অচেনা ঘর
অচেনা ঘর
চাকরির সূত্রে কলকাতা ছেড়ে উত্তরবঙ্গের একটি ছোট শহরে বদলি হয়েছিল অনির্বাণ।
নতুন শহর, নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ—সবকিছুই তার কাছে অচেনা।
একটি পুরোনো বাড়ির উপরের তলায় ভাড়া নিল সে।
ঘরটাও যেন তার মতোই নিঃসঙ্গ।
একটি জানালা, একটি কাঠের টেবিল, আর দেওয়ালে সময়ের দাগ।
প্রথম কয়েকদিন ঘরে ফিরতে তার ভালো লাগত না।
মনে হতো, এই ঘর তার নয়।
এখানে কোনো স্মৃতি নেই, কোনো পরিচিত গন্ধ নেই।
একদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি নামল।
অনির্বাণ জানালার পাশে বসে চা খাচ্ছিল।
হঠাৎ খেয়াল করল, বৃষ্টির শব্দটা বেশ পরিচিত লাগছে।
যেন শৈশবের বাড়ির টিনের চালের উপর বৃষ্টির শব্দ।
ধীরে ধীরে সে ঘরটিকে সাজাতে শুরু করল।
টেবিলের উপর মায়ের ছবি রাখল।
বইগুলো গুছিয়ে রাখল তাকের উপর।
জানালার পাশে একটি মানিপ্ল্যান্ট রাখল।
মাস কয়েক পরে একদিন তার মনে হলো—
এই ঘরটা আর অচেনা নেই।
কারণ একটি ঘরকে পরিচিত করে তোলে না তার দেওয়াল,
পরিচিত করে তোলে সেখানে জমে থাকা স্মৃতি।
