Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Bhattacharya Tuli Indrani

Abstract


2  

Bhattacharya Tuli Indrani

Abstract


বৃদ্ধাশ্রম

বৃদ্ধাশ্রম

9 mins 524 9 mins 524

'ফাদার এ্যান্ড সান এ্যান্ড দ্য হোলি স্পিরিট' 

ক্রসের চিহ্ন এঁকে চ্যাপেল থেকে বেরিয়ে এল আয়ুষী।

বাইরে জর্ডনের জল নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে, সেখানে পৌঁছনোই কঠিন... কোনরকমে এক বন্ধুর হাত থেকে এক ফোঁটা জল নিয়ে মাথায় ছোঁয়াল সে। আজ পরীক্ষার ফল বেরবে। হাঁটু মুড়ে অনেক্ষণ ধরে জিসাসকে ডেকে তার মনের কথা শুনিয়ে এসেছে আয়ুষী, কে জানে কী হয়।

এর পরেই অনন্ত ছুটির অবকাশ, আর তার আগেই ক্রিসমাস পার্টি স্কুলে। কী যে সুন্দর লাগে ঝকঝকে সুন্দর স্কুলটাকে আলোর মালায় সেজে উঠতে দেখে। সিস্টাররা নিজের হাতে বানানো কেক খেতে দেন সবাইকে। কতদিন ধরে সিস্টার বার্থলোমিয়ার সঙ্গে প্র্যাকটিস করা ক্রিসমাস ক্যারলের গানগুলো শোনাবে, ছোট বড় ক্লাসের মেয়েরা।

আয়ুষী আজ তাই অতিরিক্ত উত্তেজিত, গানগুলো ভাল হবে তো? আগামীকাল আবার রোসালিনের বাড়িতে নেমন্তন্য, ক্রিসমাসের। আয়ুষীর একটু অস্বস্তি হয় বইকী... পড়াশোনায় ভাল বলে এই উঁচুদরের স্কুলে ভর্তি হতে পেরেছে, নিন্ম মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েটা। বড় সঙ্কুচিত হয়ে থাকে সে সর্বদা। রোসালিনের সঙ্গে খুব ভাব তার, এক্কেবারে হরিহর আত্মা। রোসালিনের বাড়িতে প্রায়ই ডাক পড়ে তার, কিন্তু আয়ুষী কখনই তাকে নিয়ে যেতে পারে না, তার বাড়িতে। বাড়ির সেরকম অবস্থাই না... নুন আনতে পান্তা ফুরোয়।

খুব মজা হল রোসালিনের বাড়িতে, কত খেলা, কত খাওয়া দাওয়া। রোসের মা'কে কী সুন্দর যে দেখতে। কোঁকড়া চুলগুলো বাদামী রঙের, নীল চোখ। কী সুন্দর ফ্রক পরে থাকেন তিনি।

বিরাট এক বোঁচকা নিয়ে ঘরে ঢুকল, জন দাদা। রোসের বাড়ির দেখাশোনার ভার তার ওপরেই। রঙিন মোড়কে মোড়া নানা মাপের উপহার বেরতে থাকল সেই ঝোলা থেকে। আরও মজা অপেক্ষা করে ছিল বাচ্চাগুলোর জন্যে। লটারি খেলা হবে, তাতে যার ভাগ্যে যা উপহার উঠবে, তাইই তাকে নিতে হবে।

বইপোকা আয়ুষী পেল একটা দুর্দান্ত বই, 'কাউন্ট অফ মন্টিখ্রিস্টো'।

উফফফ, কবে থেকে এই বইটা পড়ার ইচ্ছে তার। বাবা মাঝে মাঝে বই কিনে দেন তাকে, তাঁর ইচ্ছেমত... আয়ুষী কখনও মুখফুটে কিছুই চায় না কারো কাছে। বইটা খুলে গন্ধ শুঁকলো সে আগে প্রাণভরে, তারপরে পাতা ওল্টাতে লাগল। প্রথম পাতায় লেখা, 'উইথ লাভ ফ্রম সান্টা...'

আয়ুষী শুনেছে বটে, সারাবছর ভাল হয়ে থাকলে সান্টা উপহার দেন... ২৪ তারিখের রাতে মোজা ঝোলাতে হয়। মা আগ্রহ ভরে তার কথা শুনলেও বাগড়া দেন ঠাকুমা।

'ভাগ, ঐসব বিধর্মীদের উৎসবে সামিল হতে হবে না।'

বিধর্মী আবার কী! কিছুই বোঝে না আয়ুষী। দাদুর ঠাকুরঘরে তো জিসাসের ছবি আছে... তাতে জবাফুলের মালা ঝোলে, চন্দনের টিপ তো পরান দিদুই।

রোসালিন বলল 'কাল রাতে অনেক বড় মোজা ঝুলিয়েছিলাম আমি, প্রে করে শুতে গেছিলাম যাতে সান্টা সকলের জন্যেই গিফট নিয়ে আসেন। আমরা তো সকলেই ভাল... তাই না!' 

প্রজাপতির মত হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে বাড়ি ফিরেছিল আয়ুষী, বাবার সঙ্গে।


ছেলের ঝোলানো মোজাতে সাধ্যমত উপহার সামগ্রী ভরতে ভরতে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিল আয়ুষী, ফিরে গেছিল নিজের ছেলেবেলার অফুরন্ত খুশির দিনগুলোতে। সন্তানের জন্মের পরে ঠিক করে রেখেছিল সে, ক্রিসমাসে সান্টার উপহার থেকে বঞ্চিত করবে না সে কখনও তার ছেলেকে। শাশুড়িমায়ের তীক্ষ্ণ ব্যাঙ্গোক্তিকে উপেক্ষা করেও এই প্রথাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা অরে গেছে সে। ক্রিসমাসের সকালে ছেলের পরিতৃপ্ত মুখের দিকে তাকিয়ে মনটা ভরে ওঠে তার... তবে আর বোধহয় বেশীদিন চলবে না। ছেলে বড় হচ্ছে, বন্ধু- বান্ধবদের দেখে তার চাহিদার মাত্রা বেড়ে চলেছে... আর হয়তো পেরে উঠবে না আয়ুষী।রাহুলের জন্মের পরে পরেই ট্রেন এ্যাক্সিডেন্টে তাদের ছেড়ে চলে গেছে রাহুলের বাবা নিশিকান্ত। সংসার ছোট হলেও তাকে চালিয়ে নিয়ে চলতে জিভ বেরিয়ে যায় আয়ুষীর। ভাল স্কুলে পড়াশোনা করার সুবাদে ভিত্তিটা তার বেশ পোক্তই ছিল... বাড়িতে বসেই ইংরিজি পড়িয়ে কোনরকমে সংসারের গাড়িটাকে গড়িয়ে নিয়ে চলে সে। নিজেকে সবরকমে বঞ্চিত করেও শাশুড়ি মা এবং আদরের সন্তান রাহুলের সবরকম ইচ্ছেই পুরো করবার চেষ্টা করে সে।

ফোনটা বেজেই চলেছে, আয়ুষী তার স্মৃতি রোমন্থনে এতই নিমগ্ন যে শুনতেই পাচ্ছে না। পাশের ঘরের বিজলীদি এসে এক ঠেলা মারেন ‘কীরে! কানটাও গেছে না কি চোখের সঙ্গে সঙ্গে?' একটু হেসে মুখ ফেরায় আয়ুষী। 

'দিদি, এস। কী হয়েছে গো অনেক্ষণ ধরে ডাকছিলে বুঝি? কত পুরনো কথা মনে পড়ে, শুনতেই পাইনি।'

'না ম্যাডাম, তোমার ইন্টারকমটা বাজছিল... কখন থেমে গেছে।

“যাক পুরাতন স্মৃতি…”

আর কত পুরনো কথা ভাববি, হবেই বা কী ভেবে? আমরা এখন বাতিলের দলে রে, এই আশ্রম আমাদের ঠাঁই দিয়েছে। ছেলে দয়া করে মাসান্তে কটা টাকা পাঠায়, ক্ষমা ঘেন্না করে... যেদিন বন্ধ হবে, যেতে হবে গাছতলাতে।''এরকম বোল না দিদি। ওদের কত কাজ, নিজের একটা জীবন আছে তো। একটা ব্যবস্থা তো করেই দিয়েছে, বল। রাস্তায় তো পড়ে নেই আমরা। তোমাদের মত দিদি, বোনেদের পেয়েছি... আমার কোনও অনুযোগ নেই গো। দুই প্রজন্মের মানুষের একসঙ্গে বসবাস করাও মুশকিলের ব্যাপার। আমরা একভাবে বড় হয়েছি, আমাদের সন্তানেরা অন্যভাবে... যুগ পালটে গেছে, এটা তো স্বীকার করবে?'

'তুমি থাক তোমার উদারতা নিয়ে, আমার মন বাপু অত বড় নয়। আমি তো শাপ শাপান্ত করি আমার বউটাকে, ছেলেটাকে এক্কেবারে ভেড়া বানিয়ে রেখেছে গো। নেহাত মেয়েটা ছিল, তাই দুটো ভালমন্দ খেতে পরতে পাই। জামাই আমার সোনা।'

বিজলীদির থেকে মুখ ফিরিয়ে হাসি চাপল আয়ুষী। সেই চিরন্তন বোঝাপড়া। পরের মেয়ে এসেই পেটের ছেলেকে পর করে দিয়েছে, কিন্তু নিজের মেয়েটিও যে অন্য কারো বাড়ির 'পরের মেয়ে' সে'কথা কী আর মনে থাকে? এই সমস্যার সমাধান আর হবে না।

উঠে পড়ল আয়ুষী, বাচ্চাগুলো আসবে। আশ্রমের লাগোয়া অনাথ আশ্রমের শিশুগুলোর পড়াশোনার ভার তুলে নিয়েছে সে নিজের হাতে। বেশ সময় কেটে যায়, তৃপ্তিও হয়। সন্তানের হাততোলা হয়ে থাকতে হয় না তাকে, শ্বশুরের ছোট্ট বাড়িটাতে চারটে পড়ুয়া মেয়ে থাকে, মাস গেলে যে কটা টাকা হাতে আসে, তা দিয়ে বেশ ভালই চলে যায় তার। অনেক কষ্টে রাহুলকে তার মনোমত পড়াশোনা করাতে সক্ষম হয়েছিল আয়ুষী। আজ সে প্রতিষ্ঠিত, সহকর্মীকেই বিয়ে করে সুখে সংসার করছে। সেই মেয়েটিকে একবার দেখবার ইচ্ছে যে হয়নি, তা বললে ভুল হবে। কিন্তু সেও কোনও আগ্রহ দেখায় নি, কাজেই আয়ুষী আর জোর করেনি। অনেক দুঃখে কষ্টে বড় হয়েছে রাহুল, কীই বা দিতে পেরেছে তাকে তার অক্ষম মা? আজ সে সুখের মুখ দেখেছে, ভাল থাকুক... মা'কে নিয়ে যেতে চেয়েছিল সঙ্গে করে...

'না রে বাপু, তোদের ওই দেশের ওইসব তেন্ডাই মেন্ডাই ভাষা আমি বুঝি না, আমার নিজের যায়গায়ই ভাল।'

'কী করে থাকবে তুমি একা, কতরকম বিপদ আসতে পারে। শরীর খারাপ হতে পারে...'

'আজকাল কত আশ্রম হয়েছে, আমাকে একটা কোথাও রেখে দে। বাড়িভাড়া যা আসে, আমার চলে যাবে। বেশি হাই ফাই যায়গার খোঁজ কোর না, সাধারণ হলেই হবে। আমার আর কী চাহিদা বল, নিরামিষ খাই... দু'বেলা দুমুঠো। তোরা ভাল থাক...'

 

নবীনে- প্রবীণে সংঘাত চিরকালীন। দু'চারদিন ভাল লাগতে পারে, তাই বলে অনন্ত কাল... নাহ। বেশ ভালই আছে সে, মোটামুটি স্বাধীন জীবনই বলা যায়। সব মানুষেরই তো স্বাধীনতার প্রয়োজন... ওরাও থাক স্বাধীনভাবে 'মাঝে সাজে আসিস বাবু, দেখা করে যাস... তাহলেই আমার মনটা ভরে যাবে।' 

আবার বেজে উঠল ফোনটা। কোমরটা ইদানীং ভোগাচ্ছে, উঠতে বসতে বেশ মালুম দেয়। রোসালিনের মা'র কথাগুলো মনে পড়ে ঠোটঁদুটো হাসিতে বেঁকে গেল আয়ুষীর।

'ইউ নেভার নো ডিয়ার, হোয়েন দ্য ওল্ড এজ ক্রীপ্স ইন...

'বাবু! কেমন আছিস বাবা? সিন্থিয়া ভাল আছে তো? আসছিস কলকাতায়! এতো বেশ ভাল খবর। কয়েকদিন থাকবি, তা থাকবি কোথায়? হোটেলেই উঠতে হবে। হ্যাঁ, তুই বলেছিলি বটে, বাড়িটা ভাড়া না দিতে... কিন্তু তাহলে আমার চলত কী করে বল? নিশ্চয়ই, তুমি তো আছই সোনা আমার পাশে। তোমাদেরও তো খরচ খরচা আছে... আচ্ছা আয়।'

'বাড়ি বিক্রি করে দিবি, তাহলে আমার চলবে কী করে রে? বাড়ি কিনছিস, সে তো খুব আনন্দের খবর। তুই আকাশ ছুঁলেই তো আমি খুশি বাবু। তোকে অদেয় তো আমার কিছুই নেই, তবে বুড়ো বয়সের সংস্থান বলে কথা।'

'বাড়ি না মা, ফ্ল্যাট। তুমি আমাদের কাছে থাক না, এখানে পড়ে থাকার দরকার কী? তুমি নিজের মত থাকতে ভালোবাস, তাইই থাকবে। ওখানে তো বাড়ির বড্ড দাম, দু'বেডরুমের ফ্ল্যাট কিনতেই অবস্থা খারাপ। ব্যাঙ্ক লোন নিয়েছি, কিন্তু আরও কিছু টাকার দরকার। ছোট বয়েসে তো সান্টার নামে গিফটগুলো তুমিই দিতে, ক্রিসমাস আসছে... ধরে নাও এটা সেই সান্টারই উপহার।'

আদরে, ছেলের মাথার চুলগুলো ঘেঁটে দিল আয়ুষী।

'বেশ, বার করে দে দলিলটা... বল কী করতে হবে করে দিচ্ছি।'

'এইবার আমার সঙ্গে চল, ভাল না লাগলে আবার ফিরে এস এখানেই। মাসের খরচ আমি পাঠিয়ে দেব তোমাকে...'

আনন্দাশ্রুতে চোখদুটো ভরে উঠল আয়ুষীর, পুত্রগর্বে গর্বিত মা। ছেলেকে লুকিয়ে আলতো করে কাপড়ের খুঁটে মুছে ফেলল সে... বাবু দেখলে কী ভাববে।

কোনোদিন এয়ারপোর্ট দেখেনি আয়ুষী, দরকারই পড়েনি। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে এক আধবার লোকাল ট্রেনে চড়েছে সে... ব্যাস! মোল্লার দৌড় মসজিদ অবধি। নেতাজী সুভাষ এয়ারপোর্টের বাইরে দাঁড়িয়ে হতভম্ব হয়ে গেল আয়ুষী। বাপরে, এইসব যায়গায় সে তো একেবারেই বেমানান। পা দুটো ব্যাথা করছে, ভেতরেও না কী অনেক হাঁটতে হবে। একটু বসি বাবা। বাবু, কী কাজে গেছে, এসে নিয়ে যাবে।


কাজরী অনেক্ষণ থেকেই লক্ষ্য করছে সম্ভ্রান্ত চেহারার, কিন্তু সাধারণ বেশবাসের ওই বৃদ্ধাকে। কী যেন খুঁজেই চলেছেন তিনি, অস্থির ভাবে। ছটফট করছেন, বার বার উঠে টার্মিনাল গেটের ভেতরে দেখার চেষ্টা করছেন... বড় চিন্তিত দেখাচ্ছে তাঁকে। কাজরীও অপেক্ষা করছে তার স্বামীর জন্যে। লন্ডনের ফ্লাইট এসে গেছে, যে কোনও মুহূর্তেই বেরিয়ে আসবে রবীন। খুশিকে দেখার জন্যে অস্থির হয়ে আছে কাজরী। তাদের নিঃসন্তান জীবনে খুশির ঝলক নিয়েই আসছে সে। কৌতূহলকে আর চেপে রাখতে না পেরে বৃদ্ধার পাশে গিয়ে বসে কাজরী।

'কী হয়েছে মাসীমা, মনে হচ্ছে কিছু খুঁজছেন... অনেক্ষণ থেকেই লক্ষ্য করছি আপনাকে।'

'আমার ছেলে আমাকে বসতে বলে, ভেতরে গেছে কী যেন কাজে... অনেক সময় কেটে গেছে, ও তো আসছেই না। আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না, ওর কোনও বিপদ হল না তো?'

কাজরীও অসহায় বোধ করল, কোথায় যাওয়ার ছিল আপনাদের?'

'কি যেন একটা নাম বলেছিল, ব্যাঙ্গালোর? না না, ম্যাঙ্গালোর বোধহয়।'

'আচ্ছা, আমার স্বামী রবীনকে আসতে দিন, ও ঠিকঠাক খোঁজ এনে দেবে।' 

সুদর্শন ছেলেটির কোলে ফুটফুটে বাচ্চাটিকে দেখে মন ভরে গেল আয়ুষীর। তার ঘরেও তো কখনো না কখনো আসবে এমনই এক শিশু, কিন্তু রাহুল গেল কোথায়... সকাল গড়িয়ে বিকেল হওয়ার যোগাড়।


একটা কফিশপে বসে সব কথা শুনল, রবীন আর কাজরী। চোখে চোখে কথা হয়ে গেল স্বামী স্ত্রীর। 'আপনি সকাল থেকে বসে আছেন মাসীমা, না মাসীটা বাদই দিই শুধু মা বলি? তোমার তো খাওয়াও হয়নি মা... এক কাজ কর, আমাদের সঙ্গে চল আপাতত। তোমার কাছে ফোন নম্বর আছে তো, খোঁজ পাওয়া যাবে। ব্যাঙ্গালোর আর ম্যাঙ্গালোর দুটো ফ্লাইটই তো চলে গেছে, আজ তো আর ফ্লাইট নেই। বাড়ি চল, বিশ্রাম নিয়ে খোঁজ খবর করা যাবে।'

কাজরী আয়ুষীর হাতটা আঁকড়ে ধরে। 

'আজ ক্রিসমাস কাজরী, সান্টা আজ আমাদের দুজনকেই উপহার দিয়েছেন। কিছুদিন আগেই আমার মা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন আর আমাদের বন্ধু আর তার স্ত্রী লন্ডনে এক কার এ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে, এই দুধের শিশুটাকে রেখে...শূন্য চোখে তাকিয়ে রইল আয়ুষী, কিছুই বোধগম্য হল না তার। তার জন্যেও যে সান্টা আজ এক বিরাট উপহার নিয়ে এসেছেন, হাত বাড়িয়ে খুশিকে বুকে টেনে নিল সে।

গাড়িতে বসে প্লেয়ারটা চালু করতেই গান বেজে উঠল

জয় টু দ্য ওয়ার্ল্ড, দ্য লর্ড হ্যাজ কাম...



Rate this content
Log in

More bengali story from Bhattacharya Tuli Indrani

Similar bengali story from Abstract