Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Debmalya Mukherjee

Horror Tragedy


3  

Debmalya Mukherjee

Horror Tragedy


বান্ধবগড়ের বিভীষিকা

বান্ধবগড়ের বিভীষিকা

10 mins 706 10 mins 706

বান্ধবগড়ের বিভীষিকা


( এই গল্পটি সম্পূর্ণ ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য)


(প্রথম পর্ব )


সেদিন আমরা সবাই ক্লাবে জমায়েত হয়েছি। আমরা বলতে আমি, অমুল্য, নবীন আর সুখদেব। চারজন প্রাইভেট ফার্মে কাজ করি। সারা সপ্তাহ ধরে গাধার খাটুনি খেটে ব্রেন রীতিমতো হ্যাং হয়ে যায়। তাই প্রতি রবিবার আমাদের এই ব্রেন চাঙ্গা করার দায়িত্ব আমরা দিয়েছি কালি দা কে। কালি দা যার পুরো নাম কালিকিংকর ঘোষাল। ভদ্রলোক অনেকটা সত্যজিত রায়ের তারিণীখুড়োর মত। কর্মসুত্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। সেইসব জায়গায় তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা আমাদের শোনান। গুল কিনা জানি না, তবে তার গল্পগুলো আমাদের রীতিমতো চাঙ্গা করে।


**


তো সেদিনও আমরা ক্লাবে এসে জমায়েত হয়েছি। আর আমাদের মধ্যমনি হয়ে বসে আছেন কালি দা। অমুল্য হঠাৎ বলে উঠল , “ কালি দা আপনার জীবনে তো অনেক ঘটনা ঘটেছে, কোন অপমানবী র ঘটনা কি ঘটেছে”? কালি দা বলল, “ হ্যাঁ ঘটেছে তো” আমি বললাম, আজ তাহলে সেই গল্প শুনব। কালি দা বলল, বেশ তোদের আজ এক অপমানবীর কথা বলব। কথার মাঝে মাঝে মাছের ডিমের চপ আর মালাই চা চলে এল আমাদের জন্য। আমরা সবাই মাছের ডিমের চপে কামড় দিয়ে চায়ে চুমুক দিলাম। আমাদের দেখাদেখি কালি দাও তাই করল। কালি দা চপে কামড় দিয়ে তার গল্প শুরু করল। এই গল্পটা শুনেছিলাম আমি বান্ধবগড়ের যুবরাজের মুখ থেকে। এই বলে কালি দা তার গল্প শুরু করল।


তোরা সবাই মধ্যপ্রদেশের নাম শুনেছিস তো। আমরা সবাই একসঙ্গে বলে উঠলাম হ্যাঁ শুনেছি। কালি দা বলল, এই মধ্যপ্রদেশের ই একটা ছোট শহর ছিল বান্ধবগড়। সেই বান্ধবগড়ের রাজা ছিলেন উদয় সিং। বিয়ের দুইবছর পরে উদয়সিং এর একমাত্র পত্নী ভানুমতি মারা যায়। আর সঙ্গে মারা যায় ভানুমতির গর্ভে থাকা সন্তান। পত্নী এবং সন্তানের একসঙ্গে মারা যাওয়া রাজা সহ্য করতে পারল না। রাজা আসতে আসতে পাগল হয়ে যেতে লাগল। এদিকে রাজকার্যে নজর না দেওয়ার জন্য তাতেও বিঘ্ন ঘটতে শুরু করে। মন্ত্রী তখন রাজাকে পরামর্শ দেয় আবার বিয়ে করার। অবশেষে রাজার অবন্তীনগরের রাজকন্যা মোহিনী র বিয়ে হয়। কিন্তু মোহিনীর গর্ভের সন্তানও মারা যায়। রাজা আবার শোকে পাথর হয়ে যায়। রাজা মন ভালো করার জন্য মৃগয়ায় যায়। মৃগয়া থেকে ফেরার পথে রাজার কানে আসে একটি শিশুর কান্না।


রাজা শিশুর কান্না অনুসরন করে গিয়ে দেখে একটা বটপাতার মধ্যে একটি ফুটফুটে মেয়ে শুয়ে আছে। রাজা মেয়েটার দিকে এগিয়ে গেল। দেখল সাধারন মানুষের চেয়ে অস্বাভাবিক লম্বা কান যেমন বাদুরের থাকে। আর হাতে আর পায়ে ছোট ছোট কিন্তু ধারাল নখ। রাজা আশেপাশে দেখল কেউ আছে কি না। দেখল কেউ নেই।


রাজা মেয়েটাকে কোলে তুলে নিয়ে এল রাজপ্রাসাদে। দেখতে দেখতে মেয়েটির একমাস হল। রাজা তাদের কুলগুরু স্বামী সত্যানন্দ কে খবর দিল। রাজার ডাক পেয়ে সত্যানন্দ এল প্রাসাদে। সত্যানন্দের সামনে মেয়েটিকে নিয়ে এল। মেয়েটিকে কোলে নিয়ে সত্যানন্দ চোখ বুজল। আর যা দেখল সেটা দেখে সত্যানন্দ আঁতকে উঠল। সত্যানন্দ তখনই মেয়েটিকে দাসীর কোলে দিয়ে রাজাকে বলল, রাজন আপনি এক্ষুনি মন্ত্রনা কক্ষে আসুন। আপনার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে। রাজা উদয় সিং কুলগুরু সত্যানন্দ কে অনুসরন করে মন্ত্রনা কক্ষে আসতেই, সত্যানন্দ বললেন, রাজন এই কন্যাসন্তান কে কোথায় পেলেন? রাজা সব কথা খুলে বলল সত্যানন্দ কে। সত্যানন্দ সব শুনে বলল, রাজন এই কন্যা মানবী নয়, এই কন্যা হল পিশাচিনি। যদি বাঁচতে চান তাহলে এই কন্যাকে এক্ষুনি রাজপ্রাসাদের বাইরে বের করে দিন। রাজা সব শুনে বললেন, কিন্তু গুরুদেব এত ছোট্ট কন্যাকে কি ভাবে বার করব। সত্যানন্দ সব শুনে বলল, বেশ রাজন তাহলে যখন এই কন্যার আঠেরো বছর বয়স যখন হবে , তখন কিন্তু এই কন্যা এই রাজ্যের বুকে বিভীষিকা হয়ে নেমে আসবে, এবং আপনার ও আপনার রাজ্যের ক্ষতি হবে।


তবে যেহেতু আপনি ওকে পেয়েছেন ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তে । তাই ওর নাম আমি দিলাম কৌষিকী।



(দ্বিতীয় পর্ব)


রাজা তখন সত্যানন্দ কে জিজ্ঞেস করল, “ গুরুদেব তাহলে কি করা উচিত আমাদের”। সত্যানন্দ বলল, রাজন আজ থেকে এই কন্যাকে প্রাসাদের কোন কক্ষে নজরবন্দী করে রাখুন। আর দরজার বাইরে কড়া পাহারা বসাবেন। রাজা সত্যানন্দের কথামত তাই করল। দেখতে দেখতে রাজকন্যা কৌষিকী আঠেরো বছরে পা দিল। আর তার রুপের জৌলুষ আরো খুলতে লাগল। একমাথা ঘন কালো চুল। সবদিক দিয়ে পুরুষের বুকে কামনার উদ্রেক জাগানো চেহারা।


আর তারপর থেকে বান্ধবগড়ে নেমে আসল বিভীষিকা। রোজ রাতে কেউ না কেউ নিখোঁজ হতে লাগল। আর রাজ্যের পাশের পুকুরের পাড়ে পাওয়া গেল তার রক্তশুন্য দেহ। দেহ গুলো দেখে মনে হয় কে যেন সব রক্ত বার করে নিয়েছে। আর শিরার মধ্যে সুচের দাগ। অর্থাৎ কেউ এই হতভাগা দের রক্ত টেনে নিচ্ছে সুচ দিয়ে।


রাজ্যে রীতিমতো আতঙ্ক নেমে এল। রাজা ঠিক করলেন পাহারা বসাবেন। কিন্তু পাহারা বসানো সত্ত্বেও দিনের পর দিন এই সংখ্যাটা বাড়তে লাগল। রাজার কেমন যেন সন্দেহ হল। সে রাজকন্যার ঘরে ঢুকল। রাজকন্যার ঘরে ঢুকে সে তো অবাক। রাজকন্যা তার ঘরে একটা ছোটখাটো একটা মন্দির বানিয়ে রেখেছে, সেই মন্দিরে রাখা একটা বীভৎস মূর্তি। আর তার সারা গায়ে রক্ত ধারা শুকিয়ে আছে। রাজার হঠাৎ নজর পড়ল খাটের দিকে। খাটের পাশে একটা বাক্স। রাজা সেই বাক্স টা খুলে তো অবাক। সেই বাক্সে ছোট ছোট শিশিতে রক্ত রাখা। রাজা এইসব দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে উঠল। সে তক্ষনি সত্যানন্দ কে খবর দিল। সত্যানন্দ আসতেই রাজা সব খুলে বলল। সব শুনে সত্যানন্দ বলল। রাজন এইরকম যে হবে তা আমি আগে জানতাম। আপনি এক্ষুনি কৌষিকীকে রাজ্যের শেষ সিমানায় যে ভাঙ্গা কেল্লা আছে সেখানে রেখে আসুন। তবেই এই রাজ্য বাঁচবে।


**


রাজা সত্যানন্দের কথা শুনে কৌষিকীকে পাঠিয়ে দিল রাজ্যের বাইরের ভাঙ্গা কেল্লাতে। আর সঙ্গে পাঠাল। রাজকন্যার প্রিয় দাসি মৈথিলীকে। মৈথিলীর পরিচয় এখানে একটু দেওয়া দরকার।


তখন রাজকন্যার তিন বছর বয়েস। ঠিক সেইসময় রাজপ্রাসাদের গেটের বাইরে বছর বারোর একটি মেয়ে কে পরে থাকতে দেখে রাজা তাঁকে প্রাসাদে নিয়ে আসে। মেয়েটিকে দেখেই রাজকন্যা ঝাপিয়ে পড়ে তার কোলে চড়তে যায়। সেইথেকে এই মৈথিলী কে নিযুক্ত করা হল রাজকন্যার দাসী হিসাবে।


এই মৈথিলী কোন মানুষ ছিল না। সে ছিল একজন শয়তানের উপাসক। সে রক্তদিয়ে শয়তান কে তুষ্ট করে অসীম শক্তিশালী হয়েছিল। এবং রাজকন্যাকেও সেইসব প্রথা শিখিয়ে দিয়েছিল।




(তৃতীয় পর্ব )


সত্যানন্দের কথামত রাজকন্যা কৌষিকীকে রাজ্যের বাইরে ভাঙ্গা কেল্লার মধ্যে রাখা হল। কিন্তু বিধিবাম, রাজকন্যাকে বাইরের কেল্লা তে রাখার পরে নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে লাগল। আর সেই একই জায়গায় তাদের রক্তশুন্য দেহ পাওয়া যেতে লাগল। রাজা খুব চিন্তায় পড়লেন। রাজা তখন তার এক বন্ধু রতন বাবুকে চিঠি লিখে সব জানাল। এই রতন বাবু ছিলেন একজন প্যারানর্মাল এক্সপার্ট । রতনবাবু সব পড়ল চিঠিতে। আর ব্যাপারটা বুঝল।


**


রতনবাবু তক্ষনি তার এক ছাত্র দেবাঞ্জন রায় কে পাঠাল। এই দেবাঞ্জন রায় সম্প্রতি বিদেশ থেকে প্যারা নর্মাল নিয়ে পড়াশোনা করে এসেছে। বিদেশের কিছু পত্র পত্রিকায় তার লেখাও বেরিয়েছে। এ- ছাড়া সে বর্তমানে পুনের একটা গুরুকুল চালায় । দেবাঞ্জন বাবুর বর্ণনা এবার একটু দিই। রোগা দোহারা চেহারা। চোখে চশমা। পড়নে সার্ট এন্ড প্যান্ট। আর কাঁধে একটা ব্যাগ। দেবাঞ্জন বাবু তার স্যর রতনবাবুর কাছ থেকে টেলিগ্রাম পেয়ে তৎক্ষণাৎ কলকাতায় চলে গেল। আর কলকাতায় গিয়ে সব শুনল। দেবাঞ্জন সব শুনে তৎক্ষণাৎ বান্ধবগড়ের উদ্দেশে রওনা দিল।


**


এবার একটু আসি কৌষিকীর কথায়। আজ সাতদিনের মধ্যে কৌষিকী কোন শিকার পাচ্ছে না। কারন রাজ্যের বাইরে কেউ বেরোচ্ছে না। রাজা বহিরাগরতদের ঢুকতে বারন করেছে। তাই আর কেউ রাজ্যের মধ্যে বেরোচ্ছে না। আর কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না।


তাই সেদিন কৌষিকী মৈথিলীকে বলল, মৈথিলী এরকম করলে তো আমি শক্তিহীন হয়ে পড়ব। মৈথিলী বলল, চিন্তা করিস না । আমি দেখছি কি করা যায়? তবে আমি যতদিন না আসব। ততদিন কিন্তু তুই এই প্রাসাদ ছেড়ে বেরবি না। কৌষিকী হঠাৎ গিয়ে মৈথিলীকে জড়িয়ে ধরল। আর মৈথিলির ঠোঁটের মধ্যে ঠোঁট ঢুকিয়ে দিল। আর একহাত দিয়ে মৈথিলীর পীঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। বুলাতে বুলাতে মৈথিলীর ব্লাউজের দড়ি খুলে দিল। আর মৈথিলীও কৌষিকীর ব্লাউজ খুলে দিল। এরপর ঘণ্টাখানেক ধরে নিজেদের মধ্যে সোহাগ করে মৈথিলী চলে গেল শিকারের সন্ধানে।


**


এদিকে দেবাঞ্জন তখন রাজ্যে ঢুকতে গেল। কিন্তু বাধা পেল। দেবাঞ্জন তখন রাজার চিঠি দেখাল। আর রাজ্যের মধ্যে ঢুকল। ঠিক এইসময় ওখান দিয়ে মৈথিলী যাচ্ছিল। সে দেবাঞ্জন কে দেখেই তো অবাক। সে তক্ষনি দেবাঞ্জন এর কাছে গেল। গিয়ে দেবাঞ্জন কে জিজ্ঞেস করল আপনি কে ? কোথায় যাবেন। দেবাঞ্জন নিজের পরিচয় দিল।


দেবাঞ্জনের পরিচয় শুনে মৈথিলী বলল, আসুন আমি আপনাকে নিয়ে যাচ্ছি রাজপ্রাসাদে। এই বলে মৈথিলী আগে যেতে লাগল। আর দেবাঞ্জন তাকে অনুসরন করতে লাগল।




চতুর্থ পর্ব


দেখতে দেখতে মৈথিলীকে অনুসরন করতে করতে দেবাঞ্জন ভাঙ্গা কেল্লার সামনে এল। কেল্লার সামনে আসতেই দেবাঞ্জন এর কেমন যেন সন্দেহ হল। কারন একটা রাজবাড়ি এরকম হতে পারে না। ছাঁদ থেকে কৌষিকী দেখতে পেল দেবাঞ্জন কে। দেবাঞ্জন কে দেখেই তাঁর মনে প্রেমের উদ্রেক হল। সে ভাবতে লাগল, কতক্ষন পর দেবাঞ্জন কে সে কাছে পাবে। দেবাঞ্জন ঘরে ঢুকতেই তাঁর নাকে একটা পচা দুর্গন্ধ এল।


**


দেবাঞ্জন মৈথিলীকে জিজ্ঞেস করল এই পচা দুর্গন্ধ কিসের? মৈথিলী বলল, ও কিছু না। এমনি হয়তো কিছু মরেছে, তার গন্ধ। মৈথিলীর সঙ্গে যখন দেবাঞ্জন কথা বলছে। তখন একটা সায়া আর কাচুলি পড়ে কৌষিকী দেবাঞ্জন এর সামনে এল। কৌষিকীকে দেখেই তো দেবাঞ্জনের হয়ে গেল। কাচুলির মধ্যে দিয়ে কৌষিকীর স্তনবিভাজিকা দেখা যাচ্ছে। কৌষিকী মৃদু হেসে দেবাঞ্জন কে বলল, আসুন , আমার এই গরীব কুটিরে আপনাকে স্বাগত জানাই। দেবাঞ্জন বলল, আপনার নাম কি? কৌষিকী বলল, আমার নাম কৌষিকী। আমি এই রাজ্যের রাজার একমাত্র কন্যা। একসময় আমাদের পূর্বপুরুষরা ছিল এখানকার রাজা। তারপর কালের অবক্ষয়ে সেই রাজতন্ত্রও চলে গেল, আর আমরাও আমাদের ঠাটবাট হারালাম। কিন্তু আমার বাবা উদয় সিং এখনো যথাসম্ভব সেই পুরানো রীতি মেনে চলার চেষ্টা করে। এই রাজ্যেই বাবার এক বন্ধু ছিল তার নাম রতন। আমি ছোটবেলায় রতনকাকু বলে ডাকতাম। রতনবাবুর নাম শুনে দেবাঞ্জন অবাক হয়ে গেল। কৌষিকী কে দেবাঞ্জন জিজ্ঞেস করল, আপনার বাবা কে তো দেখতে পাচ্ছি না। কৌষিকী বলল, বাবা একটু বেরিয়েছে। এসে যাবে। এ বাবা দেখেছেন আপনি সেই থেকে দাড়িয়ে আছেন, আর আপনাকে আমি বসতে বললাম না।


**


নিন আপনি বসুন। আমি আপনার আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করি। এই বলে কৌষিকী যেই চলে যাবে বলে পিছন ফিরল। ওমনি দেবাঞ্জন কৌষিকীর একটা হাত ধরে টান মেরে নিজের উপর এনে ফেলল। তারপর কৌষিকীর কাচুলির ফিতে খুলে দিল। আর কৌষিকীর মুখের মধ্যে নিজের মুখটা ঢুকিয়ে দিল। কৌষিকীও দেবাঞ্জনের জামার বোতাম টা খুলে দিল। তারপর কৌষিকীকে জড়িয়ে ধরে দেবাঞ্জন নিয়ে গেল কৌষিকীর ঘরে, ঘরে ঢুকেই কৌষিকী দরজা টা বন্ধ করে দিল। আর তারপর কৌষিকী আর দেবাঞ্জন এর মধ্যে আদিরসের সৃষ্টি হল। আর দুজনেই রতিক্রিয়ায় মেতে উঠল। দেখতে দেখতে কোথা থেকে যে সময় কেটে গেল, ওরা কেউ বুঝতে পারল না। মৈথিলীর ডাকে দুজনের হুশ এল। মৈথিলী বলল, আসুন দেবাঞ্জন বাবু আপনার খাবার প্রস্তুত। কৌষিকী যখন উঠল তখন তাঁর মুখে তৃপ্তির হাসি।


**


এদিকে মহারাজ উদয়সিং এর চিন্তা বাড়তে লাগল। কারন এতরাত হয়ে গেল এখনো দেবাঞ্জন এসে পৌছালো না। রাজা উদয়সিং চিন্তিত হয়ে ঘরে পায়চারি করতে লাগল। রাজা কে চিন্তিত অবস্থায় দেখতে পেয়ে মন্ত্রী মাধ সিং বলল, মহারাজ এত চিন্তিত কেন? উদয়সিং বলল, এত রাত হয়ে গেল এখনো দেবাঞ্জন এল না কেন বুঝতে পারছি না। মন্ত্রি বলল, হয় তো কোন কারনে উনি আস্তে পারেন নি। উদয়সিং বলল, না আমার খুব চিন্তা হচ্ছে। আমি বুঝতে পারছি না। ওর কোন বিপদ হল না তো।


মন্ত্রী বলল, আপনি শুয়ে পড়ুন মহারাজ।


কাল সকালে দেখা যাবে। এই বলে মন্ত্রী চলে গেল।


মন্ত্রী চলে যেতেই রাজা শুয়ে পড়ল। তারপর মাঝরাতে রাজবাড়ির গেট খুলে গেল। আর একটা ছায়ামূর্তি বেরিয়ে গেল রাজবাড়ি থেকে। গন্তব্য ভাঙ্গা কেল্লা।

 


পঞ্চম পর্ব


তখন মধ্যরাত । ভাঙ্গা কেল্লার দরজায় হঠাৎ খট খট আওয়াজ। যেন কেউ দরজা ধাক্কা দিচ্ছে। মৈথিলী গিয়ে দরজা টা খুলল, দরজা খুলতেই কালো রঙের জোব্বা পড়া একটা দীর্ঘদেহী লোক এসে কেল্লার ভিতর ঢুকল। ঢুকেই মৈথিলী কে জড়িয়ে ধরল। তারপর মৈথিলীর সঙ্গে গেল একটা ঘরে। সেখানে। একটা বাক্স খুলল, বাক্স খুলতেই সেখানে সিরিঞ্জ দেখা গেল। লোকটা একটা সিরিঞ্জ তুলে নিল, আর তারপর মৈথিলীকে সঙ্গে নিয়ে গেল সেই ঘরে যেখানে কৌষিকী আর দেবাঞ্জন শুয়ে আছে। দেবাঞ্জন তখন কৌষিকীর সঙ্গে সঙ্গম করতে ব্যাস্ত। ঠিক সেই সময় দরজা টা খুলে গেল। আর সেই দীর্ঘদেহী লোকটা এগিয়ে এল। লোকটাকে দেখেই কৌষিকী দেবাঞ্জন কে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিল। দেবাঞ্জনের মাথাটা গিয়ে লাগল একটা দেওয়ালে। তারপর দেবাঞ্জনের আর কিছু মনে নেই।


**


দেবাঞ্জন এর যখন জ্ঞ্যান এল। তখন সে দেখে যে সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে শুয়ে আছে। আর তার কোমরে একটা পাতলা বস্ত্র পড়িয়ে রেখেছে। আর সামনে একটা হোমকুণ্ড জ্বলছে। সেই কুণ্ড ঘিরে বসে আছে কৌষিকী, মৈথিলী আর একটা লোক, যাকে দেখা যাচ্ছে না। ওরা তিনজন একে অপরের হাতে হাত রেখে কিসব দুর্বোধ্য ভাষায় মন্ত্র পড়ছে। আর মাঝে মাঝে আগুনে কি যেন ঢালছে।


**


দেবাঞ্জন উঠতে চেষ্টা করল। কিন্তু উঠতে পারল না। উঠতে গিয়ে দেখে তার হাত আর পা বাধা। সেইসময় দুর্বোধ্য মন্ত্র শেষ হল। আর সিরিঞ্জ হাতে এগিয়ে এল সেই লোকটি। ঠিক সেই সময় দরজা টা খুলে গেল। গ্রামের লোকেদের নিয়ে রাজা উদয় সিং ঘরের ভিতরে ঢুকল।


অন্তিম পর্ব


রাজা ঘরে ঢুকেই সেই দীর্ঘদেহী লোকটার ঘাড়ে হাত দিল। লোকটা ফিরতেই রাজা অবাক। কারন এ যে তার সেনাপতি। রাজা সেনাপতি কে জিজ্ঞেস করল কেন সে এরকম করছিল। সেনাপতি বলল, একদিন এই মৈথিলী সেনাপতিকে এক দাসির সঙ্গে আপত্তি জনক অবস্থায় দেখে ফেলে। সেই থেকে কৌষিকী আর মৈথিলী মিলে সেনাপতিকে হুমকি দিতে শুরু করে। সেই থেকেই সেনাপতি এইভাবেই শিকার নিয়ে আসত ওদের দুজনের জন্য। তারপর কৌষিকী আর মৈথিলী সেইসব যুবকদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হত। আর নিজেরা তৃপ্ত হয়ে গেলে সব ছেলেদের গা থেকে রক্ত টেনে নিয়ে দেবীর চরণে উৎসর্গ করে সেই রক্ত পান করত। আর রাজকন্যা কে সম্পূর্ণ ভাবে কন্ট্রোল করত এই মৈথিলী।


**


এই মৈথিলী হল এক শয়তানি। আগে আমাদের পাশের রাজ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এই রাজ্যে এসে উপস্থিত হয় এই পিশাচিনি। রাজা কে দেখেই মৈথিলী একটা ছুরি নিয়ে রাজাকে মারতে ছুটে যায়। দেবাঞ্জন ছুটে গিয়ে মৈথিলীকে ধরে ফেলে। মৈথিলী বলে আমি এই রাজাকে ছাড়ব না। এই রাজার জন্য আজ আমি আমার মা আর বাবাকে হারিয়েছি। এই কথা শোনার পর রাজার সব মনে পড়ে গেল।


(উদয় সিংহের পাপ)


তখন উদয় সিং সবেমাত্র রাজা হয়েছে। একদিন উদয় সিং মৃগয়ায় যাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় মৈথিলীর মা কে দেখে স্নান করে ফিরতে। রাজা মৈথিলীর মা কে নিয়ে যায় এই ভাঙ্গা কেল্লাতে। তারপর সেখানে ৭ দিন ধরে রাজা মৈথিলীর মা কে ধর্ষণ করে। আর যখন আমি বাধা দিতে যাই। তখন আমার মুখ পুড়িয়ে দেয়। আমি এক শয়তানের উপাসক এর কাছে যাই। সে আমায় বলে যে প্রতি অমাবস্যায় আমি যদি সঙ্গম


রত কোন যুবকের রক্ত দিয়রে স্নান করি। তাহলেই আমি আমার আগের রুপ ফিরে পাব। আর এই যে রাজকন্যা কৌষিকী এ হল আমারই ছোট বোন।


**


রাজা সব শুনে ঘোষণা করল যে আজ থেকে মৈথিলী আর কৌষিকী দুজনেই রাজপ্রাসাদে থাকবে। সেই থেকে বান্ধবগড়ের বিভীষিকা চিরতরে দূর হল। এই বলে কালি দা তার গল্প শেষ করল।


Rate this content
Log in

More bengali story from Debmalya Mukherjee

Similar bengali story from Horror