ঘড়ির কাঁটা
ঘড়ির কাঁটা
দাদুর ঘরের দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো ঘড়িটা সবাই "বুড়ো ঘড়ি" বলে ডাকত। প্রতি ঘণ্টায় টুংটাং শব্দ করে সময় জানিয়ে দিত সে।
দাদু মারা যাওয়ার পর ঘরটা প্রায় ফাঁকাই পড়ে থাকত। কিন্তু ঘড়িটা চলত ঠিকই।
একদিন পুরোনো জিনিস গুছাতে গিয়ে নাতনি মেঘলা ঘড়িটার দিকে তাকাল। তার মনে পড়ল, ছোটবেলায় দাদু বলতেন—
— "ঘড়ির কাঁটা কাউকে অপেক্ষা করে না, কিন্তু মানুষকে অপেক্ষার মূল্য শেখায়।"
তখন কথাটার মানে বুঝত না।
সেদিন ঘড়ির কাঁচ মুছতে মুছতে সে দেখল, সময়ের সঙ্গে কত কিছু বদলে গেছে। স্কুলের বন্ধু হারিয়ে গেছে, প্রিয় মানুষ দূরে চলে গেছে, দাদু আর নেই।
কিন্তু ঘড়ির কাঁটা একইভাবে ঘুরে চলেছে।
হঠাৎ তার মনে হলো, সময় আসলে কাউকে কেড়ে নেয় না। সময় শুধু সামনে এগিয়ে যায়, আর মানুষ স্মৃতিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটে।
মেঘলা ঘড়িটায় নতুন ব্যাটারি লাগাল।
ঘড়ির কাঁটা আবার চলতে শুরু করল।
ঠিক যেমন জীবন—থামে না, চলতেই থাকে।
