Indranil Majumder

Horror Thriller Others

4.0  

Indranil Majumder

Horror Thriller Others

লাইব্রেরীর রহস্যময় সেই লাল বই

লাইব্রেরীর রহস্যময় সেই লাল বই

8 mins
248



ভর দুপুরবেলা যখন লাইব্রেরী একদম ফাঁকা ঠিক সেই সময়ে ধপ্ করে র‍্যাক থেকে হঠাৎ বই পড়ে যাওয়ার আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায় বাদলবাবুর। দুপুরবেলা লাঞ্চের পর লাইব্রেরী বেশ ফাঁকাই থাকে– লোকজন থাকে না বললেই চলে। তাই দু'চোখে ঘুম লেগে গিয়েছিল ঘাঁসিয়ারা সেন্ট্রাল লাইব্রেরীর বাদল দেবনাথের। তাহলে, কেউ কি তাঁর অজান্তে লাইব্রেরীতে ঢুকে লাইব্রেরীর বই ঘাটাঘাঁটি করছে? তাহলে তো বেশ সর্বনাশে ব্যাপার তা তিনি সিট ছেড়ে উঠে কোথায় বইটা পড়েছে তা খুঁজতে বেরোলেন। এ ব়্যাক ও ব়্যাক ঘুরে দেখলেন একদম শেষের দিকে কিছু পুরনো ও ধুলো মাখা বইয়ের ব়্যাক থেকে বইটি পড়েছে। তিনি বইটি তুললেন। মজার ব্যাপার, বইটি পড়ে যাবার কোনও কারণ ছিল না। ফ্যানের জন্যে পড়ে যাওয়ার তো কোনও কথাই নয়। সব বই ঠাঁসা। তবুও পড়ল কেন? তিনি ঠিক বুঝতে পারলেন না। বইয়ের পড়ে যাওয়া নিয়ে তাঁর মনে হল যে, কারুর হয়তো বইটি নিতে গিয়ে পড়েছে। কিন্তু কেউ তো আশেপাশে নেই। তাছাড়া, এই গ্রামের লাইব্রেরীতে কাজের দিনেও দুপুরে লোক আসার লোক খুব কম। এখন এমনিতেই লাইব্রেরীর পাঠক বড়ই কম। আগে দু-তিনজন গবেষক আসতেন বটে কিন্তু এখন তেমন কেউ আর দুপুরের দিকে আসে না। বিকেলে তবে বেশ অনেক জন আসে তবে তাঁরা রেগুলার নন। লাইব্রেরী আজকাল বেশ ফাঁকাই থাকে। পাঠকের সংখ্যা কি একেবারেই তলানিতে– কে জানে? এইসব বিষয় অনেক সময় ভাবায় বাদলবাবুকে। তা তিনি পড়ে যাওয়া বইটি এপিঠ ওপিঠ দেখতে লাগলেন। বইটি বেশ পুরনো– দুষ্প্রাপ্যও বটে আর তাই তো ঠাঁই পেয়েছে এই শেষের ব়্যাকে যেখানে কেবলমাত্র দুষ্প্রাপ্য তথা রেয়ার কালেকশন-এর বইগুলো থাকে। বাদলবাবু বেশ কয়েকবার বইটি উল্টে-পাল্টে দেখলেন কিন্তু কিছু ঠাহর করতে পারলেন না। কেননা এদিকটায় বেশ অন্ধকার তাই বইয়ে কি লেখা আছে তা বুঝতে পারলেন না। তিনি বইটি নিয়ে গেলেন নিজের ডেস্কে। জানালার পাশে সূর্যের আলোয় বাদলবাবু এই দুষ্প্রাপ্য বইটি খুললেন। মনে হল বইয়ে থাকা ধুলোগুলো আলোর কিরণে যেন নেচে উঠছে। বইটি তিনি ঝেড়ে রুমাল দিয়ে ভালো করে মুছে নিলেন। বইটি ভারী অদ্ভুত। লাল চামড়া দিয়ে ভালোভাবে বাঁধানো আছে বটে। বইটির নামটি ভারী সুন্দর আবার অদ্ভুতও বটে। ইংরেজিতে লেখা–’Your Fate Is Not Always Yours’– অর্থাৎ ‘তোমার ভাগ্য সবসময় তোমার নয়’। তবে কার? আর, বইটাই বা কার লেখা? কোনও লেখকের নাম নেই যে! হয়তো অচেনা-অজানা কোনও লেখক লিখেছেন। বইটিতে লাখা অনেক আছে বটে কিন্তু ছবি একটিও নেই। কিরকম একখানা নীরস বই রে বাবা! ভারী মজা হল যখন দেখলেন যে পাতা উল্টাতে উল্টাতে তাঁর কেবল একটা শব্দেই চোখ আটকাচ্ছে তা হল– ‘anger’ অর্থাৎ ‘ক্রোধ’ বা ‘রাগ’। অন্য কোনও শব্দে চোখ যাচ্ছে না, বাকি সমস্ত শব্দগুলো কেন যেন ঝাপসা হয়ে রয়েছে। মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে উঠছে বাদলবাবুর। এমন সময় হঠাৎ ঘুমিয়েই পড়লেন। 


ঘুমটা ভাঙল লাইব্রেরীর অপর স্টাফ মাধববাবুর ডাকে– “আরে বাদলবাবু, উঠুন উঠুন। লাইব্রেরী বন্ধ করার সময় যে হয়ে এল যে! এত ঘুমালে হবে? উঠুন মশাই, উঠুন।” ধড়ফড় করে উঠলেন বাদলবাবু। আর তিনি অনুভব করলেন যে এতক্ষণ ঘুমনোর পর বেশ ফিট লাগছে তাঁর। ব্যাপারটা প্রকাশ না করেই বললেন, “আরে, লাইব্রেরীতে আজ আর কোনও পাঠক আসেনি তাই ঘুম লেগে গিয়েছিল হঠাৎ। তা চলুন, বন্ধ করা যাক।” বাদলবাবু ঐ লাল বইটি আর নিলেন না, টেবিলেই রয়ে গেল। 


বাড়ি ফেরার সময় অটোওয়ালার সাথে খুচরো নিয়ে বেশ বচসা হল। কোনোদিনও হয় না, সেবার তাঁর পকেটে ছিল কেবলমাত্র একটি পঞ্চাশ টাকার নোট। আর এদিকে অটোওয়ালা খুচরো দিতে নারাজ। সে বলল, “খুচরো নেই। যেখান থেকে পারুন খুচরো করিয়ে নিয়ে আসুন। নয়তো পঞ্চাশ টাকাটা রেখে যান। গাড়ির নম্বর দেখে নিন। পরে না হয় ভাড়ার বাকি টাকা নিয়ে যাবেন খন।” ব্যস, এতেই বাদলবাবুও বেশ রেগে মেগে উল্টোপাল্টা কথা বলে দিলেন। এতে অটোওয়ালাও চটে লাল। শেষমেষ প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে বিষয়টি চলে যায়। আশেপাশ থেকে কিছু লোকজন এসে বচসা থামায় ও বাদলবাবুর জন্য পঞ্চাশ টাকা খুচরো করিয়ে দেন যার থেকে তিনি ভাড়াটা দেন। এর ফলে রক্ষা পান তিনি। ঠিক তখনি তাঁর হঠাৎ মনে পড়ল লাল বইয়ের সেই কথাটি– ‘anger’।


(২)


পরেরদিন সকাল থেকেই লাইব্রেরীতে বেশ ভিড় ছিল। বাদলবাবুও টেবিলের ওপর রাখা সেই লাল বইটিও আর ধরার সুযোগ পেলেন না। আজ আবার কোন শব্দ চোখে পড়ে কে জানে? থাক, বিকেলের দিকে পড়া যাবে খন। আজকের এই ভিড়ের কারণ, কিছু বয়স্ক সদস্য যাঁরা নিজেদের ছেলেমেয়েদের কাজের জন্য শহরে থাকেন তাঁরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের অফিসের এবং নাতি-নাতনিদের স্কুলের ছুটির জন্য গ্রামে এসেছেন এবং লাইব্রেরীতে বলা যায় একটা ছোটখাটো গেট টুগেদার মিটিং-এর আয়োজন করে ফেলেছেন। বিকেলের দিকে সেই বইটি খুলবেন ভেবেছিলেন বাদলবাবু। কিন্তু কিছু সময় অবসর পেয়ে তিনি এখনই খুললেন সেই বইটি। আর খুলেই পেলেন একটি শব্দ ‘invitation’ অর্থাৎ ‘আমন্ত্রণ’। কিসের আমন্ত্রণ তাহলে? এইসব ভাবছিলেন এমন সময় লাইব্রেরীর প্রবীণ সদস্য প্রদীপবাবু হাসি মুখে তাঁর পাশে এসে বসলেন। আর বললেন, “বাদলদা, পরের মাসের ইংরেজি ৫ তারিখে আমার নাতনির ৫তম জন্মবার্ষিকী। এই কার্ড দিয়ে গেলাম। আপনি কিন্তু সপরিবারে অবশ্যই আসবেন– নিমন্ত্রণ রইলো পরিবারের সকলের।” বাদলবাবু বেশ বিস্মিতই হলেন, কিন্তু সেই অজানা বিস্ময় ঢাকতে তিনি বলে উঠলেন, “নিশ্চয়ই, অবশ্যই যাব, এ আর বলতে। এর মধ্যে আপনার নাতনির পাঁচ বছর হয়ে গেল যে! আরে বাপরে! সেই একেবারে ছোট্টটি দেখেছিলাম। যাব, সপরিবারে অবশ্যই যাব।”


সেদিন সারাদিন নানান কথাবার্তা হল। বাদলবাবু আর সেই বইটি খোলার ইচ্ছে প্রকাশ করেননি। এরই মধ্যে তাঁর ক্রমাগত একটি ব্যাপারে সন্দেহ জেগেছে আর তা হল সেই লাল চামড়ার বইটি কি সত্যি আদৌ কোনও সাধারণ বই? মনে তো হয় না। এই বইয়ের নিশ্চয়ই কোনও বিশেষত্ব আছে। থাকতেই হবে। কেননা সেই ছেলেবেলা থেকে তিনি কত বই না পড়েছেন কিন্তু এরকম বই তো একটাও দেখেননি, যেটা খুললে শুধুমাত্র একটি শব্দেই চোখ যায় আর যে শব্দে চোখ যায় সেটাই ঘটে। কি আশ্চর্য ব্যাপার তাই না? কোন কালাজাদুতে ঘেরা এই লাল বই?


(৩)


তা, এর বেশ কিছুদিন পর একদিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে বাদলবাবু কোনও ক্রমে বেঁচে যান। 


সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। তিনি ছাতা হাতে গ্রামের আলপথ ধরে হাঁটছিলেন। কাঁদা এড়িয়ে সাবধানবশত এগোচ্ছিলেন। এমন সময় একটি বিরাট শব্দে যেন মাটি কেঁপে উঠল। বাদলবাবু পড়ে গেলেন। কি ব্যাপার? একটি বাজ তাঁর কিছুটা দূরে ফাঁকা মাঠে গিয়ে পড়ে। আর কিছুটা কাছে হলেই তাঁর ওপরে বোধহয় পড়ত। বাজ পড়ার আওয়াজ শুনে সবাই চলে আসে। বাদলবাবুর সর্বাঙ্গে কাদা লেগে যায়। বুকটা তাঁর ধড়ফড় করতে থাকে। প্যানিকের জন্যে বেশ ঘোড়ে পড়ে যান তিনি। লোকজন এসে তাঁকে তোলে। একজন অবশ্য তাঁকে চিনতেন তা তিনি বাইকে করে তাঁকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। বাঁ পায়ে একটু ছড়ে গিয়েছিল। তবে, প্যানিক কাটতে তাঁর বেশ সময় নেয়। আর যখন কাটে তখন তাঁর হঠাৎ মনে পড়ে যে অনেকদিন পর আজ কৌতুহলবশত তিনি সেই লাল রঙের রহস্যময় বইটি খোলেন আর যে শব্দটা পান তা হল–’danger’ অর্থাৎ ‘বিপদ’। তবে, তার জন্যই কি তিনি সেই ঘোর বিপদে পড়েছিলেন? বেশ ভাবায় বাদলবাবুকে। তিনি অনেকদিন ঐ বইটি না খোলার কথাই ভাবছিলেন কিন্তু আজ কেন জানিনা ঐ বইয়ের অদম্য আকর্ষণেই হোক কিংবা তাঁর অদম্য কৌতূহলবশতই হোক তিনি ঐ বই খুললেনই খুললেন। আর, তার পরের ঘটনা তো এই ঘটল। 


এই যে ঐ লাল বইকে কেন্দ্র করে একের পর এক অতি-প্রাকৃতিক আবার অতি-প্রাকৃতিকের চেয়ে বলা ভালো অলৌকিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা আর কিই বা হতে পারে? ঐ বইটা কার আসলে? লাইব্রেরীতেই বা কি করে এল? কে আনল? কে জানে। খোঁজ নেওয়া দরকার এসবের। রাতে খাটে শুয়ে এইসব কথাগুলো তিনি ভাবছিলেন। পাশে শোয়া স্ত্রীকে দেখে ভাবলেন যে বলেই ফেলি সেই অলৌকিক রহস্যময় লাল বইয়ের কথা। বাড়ির কাউকে বাদলবাবু এখনও জানাননি। অন্তত তাঁর স্ত্রী তো জানুক। কিন্তু বলতে গিয়েও বাঁধ সাধল। স্ত্রী এখন ঘুমোচ্ছেন। তাঁকে কি জাগানো ঠিক হবে? বরং দু’দিন বিশ্রামে কাটাবেন কোনও একদিন বলা যাবে খন। কিন্তু, বলা আর হয়ে উঠল না কেননা খুব অস্বাভাবিকভাবেই লাল বইয়ের কথা তাঁর বলতেই ইচ্ছে করল না কোনও মতেই এই দু’দিনে।


(৪)


দিন দুয়েক পর, তিনি যখন আবার লাইব্রেরীতে গেলেন তখন হঠাৎ করেই তাঁর টেবিলের এক কোণে রাখা সেই লাল বই দেখেই বুকের ভেতরটা কেমন যেন ছ্যাঁত করে উঠল। তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন এই কয়দিন আর লাল বই ছোবেনই না। তিনি মাধকবাবুকে ডাকলেন।


– মাধববাবু, একটু আসবেন। 


মাধববাবু বই ঝাড়ছিলেন। সামনের ব়্যাকের বইগুলো পরিষ্কার করতে করতে তিনি বললেন,– “হ্যাঁ, বলুন।” 


– আচ্ছা, এই লাল বইটির কথা কিছু কি জানেন? 


– কোন লাল বই? দেখি… 


বাদলবাবু লাল বইটা ধরে দেখালেন তাঁকে। মাধববাবু বইয়ের ওপরটা চোখ বুলিয়ে শুধুমাত্র সামনের পাতাটা খুলে তারপর বইটা রেখে দিয়ে বললেন,– “এই বইটা দেখেছি বটে, কিন্তু…. আচ্ছা কি ব্যাপার বলুন তো? 


– এটা কার বই? এখানে কি করে এল? কে আনল? কিছু জানেন কি? 


– হুঁ হুঁ,না। মনে তো পড়ছে না। বলতে পারব না। এরকম অনেক নাম না জানা, অজ্ঞাত লেখকের বই কিংবা কোনও রেয়ার বুক এই লাইব্রেরীতে কখনও সখনও চলে আসে বৈকি। সেগুলো শেষ তাকে রাখা থাকে। কে আনল বা কবে ও কিকরে এল তার হিসাব ঠিক নেই।


– হ্যাঁ তাই তো। বুক ইনফরমেশন কপিতেও তো কিছুই পেলাম না। কিন্তু হঠাৎ করে একদিন দেখি পেছনের ব়্যাক থেকে পড়ল আর তারপর কৌতূহলবশত 

পড়লাম। কিন্তু…. 


– বলুন। 


– থাক। ও কিছু না। এখানে এল কবে কিভাবে ও কার লেখা তাই তো জানা নেই। 


বাদলবাবু ইচ্ছে করেই বিষয়টি চেপে গেলেন আর ঘাটালেন না। টেবিলের নীচের তাকে বইটি রেখে বন্ধ করে দিলেন যাতে তাঁর আর নজরে না আসে।


কিন্তু, এর বেশ কিছুদিন পর তিনি হঠাৎ এক অদম্য আকর্ষণের ফলে সবার অগোচরে তাক থেকে লাল বইটি বের করলেন। প্রায় ভাবাবেশে তিনি পাতা ওল্টাতে লাগলেন। এবার তাঁর নজরে যে কথাটা এল তা হল ‘accident’ অর্থাৎ ‘দুর্ঘটনা’। বারবার তাঁর নজরে এই একটাই কথা আসছে। এবার কি বিপদ লুকিয়ে রয়েছে তা হলে? দুশ্চিন্তায় ঘেমে নেয়ে একশা হয়ে ওঠেন তিনি। কে জানে আজ কি বিপদ লুকিয়ে আছে তাঁর জন্যে? বাদলবাবু নির্ধারিত সময়ের আগে সূর্য ডোবার আগেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। চারপাশ তাকিয়ে বেশ সাবধানবশত বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির একেবারে কাছে এসে বড় রাস্তা পার হবেন। ভয়ে তাড়াতাড়ি পার হবার সময় হঠাৎই তাঁর বেখালবশত বামদিক থেকে আসা একটি গাড়ি হাল্কাভাবে তাঁকে ধাক্কা মারে। গাড়িটি আচমকাই তাঁর সামনে চলে এসেছিল। চালক বোধহয় তাড়াহুড়োয় বাদলবাবুকে শুরুতে তেমন খেয়াল করেনি ছিল, তবুও ভাগ্যিস, সে শেষ মুহূর্তে ব্রেক কষেছিল তাই বেশ খানিকটাই রক্ষে হয়েছে। বাদলবাবু অল্প ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। খুব অল্পই চোট লেগেছিল তাঁর।


(৫)


তিনি যখন বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তখন বাড়ির লোকেদের বিষয়টি জানান। সব ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে বলেন। তাঁর মা আতঙ্কিত হয়ে বলেন, “অভিশপ্ত বই। এ নিশ্চয়ই কালা জাদুর ব্যাপার। কেউ হয়তো তুকগুণ করে রেখেছে ঐ বইটিতে। বাবা বাদল, ঐ বই আর ঘরে আনিসনি। বা লাইব্রেরীতেও রাখিস না। বরং হয় পুরিয়ে দে নয়তো জলে ফেলে দে। আর তারপর ভালো দিন দেখে সামনের হরিসভার মন্দিরে গিয়ে পুজো দিয়ে আসিস। কোনওরকমে রক্ষা পেলি ঠাকুরের আশীর্বাদে। দূগ্গা দূগ্গা….”


প্রায় বেশ কিছুদিন বিশ্রাম নিয়ে বাদলবাবু যখন লাইব্রেরীতে যান তখন তিনি আর ঐ লাল বই খুললেন না। অনেক ঝামেলা গেছে। আর নয়। তিনি বরং লাঞ্চ ব্রেকে সেটি নিয়ে গেলেন পাশের একটা ঝোঁপ জঙ্গলে আর সেখানে সেটি পুরিয়ে দিলেন। বইটা পুরে শেষ হচ্ছে আর তার সাথে তাঁর মনের যাবতীয় দুশ্চিন্তাও শেষ হয়ে এক পরম তৃপ্তি ও আনন্দলাভ হচ্ছে। কেননা, তিনি মুক্ত হচ্ছেন অভিশপ্ত, রহস্যময়, কালা জাদুময় এক লাল বইয়ের থেকে।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror