মরীচিকার পেছনে
মরীচিকার পেছনে
রোদে পুড়ে যাওয়া রাস্তাটা যতদূর চোখ যায়, ততদূরই যেন কাঁপছিল। দূরে মনে হচ্ছিল, রাস্তার উপর জমে আছে এক বিশাল জলাশয়।
অর্ণব হাঁটছিল সেই দিকেই।
অনেকক্ষণ ধরে তার তেষ্টা পেয়েছে। মনে হচ্ছিল, আর একটু গেলেই জল পাওয়া যাবে। পা দুটো ক্লান্ত, গলা শুকিয়ে কাঠ—তবু সেই নীলচে ঝিলিক তাকে এগিয়ে নিয়ে চলল।
কিছুটা এগিয়ে সে দেখল—জল নেই।
শুধু উত্তপ্ত পিচের রাস্তা।
অর্ণব থমকে দাঁড়াল।
হঠাৎ তার মনে হলো, জীবনের কতকিছুই তো এমন।
যে চাকরিটাকে ভেবেছিল সুখের শেষ ঠিকানা, সেখানে পৌঁছে দেখেছে—আরও বড় স্বপ্ন অপেক্ষা করছে।
যে সম্পর্কটাকে ভেবেছিল সারাজীবনের আশ্রয়, একদিন সেটিও দূরের কোনো ছায়ার মতো মিলিয়ে গেছে।
যে অর্থ, সম্মান আর সাফল্যের জন্য এতটা দৌড়েছে, সেগুলো হাতে এসেও তাকে পুরোপুরি তৃপ্ত করতে পারেনি।
তাহলে কি সবই মরীচিকা?
অর্ণব মৃদু হেসে ফেলল।
না, সবকিছু মরীচিকা নয়।
মরীচিকা আসলে আমাদের চোখের ভুল নয়, অনেক সময় আমাদের চাওয়ার ভুল।
আমরা দূরের আলোকে সুখ ভাবি, অথচ পায়ের কাছে পড়ে থাকা ছোট্ট আলোটাকে দেখতে পাই না।
সেদিন অর্ণব রাস্তার পাশে একটি গাছের ছায়ায় বসে পড়ল।
তার ব্যাগে থাকা শেষটুকু জল বের করে ধীরে ধীরে খেল।
তারপর বুঝল—
জীবনের সব তৃষ্ণার উত্তর দূরে নেই।
কিছু উত্তর আমাদের সঙ্গে নিয়েই আমরা পথ চলি।
