একলা আকাশের নীচে
একলা আকাশের নীচে
রুদ্রর অভ্যাস ছিল ছাদে উঠে আকাশ দেখা।
দিনের শেষে যখন শহরের আলো একে একে জ্বলে উঠত, তখন সে চুপচাপ ছাদের এক কোণে বসে থাকত। হাতে কোনো বই থাকত না, ফোনও না। শুধু আকাশ।
আজও সে এসেছে।
অনেকদিন হলো মিতার সঙ্গে কথা নেই। সম্পর্কটা ভেঙে গেছে প্রায় এক বছর। তবু কিছু অভ্যাস থেকে যায়। যেমন সন্ধ্যার আকাশ দেখার অভ্যাস।
মিতা বলত,
“আকাশের দিকে এত তাকিয়ে কী দেখো?”
রুদ্র হাসত।
সত্যি বলতে, সে নিজেও জানত না।
সেদিন আকাশটা ছিল অদ্ভুত ফাঁকা। না কোনো ঘুড়ি, না কোনো পাখির সারি। শুধু বিশাল নীলের মধ্যে একরাশ নীরবতা।
হঠাৎ তার মনে হলো, এই আকাশটাও কি একা?
এত বড়, এত বিস্তৃত, অথচ কারও নয়।
কিন্তু পরক্ষণেই সে বুঝল, আকাশ কখনও একা নয়। পৃথিবীর সব মানুষই তো কোনো না কোনো সময় তার দিকে তাকায়। কেউ সুখে, কেউ দুঃখে, কেউ প্রার্থনায়, কেউ স্বপ্নে।
হয়তো মানুষের মতো আকাশও তার সঙ্গ খুঁজে নেয় দৃষ্টির ভিতর।
রুদ্র মাথা তুলে তাকাল।
একটা তারা জ্বলছে।
তারপর আরেকটা।
ধীরে ধীরে ফাঁকা আকাশ ভরে উঠতে লাগল।
তার মনে হলো, একাকীত্বও বোধহয় এমনই। প্রথমে সবকিছু শূন্য মনে হয়, তারপর ধীরে ধীরে ছোট ছোট আলো এসে জায়গা করে নেয়।
রুদ্র হালকা হাসল।
একলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সে প্রথমবার বুঝল— একা থাকা আর নিঃসঙ্গ থাকা এক কথা নয়।

