বাংলার দোল উৎসব
বাংলার দোল উৎসব
বাঙালির দোল উৎসবের নাম হোলি। ভক্ত প্রল্লাদকে রক্ষা করতে বিষ্ণু রাক্ষসী হোলিকাকে পুড়িয়ে ফেলেন।রাক্ষসী হোলিকার ভস্ম হয়ে যাওয়া ছাই থেকেই শুরু হয় হোলি খেলা । তবে এই উৎসব কে দোল বলা হয় কেন? বলা হয় ফাল্গুনী পূর্ণিমায় শ্রীকৃষ্ণ দোলনায় আরোহন করতেন। দোলনা শব্দ থেকেই 'দোল' শব্দটি এসেছে। তবে বাংলার দোল উৎসবের অনেকটা আলাদা।
দোলের আগের দিন রাতে আমরা জ্বালি চাঁচরি। তা জ্বালার আগে পূজা করা হয় শ্রীকৃষ্ণের। দোলপূর্ণিমার আগে শুক্লা একাদশী থেকেই শুরু হয় দোল উৎসব পদ্মাপুরাণ অনুযায়ঈ। তা শেষ হয় দোল পূর্ণিমার পরের কৃষ্ণা পঞ্চমী তিথিতে। পাঁচদিন ধরে দোল খেলে বলে হয় 'পঞ্চম দোল'। আর আট দিন ধরে খেললে তাকে বলা হয় ‘অষ্টম দোল'। আজও বহু মন্দিরের এই দুই ধরণের দোলের প্রচলন রয়েছে। যেমন জয়নগর অঞ্চলে পঞ্চম দোল চালু আছে।
তবে হঠাৎ করে বাংলার বাইরে একটি দোল উৎসবের কথা আজ মনে পড়লো।গোয়ার উপকূলে প্রতি বছর উদযাপিত হয় শিগমো। ১৪ দিনের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব বসন্ত ঋতুর আগমনকে স্বাগত জানান ৷ কৃষকরা এই ঋতুকে স্বাগত জানায় সঙ্গীত, উল্লাস এবং রঙ খেলার মধ্যে দিয়ে।
পৌরাণিক কাহিনী দিকে যাচ্ছি না। আমি বারবার বলতে চাই আমি কোন সিদ্ধান্ত নয় একটা ভাবনা তুলে ধরা চেষ্টা করছি। কারণ হিন্দু ধর্মকে অবমাননা করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং মনে আমার মনে হয় কৃষি সংস্কৃতি সম্মানিত করেছে এই ধর্ম। আমার মনে হয়, দোল উৎসব আসলে প্রাচীন কৃষি সংস্কৃতি প্রতীক। কারণ আমার আগে ঝুম চাষ করতাম। জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে চাষ যোগ্য জমি উদ্ধারে পর হয়তো কৃষিরা উৎসবে মেতে উঠতেন সেখান থেকেই এই দোল বা হোলি উৎসব সুচনা।
কোথায় পড়েছিলাম বাঁশ, কাঠ, শুকনো পাতা, খড় দিয়ে ভেড়া বা মেড়া- তৈরি করে তার পুজো করে পোরানো হতো । সাথে আগুনের মধ্যে দেওয়া হত বিভিন্ন ফল। তার ছাই, অর্ধদগ্ধ ফল জমিতে দিলেই ভালো শস্য পাওয়া যাবে, বাড়িতে রাখলে সংসারের মঙ্গল হবে এ রকম লোক বিশ্বাস ছিলো। বর্তমানে সেই সংস্কার বদলে শুধু চাঁচর পোড়ানো রিতী তৈরি হয়েছে হয়তো।
চাঁচরের প্রসঙ্গে আমার মত ঋতুচক্রের শেষ উৎসব এটি। বৈশাখের প্রতীক্ষা। এই সময় পড়ে থাকা গাছের শুকনো পাতা, তার ডালপালা একত্রিত করে জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্যে এক সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে । এই হোলি উৎসবে, দোলের আগের দিন ‘চাঁচর’ পুরনো জঞ্জাল, রুক্ষতা, শুষ্কতা সরিয়ে নতুনের আহ্বান।
তবে বাংলার দোল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৃন্দাবন মথুরা দোল নিয়ে কিছু কথা বলতেই হয়। মথুরা অঞ্চলের বিখ্যাত হোলি উৎসব হলো লাঠমার হোলি।
এর গল্পটি মজাদার, বলা হয় পুতনা রাক্ষসীর বিষাক্ত দুধ খেয়ে কৃষ্ণ কালো ছিলো। এর ফলে রাধা ও গোপিনীদের দ্বারা নানা ভাবে করা বিদ্রুপ মুখোমুখি হতে হতো কৃষ্ণকে । তাই যোশদার কথায় রঙ মাখিয়ে দেন শ্রীকৃষ্ণ রাধা আর গোপিনীদের। এবং তাঁরা কৃ্ষ্ণ ও তার সখা দের লাঠি নিয়ে তাড়া করে। এখান থেকেই লাঠমার হোলি শুরু।
কিন্তু আর্য অনার্য তত্ত্বের ভিত্তিতে এটা একটা নতুন দিক। তাহলে কি এই দুই বর্ণের মিলন উৎসব এই হোলি উৎসব। আসলে সমাজের। অনেক ঘটনাকেই বোধহয় ধর্ম একটা প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। যদিও আমি এটা একটা প্রশ্ন হিসাবেই রাখছি। এটা কখনোই আমার সির্দ্ধান্ত নয়।
