লাল সিগন্যালের মানুষগুলো
লাল সিগন্যালের মানুষগুলো
অফিস থেকে বেরোতেই আকাশ বুঝিয়ে দিল আজ সহজে বাড়ি ফেরা হবে না। রাস্তার ওপর একের পর এক গাড়ির লাইন, হর্নের শব্দে চারদিক যেন ক্লান্ত হয়ে উঠেছে।
অরিজিৎ বাসের জানালার পাশে বসে ছিল। সামনে লাল সিগন্যাল। পাঁচ মিনিট… তারপর দশ মিনিট… তারপর আরও।
হঠাৎ তার চোখ পড়ল রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক ছোট মেয়ের দিকে। হাতে গোলাপ ফুল। বয়স হয়তো আট কিংবা নয়।
মেয়েটা এক গাড়ির জানালায় টোকা দিল। কেউ মুখ ফিরিয়ে নিল, কেউ কাঁচ তুলে দিল। তবু মেয়েটার মুখে অদ্ভুত শান্তি।
অরিজিৎ ভাবল, এই জ্যাম শুধু গাড়ির নয়। মানুষের জীবনেও কত জ্যাম জমে থাকে!
অভিমান, ব্যর্থতা, না বলা কথা, অসমাপ্ত স্বপ্ন…
বাসটা আবার একটু এগোল।
পাশে বসা বৃদ্ধ ভদ্রলোক ফোনে বলছিলেন,
“আমি পৌঁছাতে দেরি করব, কিন্তু তুমি খেয়ে নিও।”
কথাটা শুনে অরিজিতের বুকটা কেমন যেন করে উঠল। সে বুঝতে পারল, দিনের শেষে সবাই কোথাও না কোথাও ফিরতে চায়। কেউ বাড়িতে, কেউ মানুষের কাছে, কেউ নিজের ভেতরে।
ঠিক তখনই বৃষ্টি নামল।
রাস্তার আলো ভেজা জলের ওপর ঝাপসা হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। জ্যামের ভিতরেও শহরটা অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল।
অরিজিৎ ফোন বের করে মাকে কল করল।
“মা, একটু দেরি হবে।”
ওপাশ থেকে খুব সাধারণ একটা উত্তর এল—
“সাবধানে আসিস।”
আর সেই মুহূর্তে, দীর্ঘ ট্রাফিক জ্যামের মধ্যেও অরিজিতের মনে হলো সে ঠিক পথেই আছে।
