Aniruddha Goswami

Horror Fantasy

4.4  

Aniruddha Goswami

Horror Fantasy

||মায়াবিনী ||

||মায়াবিনী ||

1 min
395



আনন্দের খবর বাপি, তোমার জামাই এর প্রমোশন হয়েছে।

শুনতে পেলাম মিতা  আমার শ্বশুর মশাই কে আনন্দ সংবাদ টি দিচ্ছে।

শ্বশুর মশাই :কোথায় পোস্টিং দেবে বলছে ?

মিতা:সেটা জানায় নি। পরশু মিটিং আছে হেড অফিসে ,সেখানে গিয়ে বলবে। তবে আভাসে দিয়েছে ,বলেছে হয়তো দক্ষিণ ভারতের দিকেই।

শ্বশুর  মশাই  :সে কি রে? মিটিং কদিনের ?কিভাবে থাকবি ? এখানে চলে আয়।

সেটা বলার জন্যে ফোনে করেছি।৭ দিনের ট্রেনিং থাকবে। তত দিন তোমার জামাই বললো চন্দননগর থেকে ঘুরে আসতে ।তারপর তো আবার অন্য জায়গা। আমরা বেরিয়ে পড়েছি চন্দননগর এ। তোমার জামাই ড্রাইভ করছে |

শ্বশুর  মশাই: বাহ্ আনন্দের খবর ,চলে আয়।

ফোন রেখে মিতা আমাকে বললো নিলাভ কাল চলে যাচ্ছ বেশ কিছুদিনের জন্য।প্রতিদিন ফোন করবে তো?

এর আর উত্তর না দিয়ে হাতের উপর হাত রাখলাম।

পরের দিন বিকালের ফ্লাইট এ মুম্বাই। অফিস এ মিটিং রুম এ বসে আছি আমরা নতুন ম্যানেজার যারা। আয়তকার রুমে ইউ আকৃতির ডিসাইন এর টেবিলের চারপাশে বসার ব্যবস্থা। প্রজেক্টর আর সাদা বোর্ড সামনে রাখা। ক্রিম হোয়াইট কালারের দেওয়াল। একদিকের দেওয়াল স্বচ্ছ কাঁচের। ভেতরে দিকে ক্রিম রঙের পর্দা একে ওপর এর সাথে পরিচিত হচ্ছি।নতুন ডিভিশন হেড নতুন এরিয়া ম্যানেজার দের ব্রিফ করে নতুন ডিভিশন সম্বন্ধে প্রেসেন্টেশন দিলেন,তার সাথে কি কি করতে হবে বা তার কি চাই আমাদের থেকে সেটাও বুঝিয়ে বললেন।যথারীতি আমার পোস্টিং হয়েছে সাউথ ইন্ডিয়ার কেরালা তে। এরপর ট্রেনিং , দিন দশেকের জন্য, নির্ধারিত হয়েছে তিন তারকা বিশিষ্ট একটি হোটেল যা অফিসের কাছেই।

টি ব্রেক এ বাড়িতে জানিয়ে দিলাম কেরালা যেতে হবে। প্রমোশন এর সাথে বাইরে পোস্টিং হচ্ছে "প্রফেশনাল হ্যাজার্ড"|

সন্ধ্যে তে হোটেলে চেক ইন করলাম। হোটেল টি ১২ তলা। বিরাট লন পেরিয়ে গাড়ি বারান্দায় ট্যাক্সি দাঁড়াতে ওয়েটার লাগেজ নিয়ে স্ক্যান করলো আমাদের সামনে। চেক ইন এ কোম্পানির নাম বলতেই আইডেন্টিটি কার্ড দেখে চাবি দিয়ে দিলো। রুমিং লিস্ট পূর্বনির্ধারিত ছিল। আমাদের দুজন করে একটি রুমে দেওয়া হয়েছে। পাঁচ টি রুম তিনটি পাঁচ তলায় আর দুটি সাত তলায়। আমার সাত তলায় রুম পার্টনার হল  বিহারের বিজেশ।

বিজেশ কে নিয়ে লিফ্ট এর দিকে এগোলাম। অত্যাধুনিক লিফ্ট মুহূর্তের মধ্যে সাত তলায় পৌঁছে গেল। লিফ্ট থেকে বেরিয়ে রুম নম্বর দেখে বিজেশ বললো যে " হামারি রুম বায়েন তরফ হে ,লেকিন সালা পৌঁছতে পৌঁছতে তো সুব্হা হো জায়েগা।

দেখলাম লিফটের ডান এবং বাম দুদিকে রুম আছে। লম্বা প্যাসেজ চলে গেছে দু দিকে। প্যাসেজ গুলো সোনালী আলোতে আলোকিত। আর্টিফিশিয়াল ছাদে গোল গোল আলো  ফিট করা। প্যাসেজের একপাশে  রুমের দরজাগুলো ডার্ক চকলেট কালার এর ,উল্টো দিকের দেয়ালে বিভিন্ন ভঙ্গিমার  নারী মূর্তির পেইন্টিং।মেঝেতে ছাই রঙের কার্পেট।

আমাদের রুম টি বাম দিকের প্যাসেজ এর শেষ এ গিয়ে আবার বাঁয়ে ঘুরে  তৃতীয় রুম । গ্রাউন্ড ফ্লোরে ডিনার এর ব্যবস্থা রেস্টুরেন্ট এ। রাত ১০ টা , বিজেশ ডেজার্ট হাতে নিয়ে গজল শুনতে ব্যাস্ত| সারাদিন মিটিংয়ের পর আমি চাইছিলাম একটু রেস্ট নিতে । বিজেশ কে বললা ম্যাঁ  রুম মে চলতা হু আপ আউ।সাত তলায় যথারীতি পৌঁছে বাম দিকে এগোলাম। আর কেউ নেই। পাশে কোন কোন রুম থেকে টেলিভিশন এর আওয়াজ আসছে। গানের সুর গুন্ গুন্ করতে যাচ্ছি। দু পা এগিয়ে আবার বাম দিকে ঘুরবো। এগোতেই দেখি মাথার উপরে আলো টা হটাৎ দিপ দিপ করতে শুরু করে দিলো। পুরো প্যাসেজে কেউ নেই। পাশে সার সার রুমগুলো ও বন্ধ।হটাৎ ই আমি যেন চার পাশের অবস্থা দেখে বেশি নিজেকে নিয়ে সচেতন হয়ে পড়লাম। বেশি যেন ঠান্ডা লাগছে। ইলেকট্রিকআল প্রব্লেম ভেবে এগিয়ে গেলাম।

কিন্তু এগোতে গিয়ে দেখি পা ওঠাতে পারা যাচ্ছে না। মন বলছে ফ্লি  ফ্রম হিয়ার। জোর করে ঝুঁকে পড়লাম সামনে। ছিটকে পড়লাম যেন.আর কিছু না ভেবে তিন লাফে নিজের রুমের সামনে। বাম দিকের প্যাসেজ এর দিকে তাকালাম একবার। কৈ আর তো লাইট টা ব্লিঙ্ক করছে না। তবে ফিরে  গিয়ে দেখার সাহস আর নেই। যাই হোক রুমের ভেতরে এসে পুরো ব্যাপার টা কি হলো ভাবার চেষ্টা করলাম। হয়তো ওভার টেন্সড হবার জন্য ক্ষণিক স্থবিরতা এসেছিলো।

দিন দশেক এখানে থাকতে হবে। সবসময় কেউ থাকবে সেটাও সম্ভব নয়। ব্যাপারটা কাউকে বললে সে তো হাস্যকর কিছু ভেবে বসবে।ঠিক করলাম দেখা যাক পরে কি হয়। কিছু পরেই বিজেশ এসে পড়লো। গজল শুনে তারই কলি গাইছে। এসেই বললো "ক্যা সুর লাগায়া থা সিঙ্গার নে !মন খুশ হো গয়া"। জিজ্ঞাসা করলাম তো ওর ক্যা কিয়া ? বললো গানা সুনকে সিধা রুম মে আয়ে।

প্যাসেজ মে লাইট সব ঠিক সে চল রাহা থা ?বিজেশ :হা ,কিউঁ ?

আমি :নেহি কুছ নেহি ,চলো সো যাতে হে ,কাল সে ট্রেনিং ভি হে।

পরেরদিন ট্রেনিং এর চাপ এ আর কিছু মনে ছিল না। রাতে ডিনার শেষ করে ফেরার সময় মনে পড়লো। আজ ও ফিরছি একা। লিফ্ট এ আমার সাথে এক তরুণী এয়ারহোস্টেস ও আছেন। লিফ্ট এ সাত তলায় উনি ডান দিকে চলে গেলেন। বাম দিকে ঘুরে এগোচ্ছি। কানে ফোন, বাড়ির সাথে কথা বলছি। কালকের জায়গায় আসতে চলেছি।না আজ তো আলো ঠিক ই জ্বলছে। আলোর নিচে আস্তে ফোঁটা নিজে থেকে কেটে গেল। ফোনে দেখি টাওয়ার খুব ই উইক। ফোন ঢুকছেই না। ডান দিকে তৈলচিত্র টির দিকে নজর গেল। সেমী নুড এক সুবেশিনীর। আধ শোয়া সোফার ওপর ,গালের ওপরে ডান হাত রেখে সোজাসুজি মোহময়ী আবেদন এ চেয়ে আছে । গাউনের কিছু অংশ বাম হাতে বুকের ওপরে ধরা। গাউনের সাদা স্ট্র্যাপ গুলি কনুইয়ের কাছে আলগা ভাবে ঝুলে আছে। কোমরের ওপর অবিন্যস্ত গাউনের অংশ বিশেষ। কালো চুল কাঁধের ওপর ছড়ানো। বাদামি আঁখি যেন অস্বাবাভিক ভাবে উজ্বল ,চেয়ে আছে আমার দিকে। ঠোঁট ঈষৎ খোলা,এতটাই জীবন্ত যেন স্পর্শ করলেই নরম ছোয়া পাব । কতক্ষন ধরে দেখছিলাম ঠিক নেই। সময় যেন স্থির হয়ে আছে। পেছনে বিজেশের আওয়াজ পেলাম।

বিজেশ -ক্যা হুয়া অভিতাক রুম মে গায়ে নেহি। ১০ মিনিট পহেলে নিকলে থে ?

নীল:অরে নেহি ইয়ে সব পেইন্টিং দেখ রাহা থা এক এক করকে। কোহি বড়হি আর্টিস্ট নে য়ে সব পেইন্টিং বানায়া হোগা।

বিজেশ : কাহাঁ ? মামুলি সা পেইন্টিং লাগ্ রাহা হে ! চোখ মেরে বললো পেইন্টিং কা পাতা নেহি লেকিন মডেল তো বহুত ই বাড়িহা হে। ইসলিয়ে দেখ রেহে ক্যা। আরে তাই তো। জাস্ট পেইন্টিং ই মনে হচ্ছে।

বিজেশ টিপ্পনি কাটলো : ক্যা দাদা পেন্টিং ছোরো ,অর কাল কে প্রেসেন্টেশন টপিক মে কাম করতে হে চলো। অপকা আইডিয়া হামেশা বাঢ়িহআ রেহতে হে।

মনের মধ্যে পেইন্টিং টি রয়ে গেল।কাল ভালো করে দেখতে হবে কিছু একটা হচ্ছে ঠিক এই জায়গায়। ঠিক করলাম কাল ভালো ভাবে দেখতে হবে।

সকালে যাবার সময় সাধারণ ছবি ,ফ্রেম করা আছে যেমন হয় তাইইই মনে হলো। বিজেশ আর আমার কেস প্রেসেন্টেশন ভালোভাবে উৎরে গেল। এসব প্রেসেন্টেশন সাধরণত ডিসিশন মেকিং এবিলিটি দেখা হয় তার সাথে আর কিভাবে টিমের ছেলেদের কোচিং করা হবে তার অপসন ও দিতে হয়। কেস গুলি দেওয়া হয় প্রতিদিন টীম হ্যান্ডলিং এ যে সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার ওপর।

আজ ডিনার এর পর বিজেশ আগে রুম এ চলে গেল।

তৃতীয় দিন আজ। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। পেইন্টিং তা যেন টানছে। বিশেষ করে ডিনার শেষে ফেরার সময়। যেকোন নয় যে ভয় লাগছে না , তার থেকেও রয়েছে অজানাকে জানার ইচ্ছা। যদিও আমি ছবি বিশারদ নোই ,কিন্তু পেইন্টিং টির মধ্যে এমন কিছু আছে যা আমাকে টানছে।সামগ্রিক ভাবে ছবি তা দেখলাম। কোনো লাস্যময়ী র পোট্রেটের থেকে মনে হচ্ছে শিল্পীর অসাধারণ এক সৃষ্টি ,সামনে দাঁড়ালে মনের কোন অস্তিত্ব থাকছে না। এক সুন্দর বিশাল পর্বতের সামনে দাঁড়ালে যেমন অনুভূতি হয় সেরকম অনুভূত হচ্ছে। এখনই বেরিয়ে এসে কথা বলবে মনে হয়। বিজেসের ফোন আসতে রুমের দিকে এগিয়ে গেলাম। বাম দিকে ঘুরতে আলোর ছটপটানি কমে গেল। মনে হল পেছনের দিকে একটা কিছু আছে , কিন্তু পেছনে ফিরে দেখি কেউতো নেই। এমন একটি কিছু যা হয়তো আমাকে দেখছে হয়তো কিছু বলতে চায়।

 

বিজেশ :কাহা থে দাদা ?

নীল :আ হি রহে থে ফোন আ গয়া থা বিচ মে।

বিজেশ:কাল তো জাদা কুছ কাম হ্য় নেহি। চলো এক মুভি দেখতে হ্যা।

নীল :দেখো হামলোগ টেলিভিশন স্ক্রিন টু ডাইমেনশনাল হে ,লেকিন যাব দেখতে হে পিকচার সব থ্রী ডাইমেনশনাল লাগতা হে.

বিজেশ: ও তো হে। লেকিন মুভি দেখনে সে ইস সাবেক ক্যা তাল্লুক ?

নীল:প্যারালাল ওয়ার্ল্ড কে বারে মে কুচ পতা হে ?

বিজেশ: ও ক্যা হোতা হে ? কহি নয়ই ইংলিশ মুভি হে ক্যা ?

নীল :নেহি ভাই। সমঝ লো ইসি দুনিয়া কি তরহ লাগে এক দুনিয়া। ইন দোনো কে বিচ টেলিভশন স্ক্রিন জাইসা দিবার হে।

বিজেশ :দাদা য়ে সব ভারী ভারকম বাত ছোরোহ। আউ মুভি দেখে।

কথা আর এগোলো না।

 

পরের দিন থেকে রাতে রুমে যাবার আগে ছবি টি দেখি । প্রতিদিন মনে হয় আগের দিনের থেকে বেশি জীবন্ত ও সুন্দর । একটু কাছে গেলে দেখতাম এক উজ্জ্বল আভা ছবিটি জুড়ে।

ট্রেনিং এর কাল ই শেষ দিন। বাড়ি তে সবাই খুশি ফোন শেষ করে ফিরছি। বিজেশ যথারীতি একটু পরে আসছে বললো।

অন্যান্য কলিগ দের সাথে কথা বলতে বলতে দেখি রাত প্রায় সাড়ে দশ টা। বাড়িতে ফোন করে নিয়ে লিফ্ট এ আমি যখন উঠছি তখন ১১ টা বাজে। তিনতলায় দুজন লিফটে উঠলো তারা ১০ তলার বাটন টিপলো। আমি সাত তলায় আবার একা। আস্তে আস্তে এগোচ্ছি। পাশের রুম গুলো থেকে হালকা কথার আওয়াজ আসছে। সব ঠিকঠাক পরিবেশ। সব আলো ঠিক ই কাজ করছে। সেই পেইন্টিং এর কাছে এসেও একই রকম লাগছে ,সাধারণ পেইন্টিং এর মতন। ঠিক আর এক পা এগোতে মাথার ওপর লাইট টি দিপ দীপ করতে লাগলো। অনুভব করছি হার্ট বিট বাড়ছে। লোম খাড়া হয়ে গেছে। আস্তে আস্তে ডান দিকে নজর দিতে চোখে পড়লো পেইন্টিং টির তরুণীটি আমার দিকেই চেয়ে আছে। চোখ গুলি মনে হয় পলক পড়লো ঠিক এখন ই। তার মানে আমার মাথার ওপর লাইট আর ৯০ ডিগ্রী কোন এ এই পেইন্টিং ,আর আমি কোনো এক সংযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সারা দেহে শিহরণ খেলে গেলো। জাস্ট সামনে ঝুঁকে বেরিয়ে যেতে সব নরমাল। বিশেষ এই সংযোগ আর পেইন্টিংয়ের সাবজেক্ট আর কতদূর যেতে পারে দেখার সাহস হলো না কিন্তু তার চোখের আবেদন আমায় টানছে। এক পা পেছনে আসতে আবার আলোর নাচন শুরু হলো। এর সাথে অবিকল পেইন্টিং এর তরুণী যেন সামনে এক অবয়ব ফুটে উঠতে শুরু করলো একই রকম অর্ধ বসনা ।পোট্রেট ফাঁকা। একটু সে এগোল আর হাত বাড়ালো আমার দিকে। বাঁ ঘুরলেই আমার রুম সেদিকের প্যাসেজ এল আসছে ,কিন্তু যেদিকে যেতে বলছে বা যাচ্ছি সেখানে তো দেওয়াল। জায়গাটা আবছা অন্ধকার।সিলুয়েট অবয়ব টি ওদিকে যেতে আমিও ঘুরলাম কিন্তু সেখানে দেওয়াল এ ধাক্কা লাগলো না তার জায়গায় লম্বা প্যাসেজ দেখা যাচ্ছে ,ঠিক মিরর ইমেজ , এমনকি আমার রুম টাও দেখা যাচ্ছে।এই আধো আলো ও অন্ধকার এর জগৎ এ সুবেশিনী তরুণী পোট্রেট থেকে বেরিয়ে হাত ধরে আমাকে নিয়ে যেতে লাগলো। আমি অনুসরণ করছি। হাথের স্পর্শ পাচ্ছি ,যেমন বাঁশিতে স্বর বাজানোর সময় ছিদ্র তে আঙ্গুল দিয়ে বাতাসের প্রবাহ অনুভব হয়,কিন্তু ধরা যায়না। ধরতে গেলো সুর আর সৃষ্টি আর হয়না। পেছনে আলো আর ব্লিঙ্ক করছে না আর যেখান দিয়ে এলাম সেখানে দেখি নিরেট দেওয়াল। কিন্তু আশ্চর্য,ফিরতে না পারার ভয় কিন্তু আর নেই। আরো একটা সিদ্ধান্ত মাথায় এলো এই হোটেলে এই পোট্রেট এর আড়াআড়ি আর আলোর নিচে দাঁড়ালে এক বিশেষ সমীকরণের এর সৃষ্টি হয় আর খুলে যায় অন্য এক দুনিয়ার ,হয়তো সমান্তরাল এক জগৎ উন্মুক্ত হয়ে যায় বিশেষ বিশেষ কিছু সময়ের জন্য।

সে যেদিকে নিয়ে যাচ্ছে সেদিকে যাচ্ছি কিন্তু মাথা ঠিকই কাজ করছে।একই হোটেল ঘর কিন্তু সম্পূর্ণ নিস্তব্ধ। আমাদের রুমের কাছে এসে দাঁড়ালো।.ভেতরে দেখলাম হুবহু একই রুম ,আধো আলোকিত। নিজে বসলো বিছানার এক কোনে। "সবারই বন্ধুর দরকার " অবয়ব নেই। এখানে নেগেটিভ - যেন পজেটিভ। স্বেত শুভ্র বসনা -ঠিক যেমনটি দেখেছি পেইন্টিং এ। ধরে নিন আমার নাম ন্যান্সি। পাশে বেড টেবিল টি কফি রঙের তার ওপর টেবিল ল্যাম্প টি হালকা আভা ছড়াচ্ছে।সেই আলোয় তার মুখের বাম দিকে হালকা লাল লাগছে ,ঠিক যেন সাদা মোমের ওপর হালকা লাল রং এর ছোপ। ঘি রঙের হাত কাটা সিল্ক গাউন। অবিকল সেই মায়াবী চাহনি। নীল, এই প্রথম আমার নাম ধরে ডাকলো ও আরো বললো অনেকেই পেইন্টিংয়ে আমায় দেখে কামনার চোখে,তুমি দেখতে সুন্দরতা। সুন্দর ই স্বর্গীয়। তোমার চোখের ভালোলাগা দেখে কথা বলার ইচ্ছা হতো।

নীল :তবে বলতে না কেন?

ন্যান্সি:সময় লাগছিলো তৈরী হতে ও তোমাকে সময় দিতে। প্রথমে তুমি ভয় পেতে।

নীল :তাই পেইন্টিং এর কাছে দাঁড়ালে আলো গুলো অস্থির হয়ে যেত।

ন্যান্সি :এই কয়েকদিনের মধ্যে দেখছিলাম কোনো পরিবর্তন আসে কিনা। না তা আসেনি।ছিল মুগ্ধতা।

নীল :সেখানে সামনে আসলে না কেন ?

ন্যান্সি :চলে আসার পর ফিরে তাকাতে ,মনে হতো না কেও আছে ?

নীল:তা হতো।

ন্যান্সি :ওই দুনিয়া তে আমি ছবি ,এখানে আমি কথা বলতে পারি। তাইতো তোমাকে দেখলাম এই জগৎ। এখানে ভয় নেই আছে আনন্দ। সময় এখানে স্থির।

নীল :ভাবনা গুলো কিন্তু স্থির নয়।

ন্যান্সি :বন্ধু হবে আমার ?

নীল:কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব ? এই দুনিয়া তে আসা যায় না মাধ্যম ছাড়া।

ন্যান্সি :আমরা সকলে একই সূত্রে বাঁধা। দুই দুনিয়ার সংযোগ কখনো কখনো হয়,উপযুক্ত মাধ্যমে । বন্ধুত্ত্ব হচ্ছে সেই সেতু। তাইতো তোমাকে দেখালাম এই দুনিয়া।

নীল:কিন্তু কিন্তু ফিরে গেলে তো তুমি আবার ছবি হয়ে যাবে ?

ন্যান্সি :ঠিক তাই আবার নয় ও। আমরা সবাই এক এক শক্তির সমষ্টি যেটা সৃষ্টি হচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে।

নীল:তবে বন্ধুর সাথে যোগাযোগ হবে কি করে ?

ন্যান্সি :মনের মাধ্যমে, মন এক সুরে বাঁধা থাকলে অনুরণন হতে কতক্ষন ! মুহূর্তের মধ্যে  আমরা সব এক |  হবে তো আমার মনের ?

সময় কতক্ষন পেরোলো জানি না | এক সময় মায়াময় চোখে ন্যান্সি চেয়ে বললো ,"নীল ……চলো এবার যাবার সময় হয়ে এলো"। এবারেও হাত ধরে নিয়ে এগোলো ন্যান্সি।

আমার রুমের সামনে এসে বেল বাজালাম, বিজেশ এসে গেছে ভেতরে আছে।

বিজেশ দরজা খুলে বললো জলদি আ গেয়ে ? অভি তো নিকলে থে ডিনার করকে ?

নীল : হাঁ ,কাল চেকআউট করনা হে ,জলদি সোনা  ভি হে।

বিজেশ : লাগতা হে কুছ সোচ রাহে হে ?

নীল :নেহি কুছ নেহি

পরের দিন দিন নয়টার সময় চেক আউট করে হোটেলের প্যাসেজ এ দেখি পেইন্টিং তা ভ্যানিশ। বিজেশ কে দেখালাম। সেও আগে দেখেছে।

পাশ দিয়ে এক ওয়েটার যাচ্ছিলো। জিজ্ঞাসা করলো "এখানে যে ছবি টি ছিল সেটা কোথায়" ?

ওয়েটার টি অবাক হয়ে বললো "ইঁহা কভি ভি কোহি তসবির নেহি থি " .

দুজনেই অবাক হয়ে দেখলাম নিরেট দেওয়াল ছাড়া কিছু নেই।

 

-------------------------------------------


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror