Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Debmalya Mukherjee

Horror


2  

Debmalya Mukherjee

Horror


মাছি

মাছি

4 mins 434 4 mins 434


সেদিন আমরা সকলে ক্লাবে বসে আছি। বাইরে ঘন কুয়াশা। ক্লাবের সামনের রাস্তার আলোটা জ্বলছে। হঠাৎ রথিন বলল এই শীতের রাতে ভূতের গল্প হলে ভালো হয়। রথিনের সঙ্গে কুনাল, মিহির, আমি সুকোমল সকলেই বললাম হ্যা তাহলে তো ভালোই হয়। কিন্তু গল্প বলবে কে। কালি দা তো আসেনি। আমি বললাম দাড়া ফোন করি কালিদাকে। আমি ফোন বার করে কালিদাকে ফোন করতে যাব। এমন সময় কালিদা এসে ঢুকল। আমি বললাম কি ব্যাপার কালি দা আজ এত লেট করলেন। কালি দা বলল আর বলিস না সুকুমার এই শীতে আসা সত্যিই খুব কষ্ট। আমি বললাম হ্যা তা যা বলেছেন। কালি দা চেয়ারে বসতেই রথিন বলল কালি দা এই শীতে আপনার কোন ভূতুড়ে অভিজ্ঞতা হয়ে যাক। শুনে কালি দা বলল নিশ্চয়। আমি বললাম তা আজ কিসের গল্প শোনাচ্ছেন কালি দা। কালি দা বলল তোদের তো অনেক ধরনের গল্প বলেছি । আজ বলব একটা পুনর্জন্মের গল্প। আমরা একসঙ্গে বলে উঠলাম হয়ে যাক। আমাদের কথার মাঝেই মাছের চপ আর কফি চলে এল। কালি দা কফিতে চুমুক দিয়ে মাছের চপে কামড় দিয়ে তার গল্প শুরু করল।


আমি তখন মুঙ্গেরে পোস্টেড। আমাদের অফিসেই কাজ করত হরিনারায়ন শিকদার নামে এক ব্যাক্তি। এই গল্পটা তারই এক আত্মিয়ের মুখ থেকে তিনি শুনেছিলেন। তিনি যেরকম ভাবে বলেছিলেন , আমি ঠিক সেই ভাবেই বলব। এই বলে কালি দা তার গল্প শুরু করল। আমার এক আত্মিয় ছিল, তার নাম ছিল ভবেন রায়। তিনি থাকতেন বোলপুরে। এই বোলপুরের দারোগা ছিলেন তিনি। সেই সময় তার মত দুঁদে দারোগা খুবই কম ছিল। অপরাধিরা তার নাম শুনলে ঠকঠক করে কাঁপত। এই মুঙ্গেরেই থাকত মুঙ্গেরের চলমান আতঙ্ক জগা গুন্ডা , যার পুরোনাম জগদীশ মুরমু। জগদীশ খুন, রাহাজানি সব কিছুই করত। কিন্তু কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। কারন তার বিরুদ্ধে যে কথা বলত, তার কাঁটা মুণ্ড তিন রাস্তার মোড়ে ঝুলিয়ে রাখত। তো ভবেন দারোগা যখন শুনল। তখন সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠল। বলল দাড়া ব্যাটা কে আমিই ধরব। জগদীশ আবার প্রতি রাত্রে তন্ত্র সাধনা করত। সে তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে সব জেনে গেল। সময় মত ভবেন দারোগা গ্রেপ্তার করতে গেল জগা কে। আর গুলি খেয়ে জগা স্পটেই মারা গেল। আর মারা যাওয়ার সাথে সাথে তার আত্মা ঢুকে গেল এক মাছির ভিতরে।

এরপর অনেক বছর কেটে গেছে। ভবেন দারোগা জগার কথা প্রায় ভুলেই গেছে। সেদিন রাত্রে ভবেন দারোগা অফিসে বসে কাজ করছে। এমন সময়ে একটা বিশাল মাছি তার ঘরে ঢুকল, আর তার কানের সামনে ভন ভন করতে লাগল। কিন্তু ভবেন দারোগা কাউকে দেখতে পেল না। শুধু মাছির আওয়াজ শুনতে পেল। ভবেন দারোগা মাছি মারার স্প্রে মারল তাও সেই আওয়াজ গেল না। দিন রাত্রি সবসময়ই ভবেন কে এই আওয়াজ তারা করে বেরাতে লাগল। ভবেন এই আওয়াজে পাগল হয়ে গেল। অফিসের কাজে মন বসাতে পারে না। যেখানেই যায় সেখানেই এই আওয়াজ তার পিছনে যায়। শেষে ভবেন বাধ্য হয়ে করোটি চরণ মুখোপাধ্যায়ের শরণাপন্ন হন। করোটি বাবু সব কিছু শুনে বলল ভবেন বাবু আপনি চিন্তা করবেন না। আমি দেখছি ব্যাপারটা। এই বলে ভবেন কে এক বিশাল লিস্ট দিয়ে বলল এই লিস্ট অনুযায়ী সব কিছু নিয়ে আসুন। তারপর এক মহা যজ্ঞ করতে হবে। সেই যজ্ঞের পরেই জানতে পারা যাবে আপনার অসুবিধার কারন। এই বলে করোটি বাবু চলে গেলেন।

অবশেষে সেই সময় এসে গেল। থানার সামনে বসল এক মহা যজ্ঞ । সেই যজ্ঞের ধোঁয়া থেকে বেরিয়ে এল এক বিশাল দর্শন মাছি। করোটি তখন সেই মাছি কে জিজ্ঞেস করল , কে তুই কেন ভবেন বাবুর পিছনে পরে আছিস। মাছি বলল আমি হলাম বোলপুরের ত্রাস জগা গুন্ডা। ওই বদমাইশ দারোগা আমায় মেরে ছিল। আর আমার মৃত্যুর পর আমার পরিবারের সবাই অনাহারে মারা যায়। তাই আমি ওর ওপর বদলা নিতে এসেছি। মাছির রুপ ধরে।

সব শুনে করোটি বাবু বললেন বল কি করলে তোর থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। সব শুনে জগা বলল আমার ছোট মেয়ে এখনো বেঁচে আছে। যদি দারোগা বাবু তার দায়িত্ব নেয়। তাহলে আমার আত্মা শান্তি পাবে। ভবেন সব শুনে বলল ঠিক আছে আমার একমাত্র ছেলের সাথে তোর মেয়ের বিয়ে দেব। এই শুনে সেই মাছি যজ্ঞের আগুনে ঝাপ দিল, আর তার আত্মা আকাশে মিলিয়ে গেল। আর ভবেন কথামত জগার মেয়ের সাথে নিজের ছেলের বিয়ে দিল। এখন ভবেন বাবু তার স্ত্রী ,ছেলে , ছেলের বউ আর নাতি নাতনী নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। আর কোনোদিনই জগার ভূত তাদের উৎপাত করেনি।



Rate this content
Log in

More bengali story from Debmalya Mukherjee

Similar bengali story from Horror