STORYMIRROR

Biplab Das

Tragedy Others

4  

Biplab Das

Tragedy Others

গন্ধযান

গন্ধযান

8 mins
2

         

                                                                       ১

শর্মিষ্ঠা রান্না করতে করতে বারংবার নিজের মুখ কড়াইয়ের কাছে নামিয়ে গন্ধ শোঁকার চেষ্টা করে। শেষে নিশ্চিত হতে না পেরে শেষে সৌভিককে ডাকে রান্নাঘরে। সৌভিক বসার ঘরে বসে রোবট-কুকুরটার সাথে খেলা করছিল। 


‘এই একটু এদিকে আসো’। 

‘কী হলো আবার?’

‘এসো না একবার’। 


সৌভিক খেলা থামিয়ে রান্নাঘরে আসে। 


‘কী হয়েছে?’

‘দেখো মাংসটা দিয়ে কীরকম একটা অদ্ভুত গন্ধ বেরুচ্ছে।’


সৌভিক মুখটা কড়াইয়ের সামনে নামিয়ে আনে। তারপর কিচ্ছুক্ষন সেই অবস্থায় থেকে মাংসের গন্ধ শুঁকতে থাকে। তারপর মুখ তুলে শর্মিষ্ঠার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘এতো মাংসের গন্ধ। এতে অদ্ভুত হতে যাবে কেন?’ 


‘একটা মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছো না?’

‘সিনথেটিক চিকেন তো। একটু তো অন্যরকম হবেই।’ 

 ‘কিন্তু সিনথেটিক চিকেন তো অনেকদিন ধরেই খাচ্ছি। এরকম গন্ধ আমি আগে কোনোদিন পাইনি।’

‘আমি বাপু শুধু মাংসের গন্ধ পাচ্ছি।’ 


এই কথা শেষ করে সৌভিক রান্নাঘর থেকে বসার ঘরে চলে আসে এবং রোবট-কুকুরটির সাথে খেলা করতে শুরু করে। অন্যদিকে শর্মিষ্ঠা মাংস কসানো তে মনোনিবেশ করে। 


সেই মুহূর্তে দরজায় বেল বাজে। সৌভিক উঠে গিয়ে দরজা খোলে। দেখে একজন লোক হাতে একটা ট্যাব নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। এই লোকটিকে সৌভিক চেনে। একজন সরকারি কর্মচারী। মাঝে মাঝেই ওদের কলোনিতে আসে। সৌভিকদের ফ্ল্যাটেও আসে। অবশ্যই কাজে আসে। 


‘হ্যাঁ বলুন।’

‘মেইল পেয়েছেন?’

‘হ্যাঁ পেয়েছি।’

 ‘সেই জন্যেই আসা।’

‘ কিন্তু আমরা কলকাতা ছেড়ে যেতে চাই না।’

‘যেতে আপনাদের হবেই। অন্যরা যখন যাবে তখন আপনারাও যাবেন।’

‘কিন্তু সেতো এক বছর পরে।’ 

 ‘জানি। আমি এসেছি আপনাদের স্লিপিং পডের ডিজাইন দেখাতে।’


লোকটি এবার নিজের কাছে থাকা ট্যাবটা চালু করে এবং ট্যাবে একটার পর একটা স্লিপিং পডের ডিজাইন দেখাতে থাকে। এর মধ্যে শর্মিষ্ঠাও এসে পড়েছে। সৌভিক তাঁকেও ডিজাইনগুলি দেখাতে থাকে। হঠাৎ শর্মিষ্ঠার একটা প্রশ্ন মাথায় আসে। যেটা সে অনেকদিন ধরেই ভাবছিল।

 

আচ্ছা কমদামে বায়োস্যুট আছে আপনাদের কাছে?’ লোকটিকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করে শর্মিষ্ঠা। 

‘কম দাম বলতে?’

‘এই ধরুন ২০,০০০।’

‘অত কমে আমাদের কাছে পাবেন না। আপনি চোরবাজারে চলে যান।’

‘ওগুলোতো নকল। ভালো না। শুনেছি ওগুলো পড়লে ফুসফুসে সমস্যা হয়।’

‘তাহলে সরকারেরটা কিনুন। ২৪ ঘণ্টা পড়তে পারবেন। কোনো অসুবিধা হবে না।’


দামে কুলোবে না দেখে সৌভিক এবং শর্মিষ্ঠা ফের স্লিপিং পডের ডিজাইন দেখতে শুরু করে। শেষে তাঁদের একটা ডিজাইন পছন্দ হয়। সেটা নির্দিষ্ট করে তাঁরা ঘরের ভিতরে চলে আসে। ঠিক তখনই বসার ঘরের জানলা দিয়ে অনেকটা ধোঁয়া ঢুকে যায়। একসাথে অনেকটা ধোঁয়া ঢোকাতে ওদের শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়। দুজনেই শোয়ার ঘরে ঢুকে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। 


‘এই যে কিছুদিন আগে ঘটা করে বায়ু সংশোধন প্ল্যান্টটার উদ্বোধন করল, তারপরও এরকম ধোঁয়া।’ শর্মিষ্ঠা নিজে নিজেই বলে ওঠে। 

‘কোনও কাজের না এঁরা। আর ধোঁয়া তো নিত্যদিনের ব্যাপার। আসলে আমাদের এখান থেকে তুলে দিতে চায়। স্লিপিং পডই আমাদের শেষ ঠিকানা।’ সৌভিক খেদোক্তি করে।

 

শর্মিষ্ঠা খাটে গিয়ে বসে। কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকে। তারপর পাশের টেবিলের ওপর রাখা ওঁর ফোনটা তুলে নিয়ে প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করে। 


‘কাকে ফোন করছ এর মধ্যে?’, সৌভিক জানতে চায়। 

‘প্রিয়াঙ্কাকে। দেখিতো ওদের ওখানেও ধোঁয়া রয়েছে কিনা?’, শর্মিষ্ঠা উত্তর দেয়। 

‘“ধোঁয়া রয়েছে” এ আবার কেমন বাংলা?’’

‘থাক তোমাকে আর ফোঁড়ন কাটতে হবে না’ । শর্মিষ্ঠা রেগে গিয়ে উত্তর দেয়। 


প্রিয়াঙ্কা কলটা রিসিভ করে। 


‘হ্যালো বল।’

‘এই তোরা কেমন আছিস?’

‘এই ধোঁয়ার মধ্যে কী আবার থাকব।’

‘তোদের ওখানেও ধোঁয়া।’

‘হ্যাঁ। এক নরককুণ্ডে থাকি।’

‘সত্যি রে। আচ্ছা আর একটা জিনিস জানার ছিল।’

‘কী বল।’

‘কোনও মিষ্টি গন্ধ পাচ্ছিস?’

‘ধোঁয়ার?’

‘না না ধোঁয়ার না।’

‘তাহলে?’

‘অন্য একটা গন্ধ।’

‘না পাচ্ছি না।’

‘ঠিক আছে রাখছি। সাবধানে থাকিস।’ 

 

শর্মিষ্ঠা লাইনটা কেটে দেয়। 


                           ২



রজনীশ অগ্রবাল শহরের কিছুটা বাইরে থাকে। সে একজন ধনী ব্যবসায়ী। ওঁর কোম্পানি স্লিপিং পড বানানোর কন্ট্রাক্ট পেয়েছে। সে নিজের ট্যাবলেটে খবর দেখছিল। খবর দেখে সে চমকে যায়। সে পাশের ঘরে থাকা তাঁর বউকে ভিডিও কল করে। 


‘নিউজ দেখা?’

‘নহি’। 

‘প্ল্যান্ট সে ধুয়া নিকাল আয়া হ্যাই। কেয়া ঘণ্টে কা প্ল্যান্ট বানায়া হে।’

‘বায়োস্যুট হ্যায় না’। 

‘হাঁ। বাট ভিখারি লোগ সব মর জায়েঙ্গে’। 

‘উসকা কেয়া’। 


রজনীশ লাইনটা কেটে দেয়। তারপর নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়। তাঁর অনেকগুলো কোম্পানি রয়েছে। তারমধ্যে প্রধান হলো মহাকাশে ডেটা সেন্টার। সে চেয়েছিল সরকার যেন তাঁকে বায়ু সংশোধনের প্ল্যান্টটি বানানোর কন্ট্রাক্ট তাঁকে দেয়। কিন্তু সরকার সেই কন্ট্রাক্টটি তাঁকে দেয়নি। একটি জার্মান কোম্পানি দিয়ে করিয়েছে। সেই জন্য সে সরকারের ওপর খাপ্পা। তাই সে খবর দেখে মজা পায়। 


রজনীশ অগ্রবাল এবং তাঁর স্ত্রী চব্বিশ ঘণ্টা বায়োস্যুট পড়ে থাকে। বিগত ১০ বছর থেকে এরকমই রয়েছে। সরকার যখন প্রথম বায়োস্যুট চালু করেছিল তখন থেকেই সে এবং তাঁর স্ত্রী এটি পড়ে থাকে। তাঁর ছেলেমেয়ে বিদেশে থাকে। তাঁরা কলকাতার কাছে একটি পেন্টহাউজে থাকে। পুরো পেন্টহাউজের ভিতরটা একটা স্পেসশিপের মতন। 


রজনীশের এখন প্ল্যান হলো বাইরের গ্রহে গিয়ে কিছু খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করা এবং তারপর তা পৃথিবীতে এনে বিক্রি করা। যদি সম্ভব হয় বাইরের গ্রহেই থেকে যাওয়া। সে এও জানতে পেরেছে যে সরকার একটি যান তৈরি করছে যেটি সম্পূর্ণরুপে ২০৫০ এর পৃথিবীর সময়ের হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো কিছু লোককে পৃথিবী থেকে সেই যানের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলা। রজনীশও সেই সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। 


                                                                   ৩

হলধর একজন ভিখিরি। সে রাস্তাতেই থাকে। সরকার থেকে ওঁকে বাড়ি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু জন্ম থেকেই রাস্তায় বলে সে ঘরের ভিতর থাকতে পারেনা। তাঁর একটি বউ ছিল। সে ফুস্ফুসের ক্যান্সারের ফলে মারা গিয়েছে বছর দশেক হলো। সে আর পড়ে সংসার করেনি। তারপর থেকে তাঁর রাস্তায় থাকার ইচ্ছেটা আরও প্রবল হয়েছে। 


হলধর মনে করে এই সব বায়ু দূষণ-ফুষণ কিছু হয়না। এগুলো আসলে ব্যবসায়িদের ব্যবসা করার ফন্দি। হলধর এও মনে করে তাঁর কোন বায়োস্যুটের দরকার নেই। তাঁর দাবী সে তো দিব্যি বেঁচে রয়েছে। তাছাড়া সরকার থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে খাবার দেওয়া হয় তিন বেলা। সেই খাবার খেয়ে তাঁর দিব্যি চলে যায় কাজ করে খেতে হয়না। শুধু এই নয়। সরকার থেকে প্রতিমাসে সকল লোককে টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়েই তাঁর বাকি খরচ চলে যায়। হলধরের একটা শখও রয়েছে। সে লোকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরনো বায়োস্যুট সংগ্রহ করে। যদিও সে সেই স্যুটগুলো পড়ে না। শুধু সংগ্রহ করে। 


কিন্তু সেই হলধর এবার কাহিল হয়েছে ধোঁয়ার চোটে। এই ধোঁয়ায় তাঁরও চোখ জ্বলছে এবং কাশিও হচ্ছে। সে কী করবে বুঝতে পারেনা। তখন তাঁর মনে পড়ে তাঁর একবার সৌভিকদের ফ্ল্যাটে যাওয়া দরকার। তাছাড়া সৌভিক হলধরকে পছন্দ করে। কারণ তাঁরা দুজনেই একই গ্রামের লোক। 


হলধর সৌভিকদের ফ্ল্যাটে ঢুকেই বলল, ‘মইরা যামু। চোখ জ্বালা করতাছে’। শর্মিষ্ঠা এগিয়ে এসে বলে, ‘হলধরদা চেয়ারে বসুন। জল খাবেন?’

‘দ্যান একটু’। 


শর্মিষ্ঠা জল এনে দেয়। হলধর জল খেয়ে সৌভিককে জিজ্ঞেস করে, ‘কী করবেন?’ সৌভিক অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কী করব মানে?’

‘ধোঁয়ার কথা কইতাছি’।

‘কী আর করব।’

‘জানেন এই ধোঁয়া কোথা থেইকা বাইর হইতাসে?’

‘কোথা থেকে?’

‘পেলান্ট থেইকা’।

‘সত্যি?’ তুমি কী করে জানলে?’

‘আমি দেখসি’। 

‘তুমি ঠিক দেখেছ?’

‘তাইলে আর কই ক্যান?’


এই শুনে সৌভিক কিছুক্ষন চুপ করে বসে থাকে। তারপর টেবিল থেকে ফোনটা তুলে নিজের বন্ধুদের ফোন করে। সবাইকে বলে কারখানার বাইরে জড়ো হতে। সৌভিক জানায় আজ সে একটা হেস্ত-নেস্ত করবেই। এদিকে ধোঁয়ার মাত্রা তখন বহুগুন বেড়ে গিয়েছে।

 


রজনীশ অগ্রবাল বায়োস্যুট পড়া অবস্থায় বেরিয়ে আসে নিজের পেন্টহাউস থেকে। সে বুঝতে পেরেছে কিছু একটা গড়বড় হয়েছে প্ল্যান্টে। একবার তাঁর ঢুঁ মারা দরকার। কিন্তু গাড়ির কাছে যেতেই রজনীশ কাশতে শুরু করে। চারিদিক তখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। কোনো মতে সে গাড়িতে উঠে পড়ে। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি হওয়ার ফলে গন্তব্য দেওয়ার সাথে সাথে গাড়িটি আপনা হতেই চলতে শুরু করে। প্ল্যান্টের গেটের সামনে গিয়ে একটা জটলা দেখতে পায়। দেখে কেউ বায়োস্যুট পড়া নেই। রজনীশ গাড়ি থেকে নামে না। গাড়িতেই বসে থাকে। 


এদিকে সৌভিকরা সবাই জড়ো হয়েছে  সামনে। তাঁদের দাবী প্ল্যান্ট বন্ধ করতে হবে। এই ধোঁয়াতে কেউ থাকতে পারছে না। কিন্তু গেটের ওপর প্রান্তে থাকা দারোয়ানরা কেউ তাঁদের ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। ভিতর থেকে দুজন বিজ্ঞানী একবার বাইরে এসে দেখে গেছে । কিন্তু কেউ আন্দোলনরত লোকেদের সাথে কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেনি। এর ফলে লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। 


রজনীশ বুঝতে পারে এখানে থেকে লাভ নেই। সে গাড়িটিতে অন্য একটি জায়গা গন্তব্য হিসেবে নির্বাচন করে। গাড়িটিতে যেহেতু কোনো ড্রাইভার নেই গাড়িটি আপনা হতেই ঘুরতে শুরু করে। গাড়ির গতিও খানিকটা বেড়ে যায়। ঠিক তখনই হলধর গাড়ির সামনে চলে আসে। গাড়িটি হলধরকে ধাক্কা মারে। হলধর মাটিতে পড়ে যায় এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়। 


এদিকে রজনীশ অগ্রবাল পিছনের সিটে বসে ছিল। গাড়ি সে নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। ততক্ষনে গাড়ি গতি বাড়িয়ে প্ল্যান্টের গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে গেছে। গাড়িটিকে ধাওয়া করে আন্দোলনরত লোকেরাও পিছন পিছন প্ল্যান্টের ভিতর ঢুকে যায়। এদিকে সৌভিক এবং শর্মিষ্ঠা তখন হলধরকে নিয়ে ব্যস্ত। 


ফ্যাক্টরির ভিতরে কাজ করা বিজ্ঞানীরা সেই মুহূর্তে আরও বেশি পরিমানে ধোঁয়া ছাড়তে শুরু করে। এর মধ্যে রজনীশ অগ্রবাল প্ল্যান্টের ভিতরে ঢুকে পড়ে। ভিতরে ঢুকে সে অবাক হয়ে যায়। দেখে একটা নতুন রকেট রয়েছে প্ল্যান্টের ভিতর এবং লোকজন সেই রকেটটিকে ঘিরে কাজকর্ম চালাচ্ছে। রজনীশ রকেটটির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। 


এদিকে ধোঁয়া তীব্র হওয়ার ফলে সৌভিক এবং শর্মিষ্ঠা হলধরের মৃতদেহ ছেড়ে কোথাও একটা আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আশ্চর্য রকম ভাবে শর্মিষ্ঠার ধোঁয়াতে কষ্ট হয় না। উল্টে সে সেই মিষ্টি গন্ধটা পায়। তবে এইবার গন্ধটা তীব্র। শর্মিষ্ঠা গন্ধটা যে দিকটা থেকে আসছে সেই দিকে এগোতে শুরু করে। সৌভিক ওঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পারে না। কারণ ধোঁয়ার চোটে সে কাহিল। খানিক বাদেই সৌভিক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। কিছুক্ষন পর সে মারা যায়। 



সরকার থেকে প্ল্যান্টের ভিতরের রকেটটা বানানোর উদ্দেশ্য হলো সরকার একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছে যেটি মানুষের বসবাসের যোগ্য। বিজ্ঞানীরা ওয়ার্মহোল দিয়ে মানুষ সমেত রকেটটি পাঠিয়ে সেই গ্রহে বসতি স্থাপন করতে চায়। কিন্তু সেই গ্রহে থাকার মূল সমস্যা হলো সেখানে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কোনো গ্যাস সেখানে পাওয়া যায় না। তাই বিজ্ঞানীরা সেই গ্রহের গ্যাস কিছু নিয়ে এসেছে। সেই গ্যাসগুলিই এখানে ধোঁয়ার মতন করে বিজ্ঞানীরা ধীরে ধীরে বাতাসে মিশিয়েছে। এই গ্যাসগুলির মধ্যে যেটি ঐ গ্রহের অক্সিজেনের কাজ করে সেটির গন্ধ হলো মিষ্টি। যে গন্ধটি শর্মিষ্ঠা পায়। আসলে সরকার-বাহাদুর লোক খুঁজছিল যে ঐ গ্যাসটির সাথে মানিয়ে নিতে পারবে। তাই তাঁরা এই পরীক্ষাটা চালায়। এখন তাঁরা খুশি যে শর্মিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁরা একজনকে পেয়েছে। 


এদিকে রজনীশ অগ্রবাল সরকারের লোকজনকে চাপ দিতে থাকে তাঁকে যেন সেই রকেটে স্থান দেওয়া হয়। কারণ সে সেই গ্রহে গিয়ে কিছু খনিজ পদার্থ সংগ্রহ করতে চায়। যা, তাঁর ধারণা পৃথিবীতে কাজে লাগবে। কিন্তু তাঁকে বোঝানো হয় সে সেই রকেটে ঢুকতেই পারবে না। কারণ রকেটে যে গ্যাসটি রয়েছে তা শ্বাসযোগ্য নয়। যে ঐ গ্যাস নিঃশ্বাসের সঙ্গে নেবে সেই মারা যাবে। তবে ব্যতিক্রম হলো শর্মিষ্ঠা। নিষেধ উপেক্ষা করেও রজনীশ রকেটের ভিতর ঢুকে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।  


এদিকে শর্মিষ্ঠাকে পেয়ে বিজ্ঞানীরা সবাই খুব খুশি। যদিও তাঁকে সব কিছু বলা হয় না, তবু সে বুঝতে পারে গোটাটা। তাই যখন তাঁকে বাইরের গ্রহে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন সে তা নাকচ করে দেয়। কারণ সে পৃথিবীর মানুষকে ছেড়ে যেতে চায় না। 






Rate this content
Log in

Similar bengali story from Tragedy