বন্ধ শহরের বারান্দা
বন্ধ শহরের বারান্দা
শহরটা এমন নীরব আগে কেউ দেখেনি।
রাস্তা ফাঁকা। দোকানের শাটার নামানো। দূরে মাঝে মাঝে শুধু অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শোনা যায়। মানুষ ঘরের ভিতর বন্দি, অথচ প্রত্যেকের মনে হাজার অস্থিরতা।
ঋদ্ধি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে এক কাপ ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা।
লকডাউনের আজ পঁয়ত্রিশতম দিন।
প্রথম কয়েকদিন খুব ভালো লেগেছিল। দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, অফিস নেই, যানজট নেই। কিন্তু ধীরে ধীরে চার দেওয়ালগুলো যেন আরও কাছে চলে আসতে লাগল।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিল মায়ের জন্য। মা অন্য শহরে একা থাকেন। আগে অন্তত মাসে একবার দেখা হতো। এখন শুধু ফোন।
সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ পাশের ফ্ল্যাটের বৃদ্ধ কাকুকে বারান্দায় দাঁড়িয়ে গান গাইতে দেখল ঋদ্ধি।
পুরোনো রবীন্দ্রসঙ্গীত।
এক এক করে আশেপাশের মানুষজনও বারান্দায় বেরিয়ে এল। কেউ হাততালি দিল, কেউ হেসে উঠল, কেউ ভিডিও করল।
অনেকদিন পর শহরটাকে একটু জীবন্ত লাগছিল।
ঋদ্ধি বুঝতে পারল, মানুষ আসলে শুধু বাইরে বেরোনোর স্বাধীনতায় বাঁচে না; মানুষ বাঁচে সংযোগে।
সেই রাতেই সে মাকে ভিডিও কল করল।
মা হাসতে হাসতে বললেন,
“তুই ছোটবেলায় এতক্ষণ ঘরে থাকতে পারতিস না, মনে আছে?”
ঋদ্ধি হেসে ফেলল।
বাইরে তখনও নীরব রাস্তা। কিন্তু তার ভিতরের একাকীত্বটা যেন একটু কমে গিয়েছিল।
লকডাউন মানুষকে থামিয়ে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই থেমে থাকার মধ্যেই অনেকেই নতুন করে মানুষকে খুঁজে পেয়েছিল।
