STORYMIRROR

Debdutta Banerjee

Thriller Crime

2.9  

Debdutta Banerjee

Thriller Crime

জোড়া খুনের রহস‍্য(প্রথম পর্ব)

জোড়া খুনের রহস‍্য(প্রথম পর্ব)

5 mins
34.2K


বেডরুমের ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে এক ঝলক মিষ্টি রোদ এসে বিছানায় পড়েছিল। সাহানা আবার বরাবর একটু দেরিতে ওঠে। সকালের এই ঘুমটা ও এনজয় করে। আলোক অবশ‍্য শীত গ্রীষ্ম বারো মাস ভোর পৌনে পাঁচটায় ওঠে। পনেরো মিনিটে রেডি হয়ে জগিং করতে চলে যায়। পুরো ক‍্যাম্পাসের দশটা চক্কর কেটে ও মাঠে নামে। কখনো ফ্রি হ‍্যান্ড, ব‍্যায়াম আবার কখনো ফুটবল খেলে। সাড়ে ছটায় ঢোকে জিমে। আধ ঘন্টা মত ওয়ার্ক আউট। এটা ওর বরাবরের রুটিন্। সোওয়া সাতটায় ওর বেলের আওয়াজে সাহানার ঘুম ভাঙ্গে। 

ফ্রেশ হয়ে দু কাপ ব্ল‍্যাক কফি নিয়ে ওরা ব‍্যালকনিতে বসে। আলোক খবর কাগজটা ভালো করে পড়ে। সাড়ে আটটার পর বাজার যায়। প্রতিদিন প্রায় একই নিয়মে দিনের শুরু হয়। 

ছোট কুশনটা চোখের উপর চেপে ধরে সাহানা পাশ ফেরে। এই সময়ের ঘুমটা বড্ড আরামের। প্রথম প্রথম কয়েকদিন আলোক চেষ্টা করেছিল ওকেও সঙ্গী করার। কিন্তু সাহানা ঘুম ছেড়ে ওসব করতে রাজি নয়। তাই আলোক হাল ছেড়ে দিয়েছে। সাহানা অবশ‍্য নিয়ম করে বিকেলে জিম করে। ওদের সোসাইটির পুলে সাঁতার কাটে গরমে। 

ঘুমের মধ‍্যেও সাহানার হঠাৎ মনে হল কেমন একটা চাপা গুঞ্জন কানে আসছে। পাঁচ তলায় এত সকালে এমন গুঞ্জন তো শোনা যায় না। খোলা জানালা দিয়ে একটা চিৎকার চেঁচামেচির রেশ আসছে নিচ থেকে, বাড়ছে ধীরে ধীরে। একটা অস্বস্তি নিয়ে ও উঠে পরে বিছানা ছেড়ে। জানালা দিয়ে দেখে অনেকেই নিচে জড়ো হয়েছে। তাড়াতাড়ি বারান্দায় বেরিয়ে দেখে সবাই তাদের বিল্ডিং এর পেছনে ছুটছে। ওধারেও একটা ড্রাই ব‍্যালকনি আছে। সাহানা কিচেনের দরজা খুলে ওধারে যায়। আলোক খুব ব‍্যস্ত হয়ে ফোনে কথা বলছে। প্রচুর লোক জমে গেছে। উল্টোদিকের ফ্ল্যাটের দত্তদা, ঘোষ বাবু, সবাই নেমে গেছেন। 

একটা জটলার ফাঁকে হঠাৎ দুটো কালো প‍্যান্ট পরা পা দেখতে পায় সে। একটা পুলিশের গাড়ি এসে দাঁড়াতেই ভিড় পাতলা হতে শুরু করল। সাহানা তাড়াতাড়ি পোশাক বদলে নেমে আসে। পিছনে আসতে আসতেই শুনতে পায় সাত তলার তন্নি আত্মহত‍্যা করেছে, ছাদ থেকে লাফ দিয়েছে বলছে সবাই। 

তন্নি সাত তলায় ওর দিদার ফ্ল্যাটে থাকত। শিলচরের মেয়ে। এয়ার হোষ্টেসের চাকরী করতো জেট এয়ার ওয়েজে। খুব হাসি খুশি উচ্ছল ছিল। ছয় মাস হবে এখানে আছে। সাহানা গিয়ে দেখে মেয়েটা কেমন একটা এঁকে বেঁকে পড়ে রয়েছে, মাথাটা থেঁতলে গেছে, রক্তে ভেসে যাচ্ছে। 

আলোক পুলিশ অফিসার বক্সিকে হাত নেড়ে কি বুঝিয়ে বলছিল। সাহানা উপরে তাকায়, দশ তলা টাওয়ারের প্রত‍্যেকটার সাথে প্রত‍্যেকটাকে স্কাই ওয়াক দিয়ে জোড়ার কাজ চলছে। ওদের বিল্ডিং এর ছাদের দেওয়াল ভেঙ্গে স্কাই ওয়াক এর কাজ শেষ প্রায়। রেলিং এর কাজ হচ্ছিল। ছাদে এসব কাজ হচ্ছে বলে তালা দেওয়া থাকত। কোনো বাচ্চা যাতে ছাদে চলে না যায় তার জন‍্য সতর্কতা আর কি। তবুও কেউ কেউ মর্নিং ওয়াক করতে বা কাপড় মেলতে ছাদে যেত। তন্নিও মর্নিং ওয়াক করত ছাদে। আসলে বড় বড় ছাদ গুলো গাছ পালা ঘাস