Debdutta Banerjee

Thriller Crime


1.1  

Debdutta Banerjee

Thriller Crime


জোড়া খুনের রহস‍্য( শেষ পর্ব)

জোড়া খুনের রহস‍্য( শেষ পর্ব)

4 mins 17.4K 4 mins 17.4K

অবশেষে আলোকের ফোন পেয়ে ঘরে তালা দিয়ে সাহানা উঠে এসেছিল সাত'তলায়। থমথমে পরিবেশ। রোহিতকে ধরে রেখেছে দুটো পুলিশ। রোহিত রাগে ফুঁসছে। আবিরা থরথর করে কাঁপছে। আলোকের ইশারায় সাহানা গিয়ে আবিরাকে ধরতেই ও ভেঙ্গে পরে কান্নায়। বীনা বৌদি ওদের নিজের ঘরে নিয়ে বসায়। রোহিত তখনো বলছে ওকে ছেড়ে দিতে। মেহুল, গুপ্তাজি, ঘোষদা আরো ফ্ল্যাটের কয়েকজন তখনো দাঁড়িয়ে আলোচনা ক‍রছে ঘটনাটা। 

রোহিত নাকি সন্ধ‍্যায় আলোক ঘুরে আসার পর ঘোষদাকে প্রথমে বলে যে,' কে খুনিকে দেখেছে বলে মনে হয়?' জাস্ট্ আলোচনার ছলে বলা কথা৷ঘোষদা বলেছিল সে দেখেনি, তবে কাল জানা যাবে। এমন নাকি সবাইকেই রোহিত জিজ্ঞেস করে। কিউরিওসিটি ভেবে কেউ গা করে নি। মেহুলকে শেখানো ছিল এমন প্রশ্ন যদি কেউ করে, খেলাতে হবে তাকে। সহজে উত্তর যেন না দেয়। মেহুল সে ভাবেই বলে যে সে পুলিশের সামনে যা বলার বলবে। মুখ না দেখলেও পেছন থেকে দেখেছে এবং ড্রেস চিনতে পারবে বলে। এতে রোহিত মেহুলকে রাতে ফোন করে বলে, কথা আছে দরকারি। রোহিত নিজে নাকি খুনির মুখ দেখেছে, ভয়ে কাউকে বলে নি। বক্সি ফোর্স নিয়ে রেডি ছিল। রোহিতের বেল শুনে মেহুল দরজা খোলে। ড্রইং রুমে বসেই রোহিত জল চায়। আর মেহুল পেছন ফিরে জল আনতে যেতেই ওকে ছুরি নিয়ে এ্যাটাক্ করে। বক্সির ফোর্স ঐ ফ্ল্যাটেই রেডি ছিল। হাতেনাতে ধরা পড়েছে রোহিত। 

সাহানা সব শুনে অবাক। রোহিতের মোটিভ কি হতে পারে তখনো মাথায় আসেনি। পুলিশ রোহিত কে নিয়ে যাচ্ছে যখন ও তখনো বলছে কোনো প্রমান নেই ওর বিরুদ্ধে, ওকে এভাবে ধরতে পারে না পুলিশ।

রাতটুকু আবিরার সঙ্গে বীনা বৌদির ফ্ল্যাটেই কাটল। নরম মনের মেয়ে আবিরাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে গেছেন সোসাইটির ডাক্তার। 

অবশেষে সকালে সবাই হলে এসে জড়ো হল নিচের হলে। পুলিশ রোহিতকে নিয়ে এসেছে। ওদিকে রিপোর্টারদের ভিড়। জোড়া খুনের রহস‍্য বলে কথা। সবাই জানতে চাইছে ঠিক কি হয়েছিল। কেন এভাবে দুজনকে অকালে চলে যেতে হল।

আলোক উঠে দাঁড়ায়৷বলতে শুরু করে।-" রমলা মাসিমার নাতনী তন্নি থাকতে এলো দিদার কাছে। পেশায় এয়ার হোষ্টেস। জেটে কাজ করে। আবিরার সাথে ভাল বন্ধুত্ব হয়। আবিরা বড় লোক ব‍্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে। বাবার মৃত‍্যুতে বিশাল সম্পত্তির মালকিন। এই বিশাল ফ্ল্যাটটিও বাবার দেওয়া। ওর বর রোহিতের সাথেও তন্নির কয়েকবার দেখা হয়। একটু লাজুক ইন্ট্রোভার্ট ছেলে রোহিত। 

এদিকে ব‍্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্টে হঠাৎ তন্নি রোহিতকে দেখে এক অবাঙ্গালী মহিলা ও একটা সাত বছরের বাচ্চার সাথে। ও কথা বলবে বলে এগিয়ে গিয়ে দেখে বাচ্চাটা রোহিতকে পাপা বলছে। ও খুব অবাক হয়। ও খোঁজ নিয়ে দেখে এরা স্বামী স্ত্রী, খেয়াল করে ওরা কোন ফ্লাইটে কোথায় যাচ্ছে। মোবাইলে ফটো তুলে নেয় দূর থেকে। তারপর আবিরাকে ফোন করে নর্মাল কথা বলে। রোহিত কোথায় বললে আবিরা জানায় ট‍্যুরে। এদিকে রোহিতও ওকে দেখে ফেলে সামনাসামনি। তন্নি কথা বলে না। রোহিত বৌ বাচ্চা নিয়ে নিজের ফ্লাইটে উঠে যায়। ওর নাম ওখানেও রোহিত সিনহা। তন্নি সব ডিটেল জেনে নেয়। 

এরপর বন্ধুদের তন্নি বলেছিল এই সব ছেলেদের বিশ্বাস করা উচিত নয়। প্রিন্সকেও এমন কিছু বলেছিল। আমি ওর সাথে যারা ডিউটি করেছে তাদের থেকে আঁচ পাই ঘটনার।ও যেদিন বাড়ি ফেরে তার আগেই তড়িঘড়ি রোহিত ফিরে আসে। সারাক্ষণ খেয়াল রাখে তন্নি কখন ফিরবে। রাতে তন্নি ফিরলেও রোহিত কি করবে বুঝতে পারে না। রাতে বারান্দায় বসে সিগারেট খেতে খেতে ওদের দিদা আর নাতনীর টুকরো কথা শুনতে পায় । যেখানে আবিরাকে তন্নি কিছু জিজ্ঞেস করবে বলেছিল। রোহিত আর রিস্ক নেয়নি। বড়লোকের মেয়েদের বিয়ে করে ফুর্তি করা ওর হবি। আবিরা জেনে গেলেই মুশকিল। 

 ও জানত মেয়েটা সকালে ছাদে যাবে। ও সে সময় ছাদে যায়। তন্নিকে হয়তো বলেছিল আবিরাকে বলতে না। তন্নি ওর সাথে তর্ক করে। ও পথ আটকায়। তখন তন্নি দৌড়ে স্কাই ওয়াক দিয়ে ওধারে যেতে যায় আর ও ঠেলে ফেলে দেয়। এবার নেমে আসে নিচে। মাসিমাকে তন্নি হয়তো বলে দিয়েছে সব। চোরের মন !! তাই বেল বাজায়, মাসিমা ওকে দেখে অবাক হলেও বসতে বলে। নিচে ওদিকে গুঞ্জন শুরু হয়েছে৷আচমকা কুশন দিয়ে চেপে ধরে ও মাসিমাকে। তারপর নিজের ঘরে চলে যায়। "

রোহিত বলে -"ভালো গল্প দাদা, কিন্তু প্রমান কি আছে। "

 -"তন্নির ফোন ভেঙ্গে গেলেও মেমরী কার্ডের ছবি গুলো বেঁচে গেছে। ওখানে আপনার পরিবারের ছবি রয়েছে। ফ্লাইটের ডিটেল জেনে আপনার পরিবার কে খুঁজে বার করা হয়েছে। ওরা পৌঁছে গেল বলে। ভোরের ফ্লাইটে আপনার প্রথম বৌ আর ছেলে এসে গেছে কলকাতায়।" বলতে বলতেই একটা অবাঙ্গালী বৌ আর বাচ্চাকে নিয়ে সাদা পোশাকের দু'জন পুলিশ এসে ঢোকে। বৌটির চোখে রাজ‍্যের বিস্ময়।

আলোক বলে -"মেহুল পছন্দ করত তন্নিকে। তাই আইহোল দিয়ে দেখতো সর্বদা, ও আপনাকে পেছন থেকে দেখতে পেয়েছিল। আর তা জানতে পেরে কাল ওকেও মারতে গেছিলেন আপনি। এছাড়া আবিরার বাবা এবং এই মিসেস বাবলি সিনহার বাবার মৃত‍্যু নিয়েও ধোঁয়াশা আছে। এছাড়া আরো কোথাও আপনার কোনো পরিবার আছে কিনা তার খোঁজ চলছে। আপাতত সব চ‍্যানেলে এই খবর দেখানো হবে । তাতেই কাজ হবে মনে হয়। "

আলোক চুপ করতেই দু হাতে মুখ ঢেকে বসে পড়ে রোহিত। সবাই অবাক হয়ে রোহিতকে দেখছে তখন। আবিরা আর বাবলি দুজন দুজনকে দেখছে। বাচ্চাটা ফ‍্যালফ‍্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে।হাজারটা ফ্ল্যাশ বাল্বের ঝলকানি আর ভিডিও ক‍্যামেরার চড়া আলো জ্বলে ওঠে। সব রিপোর্টাররা এতক্ষণ ওয়েট্ করছিল। জোড়া খুনের থেকেও চাঞ্চল‍্যকর সব তথ‍্য..... গুছিয়ে লিখতে হবে। 

ওদিকে তন্নির বাবা মা সব শুনে অবাক। 

ওদের পাশ কাটিয়ে আলোক ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে। বার বার তন্নির কথা মনে পরে। অকারণে একটা তাজা প্রাণ হারিয়ে গেল। সাহানা এসে ওর পাশে দাঁড়ায়। বলে মেয়েটার অতি উৎসাহ ওর জীবন কেড়ে নিলো।


Rate this content
Log in

More bengali story from Debdutta Banerjee

Similar bengali story from Thriller