STORYMIRROR

Krishna Banerjee

Classics Crime

3  

Krishna Banerjee

Classics Crime

অচেনা পৃথিবী

অচেনা পৃথিবী

6 mins
164

    

                              ডক্টর লাহেরী চেয়ারে বসে কম্পিউটারের কিছু একটা করছিলেন , এমন সময় নার্স খবর দেন স্যার পেশেন্টের জ্ঞান ফিরেছে । ডক্টর লাহেরি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ান , বলেন তুমি যাও আমি আসছি । মেয়েটি ডক্টর লাহেরির ঘর থেকে বেরিয়ে ওটির দিকে রওনা হয় , পথে মুখোমুখি হন চিত্রার বাবা ও মায়ের । চিত্রার মা জিজ্ঞাসা করেন নার্স দিদিমণি আমার মাইয়াটা কি কথা বলছে ? নার্স জানান সবে জ্ঞান ফিরেছে , এখনো কোনো কথা বলেনি সে । ডাক্তারবাবুকে জানিয়েছি উনি আসছেন উনি দেখার পরেই আপনাদের কিছু বলতে পারব। দিদিমণি আমার মাইয়াটা বাঁচবে তো ? নার্স একটু হেসে বলেন আর কোন ভয় নেই চিত্রা এখন বেশ সুস্থই আছে । ডাক্তারবাবু চেকআপ করে ওকে বেডে দিয়ে দিলে আপনারা ওর সাথে কথা বলতে পারবেন । ডক্টর লাহেরী হন্তদন্ত হয়ে ওটির দিকে এগিয়ে আসছেন , চিত্রার মা তার পা দুটো জড়িয়ে ধরেন , ডক্টর লাহিড়ী বলেন এটা কি করছেন আপনি উঠুন উঠুন । চিত্রার মাকে তিনি তুলে দাঁড় করান । চিতার মা বলেন আপনি মানুষ নয় ভগবান , ডক্টর লায়েরি বলেন আমরা কেউ ভগবান নই। ভগবান ছিলেন বলে এই যাত্রা চিত্রা বেঁচে গেল । আপনারা আর একটু অপেক্ষা করুন আমি একবার চেকআপ করে নিয়ে ওকে বেডে দিয়ে দেবো । চিত্রার মা-বাবা ডক্টর লাহেরি কে করজোরে প্রণাম জানান । ডক্টর লাহেরিও ওনাদের প্রণাম জানিয়ে ওটির দিকে চলে যান ।

                             অফিসার চ্যাটার্জির গাড়িটা তার বাড়ির সামনে এসে থামে , গাড়ি থেকে নেবে সে তার স্ত্রী ঝুমাকে ডাকতে ডাকতে এগিয়ে যায় বাড়ির দরজার দিকে। কোন উত্তর আসে না ভিতর দিয়ে । একটু অবাকই হন মিস্টার চ্যাটার্জি , মিস্টার চ্যাটার্জির গলার আওয়াজ পেয়ে ঝুমা বাইরে বেরিয়ে আসলো না এটা একটু ভাববারই বিষয় । মিস্টার চ্যাটার্জির তো আর শত্রুর অভাব নেই । এবার একটু সন্দর্পণে দরজাটা ধাক্কা দেন মিস্টার চ্যাটার্জি , একটু অবাক হয়ে যান বলেন , দরজাটা ভিতর দিয়ে খোলা রয়েছে । কয়েক মুহূর্তের জন্য তার মাথায় একটা অশুভ চিন্তা খেলে যায় । তাহলে কি ঝুমার সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটলো । ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করে ঝুমাকে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগলেন মিস্টার চ্যাটার্জি । গলার শব্দ টা একটু ম্লান লাগছে , তিনি তার স্ত্রীকে ডাকতে থাকলেন ঝুমা , ঝুমা তুমি কোথায় ? এক এক করে প্রায় সব কটা ঘর খুঁজে পেলেন মিস্টার চ্যাটার্জি , এবার তার মনের ভেতরটা ধুকপুক করতে আরম্ভ করল , এমন সময় পিছন দিক দিয়ে ঝুমা থেকে জড়িয়ে ধরে বলো সারপ্রাইজ । এবার মিস্টার চ্যাটার্জী একটু গম্ভীর ভাবে বললেন এগুলো কি ধরনের কথাবার্তা তুমি কি জানো আমি কতটা টেনশন করছিলাম ? ঝুমা বলে যেমন চাকরি করো তাতে তো সারা জীবনই টেনশন করতে হবে । মিস্টার চ্যাটার্জি বলে কি করবো বলো? কপালে যাচ্ছিল তাই তো হবে , ওসব ছাড়ো তুমি কোথায় ছিলে বলতো ? ঝুমা একটু হেসে বলে আমি তো সবসময় তোমার সাথেই ছিলাম । অফিসার চ্যাটার্জি বলেন আজকে তোমাকে না একটু আলাদা ধরনের লাগছে , ব্যাপার-স্যাপার কি বলতো ? ঝুমা বলে আছে আছে ব্যাপার তো একটা আছে , মিস্টার চ্যাটার্জি বলে দেখো তুমি খুব ভালোভাবে জানো আমার এত ধৈর্য নেই , কি হয়েছে সেটা বলবে কি ? ঝুমা একটু লাজুক ভাবেই বলে আমি না —----, প্রথমে বুঝতে পারে না মিস্টার চ্যাটার্জী । তিনি বলেন এই আমি না তুমি না এগুলো কি কথাবার্তা খোলাখুলি বলো না বাবা । ঝুমা বলে আমার লজ্জা করছে । মিস্টার চ্যাটার্জি এবার ব্যাপারটা কিছুটা হলেও বুঝতে পারে , আমি বুঝে গেছি আমি বুঝে গেছি বলতে বলতে ঝুমার দিকে এগিয়ে যায় । ঝুমা আর একটু লাজুক হয়ে বলে কি বুঝেছো তুমি ? মিস্টার চ্যাটার্জি বলে আমি বুঝেছি তুমি মা হতে তুলেছ আর আমি তোমার সন্তানের বাবা । ঝুমার দুই গাল লজ্জায় লাল হয়ে ওঠে , মিস্টার চ্যাটার্জি তার স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে বলে তুমি নিজেও জানো না আজ তুমি আমায় কি সারপ্রাইজ দিলে । ঝুমা বলে এখুনি ফোন আসলেই তো ছুটতে হবে। তা দুটো খাওয়া-দাওয়া করতে হবে তো নাকি ? মিস্টার চ্যাটার্জি বলে হ্যাঁ পেটটায় একেবারে ইঁদুরে ডন দিচ্ছি, তুমি শিগগিরই খাবার বারো তবে একটা কথা মাথায় রেখো খুব সাবধানে থাকতে হবে কিন্তু এখন । ঝুমা বলে আমি সাবধানে থাকবো তুমি নিজের খেয়াল রেখো ।

                             চিত্রার জ্ঞান ফিরেছে এখন সে অনেকটা সুস্থ , ডক্টর লাহেরী তাকে তার কেবিনের শিফট করেন । নার্সকে বলেন ওর বাবা- মাকে ভেতরে আসতে বল । নার্স বাইরে গিয়ে ওনাদের কেবিনে নিয়ে আসেন । ডক্টর লাহেরী চিত্রার বাবা মার উদ্দেশ্যে বলেন আপনার মেয়ে এখন সম্পূর্ণ সুস্থ , তবে কয়েকটা দিন ওকে এখানেই থাকতে হবে , ওর দেহের উপর দিয়ে একটা বড় ধকল গেছে , এখনো কিছুদিন ওর শরীরটা কমজোরি থাকবে এছাড়া চিত্রার কেসটা অফিসে চ্যাটার্জির হাতে ওনার সঙ্গে কথা না বলে আমি কোন ডিসিশন নিতে পারব না । তাই ওনার সাথে আলোচনা করার পরেই আমি ওকে ডিসচার্জ করতে পারব । যতদিন আজ চিত্রার ছুটি হচ্ছে ততদিন আপনাদের থাকার জন্য অফিসার চ্যাটার্জী একটা ব্যবস্থা করে দেবেন । চিত্রার বাবা-মা ডাক্তারবাবুর পা জড়িয়ে ধরেন , ডক্টর লাহেরী ওনাদের উঠে দাঁড়াতে বলেন , তারা হাত জড়ো করে ডাক্তার লাহেরির সামনে দাঁড়ান বলেন ডাক্তারবাবু আপনি ভগবান , আপনি ছিলেন বলে আজ আমাদের মাইয়াটা বেঁচে গেল । ডক্টর লাহিড়ী বলেন এসব আমাকে বলবেন না , আমি একজন ডক্টর আর এটা আমার কর্তব্য । আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করি রোগীকে সুস্থ করে তোলার , ওর জীবন ছিল তাই ও বেঁচে গেল ।

ডক্টর লাইরি চিত্রার মাথার কাছে এগিয়ে যান , চিত্রার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন নার্স দিদি এখানে রইল কিছু প্রয়োজন হলে ওনাকে বলবে । চিত্রা মাথা নেড়ে ডক্টর লাহিড়ীকে সম্মতি জানালো । তাহলে আমি এখন আসি আমাকে এবার রাউন্ডে যেতে হবে । কেবিন থেকে বেরিয়ে যেতে পকেট থেকে সেলফোনটা বের করেন ডক্টর লাহেরী , ফোনে অফিসার চ্যাটার্জির নাম্বারটা ডায়াল করেন তিনি ।

                             ওদিকে রঞ্জনকে দেখা যায় পল্টুর ফোন নাম্বারটা ট্রাক করতে , পল্টু কার সঙ্গে কথা বলছে কোথায় যাচ্ছে প্রতিটা মুহূর্তের খবরই এখন রঞ্জনের নখদর্পণে , রঞ্জন ওই জুমনম্বরের মাধ্যমে যেটুকু ইনফরমেশন পেয়েছে তার থেকে এই ব্যাপারটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে যে পল্টু কোন একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত । কোন এক ব্যক্তির সঙ্গে পল্টুর কথা শোনা যায় সেই ব্যক্তি পল্টুকে একটি নিরিবিলি জায়গায় ডেকে পাঠায় , ওই স্থানে বর্তমানে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে । লাইভ ম্যাপে দেখা যাচ্ছে পল্টুর যাত্রা পথ । হঠাৎ রঞ্জন এর কেমন যেন মনে হলো কিছু একটা বড় ঘটতে চলেছে । রঞ্জন কম্পিউটার স্কিনে চোখ রেখে অফিসার চ্যাটার্জিকে ফোন লাগাবার চেষ্টা করে , অফিসার চ্যাটার্জির ফোনটা তখন ব্যস্ত । রঞ্জন একটু বিরক্ত বোধ করে , হঠাৎ একটা জায়গায় গিয়ে থেমে যায় পল্টু । ম্যাপে যে জায়গাটাকে উল্লেখ করা হচ্ছে সেটা বারাসাতের আশেপাশের কোন একটি জায়গা । রঞ্জন একবার মনে মনে ভাবে সে কি বেরিয়ে যাবে পল্টুর ফোনের লোকেশন কে লক্ষ্য করে , আবার ভাবে না স্যারকে কিছু না জানিয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না । সে একটু অপেক্ষা করে যায় অফিসের চ্যাটার্জির ফোনের জন্য । অথচ রঞ্জনের মনের মধ্যে তখন একটা উথালি পাথালি চলছে । তার কেমন যেন মনে হচ্ছে সঠিক সময় সেখানে পৌঁছতে পারলে হয়তো সম্পূর্ণ গ্যাং টাকে সে ধরতে পারতো কিন্তু তার হাতে কোন উপায় নেই কেসটা অফিসার চ্যাটার্জির । আর সিনিয়র অফিসারের অর্ডার না পাওয়া পর্যন্ত রঞ্জন এর পক্ষে কোন পদক্ষেপ নেওয়াই সম্ভব নয় । তাই এখন একমাত্র উপায় অফিসার চ্যাটার্জির ফোনের অপেক্ষা করা ।

                                      চলতে থাকবে …………


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics