পঁচিশ বছরের চিঠি
পঁচিশ বছরের চিঠি
সকাল থেকেই বাড়িটা অদ্ভুত ব্যস্ত। রান্নাঘর থেকে গন্ধ আসছে, ড্রয়িংরুমে ফুল সাজানো হচ্ছে, আর ফোনে একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা।
আজ অনিরুদ্ধ আর মেঘলার বিবাহ বার্ষিকী। পঁচিশ বছর।
ছেলে-মেয়ে দুজনেই বাইরে থাকে। তাই এ বছর তারা ভিডিও কলেই সব আয়োজন করেছে। কেক অর্ডার করেছে, অনলাইনেই উপহার পাঠিয়েছে।
সবকিছু ঠিকঠাক চললেও মেঘলার মনটা কোথায় যেন একটু খালি লাগছিল।
অনিরুদ্ধ সকাল থেকে অস্বাভাবিক চুপচাপ। মাঝে মাঝে শুধু হাসছে।
বিকেলে হঠাৎ সে একটা পুরোনো কাঠের বাক্স এনে মেঘলার হাতে দিল।
“খুলে দেখো।”
মেঘলা অবাক হয়ে বাক্স খুলতেই দেখল— ভিতরে অনেকগুলো পুরোনো চিঠি।
হাতের লেখা চিঠি।
বিয়ের পরের প্রথম কয়েক বছরে অনিরুদ্ধ অফিসের কাজে বাইরে গেলে নিয়ম করে চিঠি লিখত। পরে মোবাইল, ই-মেইল, ব্যস্ততা— সব মিলিয়ে সেই অভ্যাস হারিয়ে যায়।
মেঘলা এক একটা চিঠি খুলছিল আর হাসছিল।
একটায় লেখা—
“তোমার রাগটাই সবচেয়ে মিষ্টি।”
আরেকটায়—
“আমরা বুড়ো হলেও একসঙ্গে চা খাবো, ঠিক তো?”
মেঘলার চোখ ভিজে উঠল।
অনিরুদ্ধ ধীরে বলল,
“ভাবলাম, এত বছর পরে আবার একটু শুরু করি।”
ঠিক তখন বাইরে বৃষ্টি নামল।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুজনে চুপচাপ বৃষ্টি দেখছিল। কোনো বড় আয়োজন নয়, কোনো দামি উপহার নয়— শুধু একসঙ্গে থাকা।
পঁচিশ বছরের সম্পর্কের আসল সৌন্দর্য হয়তো সেখানেই।

