাদেরই মনে পড়লে খারাপ লাগছে এতো।"


"বুঝতে পারছি। ইশ্বর ওনাদের সহায় হোক।"


পিঙ্কি এই সময় উঠে মারিয়ার ঘরে গেলো। ও দেখলাম মারিয়ার সাথে বেশ ভাব জমিয়ে নিয়েছে। ওর সাথে ওর ঘরে বসে ওর সাজের জিনিসপত্র ঘেঁটে দেখছিলো। ডাইনিং থেকে শুনতে পাচ্ছিলাম টুকটাক ওদের কথাবার্তা। এই মেয়েটাকে জটাদা যে কী আক্কেলে গোয়েন্দাগিরিতে নিয়েছে!


ডিসুজা সাহেব আবার বললেন, "আমার মিসেস বলছিলেন, অপঘাতে মৃত্যু হলে সেই আত্মা নাকি মৃত্যুর জায়গায় আবার ফিরে আসে। আমার ওসবে বিশ্বাস হয় না অবশ্য। কিন্তু আজকের ঘটনাটা বড়ো অদ্ভুত। ওই খালি ঘরে চোর কেন ঢুকবে ? কী খুঁজছিলো দেওয়ালে হাতুড়ি মেরে ? কী জানি। আত্মা-প্রেতাত্মার ব্যাপার যদি হয় -।"


জটাদা হাসতে হাসতে বললো, "দেখুন আত্মা-প্রেতাত্মা যদি আসে তো আমি কিছু করতে পারবো না। কিন্তু মানুষ যারা এসবের পিছনে আছে, তাদের পরিচয় আমি আপনাকে দু'য়েক দিনের মধ্যেই দিয়ে দিতে পারবো আশা করি।"


ডিসুজা বললেন, "এই কারণেই তো আপনার উপর আমার এতো ভরসা। আপনার বাবার সাথে আমার পরিচয় ছিলো। অনেক জটিল জটিল কেস সল্ভ করেছেন উনি। এখন আপনার উপর দায়িত্ব। দেখা যাক আপনি সেই দায়িত্ব কতটা সফলতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। একটা কথা আছে মিস্টার মিত্র। বাপ কা বেটা, আর সিপাহী কা ঘোড়া। যদিও কখনো কখনো সেটা ফলে না, এমনও দেখা গেছে হিস্ট্রিতে।"


"আপনি তাহলে এক কাজ করুন।" জটাদা বেশ প্রত্যয়ের সঙ্গে বললো, "পরশুদিন, মানে আগামী রোববার, সবার ছুটির দিন। ওইদিন আপনি আবার একটা ঘরোয়া পার্টির আয়োজন করুন এখানে। পার্টি কিছু না, আমরা এই কেসটার পর্যালোচনা করবো। সেইদিনই আশা করছি সব সত্য উন্মোচন করতে পারবো। আপনাদের ফ্যামিলির সবাই, অ্যালিস্টার, আর সনৎবাবু উপস্থিত থাকলেই হবে। সুদর্শনবাবুও ফিরে এসেছেন, তো ওনাকেও আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখবেন। আর বাইরের কাউকে লাগবে না। সময় সন্ধ্যে সাতটা।"


"ঠিক আছে। তাই হোক তাহলে।"


"আর হ্যাঁ, সেদিন আপনার মেয়ের জন্য বার্থডে কেকটা কোথা থেকে যেন অর্ডার করা হয়েছিলো ?"


"এই তো, কাছেই - ড্রিমল্যান্ড কনফেকশনারিজ। বেশ বড়ো দোকান, ওদের হোম ডেলিভারি আছে। ফোনেও অর্ডার নেয়।"


"আপনারা প্রায়ই ওখান থেকে অর্ডার করেন কি ?"


"হ্যাঁ, তা তো করাই হয়। কেন বলুন তো ?"


"কারণ আছে। আপনি অ্যালিস্টারকে বলবেন ওখানেই আবার একটা বার্থডে কেক অর্ডার করে রাখতে। রবিবার সাতটার সময়েই ডেলিভারি দিতে বলবেন।"


"তাই হবে। কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে মিস্টার মিত্র। খুনটা কি সত্যিই আমার ওই সিগারেট কেসের জন্য হয়েছিলো ?"


"পরশুদিন সবকিছুই জানতে পারবেন। তবে একটা কথা আমি আপনাকে এখনই কনফার্ম করতে পারি। আপনার অনুমান একদম নির্ভুল। খুনের টার্গেট বাচ্চা মেয়েটা সত্যিই ছিলো না। ওটা অ্যাক্সিডেন্টালি হয়ে যায়। টার্গেট অন্য কেউ ছিলো।"


(এরপর আগামী সংখ্যায়)



Rate this content
Log in

More bengali story from Jeet Guha Thakurta

Similar bengali story from Crime