ভালোবাসার পরে
ভালোবাসার পরে
কলেজের প্রথম দিনেই পরিচয় হয়েছিল অয়ন আর শ্রেয়ার।
প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর দীর্ঘ আড্ডা, পরীক্ষার আগে নোট ভাগাভাগি, জন্মদিনের ছোট্ট চমক— সব মিলিয়ে অজান্তেই তাদের জীবনে ভালোবাসা এসে গিয়েছিল।
চার বছর কেটে গেল।
ভবিষ্যতের স্বপ্নও তারা একসঙ্গেই দেখতে শুরু করল।
কিন্তু ভালোবাসা যত সহজ ছিল, বিয়ের সিদ্ধান্ত ততটা নয়।
দুই পরিবারের সংস্কৃতি আলাদা, মতামত আলাদা। আপত্তিও কম ছিল না। অনেক বোঝাপড়া, অনেক আলোচনা আর কিছুটা অপেক্ষার পর অবশেষে দুই পরিবারই রাজি হলো।
বিয়েটা খুব ধুমধাম করে হয়েছিল।
সবাই বলেছিল, "তোমাদের তো লাভ ম্যারেজ, জীবন নিশ্চয়ই খুব সহজ হবে!"
অয়ন আর শ্রেয়া তখন শুধু হেসেছিল।
কারণ তারা জানত, বিয়ের আসল গল্প শুরু হয় বিয়ের পরে।
নতুন সংসার, চাকরির চাপ, দায়িত্ব, ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি— সবকিছুই আসতে লাগল।
একদিন সামান্য একটি বিষয় নিয়ে দুজনের বেশ ঝগড়া হলো।
রাগ করে শ্রেয়া অন্য ঘরে চলে গেল।
রাত গভীর হলে অয়ন দেখল, টেবিলের উপর এক কাপ চা রাখা।
নিচে ছোট্ট একটি কাগজ—
"রাগ করেছি, কিন্তু চা খেয়ে নিও।"
অয়ন হেসে ফেলল।
সেদিন সে বুঝল, ভালোবাসা শুধু একসঙ্গে ছবি তোলা নয়, একে অপরের অপূর্ণতাকে গ্রহণ করাও।
দশ বছর পর তাদের বিবাহবার্ষিকীর দিনে কেউ জিজ্ঞেস করেছিল,
"লাভ ম্যারেজের সবচেয়ে সুন্দর দিক কী?"
শ্রেয়া উত্তর দিয়েছিল,
"ভালোবেসে বিয়ে করাটা নয়, বিয়ের পরও প্রতিদিন নতুন করে ভালোবেসে যাওয়াটা।"

