লুকোনো চিঠি
লুকোনো চিঠি
পুরোনো বাড়িটা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেয়ালের চুন খসে পড়েছে, কাঠের জানালাগুলো বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। তবু বাড়ির প্রতিটি কোণে যেন স্মৃতির গন্ধ লেগে আছে।
অর্পিতা মায়ের আলমারি গুছাতে গিয়ে একটি পুরোনো শাড়ির ভাঁজে হলুদ হয়ে যাওয়া একটি খাম খুঁজে পেল।
খামের ওপর লেখা—
"যদি কোনোদিন পড়ো..."
কোনো নাম নেই।
কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে সে চিঠিটি খুলল।
চিঠিটি লিখেছিলেন তার বাবা, প্রায় ত্রিশ বছর আগে।
মায়ের উদ্দেশে লেখা।
সেখানে কোনো বড় কবিতা ছিল না, কোনো নাটকীয় প্রেমের গল্পও নয়। শুধু কিছু সাধারণ কথা—
"আজ বেতন কম পেয়েছি। তোমার জন্য শাড়ি কিনতে পারলাম না। কিন্তু বিশ্বাস করো, একদিন তোমার সব ইচ্ছা পূরণ করার চেষ্টা করব।"
"তুমি যখন রাগ করো, তখনও তোমাকে খুব ভালো লাগে।"
"যদি কোনোদিন আমি আগে চলে যাই, এই চিঠিটা তোমাকে মনে করিয়ে দেবে— আমি তোমাকে কতটা ভালোবেসেছিলাম।"
অর্পিতার চোখ ভিজে উঠল।
বাবা নেই প্রায় দশ বছর। মা-ও কিছুদিন আগে চলে গেছেন।
কিন্তু সেই লুকোনো চিঠির ভিতরে যেন দুজন মানুষ এখনও পাশাপাশি বসে আছেন।
বাড়ি ভেঙে যাবে, আসবাব হারিয়ে যাবে, কিন্তু কিছু ভালোবাসা কাগজের ভাঁজে সময়কে হারিয়ে বেঁচে থাকে।
অর্পিতা চিঠিটা আবার খামের ভিতরে রেখে দিল।
সব স্মৃতি প্রকাশ করার জন্য নয়।
কিছু স্মৃতি লুকিয়ে থাকলেই সবচেয়ে সুন্দর।

