অ্যাগোরাফোবিয়া
অ্যাগোরাফোবিয়া
কবরস্থানে ঢুকে হাঁটতে হাঁটতে একটা এবি পাথরে চোখ পড়ল। সেটার পাশে উবু হয়ে বসে পড়ল বারবারা। খুব খিদে পেয়েছে ওর। চোখের জল মুছতে মুছতে ব্যাগ খুলে একটা পেস্ট্রিকেক বের করে খেতে থাকলো। হেরা বুশ, তার নিচে ১৮৯৬-১৯২৮, তার নিচে আরো কিছু লেখা আছে কিন্তু সেই দিকে বারবারা আর তাকায় না। তার মনে হচ্ছে কেজেনো তার দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু ডানদিকে তাকাতেই সে সার সার এবি পাথরে সাজিত কবর ছাড়া কিছুই দেখতে পায়না। মনের ভুল ভেবে আবার পেস্ট্রিকেকটা খেতে যাবে এমন সময় মনে হলো কেজেনো সেন দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। ফের তাকালো কিন্তু দৃশ্যর কোন পরিবর্তন হলো না। সেই সার সার এবি পাথর আর তার নিচে কবর গুলো। বারবারার এবার একটু ভয় লাগলো। সে বুঝতে পারল গতবার মনের ভুল ভাবাটাই ছিল তার মনের ভুল। সে তাড়াতাড়ি মুখে পড়ে দিল পেস্ট্রিটা। সে বুঝতে পারল যে তার দিকে তাকিয়ে আছে, তাকে সে দেখতে পাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু সেই অদৃশ্য জিনিসটা তাকে নিজের উপস্থিতি অনুভব করাচ্ছে। মুখ ফিরিয়ে মায়ের কবরের পাস থেকে উঠে পড়ে বাঁদিক ধোরে যোর পা চালিয়ে দেয়। অনেকটা জায়গা নিয়ে কবরস্থানটা, তাই সেখান থেকে বেরোনো যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বারবারা ক্ষণিকের জন্য দাড়িয়ে পরে তারপর পিছন ফিরে তাকায় আর দেখে তার মায়ের কবরের পাশে যেখানটায় সে বসেছিল, এখন সেখানে একটা ছায়া মূর্তি বসে আছে। সে কিছুক্ষন সেখানে দাঁড়িয়ে বোঝার চেষ্টা করে মূর্তিটা কার। তার মায়ের নয়তো। মা কি তাহলে তার সাথে দেখা করতে এসেছে। কিন্তু ওপারে চলে যাওয়া মায়ের সাথে দেখা করার ইচ্ছা নেই বারবারার। মনে আর একটু সাহস সঞ্চয় করে সে আবার এগিয়ে যায় কবরটার পাশে। মূর্তিটা তেমনভাবেই ডানদিকে মুখটা ঘুরিয়ে রেখেছে। বারবারা খেয়াল করে তার ব্যাগটা পরে আছে মূর্তিটার পাশে। কিছুক্ষণ আগে সে এতটাই ভয় পেয়েছিল যে ব্যাগটা ফেলেই পালানোর উপক্রম করেছিল। কিন্তু বারবারা এটা বুঝতে পারে না যে, মূর্তিটা তার দিকে ফিরছে না কেন। এমন হবে না তো, মূর্তিটা হঠাৎ তার দিকে ফিরবে আর সে ভয়ে সেখানেই চেতনা হারাবে। এইসব প্রশ্ন তার মাথায় ভিড় করতেই সে একটা দুঃসাহসিক কাজ করে ফেলে। মূর্তিটার মুখ দেখার জন্য ডানদিকে গিয়ে তার মুখের দিকে তাকায় আর বিষয়ে হতবাক হয়ে যায়। তার সামনে দাঁড়িয়ে আর একটা বারবারা। দেখে মনে হচ্ছে কবরস্থানে কেউ আয়না লাগিয়ে দিয়ে গেছে আর সেই আয়নার সামনে সে দাঁড়িয়ে আছে। নিজের হাত দুটো চোখের সামনে তুলে ধরতেই, ক্ষনিকের ব্যবধানে সেদুটির উধাও হওয়া শুরু হয়েছে। ৺বারবারা আর কিছু ভাবতে পাড়লো না।

