ফিরে দেখা সেই গলি
ফিরে দেখা সেই গলি
প্রায় পনেরো বছর পর অর্ক আবার তার পুরোনো পাড়ায় এসেছে।
শহর বদলে গেছে। নতুন ফ্ল্যাট উঠেছে, পুরোনো দোকান অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবু একটি জিনিস এখনও একই রকম রয়ে গেছে— সেই সরু চেনা গলি।
গলির মুখে দাঁড়াতেই অর্কর মনে হলো, সময় যেন হঠাৎ পিছিয়ে গেল।
এই গলিতেই একসময় ক্রিকেট খেলত তারা। বল কারও জানালায় লাগলে সবাই মিলে পালিয়ে যেত। বর্ষার দিনে কাগজের নৌকা ভাসাত। দুর্গাপুজোর সময় রাত জেগে আড্ডা চলত।
অর্ক ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগল।
ওই তো মোড়ের চায়ের দোকানটা! যদিও এখন ছেলেটা নয়, তার ছেলে দোকান চালায়।
আর ওই যে লাল রঙের বাড়িটা— সেখানে থাকত মেঘলা।
প্রথম ভালো লাগা, প্রথম চিঠি, প্রথম প্রত্যাখ্যান— সবকিছুর সাক্ষী ছিল এই গলি।
হাঁটতে হাঁটতে সে গলির শেষ প্রান্তে পৌঁছাল।
একটি ছোট ছেলে সাইকেল চালাতে শিখছে। তার বাবা পাশে পাশে দৌড়াচ্ছেন।
অর্ক হেসে ফেলল।
সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু কিছু দৃশ্য যেন বারবার ফিরে আসে নতুন মুখে।
ফিরে যাওয়ার আগে সে একবার পিছন ফিরে তাকাল।
চেনা গলিটা এখনও দাঁড়িয়ে আছে।
শুধু ইট-পাথরের রাস্তা হয়ে নয়, তার শৈশবের এক টুকরো হয়ে।
