।। বোধন।। (প্রথম দিন)
।। বোধন।। (প্রথম দিন)
এক আকাশ নীল, দু-হাত ভরে তুলে নেওয়া সাদা মেঘের রাশি যেন পবিত্রতার রং। আর আমার স্তব্ধতার , বিশ্বাসের, স্নিগ্ধতার আশ্বাস।
আমি প্রণাম করলে নাকি ঈশ্বর শুদ্ধ হয়, শুদ্ধ হয় শিল্পীর শিল্পকলার পুত্তলি।
আমি পাঠ করলে নাকি চন্ডীস্তোত্র প্রণামমন্ত্র হয়ে ওঠে !
এমন কথা লোকে বলে। আর আমার অবাক লাগে ভাবনায়!
আমি মালা না গাঁথলে নাকি
শিউলি ফুলে পুজোর গন্ধ থাকে না !
আমার চোখের জলের ভক্তিতে
একশো আটটা পদ্ম ফোটে।
আমি ঘর ছাওন দিলেই নাকি তৈরি হয়
পুজোর প্যান্ডেল,
আমার হাসির শব্দে বেজে ওঠে ঢাক , আর
আমি আনন্দ পেলেই শুরু হয় উৎসব।
মহালয়ার দিনে যখন আমার চোখ আঁকা হয়,
বেজে ওঠে কাঁসর, ঘণ্টা, ঢাক । মন্ত্রোচ্চারণ শুরু হয়।ধূপ-ধূনোর পবিত্র গন্ধে আকাশ বাতাস ভরে ওঠে।
দুই চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ে শিল্পীর।
পরানো হয় আমায় সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি, যেন
উৎসবের উদ্বোধন হয়।
আমার তৈরি করা ভাতের গন্ধে পবিত্র হয় ধূপের ধোঁয়া , আর আমার শিশুদের ঠোঁটে যখন দুধ
উথলে ওঠে,
তখনই হয় পৃথিবীর ঐশ্বরিক বোধন ।
