ভাগ্য ফল
ভাগ্য ফল
একটা মিথ্যা কথা সেইদিন ওদের জীবনকে নতুন করে লড়াইয়ের মধ্য ফিরিয়ে এনে ছিলো , আজ বছরখানেক পর, সেই মিথ্যা আমাকেও ডুবিয়ে মারবে ভাবতে পারি নি।
আমার আশ্রমের গোশালা থেকে প্রতিদিন গোবর সংগ্রহ করে নিয়ে যেত মা মেয়ে। ক্ষুধার্ত পরিবার, মন্দির বাঁচে যাওয়া প্রসাদটুক নিয়ে যেত। পুরুষ সদস্যটি গোবর্ধন পরিক্রমা মার্গে ঝাঁটা নিয়ে দাড়িয়ে ভিক্ষা বৃত্ত করতো।
রোজ ওদের দুঃখের কাহিনী শুনে শুনে কান ব্যাথা হয়ে গেছিলো।তাই একদিন ওদের হাত দেখে বললাম "তোদের ধন প্রাপ্তি আছে। তোরা একটা ব্যাবসা চালু কর।" ওদের কিছু টাকা দিলাম, স্থানীয় আদালত ওরা খাবারের দোকান দিলো।
সেখানে গিয়ে ওদের মাথায় শুদ্ধ বুদ্ধির উদয় হলো, মহারাজ জীর কাছে দীক্ষিত হলো। অর্থাত আশ্রমের আরো কাছের মানুষ হলো।সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল, চৌবের সাথে দেখা হওয়াটা আমাদের বিপদে ফেললো। তখন আমি কলকাতায়, হঠাৎই ফোন, কিছু আধুনিক ডিজাইনার ব্লাউজ, মেকআপ কিটস, আর শাড়ি কিনে পাঠাতে বললো , মাতা জি সোনুর ফোন থেকে। এবং আমাকেও আশ্রমে তারাতারি ফেরার কথা বলা হল। বললো একটা শুভ খবর আছে।
আশ্রমে গিয়ে দেখলাম, আশ্রমের দিনলিপি বদলে গেছে। অবাক হলাম সোনুর মা মায়ার পোশাক দেখে। ঐ মেকআপের কিটস পোশাক ব্যাবহার করেছেন মায়া। ইস আমি অনেক যত্ন করে কিনেছিলাম পোশাক গুলো সোনুর জন্য ভেবেছিলাম ও বোধহয় চাকুরীর টাকুরি পেয়ে গেছে। কিন্ত আশ্রম ঢুকে দেখলাম গল্প অন্য।
চৌবের সাথে আলাপ মায়ার আদালতে। ওর ঢেলাতে চা খেতে এসেছিলো। নাকি দেড়শো কোটি টাকার জমি কিনেছে সে তার রেজিস্ট্রেশন জন্য এসেছে। এ অঞ্চলে আরো জমি কিনবে। মায়া আর মায়ার বর আজকাল ছোট্ট খাটো জমি দালালি করে।তাই এরকম বিনিয়োগকারিকে হাতছাড়া করতে চান না। ওদের জীবনের দিন লিপি বদলে গেলো। রোজ সকাল উঠে চৌবের বাইকের মায়া আর সোনু ওর বাবার বাইকে জমি দেখতে ছোটে খিদে পেলে , ছুটে আসে আশ্রমে। তবে চৌবের আসে। কারণ তিনিও আশ্রমে দীক্ষিত। এবং আশ্রমের গোশালার জন্য জমি কিনে দেওয়ার প্রতিশুতি দিয়েছেন।
তবে আমি উপলব্ধির করছি চৌবের লোকটির উদ্দেশ্য সঠিক নয়। এক মাস অতিবাহিত একটিও জমি পচ্ছন্দ হলো না। আশ্রমে থাকছে খাচ্ছেন আর মায়ার রূপ প্রশংসা করেছে।
আমি যে চৌবেকে পচ্ছন্দ করিছি না সেটার প্রমাণ পেয়ে গেলো সোনু চা বানাতে এসে। দুধ তখন শেষ হবার মুখে। চা বানাতে এসেছে দেখে আমি এক ঘটি দুধ খেয়ে নিলাম। আমি এমনিতে দুধ খাইনা। তবুও দুধ খায়ে নেওয়াটা যে একটা প্রতিবাদ সেটা সোনু বুঝলো।
আমি তবুও বললাম " তোদের চৌবেকে বলল, দুধ নেই গোশালা জন্য জমি নয়। একটা গরু কিনে দিক আগে। "
ও কিছুই না বলে চা নিয়ে চলে গেলো। আমি অবাক হলাম ও ঢিল খেলে পাটকেল ফিরিয়ে দেওয়ার মেয়ে। ও কিছুই না বলায় মন আরো খারাপ হয়ে গেলো আমি আমার নিজের ঘরে ফিরে এলাম।
সোনুর চা নিয়ে হাজির হলো আমার ঘরে " একটা মেয়ে সব কিছুই বোঝা। তুমিও জানো তুমি নিজেও খুব একটা সাধু পুরুষ না। বাবা মাকে বড়লোক হবার স্বপ্ন দেখিয়ে চায়ের দোকান খুলে দিলে। তার পিছনের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে ইমপ্রেস করা। চায়ের দোকান করে কেউ কোটি পতি হয় না। তুমি মিথ্যা বলছিলে। চৌবেও মিথ্যা বলছে। তবুও মিথ্যা আশা নিয়ে স্বপ্ন দেখে আমাদের মতো গরীব মানুষেরা। ষদি সম্ভব হয় এই মরিচীকার পিছনে ছোটা কিভাবে বন্ধ হয় সেটা দেখ।"
কথা গুলো বলে ও বরিয়ে যেতে যাচ্ছিলো। ও খুব সিরিয়াস দেখে , আমি ওর হাত ধরে বললাম " তাতে কি লাভ? "
ও বললো " লাভ চাই না।এই যে হাত ধরছো। সেটাও ধরতে পারবে না কয়েক দিন পর। আমাদের চাষের জমিটাও দেখেছে চৌবে। আমাকে ওর খুব পচ্ছন্দ , ছেলের বউ করবে। তবে বর পন হিসেবে জমিটা চাই।"
আমি ভয় পেয়ে একটু তৎপর হলাম। সোনুর সহযোগিতায় আপদ বিদায় হলো। লাভ হলো আমারও, ওও অনেক দিন পর আমাকে একটু আদর করলো।

