Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUBHAM MONDAL

Comedy Drama Horror


3.8  

SUBHAM MONDAL

Comedy Drama Horror


এনার্জি ফিল্ড

এনার্জি ফিল্ড

9 mins 51.2K 9 mins 51.2K

রাত্রির মাংসটা বেশ লাগল খেতে। রূপসা রান্নাটা দারুণ করে। ২ দিন পর ফিরলাম বাড়ীতে। সরকারী ইঞ্জিনিয়ার আমি, মাঝেমাঝেই প্রজেক্ট ভিজিটের জন্য বাইরে যেতে হয়। বছরখানেক হলো রূপসাকে বিয়ে করেছি। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ। ওর দাদা ঋষি আমার ক্লাসমেট ছিল, এখন জয়েন্ট বিডিও। প্রস্তাব টা ওই দিয়েছিল, আর রূপসা যা দেখতে তাতে আমার আপত্তি করার কোনও কারণও ছিল না। ওর ও আমাকে পছন্দ তাই সবকিছুই বেশ চলছে। বিয়ের পর আমরা ধীরে ধীরে জানছি, বুঝছি একে অপরকে। বেশ ভালো বন্ডিং আমাদের। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজও যে খারাপ নয়, তা ও না এলে বুঝতে পারতাম না। যাইহোক বিয়ে করে সুখেই আছি বলতে হবে। নেক্সট পুজোয় ইউরোপ ট্যুরের প্ল্যান আছে আমাদের। আমি সারাদিনই ব্যস্ত থাকি তাই ওকেই বলেছি সব ব্যবস্থা করতে, সারাদিন ও বাড়ীতে নেট ঘেঁটে প্ল্যান বানায় আর পরদিন ক্যান্সেল করে কিছু একটা মিসিং আছে বলে। এই মেয়েরা না, পারফেক্ট প্ল্যানিং আর পছন্দের ড্রেস পরা, এই ব্যাপারগুলোয় কোনওদিন ১০০% নিশ্চিত হতে পারেনা।


আজ বেশ শীত পড়েছে, ডিসেম্বর মাস, তারওপর বৃষ্টি, খড়গপুর থেকে ফিরতে ফিরতেই হাড়কাঁপানো শীত টের পেয়েছিলাম। অন্ধকারটাও ঝুপ করে নেমে গেছিল যেন, শুধু ছটফট লাগছিল রূপসার কাছে ফেরার জন্য, একটু বউপাগলা টাইপ আমি। আর বউ যদি সত্যিই খুব ভালোবাসে তাহলে তাকে ছেড়ে থাকতে কষ্টই হয়। পুরো ট্রেনে ভেবেছি, কখন ফিরব আর কখন ওকে কাছে পাবো। এর মধ্যে এক কান্ড হয়বিকেল থেকে। মোবাইল হারিয়েছি, কোথায় যে পড়েছে, না কেউ ঝেঁপেছে বুঝতে পারছিনা। ট্রেন থেকে রূপসা কে ফোন করতে গিয়ে দেখি পকেটে নেই, বাড়ী ফিরে এর জন্য একপ্রস্থ ঝাড় খেয়েছি, অবশ্য ও বলেছে কাল কিনতে যাবে, আর এটা হারালে কপালে অশেষ দুর্গতি আছে নাকি।


আমি আগেই উঠে বিছানা গরম করতে বসলাম, হাত পা এখনও ঠান্ডা হয়ে আছে। এই ঠান্ডায় যদি ওর গায়ে ঠান্ডা পা লাগে তো ম্যাডাম খচে যাবেন, তাই হাত দিয়েই পায়ের তলা ঘষে ঘষে গরম করতে লাগলাম। একটু পর গিন্নী আমার বিছানায় এলেন। সিল্কের নাইটি পরা, নিজের বউয়ের শরীরের বর্ণনা আর কি করব, তাই না করাই ভালো। সত্যিই রূপসা ভীষণ হট। আমি কাছে টানতেই আমার ঠোঁটে আঙুল চেপে ধরে ফিসফিস করে বলল, পেতে পারো, তবে আমার এক শর্ত আছে। আমি তখন চাইলে রাজত্ব ত্যাগ করতে পারি এমন অবস্থায় আছি। সম্মত হলাম।


ম্যাডামের দাবী, আগে ভূতের গল্প শোনাতে হবে, তারপর টাচ করতে দেবেন। আবার ! সিরিয়াসলি ! এই সময় সানি লিওন ছেড়ে ভূত? আমার পত্নী রত্নটির ভূতের গল্পে ভীষণ ইন্টারেস্ট। এর চক্করে কত অখাদ্য বই কিনে লাইব্রেরী ভরিয়েছে। সাইটে যাবার আগের দিনও গল্প শুনিয়েছি মুখ ভার মেটানোর জন্য, কিন্তু আবার? মানছি আমি গ্রামের ছেলে, একসময় বনে বাদাড়ে কাটিয়েছি, ভূতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনেক সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু তাই বলে এইরকম একটা সময়ে? মায়ের ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছিল। মায়ের জন্যই আমার ভূতের গল্পের স্টকের কথা জেনেছে। কম্বলের নীচে ঘনিষ্ঠ হয়ে আমার শরীরে মিশে গেল রূপসা। বাধ্য হয়েই শুরু করতে হল ভূতের গল্প। উফফফ। বিরক্তিকর।


"আচ্ছা রূপসা, ভূত বলতে কি বোঝ? হাড়গিলে, স্কন্ধকাটা, মেছোভূত এসব, তাই তো? নাকি কনজুরিং সিনেমার ভূত? অথবা, ইসলাম মতে জিন বা পরী এসব। তাই তো? কিন্তু ভূত কথার আক্ষরিক অর্থ হলো অতীত। যা চলে গেছে তাই ভূত, যে আসবে সে ভূত নয়। সেই হিসেব আমাদের দাদু বা ঠাকুমা ভূত, কিন্তু আমাদের আগত সন্তান নয়, কিন্তু আপাতত দুজনেই অস্ত্বিত্বহীন। এখানে ভূত মানে পূর্বজ ব্যক্তি যারা ছিলেন, কিন্তু এখন নেই তাই তো?"


"তোমাকে থিয়োরী কপচাতে বলেছি? মাঝে কোলবালিশ ঢুকিয়ে নেব বলে দিলাম। সরো আমার কাছ থেকে", রেগে গেল রূপ্সা।


"এই দ্যাখো, তুমিও বইপড়া ভূত খুঁজছ, দেখলে? এজন্যই বলতে চাই না। শোনো, ভূত সম্পর্কে যা পড়েছ, তা সবটাই মনের কৌতূহল মেটানোর কল্পনা। আমরা ভয় পেতে ভালোবাসি তাই এইরকম ভাবে ভূতের কল্পনা করি আমরা। ভূতরা খুব সহজে আমাদের ডায়মেনশনে আসতে পারেনা, যদি বিদেশী হান্টিং সিরিজগুলো দ্যাখো, তবে দেখবে যে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই এনার্জি ফিল্ডে একটা পরিবর্তন হচ্ছে, যা বিভিন্ন মিটারে ধরা পড়ে তার বেশী কিছু না, আর আমরা ৩ডি পর্যন্ত অনুভব করি, আর যারা থিয়োরিটিক্যাল ফিজিক্স পড়ছে তার ৪ডি বা তার পরের ডায়মেশন পর্যন্ত জানে হয়ত কিন্তু পুরোটাই কন্সেপচুয়াল। যাই হোক, আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি ৩ডি পর্যন্ত কাজ করে, তাই এনার্জির তারতম্য যখন এই রেঞ্জ পর্যন্ত আসে, তখনই আমরা সেটার অনুভব করি, কিন্তু ভূতেরা যদি এই রেঞ্জ এ আসতে চায় তাহলে তাদের প্রচুর প্রচুর পরিমাণ এনার্জি দরকার পড়বে যেটা টেকনিক্যালি অসম্ভব, কিন্তু কোনওভাবে যদি সম্ভব হয়, তবেই ভূতের দেখা পাবে নচেৎ নয়।"


“ তোমার পেছন থেকে কোলবালিশ টা দাও”, আমি থামতেই ও ঠোঁট ফোলাল।


“ বুঝলে না তো? দ্যাখো, আমার থিয়োরী যদি সত্যি হয়, তাহলে এই মূহুর্তে আমাদের পাশে, এই বিছানায়, এই বাড়ীতে প্রচুর অশরীরি বিচরণ করছে, আমাদের দেখছে, আমাদের কথা শুনছে। এটা প্রতি মূহুর্তেই ঘটছে, এমনকি যে ফেসবুকে গল্পটা পড়ছে, তার পাশেও কেউ অশরীরী হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে তার কাঁধের ওপর উঁকি মেরে গল্প পড়ছে। হয়ত বাসের ভিড়ে পাশেই দাঁড়িয়ে আছে, বা ব্যালকনিতে দাদেখছে, কিন্তু ইন্ট্যারাক্ট করতে পারছেনা এনার্জির অপ্রতুলতার জন্য। আসলে আমাদের মতই তারা এই পৃথিবীতেই অন্য ডায়মেনশনের বাসিন্দা। যে ডায়মেনশনে প্রবেশাধিকার আমাদের নেই, আর থাকলেও তার রাস্তা খোঁজা সম্ভব হয়নি, তাই ভূত রহস্য হয়েই থেকে গেছে।”


চোখ গোল গোল করে তাকালো রূপ্সা, “কি বলছ? এটা কি সম্ভব?”


ঠোঁটে চুমু দিয়ে বললাম, “ভীষণ সম্ভব। গডস পার্টিকেল আবিস্কৃত হওয়ার আগে কি কেউ নিশ্চিত হতে পেরেছিল? নাকি লেগো রিসার্চ এর আগে কেউ গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ কে সঠিক বলেছিল? যা আমাদের অনুভূতির বাইরে বা যা প্রমাণ হয়নি তা নেই এটা বলা যাবেনা। আচ্ছা তোমায় বলেছি সেই গল্পটা, যেটায় আমার প্রপিতামহ আমায় বাঁচিয়েছিলেন? ”


“না তো, বলনি”।


“আমার বয়স তখন চৌদ্দ কি পনের, মাধ্যমিক দেবো পরের বছর। গ্রামে থাকি, বর্ষাকালে সে সময় প্রচুর দেশী মাছ পাওয়া যেত, যদিও আমি মাছ খেতে ভালোবাসিনা তুমি জানো, কিন্তু মাছ ধরার নেশাটা ভয়ঙ্কর। খালে, বিলে সেসময় প্রচুর কই, মাগুর, পুঁটি, ট্যাংরা এসব পাওয়া যেত। তো সে নেশায় আমি মাঝে মাঝেই বাড়ী থেকে হাওয়া হতাম, আর মাছের সন্ধানে গ্রাম থেকে গ্রামে চলে যেতাম। ডাকাতবংশের ছেলে আমরা, সব ভাইবোনরাই বেশ সাহসী। সেরকমই একদিন বর্ষার দুপুরে খেয়েদেয়ে খিড়কি দিয়ে আমি ধাঁ, কয়েকটা ছিপ আর ডাঁড়কি(মাছ ধরা বাঁশের খাঁচা) নিয়ে। ডাঁড়কি টা জলে বসিয়ে দিলে ওতে মাছ ঢুকে পড়বে আর ছিপগুলো কে পছন্দমত জায়গায় নিয়ে বসব। সেদিন এমন কপালখারাপ যে মাছ মনে হয় এলাকাতেই নেই। কিছুক্ষণ পর আকাশ কালো হয়ে এলো আর পরপর বাজ পড়তে লাগল, কিন্তু মাছের দেখা নেই। মাথা গরম হয়ে গেলো আমার। কত কষ্টে পিঁপড়ের কামড় খেয়ে, ডিম চুরি করে চার বানিয়েছি, কিন্তু মাছ নেই। রাগ করে আরও দূরের গ্রামে যেতে চাইলাম। কিন্তু ডাঁড়কির কথা ভেবে যেতে পারছিলাম না।


মাছ পড়বেই ওতে আমি নিশ্চিত, আর কেউ যদি চুরি করে নেয়, সেই চিন্তায় যেতে পারছিলাম না।


শেষটায় মনের সঙ্গে যুদ্ধ করে রওনা দিলাম। পাশের গ্রামে সত্যিই প্রচুর মাছ পেলাম। মন খুশী হয়ে গেল। লোভের চোটে আমার হুঁশ হারিয়ে গেল। কি বড় বড় সব মাছ। একটা বিশাল চিতল পেলাম। আরও ধরতে চাইছিলাম কিন্তু অন্ধকার হয়ে গেছে, আর অন্ধকারে আলপথে আছাড় খেতে হবে, এই চিন্তায় মন না চাইলেও যেতে হলো। চিতলটা পিঠে ঝুলিয়ে আর খড়ের দড়ি পাকিয়ে বাকী মাছের কানকোর মধ্যে ঢুকিয়ে ফুলের মালার মত বানিয়ে বাড়ীর পথ ধরলাম। এক হাতে সেই মালা, আর অন্য হাতে ছিপগুলো একসঙ্গে বেঁধে নিলাম। সূর্য অনেক্ষণ ডুবে গেছে, অন্ধকার। কিন্তু সেদিন সম্ভবত পূর্ণিমা ছিল তাই নিকষ কালো অন্ধকার নয়, খুব একটা অসুবিধে হচ্ছিল না। যাইহোক, বাবার পেটানো থেকে কি করে বাঁচব, আর মারতে এলে বাঁচানোর জন্য জেঠিমাকে তখন কোথায় পাব, এরকম অনুমান করতে করতে ফিরছি, কিন্তু কোথায় যেন সেদিন অন্যরকম একটা অনুভূতি হচ্ছিল। বাড়ী ফিরতে ইচ্ছে করছিল খুব। আর তুমি জানো, গ্রামে প্রবাদ আছে যে রাত্রিবেলা হাতে তেলেভাজা, মাছ এসব নিয়ে কোন গাছতলায় যেতে নেই, অমঙ্গল হয়। আর আমার কাছে প্রচুর মাছ।


যাইহোক, আমার সাথে সাথে কারো চলার ধ্বনি স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম। প্রথমে আমার চলার ছন্দে ছন্দ মিলিয়ে, তারপর নিজের মতই। ক্রমে পায়ের সংখ্যা বাড়তে থাকল। ধীরে ধীরে নদীনালা, খালবিল, শ্মশানের ধার, কবরখানা সব কিছু থেকে কারা যেন আমার পেছনের মিছিলে যোগ দিতে লাগল। মাঠের দূরে যে রাস্তা, সেই রাস্তার ধারের গাছ থেকে জোরালো হাওয়া এসে আমার গায়ে ধাক্কা খেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগল। চারদিকে তখন শুধু ফিসফিস আর বাঁশের মধ্য দিয়ে বয়ে আসা হুইসিলের মত শব্দ। মাঝে মাঝে কড়াৎ কড়াৎ বাজের শব্দে কিছুটা কমছে, তখন বাজের শব্দ আর আলোর ছটা পরম সঙ্গী যেন। এমন সময় হাতে মাছের মালার দিকে তাকিয়ে যা দেখলাম তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেলো।”



বলে হাত বাড়িয়ে জলের গ্লাস নিয়ে জল খেলাম। রূপ্সার চোখমুখ উত্তেজনায় লাল। জল খাওয়া হতেই বাচ্চাদের মত গুটিশুটি মেরে ঢুকে যেতে চাইল আমার শরীরে, পায়ে পা লাগতেই বলল, এঃ তোমার পা এখনও ঠান্ডা গো। কত ঠান্ডা লাগিয়েছ আজ? ওকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরলাম আমি। ধার নিতে লাগলাম উষ্ণতা ওর শরীর থেকে যেন। ও আমার খোলা বুকে মুখ ডুবিয়ে চুমু খেল। বলল, “গল্পটা শেষ হলে আজ অনেক অনেক আদর করব তোমাকে।”


আচ্ছা শোনো, “নিচে তাকিয়ে দেখি একটাও মাছ আস্ত নেই, সব কটার মুন্ডু ঝুলছে শুধু। মুন্ডুর নীচ থেকে মাছ হাওয়া, খড়ের মালায় মাছের মুন্ডুগুলো মা-কালীর গলার নরমুণ্ডর মালার মত লাগছে। ভয়ে চিৎকার করে ছুঁড়ে ফেললাম ওটা। ফেলে দিয়েই দেখি আমার ছিপ ধরে কেউ টানছে। দুহাতে ছিপগুলো আঁকড়ে ধরলাম, যতক্ষণ ছিপে বাঁধা লোহার বঁড়শি আছে, ততক্ষণই রক্ষা, কারণ ভূতেরা নাকি লোহা ভয় পায়। দৌড় লাগালাম এবারে। আসতে আসতে কতবার যে আছাড় খেয়েছি, হিসেব নেই, তবে এতকিছুর মধ্যেও সেই চিতল আমার পিঠে রয়ে গেছে। ততক্ষণে যেখানে ডাঁড়কি বসিয়েছিলাম সেখানে পৌঁছে গেছি, ওটার কথা ভুলেই গেছিলাম, কিন্তু সেই জায়গায় এসে দেখি, কেউ একজন মাছ চুরি করছে। আর পেছনের সেই অদৃশ্য মিছিলটাও আর নেই।


জীবনে প্রথম আমার মাছ অন্য কেউ চুরি করছে দেখে আনন্দ হল। করুক, তবু মানুষ তো। ভরসা পেলাম। গ্রামের দিকে সবাই সবাইকে চেনে, আর এই লোক পাশের গ্রামের হলেও আমাকে ঠিক পৌঁছে দেবে। কিন্তু গিয়ে কি দেখলাম জানো?”,


জিজ্ঞাসু নয়নে ঢোঁক গিলে রূপ্সা আমার দিকে চেয়ে রইল।


“দেখলাম, সেই লোকটি ডাঁড়কির ভেতর হাত ঢোকাচ্ছে আর কাঁচা মাছ বের করে খাচ্ছে। তার মুখের কষ বেয়ে রক্ত। ভয়ঙ্কর অবর্ণনীয় চেহার, আর চারদিকে কি বীভৎস আঁশটে গন্ধ, তুমি চিন্তাও করতে পারবেনা। 



মানিকতলা বা অন্য মাছ বাজারের গন্ধ তার কাছে দুধের বাচ্চা। লোকটি, বলা ভাল ভূতটি খোনা গলায় হাড়হিম করা রক্তহাসি হাসল। হাসতে হাসতে খোনা গলায় দেঁ, দেঁ, ওঁটা দেঁ। অঁনেকদিঁন খাঁইনি। বলে হাত বাড়াল পিঠের চিতলের দিকে। এমন সময় খুব কাছেই বাজ পড়ল। স্পষ্ট দেখলাম সেই বাজ পড়া জায়গা থেকে সাদা ধুতি আর পৈতে পড়া এক প্রকান্ড মানুষ এগিয়ে আসতে লাগল আমার দিকে। আর নিতে পারলাম না আমি। জ্ঞান হারালাম।”


বলেই হা হা করে হেসে ফেললাম। রূপসা প্রথমে কিছু বুঝল না, তারপর বুঝে একটা কিল মেরে কম্বল টম্বল সব উলটে দিল। দুমদাম মারতে লাগল বালিশ দিয়ে। রেগে লাল হয়ে গেল। “অসভ্য, জানোয়ার, ইতর বন্যপ্রাণী। আমি তখন থেকে ভয়ে, উত্তেজনায় বাথরুম চেপে রেখেছি আর পুরোটাই গালগল্প। বেইমান, যা তোকে আজ ছুঁতেই দেবো না।”


আমি হি হি করে হাসতে হাসতে ওকে জড়িয়ে ধরলাম। জোর করে ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলাম। শান্ত হল কিছুটা। তারপর বলল, যাই বলো, বলার ভঙ্গীটা বেশ। সত্যি মনে হচ্ছিল। ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। গ্রামের দিকে এসব হয় বলেই পড়েছি বইগুলোতে। দাঁড়াও, বাথরুম থেকে আসি। পারোও বটে তুমি। আমাদের বাচ্চাগুলো দারুন বাবা পাবে।


ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালাম, নীচে গলিতে ঋষির এনফিল্ডের আওয়াজ পেলাম। কান্না পেয়ে গেল। এসেই রূপসার মোবাইল সুইচ অফ করে দিয়েছিলাম যাতে কেউ ওকে খবরটা দিতে না পারে। আজ বিকেলেই সিন্ডিকেটের লোকজন আমায় খুন করেছে ওদের ভুয়ো বিলে সই করিনি বলে। ৫ কোটির প্রজেক্ট আটকে ছিল। আমার লাশ এখনও পড়ে আছে খড়গপুরের কোন এক জংগলে রেললাইনের ধারে। চারদিকে পুলিশ আর লোকজন। ৯ টা গুলি বিঁধে আছে শরীরে। রূপসার সাথে শেষ দেখা করা দরকার ছিল, তাই এত কষ্টে এসেছি। আরেকটু থাকতে পারলে ভালো হত, কিন্তু ঋষিটা আর সময় পেলনা। এবার যেতে হবে। ফিরতে হবে নিজের নতুন ডায়মেশনে। সিঁড়ি বেয়ে প্রায় দৌড়ে এসে কলিংবেল বাজাল ঋষি। যাক, ওর বোনকে ওই সামলাক। কলিংবেলের আওয়াজের সাথে টুকরো টুকরো হয়ে প্রকৃতিতে মিশতে লাগল শরীর। এনার্জি ফিল্ড ব্রেক করছে। রূপসা, আসি সোনা, প্লিজ নিজেকে সামলে নিও। মরার সময়ও শুধু তোমাকেই ভাবছিলাম বার বার। ক্ষীণ হয়ে আসা রূপসার গলা শুনতে পেলাম বাথরুম থেকে, “দ্যাখো তো গো, এত রাতে কে এল.........” 



Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Comedy