হলুদের দুপুর
হলুদের দুপুর
শান্তিনিকেতনের মাঠে তখন বসন্ত উৎসবের রঙ লেগেছে। চারদিকে হলুদ শাড়ি, পাঞ্জাবি, আবিরের হালকা গন্ধ আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর।
ঈশিতা অনেক বছর পর আবার বসন্ত উৎসবে এসেছে।
কলেজ জীবনে এই দিনটার জন্য সে সারা বছর অপেক্ষা করত। বন্ধুদের সঙ্গে গান, নাচ, ছবি তোলা— সবকিছু যেন জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল স্মৃতি ছিল। তারপর চাকরি, ব্যস্ততা আর সম্পর্কের ভাঙাগড়ার মাঝে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল সেই রঙগুলো।
আজ হঠাৎ করেই সে এখানে এসেছে, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই।
মাঠের এক কোণে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী গাইছিল—
“ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল…”
গানটা শুনে ঈশিতার বুকের ভিতর কেমন হালকা ব্যথা হলো। মনে হলো, এতদিন সে নিজেকেই যেন বন্ধ ঘরে আটকে রেখেছিল।
ঠিক তখনই কেউ পিছন থেকে বলল,
“তুই এখনও হলুদ রংটাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করিস?”
ঈশিতা ফিরে তাকাল। অর্ণব।
কলেজের সেই অর্ণব, যে একদিন না বলেই দূরে চলে গিয়েছিল।
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ।
তারপর অর্ণব হেসে বলল,
“জানিস, বসন্ত উৎসবের সবচেয়ে বড় ব্যাপার কী?”
“কি?”
“এটা মানুষকে আবার নতুন করে শুরু করতে শেখায়।”
হাওয়ায় আবির উড়ছিল। দূরে বাউলের গান ভেসে আসছিল। ঈশিতা বুঝতে পারল, কিছু সম্পর্ক হয়তো শেষ হয়ে যায়, কিন্তু কিছু অনুভূতি বসন্তের মতোই— প্রতি বছর ফিরে আসে।
সেদিন বিকেলে তারা দুজনে ভিড়ের মধ্যে হাঁটছিল।
আর চারদিকে শুধু রং নয়, ফিরে পাওয়ার এক নরম আলো ছড়িয়ে ছিল।

