ভুতুড়ে গলি
ভুতুড়ে গলি
শহরের এক কোণে ছিল একটি সরু গলি।
দিনের বেলায় সেখানে লোকজন যাতায়াত করত। কিন্তু সন্ধ্যা নামলেই গলিটা ফাঁকা হয়ে যেত।
লোকমুখে শোনা যেত, মাঝরাতে সেখানে কারও পায়ের শব্দ শোনা যায়।
কেউ বলত, সাদা শাড়ি পরা এক মহিলাকে দেখা যায়।
কেউ বলত, হঠাৎ হঠাৎ বাতাস ছাড়াই পুরোনো দরজা খুলে যায়।
এই গল্পগুলো শুনে রুদ্রর খুব কৌতূহল হলো।
এক রাতে সে সত্যিটা জানার জন্য গলিতে গেল।
চারদিকে ঘন নীরবতা।
দূরে একটি রাস্তার বাতি মিটমিট করছে।
রুদ্র ধীরে ধীরে গলির ভেতর এগোতে লাগল।
হঠাৎ তার কানে ভেসে এল পায়ের শব্দ।
টক... টক... টক...
তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
শব্দটা ক্রমশ কাছে আসছিল।
হঠাৎ সে দেখল, একটি বৃদ্ধ মানুষ লাঠি নিয়ে হাঁটছেন।
আর একটু এগোতেই দেখতে পেল, বাতাসে দুলে একটি ভাঙা জানালা বারবার শব্দ করছে।
যে "ভূতের কান্না" বলে সবাই ভয় পেত, সেটি ছিল পাশের বাড়ির পুরোনো দরজার কড়া।
রুদ্র হাসল।
ফিরে আসার সময় তার মনে হলো—
ভুতুড়ে গলির চেয়ে ভয়ঙ্কর আসলে মানুষের কল্পনা।
কারণ অন্ধকার যতটা না ভয় দেখায়,
তার চেয়ে বেশি ভয় তৈরি করে অজানা গল্প।

