হোস্টেলের ৩০৫ নম্বর ঘর
হোস্টেলের ৩০৫ নম্বর ঘর
প্রথম দিন হোস্টেলে এসে সৌম্যর মনে হয়েছিল, সে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে একা মানুষ।
বাড়ির খাবার নেই, মায়ের ডাক নেই, নিজের ঘর নেই। আছে শুধু ৩০৫ নম্বর ঘর, তিনজন অচেনা রুমমেট আর একটি লোহার খাট।
প্রথম কয়েকদিন খুব কষ্ট হতো। রাতে লুকিয়ে লুকিয়ে বাড়িতে ফোন করত।
কিন্তু ধীরে ধীরে সব বদলাতে শুরু করল।
রাত দুটোয় ম্যাগি রান্না, পরীক্ষার আগের দিন নোট ভাগাভাগি, কারও জন্মদিনে হঠাৎ কেক কাটা, আর মাসের শেষে সবাই মিলে টাকা জড়ো করে বিরিয়ানি খাওয়া—এসবই হয়ে উঠল নতুন জীবনের অংশ।
একদিন বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। পুরো হোস্টেল অন্ধকার।
সেদিন সবাই ছাদে উঠে গান গেয়েছিল, গল্প করেছিল, আকাশভরা তারা দেখেছিল।
সেই রাতের আনন্দ কোনো দামি রেস্তোরাঁ, কোনো বিলাসবহুল ঘর কখনও দিতে পারেনি।
চার বছর পরে বিদায়ের দিন এলো।
ঘর ৩০৫ খালি হয়ে গেল।
সৌম্য দরজায় শেষবার হাত রেখে বুঝল—
হোস্টেল শুধু থাকার জায়গা নয়।
এটি এমন একটি ঠিকানা, যেখানে অচেনা মানুষ পরিবার হয়ে যায়।
