Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Maheshwar Maji

Tragedy


2  

Maheshwar Maji

Tragedy


অঙ্কুরোদ্গম

অঙ্কুরোদ্গম

4 mins 1.1K 4 mins 1.1K


বিমল আজও তেমনি ঘুরে বেড়ায়,যেমনটা প্রায় বছর দশেক আগে ঘুরে বেড়াত।বাংলায়

গ্র্যাজুয়েশন করার পর ইউনিভার্সিটিতে আর ভর্তি হয়নি।সে ছিল বাড়ির বড় ছেলে।বাবার সামান্য আয়।মোড়ে তেলেভাজা বিক্রি করতেন।চাষের জমিজমা বলতে ওই বিঘে দুই।তা দিয়ে চারটে ডাগর পেটের আগুন নেভানো দুষ্কর হয়ে উঠছিল।

বিমলের বোন শুভ্রা তখন সবে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে কলেজে ভর্তি হবে কিনা সেই নিয়ে আকাশ,পাতাল চিন্তায় নিজের ভবিষ্যতকে মুঠো করে বসে ছিল।বিমল তাকে অভয় দিয়েছিল।শেষমেশ অনেক চেষ্টার পর শুভ্রাকে একটা কলেজে ভর্তি করা হল।

বিমল দুটো টিউশন ব্যাচ ধরল।সারাদিন সাইকেলের প্যাডেল ঠেলার পরও সে কিছু সময় পেন,খাতা নিয়ে বসে থাকত।

নিজের ব্যর্থ সময়কে অক্ষরের তুলি দিয়ে কখনো কবিতা কখনো বা গল্প আঁকত।

সেই সুবাদেই স্থানীয় একটা পাক্ষিক মুখপত্রের সম্পাদক অনিল করের সাথে তার ভাব গড়ে উঠল।সেও মোটামুটি তার বয়সী।তবে প্রাণচঞ্চলতা,বিমলের থেকে অনেক বেশি।তার বাবা সরকারি চাকরি করেন।দাদার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে।অনিল ইউনিভার্সিটির পড়াশুনোর ফাঁকে "মুখর"কে জনমানসের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।বিমলও তার সাথে জুড়ে গেল।প্রতি সংখ্যায় দু মলাটের মধ্যে সাহিত্যের ভাগে দুটো কবিতা পড়ত।বাকি কিছুটা বিজ্ঞাপন আর বাকিটা স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে কিছু প্রতিবাদী কথা।

একদিন সন্ধ্যের সময় বিমলের ডাক পড়ল চাটুজ্জেদের বৈঠকখানায়।দশ-বারো জনের জটলায় তখন হাসির ফেনা জমে উঠেছিল।বিমলকে দেখা মাত্রই অজয়বাবু বাকিদের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,আমি একটু ভেতর থেকে আসছি।তোমরা কেউ উঠবে না কিন্তু।

তারপর বিমলকে সাথে চলার ইশারা করে ভেতরের ঘরে বসালেন।

বিমলদের বাড়িটা মাটির।চালে টালি চাপান আছে।তার কয়েকটা বাঁদরের উৎপাতে ভেঙে গেছে। ফাঁক দিয়ে রোদ,বৃষ্টি,হাওয়া পালা করে ঢোকে।সারানোর উপায় নেয়।কঞ্চি,বর্গাগুলোকে উইপোকা ঝাঁঝরা করে রেখেছে।একটা মানুষের ওজন বাঁদরের প্রায় দু,তিন গুন।তাই ভরসা করা যায় না। শেষে সব টালিগুলো ভেঙে পড়লে গাছতলায় গিয়ে বসতে হবে।অথচ এই ঘরখানা আগাগোড়া কত শক্ত!বিমলের মনে হল ভূমিকম্পেও টলবে না।বিমলের মনে প্রশ্নরা ভীড় জমাল।এমন কেন?অজয়কাকু তো চাষবাসও করেন না।আর কোন মোড়ের মাথায় চপও ভাজেন না।শুধু জটলা করে বসে থাকেন এ গাঁয়ে,সে গাঁয়ে।

অজয়বাবু বিমলকে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসিয়ে নিজে হাঁটু মুড়ে তক্তপোশের উপর বসলেন।তারপর এক মুখ সিগারেটের ধোয়া উগরে বলে উঠলেন,

-----ইন্দিরা আবাসের লিস্টে ভাবছিলাম তোমাদের নামটাও উঠিয়ে দেব।তোমার বাবা সেদিন মোড়ে গল্প করছিল যে এ বছর বর্ষায় একদিকের চালাটা হয়তো ধসে যাবে।

বিমলের বুকটা ধড়াস করে বেজে উঠল।

অজয়বাবু তারপর সংক্ষেপে বলে উঠলেন, কবিতা লেখা ভাল,উপন্যাসের বই পড়ো।বাংলায় বড়,বড় লেখক জন্মগ্রহণ করেছেন।নিজেকে ভুলে থাকার সবথেকে সহজ উপায় তারা বাতলে গেছেন।তবে পঞ্চায়েতের কাজে আমাদের নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখপত্রের পাতা ভরানোটা তোমার ঘোর গোঁয়ার্তুমী---করো না। আমার কাছে একশো কপির সত্তরটাই পৌছে গেছে।বাকি তিরিশটা বিরোধীদের দখলে।

বিমল চমকে উঠল।তবু নিজেকে শক্ত করে বলে উঠল,

---আমি মিথ্যে কিছু তো লিখিনি।

---সত্য-মিথ্যের আসল চেহারা তুমি এখন দেখলে কোথায়?

বিমল চুপ হয়ে গেছিল। ভাঙা চালটার কান্না তার কান দুটোকে ভোঁঁতা করে দিচ্ছিল।চালের কঞ্চি আর নিজের পাঁজরটাকে এক মনে হচ্ছিল।

অজয়বাবু সিগারেটের ছাই ফেলে আবার বলে উঠলেন,

----শুভ্রাকে আই.সি.ডি.এস পরীক্ষায় হাজিরা দিতে বলো।দেখি কিছু করা যায় কিনা।তবে তোমাকে চুপচাপ থাকতে হবে।দু ব্যাচের জায়গায় চার ব্যাচ শুরু করো।তবু অনিলের সাথে একদম দেখা করো না। ওদের মেঝে কিন্তু মোজায়েক করা।লক্ষ্য করেছ নিশ্চয়ই?আর তোমাদের মেঝেটা অল্প জলেই স্যাতস্যাতে হয়ে যায়।সেটা খেয়াল রেখো।

ঘটনার দুদিন পর অতনুবাবু তাকে মোড়ের মধ্যে কাঁধে হাত রেখে বলে উঠলেন

---এই যে বিমল।ভাই, তুমি আমার থেকে বয়েসে যথেষ্ট ছোট।তবু কাঁধে হাত রাখলাম।আসলে এ পথে আমরা সবাই একে অপরের বন্ধু।তুমি তো একেবারে ফাটিয়ে দিয়েছ ভাই।ইস্যুটা আমাদের মাথায় এতদিন খেলেইনি।তোমার লেখাটা পড়ার পর এল।এবার একটা বড়সড় প্রচারে নামব ভাবছি।

  তারপর বিমলের পিঠে আলতো একটা টোকা দিয়ে আবার বলে উঠলেন, এসো বসে একটু চা খাওয়া যাক।

বিমলের ভাল লাগছিল না। পেটে টানও ধরেছিল।প্লেট ভর্তি রসগোল্লাগুলোকে অগ্রাহ্য করার দুর্মতি তার ছিল না।সুতরাং আরো কিছুক্ষণ ধৈর্য্য ধরে বসে থাকতে হল।

অতনুবাবু বলে উঠলেন

---শুনছি অজয় তোমাকে বেশ করে ধমকেছে।একদম ভয় পাবে না বিমল।আমরা তোমার সাথে আছি।কলম থামিও না। পারলে প্রকাশ্যে আমাদের মঞ্চে তোমার বক্তব্য রাখো।দল তোমাদের মত টগবগে শিক্ষিত যুবকদেরকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।জানি আজ তোমাকে তার জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করতে হবে।তবে একটা কথা তুমি জেনে রাখো।আগামীদিনগুলো কিন্তু তোমার।কিছুতেই তুমি অজয়ের চোখরাঙানি বা প্রলোভনের সামতে নত স্বীকার করো না। ও তোমার একটা চুলও বাঁকা করতে পারবে না। আর মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ওরা ভুলে যায়।সে কথা তোমাকে নিশ্চয়ই আলাদা করে বলার দরকার হবে না?

আর একটা কথা,তোমার কবিতাগুলো জমা করে আমাকে একদিন দিও।আমার এক বন্ধু প্রেসের ব্যবসা করে।ওকে বলেছি,তোমার প্রথম কাব্যগ্রন্থটা কোনোরকম প্রফিট ছাড়া ছেপে দিতে হবে।বাকি খরচাটা আমরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে জোগাড় করে নেব।আমার তরফ থেকে শুধু একটাই অনুরোধ, ওই শালাদের নকল মুখোশ তোমার কাব্যছুরি দিয়ে একেবারে ফালা-ফালা করে দিও।

বিমল সেদিন ফিরে এসে চিলেকঠায় শুয়ে ভাঙা টালির ফাঁক দিয়ে রাতের এক টুকরো আকাশ দেখছিল।সারারাত কেটে গেছিল।তবু ওইটুকু অংশতে কয়টা তারা ফুটে আছে?কিছুতেই সঠিক গুনতে পারল না। যেটাকে গুনছে সেটা মিলিয়ে গিয়ে যেখানে ফাঁকা সেখানে অন্য তারা দেখা দিচ্ছিল।

সেই বর্ষাতেই তাদের জীর্ণ ঘরটার একদিকটা ভেঙে পড়ল।দুটো ছাগল আর একটা বাছুর মারা গেছিল।

তাদের ভাঙা চালের শব্দ সেদিন পাড়ার জনাকয়েক ছাড়া কেউ শুনতে পাননি।অজয়বাবু,অতনুবাবু সবাই বিমলের থেকে দূরে সরে গেছেন।কারণ ও কারো দলীয় ঝান্ডা হাতে তুলে কবিতা লিখতে চায়নি।তাই নিজেকে পিষে প্রতি মুহূর্তে বাস্তবের সমস্ত প্রয়োজন মেটাতে হয়েছে।

ইন্দিরা আবাসের ঘর তারা পায়নি।তার বাবা অনটনের দায়ে আত্মহত্যা করেছেন।শুভ্রা অন্য জাতির একজন ছেলের হাত ধরে বেরিয়ে গেছে বছর কয়েক আগেই।তার মা একমাত্র তাকে সংসারী দেখার ইচ্ছেই চোখ দুটো আজও জ্বেলে রেখেছেন।

কিন্তু বিমল সেই আগের মতই বেকার।ঘুরে বেড়ায়--সকাল,বিকেল পুরনো সাইকেল ঠেলে।সৃষ্টির বীজ বুকে পুঁতে একটা অনুকূল আবহাওয়ার প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে অঙ্কুরোদ্গম ঘটাবে বলে।সবুজ পাতা মেলে তার আকাঙ্ক্ষারাএকদিন ভোরের শিশিরে চান করে সকালের নরম রোদ গায়ে নেবে।

         ------সমাপ্ত----


Rate this content
Log in

More bengali story from Maheshwar Maji

Similar bengali story from Tragedy