Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

SUBHAM MONDAL

Horror Tragedy


4.1  

SUBHAM MONDAL

Horror Tragedy


ভয়ংকর প্রতিশোধ

ভয়ংকর প্রতিশোধ

6 mins 516 6 mins 516

রাত ঠিক তখন বারোটা, ফেসবুকটা খুলে বসলাম। আপাতত বিনা অধিক প্রচেষ্টায় ফ্ল্যাট টা এইভাবে পেয়ে যাবো ভাবি নি। এটা আসলে একটা অফিস ঘর, নিচের তলায় সকালে অফিস স্টাফ‍রা কাজ করে যায়। ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি আগ্ৰহী আমি ওপরের ঘরের অফিসের ই কিছু খারাপ কম্পিউটার থেকে parts বার করে একটি কাজ চালানোর মতো কম্পিউটার বানিয়ে নিয়েছি, সাথে নিয়েছি ইন্টারনেট ব্যবস্থা। ফেসবুক অন করে দেখলাম অহনা ও অন আছে। একটা ছোট্ট হাই পাঠিয়ে দিলাম, ওপাশ থেকে রিপ্লাই এল, 

-কি Mr. আপনি তো শুধু রাতে ই অন আসেন, সারাদিন পড়াশোনা হচ্ছে নাকি!

মনে মনে হেসেই টাইপ করলাম , 

-হুম ঐ আর কি।

সাধারণত এই সময় ই আমার জন্যে উপযুুক্ত, বিশেষত আমার মতো মেধাবী ছাত্রের জন্যে। তাছাড়া মাসের পর মাস যে ঘর ভাড়া ছাড়া ই থাকছি তার জন্যে যথেষ্ঠ বুুদ্ধি চাই বস। 

অহনাকে বললাম, তো একদিন দেখা করো, অনেকদিন তো হল ফেসবুকে কথা।

অহনা- সে না হয় করবো, সবর কা ফল মিঠা হে জনাব।

আমি- তুমি কি তবে দেখা করতে চাও না?

ওপাশ থেকে জবাব এল একটা স্মাইলির ইমোজি ।

আমি আবার মারিয়া ভাবে চ‍্যাট করতে থাকি।

আমার ফেসবুকে নাই নাই করে এখন ৩০০ এর অধিক ফ্রেন্ড তারা সবাই ই মেয়ে। আমার আবার 

ছেলেদের সাথে আলাপ বিলকুল না পাসন্দ। ৩০০ জনের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৬ জনের সাথে ঘনিষ্ঠতা করে ফেলেছি। কিন্ত তাদের 5 জন অনলাইন আসে না কাজেই ৩১ জনের সাথেই চ‍্যাট করে আমাকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। এদের মধ্যে অহনাই আমাকে আজকাল বেশি টানে। আর তার কারণ হচ্ছে ওর প্রোফাইল পিকচার, যেখানে একটা কঙ্কালের ছবি দেওয়া। সাধারণত মেয়েরা সোশ‍্যাল মিডিয়াতে ছেলেদের জ্বালাত্বন এড়াতে নিজের ছবি না দিয়ে ফুুুল বা টেডি বা কখনও কখনও Actressএর ছবি দিয়ে থাকে। কিন্তু জিওগ্ৰাফি অনার্স পড়া 

অহনা কেন কঙ্কালের ছবি দিল সেটাই আমার কাছে রহস্যজনক। কারণ জানতে চাইলে ও বললো ছোট থেকেই নাকি ওর ডাক্তারি পড়াই ইচ্ছে 

কিন্তু মাধ্যমিকের পর সাইন্স নেবার চাপ সামলাতে পারবে কিনা ভেবে শেষে আর্টস নেই। কথা চলতে থাকে কিন্তু দেখা করার কথা উঠলেই অহনা এড়িয়ে যায় আমাকে। 

একসময় আমি খিপ্ত হয়ে টাইপ করলাম,

-কেন? তোমার বয়ফ্রেন্ড মহাশয় রাগ করবেন?

অহনা-হিহি, উনি থাকলে কি তোমার সাথে এত ঘনিষ্ঠ ভাবে মিশতে পারতাম।

এইভাবেই রাত বাড়তে থাকে আর 

আমাদের চ‍্যাট বক্স  ও ভরতে থাকে কথা আর আবেগের সীমাহীন বেড়াজালে। আমার 

কাছে সব মেয়েই এখন সমান কারণ বিশ্বাস আমি কাউকে ই করি না। রাত বাড়তে থাকে 

আর আমি ও পাকা দাবাড়ুর মতো কথা র জাল বুনতে থাকি হেরে যাওয়ার পাত্র আমি নই ।

অহনা- সম্পর্কের মধ্যে দূূরত্ব যত থাকে , টান আর গভীরতা ততই গাঢ় হয়। কথাটা শুনে বিস্মৃৃৃত হলাম। সমরপিতার সাথে কথার আমূূূল মিল যেন ওর সাথেই কথা বলছি। 

.

.



সমরপিতা আমার এক্স ।

বন্ধুদের একটা বড় গ্রুপ ছিল আমাদের কলেজে , সেখানেই একটা মিউচ্যুয়াাল গ্রুপে আমাদের পরিচয় হয়। আমি তখন তৃতীয় বর্ষ যাদবপুর ইউনিভার্সিটি তে কম্পিউটার সায়েন্সে ইনজিনিয়ারিং করছি  আর ও তখন ম‍্যাথ অনার্সে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব আর তা থেকে ক্রমশ ঘনিষ্ট হয়ে উঠি আমরা। এরপর কতদিন একসাথে ঘুরেছি, কত রাত আমরা বারে গেছি, বিয়ার খেয়ে উদ্দাম নেচেছি তার ঠিক নেই। কলেজে চেস চ‍্যাম্পিয়ান বলে বিশেষ খ‍্যাতি ও ছিল। ওকে 

কতদিন আমার সাথে নিয়ে গেছি বাইরের কলেজের টু্নামেন্ট খেলতে, ওকে খেলা ও শিখিয়েছি।সমরপিতার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল ওর চোখ গুলো। মোহনার মতো সুন্দর ওর চোখের স্রোতের  টানেই আমার হৃদ্য় ভেসে গেছিল। তখন ও আন্দাজ করতে পারি নি যে কত বড়ো কাল সাপ ঘাপটি মেরে আছে।আমাদের সম্পর্ক অনেক দূর গড়িয়ে কখন যে প্রেমের রূপ নেয় তার আভাস আমরা কেউই  টের পাইনি। সে সময় সমরপিতা প্রায় আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতো তুমি শুধু আমার , যদি কখনও মেয়ের দিকে চোখ তুলে দেখতে দেখছি না শেষ করে ফেলবো। আমিও ওকে রাগানোর জন্যে ইচ্ছে করেই ওর সামনে অন্য মেয়েদের সাথে flirt করতাম ও রেগে যেত। পরে কোনদিন চকলেট বা টেভি দিয়ে মানিয়েও নিতাম।ভালোই চলছিল আমাদের দুষ্টু মিষ্টি সম্পর্ক । এর মধ্যে ওর সম্পর্কে , ওর চরিত্রের সম্পর্কে অনেক কথাই শুনতে পেতাম তবুও কোনদিনই তাতে কর্ণপাত করিনি। বলে না যে অন্ধভাবে কাউকে বিশ্বাস করলে পেতেই হয় বিশ্বাস ঘাতকতা , সেটাই হলো। ঝটকা টা পেলাম এর কিছু মাস পরেই।

স্মৃতি মন্থনে নিমগ্ন হয়ে গেছিলাম , স্তব্ধতা ভাঙল মেসেনজারের এর আওয়াজে । 

অহনার একটা মেসেজ  ঢুকেছে ।

অহনা-কী Mr. Genius ঘুুমিয়ে গেলেন?

মেসেজটা পরে হাহা করে হাসলাম ঘরে বসে। 

ঘুম? সেটা হওয়ার জো আছে?

আবার শুরু করলাম সেই আদিম খেলা আর কথার জালে ধরা দিল অহনা। অহনা দেখা করতে রাজি হয়েছে আমার সাথে। 

ইয়েসসসসসসস!! ইয়েসস!! শেষে প্রতিপক্ষ যেন চেকমেট হয়েছে এবার। মনে পরল সেই সন্ধ্যার কথা যখন একদিন সমরপিতাকে অন্য একটা ছেলেএর হাত ধরে ফ্ল্যাটে উঠতে দেখেছিলাম। সেদিন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে না পেরে ফিরে তো গেছিলাম কিন্তুু কিছু দিনের মধ্যেই গোপন সূত্রে অনেক কিছু জানতে পারলাম। জানতে পারলাম আমি ছাড়াও নাকি অনেকের সাথেই সমরপিতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। রাগে গজ গজ করতে করতে ওকে মেট্রো তে ডাকলাম। 

সেদিন মেট্রো মোটামুটি ফাকা। ওকে সব কথা বলে আমাকে ঠকানোর কারণ জানতে চাইলে ও অবিস্ময়কর আচরণে তা ভুলিয়ে দিল।ও বললো, তুমি আমাকে সন্দেহ করছো ?

কিন্তু এবারে আমাকে ঠকানোর জো আর নাই কারন  আমার সাথে প্রমান ও ছিল। আর সবচেয়ে বড়ো ব‍্যাপার নিজের চোখেও ওকে সেদিন অন্য ছেলের সাথে দেখেছি। তাই সেদিন আর ওর মায়াবী চোখের ছলনা আমাকে প্রতরনা করতে পারে নি।

কিন্তু আসতে আসতে যখন সব প্রমাণ দিতে লাগলাম তখন সত্যিই ওর মুখটা দেখার মতোই ছিল। যেন ছদ্মবেশী নাগিন ফনা তুলে নিজের স্বরূপ ধারন করেছে।

ও বলেছিল, "ওকে ফাইন আমি মানছি আমার সাথে সৌগত, বিট্টু, সৌভিকের রিলেশন আছে।আর তাছাড়াও  তোমার সাথে আজকাল আমার মেন্টালিটি ও একদম ম‍্যাচ খাই না, সো আমাদের এই so called relationship এখনই শেষ করা উচিৎ।"


আমি রাগে দাঁতে  দাঁত চেপে বলেছিলাম, "ও যেই ধরা পরলে সব শেষ করতে চাইছ?"


ইতিমধ্যে আমাদের আশেপাশে টুকটাক করে লোক জমা হয়েছে। আমাদের কথা ওরাও দিব‍্যি শুনতে পারছে আর আমাদের কোলাহলের মজাও নিচ্ছে। আমি অধিকার ফলিয়ে ওকে জরিয়ে ধরতে গেলাম কিন্তুু ও এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ালো যেন সম্পূর্ণ 

অচেনা পুরুষ আমি ওর সাথে জবরদস্তি শলীলতাহানি করছি। আমি ততক্ষনে চারপাশের লোক দেখে নিজেকে সামলে দাঁড়াতেই সমরপিতা সজোরে আমাকে ধাক্কা মারল । আমি টাল খেয়ে গিয়ে পরলাম  মেট্রোর লাইনে আর তখনই ট্রেনটা ঢুকল।  হয়তো ধাক্কাটা এত জোরে দিয়ে ফেলবে ও নিজেও আন্দাজ করতে পারে নি।

প্রচণ্ড চিৎকার করে যন্ত্রণায় চোখে অন্ধকার দেখলাম।  ব‍্যাস এখন আমি এই অবস্থায়, বলতে গেলে একটি অশরীরী আত্মা। মৃত্যুর সময় আমার মনে ছিল চরম দুঃখ, প্রতিশোধস্পৃহা, আবেগ ও অসন্তুষ্টি তাই মৃত্যুর পর আমি শান্তি পাই নি। কিছুদিন এই ভাবেই ঘোরাঘুরির পর সদ‍্য

একটা অফিস ঘরের উপর তলার পরিত‍্য‍ক্ত ঘরে ঘাটি গেরেছি। এখানে অফিসের সব কাজ নিচের তলায় হয় । ওপরের ঘর গুলো অনেক বছর যাবৎ তালা দেওয়া, বাইরের সূর্যের আলোও ঠিকমতো এসে পৌঁছোয় না। তারপর ঝুল, মাকড়সার জাল এদিক ওদিকে তো আছেই আর কি চাই এরকম জায়গায় তো আমাদের জন্যে পারফেক্ট।

তাই আমি যে এখানে গত ছয়মাস ধরে আছি তা কেউ টের পাই না । সারা দিন অন্ধকারে ঘুমিয়ে কাটাই।রাত হলে উঠি,হাত-পা ছড়ায়, তারপর ফেসবুকে মেয়ে ধরি।সমরপিতার পর বিস্তর মেয়ে ঘেটেছি। আমরা যেমন মেয়েদের চেক আউট করি ওরাও করে কিন্তু লজ্জার দরুন বেশীরভাগ মেয়েরাই আগে থেকে অ্যাপরোচ করে না। সোশ্যাল মিডিয়াতে মেয়েদের ধরার জন্যে চাই একটা ঝকঝকে প্রোফাইল, ওয়ালে সুন্দর সুন্দর কিছু পোস্ট, মিমস ।আর মেয়েদের সাথে অনবরত ওদের আগ্ৰহের বিষয় নিয়ে স্মার্টলি কথা বলে যাওয়ার আর flirt করার টেকনিক। অধিকাংশ মেয়েরাই ব‍্যাড বয়ের প্রেমেই পরে সে যতই ওরা আমার তো ডিসেন্ট, ভদ্র ছেলে পছন্দ বলেই নাটক করুক না কেন। সাব কন্সাসলি মেয়েরা ছেলেদের কনফিডেন্স, ডোমিনেষ্ট আর লিডারশিপ নেচার দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর এসব ব‍্যাডবয়দের মধ্যে ই বেশী থাকে সচরাচর।

তবে আজকাল মেয়ে গুলো বড্ড খেলুুড়ে সহজে ধরা দিতে চাই না। 

৩৬ জনের যে ৫ জন মেয়ে এখন অন আসে না 

তারা আজ নিখোঁজ। কেউ জানে না তাদের কি হয়েছে , পুলিশ অনেক চেষ্টা করেছে ,ওদের সব 

জায়গায় তল্লাশি করেছে , ওদের ৫-৬টা বয়ফ্রেন্ডকে উদ্দুম কেলিয়োও কিছূ ডেটা বের করতে 

পারেন নি‌।

যেমন টিয়াশার কেস টা, সে নাকি বাড়িতে বলে গেছিল সে নাকি এক বন্ধুর বাথ ডে পার্টিতে যাাচ্ছে কিন্তু ফেরেনি সে। এদিকে বাড়ির লোক হন্নে হয়ে খুঁজেছে , যে বন্ধুর বাথ ডে ছিল তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করতে সে অবাক হয়ে জানিয়েছে টিয়াশা ওদের বাড়ি নাকি আসেই নি। তাহলে গেল কোথায় মেয়েটি?  আশ্চর্য ব‍্যাপার তো? 

সে যে আমার কাছে এসেছিল। 

মধুরিমার কেসটাতে সে নাকি প্রিন্সেপ ঘাট ঘুরতে এসেছিল।তারপর সেও ফেরেনি।।শুধু ওখানের লোকজন ওকে জলে ডুবে যেতে দেখেছে, কিন্তু ঘরের লোকেদের মতে সে সাঁতার জানত। পুলিশ সুইসাইড বলে কেস ক্লোজ করে দিলেও মধুরিমার মতো এত হাসি খুশি মেয়ে কেন সুইসাইড করলো সেটা আজও রহস্যজনক।

এরমভাবে বাকি তিনজনকেও মেরেছি। মূূূলত টিনেজার আর খেলূড়ে মেয়েরাই আমার লক্ষ‍্য। তবে সমরপিতাকে ভূত হয়ে কোনোদিন ভয় দেখানো বা অনিষ্ট করার চেষ্টা করিনি। কৃতকর্মের ফল ও তিলেতিলে ভোগ করুক সেটা চাই। সেদিনের পর থেকে জেল ই ওর ঘর। ইভেন সৌগত দা আর বাকী প্রেমিকরাও ওর আসল 

রূপ জেনে ছেড়ে দিয়েছে, সবচেয়ে 

বড়ো কথা মিডিয়া ওকে ভিলেন বানিয়ে ছেড়েছে।আমিও বেশি অন‍্য ভূতের সাথে মিশি না। যে পাঁচ জনকে মেরেছি তাদের থেকেও দূরে থাকি।

অহনা মেসেজ করল ,

-"দেখা তো করবে, পিক দাও কয়েকটা নইলে চিনবো কিভাবে? ফেসবুকের শুধু এই কটা পিকে যদি না চিনি?"

আমি চওড়া কাধের সুুশ্ররী যুবকের রূপ ধরে পিক পাঠালাম।

অহনা- wooooww Mr.Handsome 

আমি-এবার তোমার দাও।

অহনা-হিহি আমি কিন্তু দেখতে  খুব খারাপ।

আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় স‌ংকেত পাঠাচ্ছে যে, অহনাকে দেখতে ভালো ই। সমরপিতার 

পর বিস্তর মেয়ে ঘেটেছি, মেয়েদের কথার ভাজে লুকানো কথা তাই সহজেই ধরতে পারি। 

আমি - যেন আমি তো ছোটবেলায় এত কুৎসিৎ ছিলাম যে নার্স ম‍্যাডাম অজ্ঞান হয়ে গেছিল।

অহনা- বাবাহ! নাটক , এই দেখো ইটস মি।

অহনা নিজের একটা পিক দিল নীল রংয়ের একটি শাড়ি পরে, বেশ ফর্সা , হাসি টাও বেশ মিষ্টি।

ঠিক ধরেছিলাম সত্যিই সুন্দরী সে।

কিন্ত সমস্যা হল আলাপের স্থান নিয়ে কারণসন্ধ্যার দিকে বেরোতে ও নারাজ। এদিকে দিনের বেলায় আমার রোদে বেরোতে খুব কষ্ট । একদিন তো দিনের বেলায় ই ওর সাথে আলাপ করতে ওর কলেজে হানা দিয়েছিলাম সেই যে রোদে বেরিয়ে যা কষ্ট পেয়েছি আর দিনের বেলায় কোথাও বেরোয় না তাই। আমাদের আদর্শ সময় ই হলো রাত।


যাই হোক park circus র ফাঁকা  ময়দানে সাড়ে  পাঁচটার দিকে দেখা করতে রাজী হল। শীতের দিন বিকেল তো থাকেই না দুপুর গড়িয়েই যেন সন্ধ্যা।আমি আরও সন্ধ্যার দিকে বলছিলাম কারণ অন্ধকার যত গাঢ় হবে তত আমার সুবিধা। কিন্তু ও বললো বেশী দেরী হলে ওকে হোস্টেলে ঢুকতে দেবে না। যাইহোক সব ঠিক করে গুড নাইট বলে ও অফ হল।


পরদিন ঠিক সাড়ে  পাঁচটা নাগাদ যথাস্থানে গিয়ে দেখি আগেই ও এসে হাজির। আমি যথাযথ তাকে দেওয়া ছবি অনুুুযায়ী চওড়া কাধের হ‍্যান্ডসাম বয় এর রূপ নিয়ে ওর সামনে হাজির হলাম‌। আমার দিকে 

তাকিয়ে অহনা চোখ ফেরাতে পারল না।


অহনা- অ-অ-অর্ক???? 

আমি হাসলাম।

দূরে কোথাও গান বাজছে...


"দেখা হাজার ও দফা আপকো ফের বেকারারি কেয়সি হেই......."।

অহনা- পিক এর থেকে রিয়ালে তোমাকে তো অনেক হ‍্যান্ডসাম দেখতে !!!

আমি মনে মনে হেসে ভাবলাম আমার এই হ‍্যান্ডসাম চেহারা যখন ভয়ংকর রূপ নেবে তখন ওর অবস্থা ও টিয়াশার বা বাকি চারটে মেয়েদের মতোই হবে যাদেরকে ফাঁসিয়ে মেরেছি বা হয়তো গল্পের সেই নার্সটির মতো হবে যে আমাকে দেখে অজ্ঞান হয়ে গেছিল।টিয়াশাকে তো হোটেল রুমে আদর করতে করতে যখন নিজের রূপ নিলাম বেচারি চিৎকার ও করতে পারে নি। ও দৌড়ে দরজা খুলে পালাতে গেছিল কিন্তু পারে নি কারণ দরজা জুড়ে আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম।

অহনা আমার দিকে মন্ত্র মূগ্ধ হয়ে তাকিয়েছিল। শেষে আমিই বললাম।

আমি-চলো, আমরা পার্কের ভেতরে যাই ঐ পুল টার কাছে।

অহনা- কিন্তু ও দিকে তো অন্ধকার!!আর খুুুব শুনশান!!!

আমি- আমি আছি তো, আর তাছাড়া আমি যে বিশ্ববাস যোগ্য আর ভালো মানুষ সেটা 

অন্ধকারে না গেলে প্রমাণ হবে কি করে?

আমি কথার এমন তরঙ্গ ছড়িয়ে দিলাম ও কেমন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে গেল। 

অহনা(আমার চোখের দিকে তাকিয়ে):- চলো।

তার সেই মোহনার মতো চোখে যেন আমার আবেগের নৌকা যেন আবার খেয় হারাল। গল্প করতে করতে অনেকটা ছিমছাম জায়গায় চলে এসেছি আমরা। এমনিতেই ডিসেম্বরের সন্ধ্যা তাই ইতিমধ্যেই বেশ অন্ধকার চারিদিকে।‌ অহনা আমার হাত ধরে হাটছে আর ক্রমাগত বকেই যাচ্ছে। আমি টুুুকটাক হুম-হ‍্যা করে উওর দিচ্ছিলাম। আসতে আসতে আমার আক্রশ বাড়তে থাকে। কিন্তু জায়গা যত ছিমছাম হতে লাগল একটা জোরালো পদ্ম ফুলের 

গন্ধ যেন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল। আমরা ভূূূতেরা মানুষ চিনি গায়ের গন্ধ দিয়ে। অহনা যে পদ্ম গন্ধা, এই গন্ধের মেয়েরা যে বড়ো ভালো হয়। এই মেয়েকে নিয়ে এখন কি করি ?

ভাবতে ভাবতেই অহনা হঠাৎই যেন আমার হাতটা খুব ঠান্ডা অনুভব করে আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে 

চিৎকার করে ওঠে। আমি ততক্ষনে আমার বিভৎস রূপে চলে এসেছি।

ও দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ভয়ে দৌড়াতে থাকে। কিন্তু আমার সাথে পারবে কেন ?আমরা যে 

বিদ্যুৎ বেগে যেতে পারি। ওর পিছু করলাম ততক্ষণে বুঝে গেছি ও ভালো মেয়ে তাই ওর অনিষ্ট করতে চাই না।কিন্তু দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ ও একটা ট্রাকের সামনে এসে গেল। বিদ্যুৎ বেগে অহনাকে ওখান থেকে সরিয়ে আনি আমি। ততক্ষনে অহনার নির্জীব দেহ পর্ণমোচী বৃক্ষের শেষ পাতার মতো আমার কোলে হেলে পড়েছে। 

দূরের সেই গানের আওয়াজ তখনও ক্ষীণ ভাবে বেজে চলেছে,


 "Dekha hazaron dafa aapkoP

Phirbeqarari kaisi hai

Sambhale sambhalta nahi ye dil

Kuch app mein baat aisi hai"











Rate this content
Log in

More bengali story from SUBHAM MONDAL

Similar bengali story from Horror