Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Debmalya Mukherjee

Drama Horror


3  

Debmalya Mukherjee

Drama Horror


আওকিঘারা জঙ্গল

আওকিঘারা জঙ্গল

4 mins 133 4 mins 133


এই বিশ্ব রহস্যময়। না জানি কত রহস্য, কত ভয় সব লুকিয়ে আছে এই বিশ্বের বিভিন্ন কোনায়। এরকম একটা রহস্যময় জায়গা হল আওকিঘারা জঙ্গল। জঙ্গলটি জাপানের ফুজি পর্বত মালার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত 35 কিলোমিটার এর একটি জঙ্গল।

 কিন্তু এই পয়ত্রিশ কিমির জঙ্গলে কিন্তু লুকিয়ে আছে বিপদ। এর প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর হাতছানি। এটি সি অব ট্রিজ অথবা গাছের সমুদ্র নামে পরিচিত। কিছু কিছু অদ্ভুত পাথর এবং কোনো প্রাণের অস্তিত্ব না থাকায় সব সময় সুনসান নীরব এই বনটি কিন্তু পর্যটকদের কাছে বেড়ানোর একটা সুন্দর জায়গা।


জাপানি পুরান মতে এই বনে প্রেতাত্মারা ঘুরে বেড়ায়। এবং এই বন নাকি আত্মহত্যার বন বা সুইসাইড ফরেস্ট নামে পরিচিত। এই বন থেকে প্রতি বছর একশোর বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। 


এইবার আসি বনটির ভৌগোলিক গঠনে। বনের মেঝে প্রাথমিক আগ্নেয়শিলা দ্বারা গঠিত। হাতে নির্মিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন শাবল, বেলচা ইত্যাদি দিয়ে বনের মাটিতে গর্ত করা ভীষণ কঠিন। এছাড়া বনের ভিতর স্থানীয় ভলেনটিয়ার দ্বারা নির্মিত কিছু মাটির রাস্তা আছে, যেখান দিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। 


যখন পর্যটক রা আসে, তখন তারা তাদের যাওয়ার পথে প্লাস্টিকের এক ধরনের টেপ ব্যবহার করে। যাতে তারা জঙ্গলে পথ না ভুলে যায় পরবতী কালে। বন দপ্তর এর লোকজন এই টেপ তুলে নিলেও পর্যটক রা আবার লাগায়। মূলতঃ বনের প্রথম এক কিলোমিটার এর মধ্যেই টেপের চিন্হ বেশি দেখা যায়। তারপর ফুজি পর্বতমালার দিকে যতই গভীরে যাওয়া হয় বনের অবস্থা ততই আদিম যুগিয় মনে হয় ও মানুষের দেখা পাওয়া যায় না। 


স্থানীয় লোকজন বলে এটি না কি ভুত প্রেতের জঙ্গল। কারণ এই জঙ্গল থেকে নানা রকম রহস্যময় আওয়াজ , গোঙানির আওয়াজ ও কান্না ভেসে আসে জঙ্গল থেকে। এর কারণ অবশ্য আত্মহত্যা। এত হারে লোক এই বনে আত্মহত্যা করে যে তাদের অতৃপ্ত আত্মা এই জঙ্গলের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়। 


এই কারনেই জঙ্গলটির মাঝে মাঝে গাছে ঝোলানো অবস্থায় কিংবা অন্যান্য অবস্থায় পোশাক আশাক পরিহিত মানুষের কঙ্কাল ছড়িয়ে থাকে, এই জঙ্গলে। 


আগেই বলেছি। এই জঙ্গল কে বলা হয় আত্মহত্যার জঙ্গল। কিন্তু কেন বলা হয় আত্মহত্যার জঙ্গল। চলুন সেই কারণ জেনে নেওয়া যাক। এই বন থেকে পুলিশ প্রতিবছর একাধিক লাশ, দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। তাই এই জঙ্গলটি পৃথিবীর অন্যতম সুইসাইড স্পট হিসাবে খ্যাত। শুধু কি দেহাবশেষ বা মৃতদেহ। পুলিশের বক্তব্য জঙ্গলের গভীরে কঙ্কালের ভিড় লুকিয়ে রয়েছে। বছরের পর বছর তারা ওই জঙ্গলেই থাকে। বলা বাহুল্য এটিই জাপানের সবথেকে ভুতুড়ে জায়গা। এবার এই জঙ্গল নিয়ে ছবিও করেছে হলিউড। তবে স্থানীয় প্রশাসন এই জঙ্গলে কিন্তু শ্যুটিং করতে দেয়নি। 


কিন্তু কি কারণ। কেন এই জঙ্গলকে বেছে নেয় আত্মহত্যার জন্য সকলে। স্থানীয় লোকেদের বক্তব্য 16 বর্গমাইল এই দীর্ঘ জঙ্গলে বাস অশরীরী দের। তারাই ডেকে আনে জীবিত মানুষকে। সেই ডাকও নাকি শোনা যায় জঙ্গলের ভিতর থেকে।


 এবার জানি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। বলা হয় ফুজির পায়ের কাছে নিজেকে বলিদান দেওয়ার রীতি হয়তো কখনও ছিল। সেখান থেকে এই ধারা চলে আসছে। আগে যা ছিল আত্ম বলিদান। এখন সেটাই আত্মহত্যায় পরিণত হয়েছে। 


1990 সাল পর্যন্ত গড়ে তিরিশ জন করে বছরে আত্মহত্যা করতেন। কিন্তু 2004 সাল নাগাদ এই সংখ্যা টাই বেড়ে দাঁড়ায় 108 এ। 2010 সালে 247 জন আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। 57 জন মারা যান। 



আসুন এই বনের আরো কিছু আত্মহত্যার হিসাব দেখে নিই। 


এই বনটি জাপানিদের কাছে আত্মহত্যা করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা এবং সারা পৃথিবীতে দ্বিতীয়। আত্মহত্যার জন্য সানফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন ব্রিজ এর পর এর অবস্থান। হিসাব মত গড়ে এখানে 100 জন মানুষ প্রতিবছর আত্মহত্যা করে।


1950 সাল থেকে এই পর্যন্ত 500 র মত জাপানি এখানে আত্মহত্যা করেছেন। কেবল 2002 সালেই 78 টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় এখান থেকে। 1998 সালে উদ্ধার করা হয় 74 জন এর বেশি। 2003 সালের দিকে আত্মহত্যার হার 100 এর বেশি হয়ে যায়। এবং তারপর থেকে জাপান সরকার আত্মহত্যার হার প্রকাশ করা বন্ধ করে দিয়েছে। 2004 সালে 108 জন লোক এখানে আত্মহত্যা করে। এই বনে সাধারণত মার্চ মাসে আত্মহত্যার হার বেড়ে যায়। 2011 সালের দিকে যারা আত্মহত্যা করেছে তাদের অধিকাংশই ফাঁসি বা বেশি পরিমাণে নেশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছে। 


1970 সালে পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক ও সাংবাদিক দের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছিল , যাদের কাজ ছিল মৃতদেহ গুলো খুঁজে বের করা। ও লোকেদের আত্মহত্যায় অনুৎসাহিত করা। 1960 সালে সাইকো মৎসুমত নামে এক জাপানি লেখক এর টাওয়ার অফ ওয়েবস নামে একটি উপন্যাস প্রকাশের পর থেকেই এখানে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়ে যায়।এই উপন্যাসের দুটি চরিত্র এই বনে এসে আত্মহত্যা করেছিল। এরপর থেকে জাপানিরা এই বনে এসে এই আশায় আত্মহুতি দেয়, যাতে তাদের সন্তান রা পরবর্তী কালে ভালোভাবে চলতে পারবে। 


আত্মহত্যা ঠেকাতে প্রশাসন জঙ্গলের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছে। 


" আপনার জীবন মূল্যবান" "আত্মহত্যার আগে বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলুন"। "প্রিয়জনের মুখগুলো দয়া করে মনে করুন" গোত্রের কথা লেখা রয়েছে তাতে।




Rate this content
Log in

More bengali story from Debmalya Mukherjee

Similar bengali story from Drama