অপেক্ষার পদধ্বনি
অপেক্ষার পদধ্বনি
পুরোনো বাড়িটার লম্বা বারান্দা দিয়ে সন্ধ্যার হাওয়া ঢুকছিল। দেয়ালে ঝুলে থাকা ঘড়িটা টিকটিক করে সময় গুনছিল, আর নন্দিতা জানালার পাশে বসে ছিল চুপচাপ।
আজও সে অপেক্ষা করছে।
অপেক্ষার কোনো নির্দিষ্ট কারণ নেই। তবু কিছু অপেক্ষা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে যায়।
বহু বছর আগে এই বাড়ির সামনের পথ দিয়ে প্রতিদিন সন্ধ্যায় অরুণ আসত। দূর থেকেই তার জুতোর শব্দ শোনা যেত। সেই পরিচিত পদধ্বনি শুনলেই নন্দিতার মুখে অজান্তে হাসি ফুটে উঠত।
তারপর সময় বদলেছে।
অরুণ কাজের সূত্রে অন্য শহরে চলে গেছে। যোগাযোগও ধীরে ধীরে কমে এসেছে। জীবন নিজের নিয়মে এগিয়ে গেছে।
তবু আশ্চর্যের বিষয়, নন্দিতা আজও সন্ধ্যার নীরবতায় মাঝে মাঝে সেই পদধ্বনি শুনতে পায়।
হয়তো বাস্তবে নয়, স্মৃতিতে।
সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল।
হঠাৎ বারান্দার সামনে কারও হাঁটার শব্দ হলো।
টুপ... টাপ... টুপ...
নন্দিতা চমকে উঠল।
দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
কেউ নেই।
শুধু ভেজা পাতার ওপর থেকে বৃষ্টির জল পড়ছে।
সে হেসে ফেলল।
মাঝে মাঝে স্মৃতি এমনই। তারা পদধ্বনির মতো ফিরে আসে— দেখা যায় না, কিন্তু শোনা যায়।
জানালার বাইরে অন্ধকার ঘন হচ্ছিল।
আর নন্দিতা বুঝতে পারছিল, কিছু মানুষ চলে গেলেও তাদের পদধ্বনি অনেকদিন পর্যন্ত জীবনের করিডরে প্রতিধ্বনি হয়ে থেকে যায়।

