Manasi Ganguli

Classics

4.8  

Manasi Ganguli

Classics

বেটার লেট দ্যান নেভার

বেটার লেট দ্যান নেভার

3 mins
719


  বিখ্যাত কোম্পানির চিফ ইঞ্জিনিয়ার সনৎ চ্যাটার্জী নিজের মতামতটা প্রায় জোর করেই চাপিয়ে দিয়েছেন ছেলে দীপ্তর ওপর। নিজে বরাবর মেধাবী ছাত্র ছিলেন, ভালো ইনস্টিটিউট থেকে ভালো র্যাঙ্ক নিয়ে পাস করে, বিদেশ থেকে আরও ডিগ্রী নিয়ে ভালো সংস্থায় চাকরি করছেন তিনি প্রথম থেকেই। একমাত্র সন্তান দীপ্তও মেধাবী ছাত্র। ছোট থেকে তাকে কড়া শাসনে বড় করেছেন সনৎ চ্যাটার্জী। পরীক্ষায় কম নম্বরের কোনো ক্ষমা ছিল না কোনোদিন। ছেলের মধ্যে তিনি নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে চেয়েছেন। ছেলেও যথারীতি বাবার চাহিদামত ভালো রেজাল্ট করে এগিয়ে চলে। বোর্ডের পরীক্ষায়ও খুব ভাল ফল করে সে। এরপর বাবার ইচ্ছেয় তাকে সায়েন্স পড়তে হয়,বরং বলা ভাল বাবা তাকে বাধ্য করেন সায়েন্স পড়তে,যদিও তার লিটারেচারে ঝোঁক ছিল। বাবার প্রবল ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নি দীপ্ত,গলা তুলে বলতে পারে নি তার মনের ইচ্ছে। বাধ্য হয়েই সায়েন্স নিয়ে পড়েছে সে। আর যেহেতু জানে খারাপ রেজাল্টের কোনো ক্ষমা নেই,তাই ভাল রেজাল্টই করেছে সে। অবশ্য দীপ্তও মেধাবী ছেলে কেবল তার ঝোঁকটা ছিল সাহিত্যের দিকে।

     এরপর বাবার ইচ্ছেমত এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বসতেও হয় তাকে আর ভালো র্যাঙ্কিংও হয়। এবারও বাবার ইচ্ছায় খুব নামী এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হতে হয় ওকে। খুব ইচ্ছা ছিল ওর আর্ট কলেজে ভর্তি হবার। ছবি আঁকতে ভালোবাসে বড্ড, ওর আঁকা ছবিগুলো হয়ে ওঠে জীবন্ত। যেখানেই কোনো ওয়ার্কশপ হয় ও শিখতে চলে যায়। এভাবে পড়াশুনোর মাঝেই নানারকমের আঁকা শিখেছে ও। ওদিকে ইন্জিনিয়ারিংএও ভাল রেজাল্ট করে চলেছে ও,যদিও সেটা বাবার ভয়ে। মনের খিদে ওর মেটে না। প্রথম দুটো বছর ভাল রেজাল্ট করার পর,তৃতীয় বছরে কলেজের যত কালচারাল প্রোগ্রাম নিয়ে মাতামাতি শুরু করে ও। এতে ফার্স্ট সেমিস্টারের রেজাল্ট আগের থেকে বেশ অনেকটাই খারাপ হয়,আর এসব করতে গিয়ে অনেক ক্লাস মিস করে ও। অ্যাটেনডেন্স কম হওয়ার দরুন তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলে কলেজ থেকে বাড়িতে জানানো হয়।

    সনৎ চ্যাটার্জী রাগে অগ্নিশর্মা। ছেলেও বাবাকে এড়িয়ে চলে। মা ছুটল হোস্টেলে ছেলের কাছে অবস্থা সামাল দিতে। ক্রমাগত মনের বিরুদ্ধে চলতে চলতে মনের ওপর চাপ পড়তে পড়ে দীপ্তর মধ্যে অবসাদ বাসা বাঁধতে শুরু করেছে তখন। অবসাদ কাটাতে নানারকম নেশার দ্বারস্থ হয়ে পড়েছে সে। এতদিনে ওর ভেতরের বিদ্রোহের বহিঃপ্রকাশ শুরু হল। কিছুতেই ও আর ইন্জিনিয়ারিং পড়বে না। মা ওকে বাড়ি নিয়ে এলেন।আগে ছেলেকে সুস্থ করা দরকার। সেবছর দীপ্তর আর পরীক্ষায় বসা হল না। বাবা মা,আত্মীয়স্বজন সবাই বোঝালেন পরেরবার পরীক্ষায় বসতে,কোর্স কমপ্লিট করে নিতে। সে ছেলে তখন নাচার। এমন অবস্থায় তাকে সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যেতে হয়। বাবা এতদিনে বুঝতে পারলেন তাঁর বিরাট ভুল হয়ে গেছে। এভাবে ছেলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা তাঁর ঠিক হয় নি। তবু বহুবার ছেলেকে বোঝাবার চেষ্টা করলেন, "আর তো একটা বছর, এতদূর এগিয়ে ছাড়িস না পড়াটা। কোর্সটা কমপ্লিট করে নে,তারপর তোর যে লাইনে যাবার ইচ্ছে সেখানেই যাস,আমি বাধা দেব না।" কিন্তু সে ছেলে না তো না,কিছুতেই তাকে দিয়ে আর ইন্জিনিয়ারিং পড়া কন্টিনিউ করানো গেল না।

     কয়েক মাস বাড়ি থাকার পর সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শমত চলে ও মায়ের আদরে যত্নে ছেলে খানিকটা সুস্থ হলে বাবা তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করেন, "কি করতে চাস বাবা তুই বল,আমি রাজি"। এতদিনে ছেলে বাবার সঙ্গে ফ্রি হয়ে কথা বলল তার ভয় কাটিয়ে,"আমি আর্ট কলেজে পড়তে চাই "। বাধ্য হয়েই বাবাকে মত দিতে হয়। নিজের ভুল নিজেকেই সংশোধন করতে হবে। মনে পড়ে তাঁর জয়েন্টে ডাক্তারি, ইন্জিনিয়ারিং দুটোতেই ভাল র্যাঙ্ক পেলে বিখ্যাত ডাক্তার বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে ডাক্তার হোক। তাহলে পাশ করে বেরিয়েই বাবার সাজানো বাগানে ফুল ফোটাতে পারবে সে। কিন্তু ছেলের বড় গোঁ ছোট থেকেই, যা বলবে তাই করবে। তাই বাবা আর জোর করেন নি,ছেলের পছন্দকেই প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি। সনৎবাবু ভাবছেন," আমার বাবা তো ভুল করেন নি,আমার মতের বিরুদ্ধে জোর করে নিজের মতামত চাপিয়ে ডাক্তারিতে ভর্তি করেন নি তিনি আমায়,আমি কেন এতবড় ভুল করলাম? ছেলের জীবনের তিনটে মূল্যবান বছর আমি নষ্ট করে দিলাম"। মনে মনে আজ তিনি অনুতপ্ত। নিজেকে তিনি সান্ত্বনা দেন এই বলে, "বেটার লেট দ্যান নেভার"।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics