Indranil Majumder

Classics Inspirational

4.5  

Indranil Majumder

Classics Inspirational

এক বিস্মৃতপ্রায় যাত্রাপালাকারের জীবনযাত্রা

এক বিস্মৃতপ্রায় যাত্রাপালাকারের জীবনযাত্রা

7 mins
462


এক বিস্মৃতপ্রায় যাত্রাপালাকারের জীবনযাত্রা


       → ইন্দ্রনীল মজুমদার


“কি হে বিপ্লববাবু যাত্রাজগতের পর এবার তো নাট্যজগতেও বিপ্লব আনলেন।”


কথাটি শুনে বিপ্লববাবু ওরফে বিপ্লব দেবনাথ একটু ঘাবড়ে গেলেন। তিনি কলকাতা শহরের একটি বিখ্যাত নাট্যদল ‘নবকলেবর’-এর নাট্যকার, পরিচালক এমনকি প্রযোজকও। তা নাটকের শো ছিল আজকে যা সম্পন্ন করে ফিরছেন। অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের জন্য স্পেশাল বড় গাড়ি বুক করে দিয়েছেন যা ধরে তাঁরা বাড়ি চলে যেতে পারবেন। বিপ্লববাবুর কিছু কাজ ছিল, কিছু হিসেব মেটানোর ছিল, পরবর্তী শোয়ের ব্যাপারে কথা বলার ছিল। তাই, তিনি ও সহ-পরিচালক রবীন কুণ্ডু মহাশয় বেশ অনেকক্ষণ মঞ্চে ছিলেন নাটকের শেষে। সবকিছু মিটিয়ে, সমস্ত কথা বলে বেরোতে বেশ রাত হয়ে গিয়েছিল‌। তাই, বিপ্লববাবু ও রবীনবাবু একটি উবের ধরে বিপ্লববাবু নেমে গেলেন গড়িয়ায় তাঁর বাড়ির সামনে আর রবীনবাবু ওই গাড়িই ধরে চলে গেলেন গড়িয়া স্টেশনে তাঁর বাড়ির উদ্দেশ্যে। বিপ্লববাবুকে বিদায় দিয়ে রবীনবাবু যখন গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে গেলেন তখন বিপ্লববাবু কি একটা প্লটের কথা ভাবতে ভাবতে বাড়ির গেটটা খুলে যেই না ঢুকতে যাবেন অমনি পেছন থেকে ওই কথাগুলো ভেসে এল। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখেন মিহিরবাবু। রিটায়ার্ড হেডমাস্টার মিহিরচন্দ্র পাল‌। ভারী পন্ডিত ব্যক্তি। রোজ খাওয়ার পর হাঁটতে বের হন। আজও বোধহয় তাই। তা মিহিরবাবুকে দেখে হেসে বিপ্লববাবু বললেন, “আরে! মিহিরবাবু যে! তা কি খবর?” 


– খবর তো আর আমাদের নয়। খবর তো তোমাদের ভায়া। আজকাল দেখছি নাট্যজগতের লোকেরাই যে খবর তৈরি করছে।


– কিন্তু খবরের যিল যে মশাই পড়ে থাকে সমাজের বিত্তবানদের দিকে। আমরা বলতে পারেন শ্রমজীবী মানুষ। সমাজের শ্রমজীবী মানুষকে ও শ্রমকে মর্যাদা দিই। আমাদের খবর আর কে করবে? বলুন।


– কিন্তু খবর তো তৈরি করছ ভায়া। আজকের নাটকের শো তো দেখলাম হাউসফুল। নাট্য-পত্রিকায় তোমার নাটক নিয়ে তো ভালো রিভিউ বের হয়। তাই, বলছিলাম নাট্যজগতেও তো বিপ্লব আনছ। আজকে নাটক লা-জবাব। 


– আপনি দেখতে গিয়েছিলেন তাহলে। অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার তো বেশ দেরী হয়ে গেল। আমি তো ছিলাম। দেখা করবেন তো অন্তত। 


– আরে গ্রীনরুমে আমি ও আমার স্ত্রী ঢুকবো তোমাদের বাহবা দিতে। তা বাপরে বাপ! গ্রীনরুমে তো তিল ধারনের জায়গাই পর্যন্ত নেই। 


– হ্যাঁ, আজকে আবার শো দেখতে এসেছিলেন বিখ্যাত পরিচালক অমিতাভ সেন। শো শেষ হওয়ার পর বাহবা দিতে অনেকক্ষণ গ্রীনরুমে ছিলেন। তাই অনেক লোক ছিল বলে ঢুকতে পারেননি। আর অনেক দর্শকও এসে বেশ প্রশংসা করলেন যা খুব ভালো লাগলো।


– তা, হবে না? এরকম একটা দুর্ধর্ষ কনসেপ্ট। আমার স্ত্রী তো তোমার নাটকের ফ্যান হয়ে গেল‌।


বিপ্লববাবু হাসলেন। 


– এবার আসল কথায় আসি। তোমাকে ভাবছি বেশ কিছুদিন ধরে একজনের কথা শোনাবো। উনিও বিখ্যাত অভিনেতা ছিলেন। তোমার প্লটে কাজে লাগতে পারে ওঁকে নিয়ে। তা তুমি আজ তো বড়োই টায়ার্ড। তা অন্যদিন… 


– প্লট বললেন। আরি সাবাস! আমরা তো তার জন্যই মুখিয়েই থাকি। টায়ার্ড ছিলাম এটা ঠিকই কিন্তু যেই না প্লট বললেন ওমনি মিরাকেলের মতো সমস্ত টায়ার্ড ভ্যানিশ হয়ে গেল। তা বলুন, বলুন। 


– ওকে। তা ভায়া তুমি তো যাত্রাটাত্রা করতে। ওখানেও তো ব্যাপক কাজ করেছ। 


– হ্যাঁ, তবে এখন আর গ্রামে যাওয়া হয় না যে! 


– তা এখন আর অন্যতম প্রাচীন যাত্রাপালাকারের কথাই তোমায় বলব। আধুনিক যাত্রাপালার আগে জনপ্রিয় ছিল ঐতিহাসিক যাত্রাপালা আর তার আগে প্রচলিত ছিল… 


– পৌরাণিক যাত্রাপালা।


– এক্স্যাক্টলি। আর এই পৌরাণিক যাত্রাপালা রচনা করে আজ থেকে একশো বছর আগে অখণ্ড বাংলায় বিশেষ খ্যাতিলাভ করেছিলেন বা বলা যায় খ্যাতির শীর্ষে আরোহন করেছিলেন অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ। তাঁকে নিয়ে বলার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে এ বছর অর্থাৎ এই ২০২২-এ এই মহান যাত্রাপালাকারের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী। আর, তুমি তো অভিনয়ের জগতের মানুষ আগে যাত্রা করতে এখন নাটক করছ‌। তুমি তো ভালোমতোন জানোই যে একজন অভিনেতা বা সেলিব্রিটির ১৫০তম জন্মবার্ষিকী মানে কেমন সেলিব্রেশন। 


–তা তো বটেই। কিন্তু অঘোরনাথ… কি যেন বললেন? 


–কাব্যতীর্থ। 


– হ্যাঁ, কাব্যতীর্থ। তা এই অঘোরনাথ কাব্যতীর্থের নামই তো শুনিনি কখনও… 


– তা তো বটেই। আমিও তো আগে তেমন জানতাম কই? এই হালে একটু পড়াশোনা করে জেনেছি যা। ভায়া বিস্মৃতির অতল সমুদ্রে কতজন মনীষী যে তলিয়ে গেছেন তার ইওত্তা নেই। 


– তা তো বটেই। 


– তা শুরু করি অঘোরনাথ কাব্যতীর্থের জীবনী।


– অবশ্যই। অধীর আগ্রহে আছি যে। ক্লান্তি সব গেছে ঘুচে।


– বেশ। অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ জন্মগ্রহণ করেছিলেন আজ থেকে ১৫০ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৭২ সালে। তাঁর জন্মস্থান হল বর্তমান বাংলাদেশের নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম। অঘোরনাথের পারিবারিক পদবী অবশ্য ‘কাব্যতীর্থ’ ছিল না, ছিল ভট্টাচার্য। জানা যায় যে, স্থানীয় টোল থেকে তিনি কাব্যতীর্থ পাশ করে তাঁর কৌলিক বা বংশের পদবী হারিয়ে ‘কাব্যতীর্ত’ পদবীতে ভূষিত হয়েছিলেন। তা, অঘোরনাথের অভিনয়ের জগতের প্রতি আকৃষ্ট জন্মায় ছেলেবেলায় বা বাল্যবয়সে। তখনকার দিনে পূজাপার্বন উপলক্ষ্যে গ্রামে যে যাত্রাপালা হত সেগুলোর অভিনয় দেখে অঘোরনাথের অভিনয় বা যাত্রার প্রতি আকর্ষণ জন্মায়। তিনি প্রথম জীবনে এমেসারি যাত্রাপালায় অভিনয় করেন। এর পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যান। টোল থেকে সংস্কৃতবিদ্যায় ও সাহিত্যে কৃতিত্বের পরিচয় দেন ও বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। জীবিকার জন্য তিনি কলকাতায় আসেন এবং এই শহরের ওরিয়েন্টাল সেমিনারি অর্থাৎ যে স্কুলে একদা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পড়াশোনা করেছিলেন, সেই স্কুলের হেডপণ্ডিত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ভেবে দেখো, কিরকম পাণ্ডিত্য ও বিদ্যাবুদ্ধি ছিল যে মহানগরীতে এসেই এক নামজাদা স্কুলের হেড পণ্ডিত হয়ে গেলেন! 


        যাইহোক, অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ সারা জীবনই শিক্ষকতায় নিযুক্ত ছিলেন। প্রথম জীবনে তিনি পড়িয়েছিলেন ওরিয়েন্টাল সেমিনারি স্কুলে। পরে শিক্ষকতা করেছিলেন লোহাগড়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং মল্লিকপুর দক্ষবালা বিদ্যানিকেতনে। শিক্ষকতার মধ্যে দিয়ে তিনি বেশ মোটা টাকা উপার্জন করেছিলেন। সেই টাকা দিয়েই তিনি তাঁর পৈত্রিক ভিটায় এক সুদর্শন দরদালান বানিয়েছিলেন।


      শিক্ষকতার পাশাপাশি করে গেছেন যাত্রায় অভিনয়। তাঁর মূল নেশাই ছিল বাংলার যাত্রাশিল্পকে আরও উন্নিত করা। আসলে কি জান? বাল্যকালে যাত্রার প্রতি যে ভালোবাসা অঘোরনাথের গড়ে উঠেছিল সেই প্রীতি বা ভালোবাসা দিয়েই তিনি যাত্রাপালা রচনা করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ যাত্রাপালাই পৌরাণিক বিশেষ করে রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে। পৌরাণিক পালায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। অবশ্য, তিনি ঐতিহাসিক পালাও রচনা করেছিলেন। এখানে উল্লেখ্য, তাঁর আমলে নড়াইলের জমিদার এবং হাটবেড়িয়ার জমিদার যাত্রাপালার বিশেষ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বেশ কিছু জমিদার ছিলেন যাঁরা যাত্রাদল তৈরি করতেন। এইভাবে জমিদাররাও যাত্রাশিল্পের উন্নতি ঘটাতে সহায়ক ছিলেন। আমাদের আলোচিত অঘোরনাথ কাব্যতীর্থও নড়াইলের জমিদারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে যাত্রাপালা রচনায় উৎসাহিত হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, জমিদারবাবুর পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি তাঁর রচিত যাত্রাপালা প্রচারেরও ব্যাপক সুযোগ পেয়েছিলেন। অঘোরনাথ রচিত যাত্রাপালার সাল সহ নামগুলো এই কাগজে লিখে রেখেছি। এই দেখো।


এই বলে মিহিরবাবু যে কাগজটি দেখালেন তাতে লেখা আছেঃ–


মগধ বিজয় (১৯০৩), 

দাতাকর্ণ (১৯০৪), 

সমুদ্রমন্থন (১৯০৪), 

ধর্মের জয় (১৯১৩), 

হরিশচন্দ্র (১৯১৪), 

অনন্ত মাহাত্ম্য (১৯১৬), 

কুরুপরিনাম (১৯২১), 

বিজয়বসন্ত বা সৎমা (১৯২১), 

অদৃষ্ট (১৯২১), 

চন্দ্রকেতু (১৯২২), 

মেবার কুমারী (১৯২৩), 

চিত্রাঙ্গদা (১৯২৩), 

তরনীর যুদ্ধ (১৯২৪), 

নহুষ উদ্ধার (১৯২৫), 

প্রতিজ্ঞা পালন (১৯২৫), 

রাধাসতী (১৯২৫), 

তারকাসুর বধ (১৯২৬), 

নলদময়ন্তী (১৯২৭), 

শতাশ্বমেথ (১৯২৯), 

নদের নিমাই (১৯৩৫), 

প্রহ্লাদ (১৯৩৫), 

অসুধবজের হরিসাধনা (১৯৩৬), জয়দেব (১৯৩৭),

যাজ্ঞসেনী প্রভৃতি।


বিপ্লববাবু নামগুলো মন দিয়ে দেখলেন। তারপর বললেন, “মশাই, অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ দেখছি বেশিরভাগ পৌরাণিক পালাই রচনা করেছিলেন। অবশ্য কিছু কিছু ঐতিহাসিক যাত্রাপালাও আছে। 


– ঠিকই ধরেছে ভায়া। যখন যাত্রাপালায় পৌরাণিক বিষয়ের প্রাধান্য ছিল তখন তিনি ছিলেন এক বিখ্যাত পৌরাণিক পালা রচয়িতা। অঘোরনাথ পৌরাণিক পালা রচনা করলেও বরাবরই তিনি লোকশিক্ষার বিষয়টিকে মাথায় রাখতেন। ঠাকুর শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের “থেটারে লোকশিক্ষে হবে” কথাটিকে তিনি “যাত্রায় লোকশিক্ষে হবে” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।


– তা যা বলেছেন। (হেসে) 


– আরও কিছু বৈশিষ্ট্য আছে অঘোরনাথ কাব্যতীর্থের রচনায়। তাঁর রচিত সংলাপগুলো ছিল দীর্ঘ তবে জটিল নয়। তখনকার দিনে তুমি অবশ্য জানো এই ব্যাপারটা ছিল রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। অপ্রচলিত ধারার তানের গান, বালকের গান, যাত্রাব্যালে, আদি রসাত্মক দ্বৈতসঙ্গীত প্রভৃতির সঙ্গে তাঁর এক যোগসূত্র থাকত‌ যা ছিল যেন পক্ষপাতহীন নিরপেক্ষতা। তবে হ্যাঁ, এটা ঠিক তিনি যাত্রার নতুন চরিত্রসৃষ্টি করে গেছেন। আর একটা বিষয় এই যে তিনি তাঁর জন্মস্থান ও সেখানকার মানুষদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন। কেননা, নড়াইলের বিখ্যাত কবিয়াল বিজয় সরকার তাঁর শৈশবে পালাকার অঘোরনাথের কিছু যাত্রাপালায় যেমন দাতাকর্ণ, ধর্মের জয়, হরিশচন্দ্র, অনন্ত মাহাত্ম্য একানে বা একানিয়া বা সিঙ্গেল বালকের গান পরিবেশন করে বেশ খ্যাতিলাভ করেছিলেন। ভায়া, তোমার হাতের পৃষ্ঠাটি উল্টালে দেখতে পাবে সেখানে ‘কুরুপরিনাম’ পালার একটি গানের গাদ্যিক রূপ আছে‌। 


বিপ্লববাবু পৃষ্ঠাটি উল্টিয়ে যা দেখলেন তা হলঃ–


“(দিদিলো) বালছি শোনো বালাই শোনো ঠান্ডা এবার হল দেশ বাস্ত্র ঘুঘুর বাচ্চা মামা যমের ঘরে গেল শেষ।

এমন মামার জোড়াটি আর মেলেনা কোথাও, দেখা হলে বাসতে পার কালনেমীও হেরে যায়। কীর্তিধ্বজা উড়িয়ে মামা রাখলে নামটা বেশ।।”


পড়ে বিপ্লববাবু বেশ উত্তেজিত হয়ে বললেন, “মার্ভেলাস, জিনিয়াস মানুষ ছিলেন বটে। এ তো অসাধারণ মশাই।”


– তা বলছি আর কি ভায়া। যাত্রাপালা জগতে অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ এক অবিস্মরণীয় পালাকার হিসেবে বিখ্যাত। বিশেষত পৌরাণিক পালা রচনার জন্য তো বটেই। 


– আচ্ছা, তিনি কত সালে মারা গিয়েছিলেন? 


– সেটাই তো জানিনা ভায়া। দুঃখের বিষয় এটাই যে, তাঁর মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে বই ও নেট ঘেঁটে যে কিছু পেলাম না। তবে, যশোররের একটি ওয়েবসাইটে লেখা আছে দেখলাম ১৯৪৩। কি জানি তা সঠিক কি না। তাই হবে হয়তো, কেন না তাঁর যাত্রাপালার লিস্টে দেখো চল্লিশ দশকের কোনও যাত্রা নেই। চল্লিশ দশকের প্রথমার্ধে তিনি মারা গেছেন এটা অনুমান করাই যায়। তবে, গৌরবের বিষয়ে এই যে, অতকাল আগে অর্থাৎ সেই যুগে যাত্রাপালা রচনার ক্ষেত্রে তিনি যা ভূমিকা পালন করে গেছেন বা অবদান রেখে গেছেন তা ভোলার নয়। যাত্রাজগতের ইতিহাসে সোনার কালিতে উজ্জ্বলভাবে লেখা থাকবে অঘোরনাথ কাব্যতীর্থের নাম। তিনি মহান নাট্যকার ও বটে। মহান এক অভিনেতা।


– তা তো বটেই। এক বিরাট ইন্সপিরেশন দিলেন আপনি। এই জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। অঘোরনাথ কাব্যতীর্থ– এবার দেখি এঁকে নিয়ে কোনও নাটক নামানো যায় কি না। 


– হ্যাঁ। তবে ধন্যবাদের আর কি আছে? তুমি অভিনয় জগতের লোক, যাত্রাও করেছ তাই তোমার ভালো লাগবে ভেবে তোমায় বললাম। দেখো, অঘোরনাথ কাব্যতীর্থকে নিয়ে কিছু চিন্তাভাবনা বা কাজ আগামীদিনে করা যায় কি না। ভালো থেকো। আমাদের শুভেচ্ছা তো আছেই নিরন্তর।


তথ্যসূত্রঃ-


সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান


http://www.jessore.info/index.php?option=content&value=980


বাংলা উইকিপিডিয়া ও উইকিসংকলন ওয়েবসাইট








Rate this content
Log in