End of Summer Sale for children. Apply code SUMM100 at checkout!
End of Summer Sale for children. Apply code SUMM100 at checkout!

AYAN DEY

Horror Classics


4.7  

AYAN DEY

Horror Classics


মরণধাঁধা

মরণধাঁধা

3 mins 210 3 mins 210

একটি নির্জন জায়গা খুঁজে বাস করার ইচ্ছে অনেকদিনের । এতদিনে ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত একটি অঞ্চলে খালি একটি ভিলার সন্ধান পেয়ে ঘর বাঁধতে দেরী করলো না অখিলেশ । বাড়িটির দোতলার একটি ঘর মালিক রতন সেনের থেকে পেলো অখিলেশ । অখিলেশ চক্রবর্তী বর্তমানের বিখ্যাত থ্রিলার গল্পের লেখক । হ্যাঁ , ঠিকই ধরেছেন ওই কাজটির জন্যেই শহরের কোলাহল থেকে দূরে এই জায়গাটিতে আসা । বন্ধু রতন সেনের এটা আদিবাড়ী । কাজের সূত্রে ওরাও কোলকাতায় থাকে । অখিলেশ বলতে এক কথাতেই ঘরটির কথা জানায় রতন ।

নির্বিঘ্ন নির্ঝঞ্ঝাট জীবন । কাছেই শ্যামা হোটেলে সবজি , ভাত , রুটি সব মেলে । কিন্তু বাথরুমটা ...

রাত্রে একটি বার উঠবেই অখিলেশ । প্রথম কদিন চোখে কিছুই পড়েনি । কিন্তু ঠিক এক সপ্তাহ পর হঠাৎ নজর গেলো বাথরুমের জানলায় । ও কীসের ছায়া ? সামনে যেতে স্পষ্ট হলো জানলার দুহাত দূরের লম্বা অশ্বত্থ গাছের ছায়া ওটা । কি প্রচণ্ড ঘামতে ঘামতে ঘরে এসে শুয়েছিলো অখিলেশ তা বলার নয় ।

এর কদিন পর রতনের ফোন ।

" লেখালেখি কেমন চলছে ? "

" চলছে ভাই । "

" ভয়েসে জোশ নেই কেন ? কী ব্যাপার মামা ? "

" আরে কিচ্ছু না , এই একটানা লিখে ক্লান্ত । "

" ও তুই লিখতে থাক । খুব শীঘ্রই দেখা করতে আসছি । "

" হ্যাঁ একদম । "


বিষয়টা বোঝা সত্ত্বেও কিরকম অস্বস্তি হয় প্রতিদিনই । অখিলেশ মন থেকে বহুবার ভাবে যে না রাতটা কোনোভাবে কাটিয়ে দেবে । কিন্তু কেবন এক দুবারই সক্ষম হয় । রাতে একবার ওঠা থামাতে অক্ষম হয় পুরোপুরি ।

আজ যেন ভয়টা একদম ঠোঁটে এসে নিজের ঠোঁট মিলিয়ে দিতে চায় । সে জানলার দিকে তাকানো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছিলো । কিন্তু আজ যেন মন তার কেবলই বলতে লাগলো , " তাকা একবার । একবার জানলার দিকে দেখ ! কিছু নেই যখন ভয় কী ? "

ওদিকে ষষ্ঠেন্দ্রিয় সাবধান করে , " সাবধান ওদিকে তাকালেই বীভৎস কিছু দেখবি ... একদম না । "

মাথা ও মনের দ্বৈরথের মাঝে পিষতে থাকে অখিলেশ । বাথরুম থেকে বেরিয়েই আসছিলো কিন্তু চোখ যেন জাদুবলে জানলার দিকে গেলোই । আর চোখ যেতেই সর্বাঙ্গে বিদ্যুত খেলে গেলো । সেই অশ্বত্থ গাছের ছায়া যেন জমাট অন্ধকার হয়ে তার জানলায় এসে হাজির হয়েছে । তার সাথে যেটা সবচেয়ে ভয়ের সেটা হলো ছায়াটা স্থির নয় ... সচল ।

মনকে একবার বোঝালো " গাছের পাতাও নড়ে ... ডালপালাও ... " কিন্তু না এটা তা নয় । ক্রমশ বাথরুমের অল্প ওয়াটের আলোয় বোঝা গেলো ওই ছায়া একটা প্রাণীর ।

প্রাণীটা কী ? বিড়াল ? না । অত্ত বড়ো হয় না । তবে ভাম জাতীয় কিছু ... না ওই যে ওই যে কিছু বললো ওই ছায়া ।


" অখিলেশ ... কেমন আছো ? " 

এবার সামনে আসতে লাগলো ওই ছায়া । ক্রমশঃ হাত পা জমাটি বরফ হয়ে এলো । মুখটা স্পষ্ট হতেই আর্ত চিৎকার বেরিয়ে এলো অখিলেশের । এ কি ! এ তো সে নিজেই ... তার প্রতিমূর্তি দাঁড়িয়ে তার সামনে ... 

আতঙ্কে চৈতন্য হারাতে যাবে কি মুখোশ খুলে সামনে দাঁড়ালো রতন । প্রস্থেথিকসের কাজ করে রতন । তার পক্ষে এটা করা মামুলি । একদম দরদর করে ঘামতে থাকা অখিলেশকে ধরে ফেলে বললো , " খুব ভয় পেয়েছিলিস না ! বড়ো বেশী বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি বোধহয় ! "

" বাড়াবাড়ি বলে বাড়াবাড়ি ... আরেকটু হলে হার্টটা বেরিয়ে আসতো । "

ঠিক এই সময় ওরা দুইজন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে বাথরুমের লাইট নেভাতে যাবে বাথরুমের মেঝের দিকে তাকাতে রতন নিজে ইলেকট্রিক শকের মতো কিছু অনুভব করলো । মাছি ভনভন করছে ও কার দেহ ... অখিলেশ ... তবে তার পাশে কে দাঁড়িয়ে ।

" কই রে রতন এখনও দাঁড়িয়ে ... ভোর হতে খানিক বাকি ... একটু শুয়ে নে । "

একটা কথাও না বলে দরজা খুলে পাঁইপাঁই করে ছুটে পালালো রতন । " কই রে রতন ... আমায় ভয় দেখিয়ে কোথায় চললি ? রতন ... রতন ... রতন ... "


Rate this content
Log in

More bengali story from AYAN DEY

Similar bengali story from Horror